অনিল কুমার ভট্টাচার্য

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
অনিল কুমার ভট্টাচার্য
জন্ম(১৯১৫-০৪-০১)১ এপ্রিল ১৯১৫
ভাটপাড়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
মৃত্যু১৭ জুলাই ১৯৯৬(1996-07-17) (বয়স ৮১)
নাগরিকত্বভারত
কর্মক্ষেত্রপরিসংখ্যানবিদ
প্রতিষ্ঠানকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট
প্রাক্তন ছাত্রকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
পরিচিতির কারণ

অনিল কুমার ভট্টাচার্য (ইংরেজি: /Anila kumāra bhaṭṭācārya/) (১ এপ্রিল ১৯১৫ - ১৭ জুলাই ১৯৯৬) একজন ভারতীয় বাঙালি পরিসংখ্যানবিদ যিনি ১৯৩০ থেকে ৪০-এর দশকের প্রথম দিক পর্যন্ত প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ প্রতিষ্ঠিত ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে কাজ করেন।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন[সম্পাদনা]

অনিল কুমার ভট্টাচার্য ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দের মার্চ-এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার ভাতপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।[১] তার পিতা ও মাতার নাম ভবনাথ ভট্টাচার্য ও লীলাবতী দেবী। অনিল কুমার ভট্টাচার্য ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং হুগলী মহসিন কলেজ থেকে ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে আইসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে সেই কলেজ থেকেই তিনি বিএ / বিএসসি-তে প্রথম বিভাগের প্রথম স্থান লাভ করেন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতশাস্ত্রে এমএ পড়তে যান। সেখানে তিনি তাঁর শিক্ষক হিসাবে এফ ডব্লিউ লেভি এবং রাজচন্দ্র বসুকে পান এবং গোল্ড মেডেলিস্ট হিসেবে ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে এমএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে লেভির পরামর্শে ভট্টাচার্য পি. সি. মহলানবিশের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মাননীয় সহকারী হিসাবে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে যোগ দেন।[২] ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত পরিসংখ্যান বিভাগে মহলানবিশের নেতৃত্বে তাঁকে সাময়িক সময়ের লেকচারার করা হয়। এখানে তাঁর ছাত্র হিসেবে সি. আর. রাও, এইচ. কে. নন্দী এবং টি. পি. চৌধুরী ছিলেন। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে তিনি বিহার সরকারের স্ট্যাটিস্টিকাল অফিসার নিযুক্ত হয়ে পাটনায় গিয়েছিলেন এবং ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে সুপারিনটেনডিং স্ট্যাটিস্টিশিয়ান (প্রশিক্ষণের দায়িত্বে) যোগদান করতে কলকাতা ফিরে এসেছিলেন। মহলানবিশ তাকে প্রেসিডেন্সি কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগে সময়োপযোগী ক্লাস নিতে বলেছিলেন। পদটি তৈরি হওয়ার পর ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে ভট্টাচার্য সম্পূর্ণ সময়ের জন্য সিনিয়র প্রফেসর ও বিভাগের প্রধান হন। ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দের মার্চে অবসর গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর সিনিয়র প্রফেসর পদে অধিষ্ঠিত থাকার কথা থাকলেও ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি নেতৃত্ব থেকে পদত্যাগ করেন।[১] অবসর নেওয়ার পর প্রায়শই তিনি একজন অতিথি শিক্ষক হিসেবে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন আবাসিক কলেজের সাথে যুক্ত ছিলেন, যেখানে তাঁর নামে একটি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ প্রদান করা হয়।[৩]

গবেষণা[সম্পাদনা]

অনিল কুমার ভট্টাচার্য বহুবিধ পরিসংখ্যানগুলিতে (multivariate statistics) মৌলিক অবদান রেখেছিলেন। বিশেষ করে দুইটি বহুমুখী বন্টন পরিমাপের জন্য ভট্টাচার্য গুণক উদ্ভাবন বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ভট্টাচার্য গুণকের উপর ভিত্তি করে তিনি মেট্রিক সংজ্ঞায়িত করেছিলেন, যা ভট্টাচার্য দূরত্ব নামে পরিচিত। এই পরিমাপটি জীববিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, কম্পিউটার বিজ্ঞান ইত্যাদি পরিসংখ্যানগত নমুনা তুলনায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

পরিসংখ্যানগত বিতরণগুলির মধ্যে দূরত্ব সম্পর্কিত তত্ত্ব ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ প্রবর্তন করেন। তার প্রস্তাবিত D2 মেট্রিক বর্তমানে মহলানবিশ দূরত্ব নামে পরিচিত। পরবর্তীকালে, ভট্টাচার্য ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা গাণিতিক সমিতির একটি কাগজপত্রে বন্টনের মধ্যে দুরত্ব সম্পর্কিত একটি কোসাইন মেট্রিক সংজ্ঞায়িত করেছিলেন,[৪] যা তিনি ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের একটি সংখায় ফলাফলসহ বিস্তারিত ভাবে প্রকাশ করেন। ভট্টাচার্যের দুটি প্রধান গবেষণামূলক কাজ হল দুই সম্ভাব্যতা বিতরণের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার পরিমাপ এবং নিরপেক্ষ মূলনির্ধারকের বৈসাদৃশ্যে নিম্ন সীমানার পরিমাপ।

কার্যকলাপ[সম্পাদনা]

  • "A note on Ramamurti's problem of maximal sets", Sankhya, 6 (1942) 189 - 192.
  • "On a measure of divergence between two statistical populations defined by their probability distributions", Bull. Cal. Math. Soc, 35 (1943) 99 - 109.
  • "On some sets of sufficient conditions leading to the normal bivariate distribution", Sankhya, 6 (1943) 399 - 406.
  • "A note on the distribution of the sum of chi-squares", Sankhya, 7 (1945), 27 - 28.
  • "On some analogues of the amount of information and their uses in statistical estimation" I, Sankhya, 8 (1946) 1 - 14.
  • "On some analogues of the amount of information and their uses in statistical estimation" II, Sankhya, 8 (1947) 201 - 218.
  • "On some analogues of the amount of information and their uses in statistical estimation" III, Sankhya, 8 (1948) 315 - 328.
  • "On a measure of divergence between two multinomial populations", Sankhya, 7 (1946), 401 - 406.
  • "Unbiased statistics with minimum variance", Proc. Roy. Soc. Edin., A, 63 (1950), 69 - 77.
  • "The theory of regression in statistical population admitting local parameters", Bull. Int. Stat. Inst., 33, Part II (1951).
  • "On some uses of the t-distribution in multivariate analysis", Sankhya, 12 (1952), 89 - 104.
  • "Notes on the use of unbiased and biased statistics in the binomial population", Cal. Stat. Assoc. Bull., 5 (1954), 149 - 164.
  • "Some uses of the 'amount of information' in the statistical inference", (address of the Sectional President), Proc. Ind. Sc. Cong., 46th Session (1959).
  • "On a geometrical representation of probability distribution and its use in statistical inference", Cal. Stat. Assoc. Bull., 40 (1990–91), 23 - 49.

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. S. P. Mukherjee; Arijit Chaudhuri; Sujit K. Basu (১৯৯৪)। A. M. Gun on behalf of the Organizing Committee, Golden Jubilee Celebrations, সম্পাদক। Essays on probability and statistics : Festschrift in honour of Professor Anil Kumar Bhattacharya। Department of Statistics, Presidency College। 
  2. C R Rao, Prasantha Chandra Mahalanobis (1893-1972), Biographical Memoirs of Fellows of the Royal Society, v.19 (Dec 1973), pp.455-492
  3. "www.rkmcnarendrapur.org/index1.php?page=scholarship/"। Rkmcnarendrapur.org। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০২-২৫ 
  4. Bhattacharyya, A. (১৯৪৩)। "On a measure of divergence between two statistical populations defined by their probability distributions"। Bulletin of the Calcutta Mathematical Society35: 99–109। এমআর 0010358 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]