বেহালা, কলকাতা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বেহালা
কলকাতার অঞ্চল
বেহালা অঞ্চলের দুর্গাপূজা মণ্ডপ
স্থানাঙ্ক: ২৩°৪৮′ উত্তর ৮৮°১৫′ পূর্ব / ২৩.৮° উত্তর ৮৮.২৫° পূর্ব / 23.8; 88.25
দেশ  ভারত
রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ
শহর কলকাতা
বরো
  1. ১৩, # ১৪
ওয়ার্ড

বরো নং ১৩: ১১৫, ১১৬, ১১৭, ১১৮, ১১৯, ১২০, ১২২, ১২৩, ১২৪

বরো নং ১৪: ১২১, ১২৫, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১২৯, ১৩০, ১৩১, ১৩২
সরকার
 • বিধায়ক শোভন চট্টোপাধ্যায় (বেহালা পূর্ব)
পার্থ চট্টোপাধ্যায় (বেহালা পশ্চিম)
 • বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষ (১৩ নং বরো)
মানিক চট্টোপাধ্যায় (১৪ নং বরো)[১]
 • সাংসদ সুব্রত বক্সি (কলকাতা দক্ষিণ)
সময় অঞ্চল ভারতীয় সময় (ইউটিসি+৫:৩০)
এলাকা কোড(সমূহ) +৯১ ৩৩

বেহালা হল পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার দক্ষিণ পশ্চিম দিকের একটি অঞ্চল। বেহালার উত্তরপ্রান্তে খিদিরপুর; পূর্বপ্রান্তে আলিপুর, নিউ আলিপুরটালিগঞ্জ; দক্ষিণে ঠাকুরপুকুরজোকা; এবং পশ্চিমে বজবজ অবস্থিত। ১৯৮৪ সালের আগে বেহালা "দক্ষিণ শহরতলি পুরসভা" নামে একটি পৃথক পুরসভার মর্যাদা পেত। ১৯৮৪ সালের জানুয়ারি মাসে এটি কলকাতা পৌরসংস্থার অধীনে আসে।[২] কলকাতা পৌরসংস্থার ১১৮ থেকে ১৩২ নং ওয়ার্ডগুলি বেহালার অন্তর্গত। বেহালা দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিভক্ত। যথা - বেহালা পূর্ববেহালা পশ্চিম[৩] বেহালা অঞ্চলে মোট চারটি থানা আছে। যথা - বেহালা, পর্ণশ্রী, ঠাকুরপুকুর ও হরিদেবপুর থানা। এগুলি কলকাতা পুলিশের অধীনস্থ।[৪]

বেহালা কলকাতা অঞ্চলের একটি প্রাচীন আবাসিক এলাকা। এখানকার সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলের একটি বিখ্যাত জমিদার পরিবার তথা কালীঘাট মন্দিরের প্রাক্তন ট্রাস্টি।[৫] বিশিষ্ট ক্রিকেটার তথা ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়[৬] এবং কলকাতার বর্তমান মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়[৭] বেহালার অধিবাসী।

বেহালা কলকাতা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র।এখানে অনেকগুলি কেমিক্যাল, প্লাস্টিক, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং, স্প্রে পেন্টিং, মেটাল প্লেটিং ও ভ্যালভ্যানাইজিং কারখানা আছে। কলকাতার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাকেন্দ্র ও ব্যাংক এখানে অবস্থিত।[৮]

১৬১০ সালে লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার বেহালার বড়িশা এলাকার সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের দুর্গাপূজা শুরু করেছিলেন। এটি পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় প্রাচীনতম পারিবারিক দুর্গাপূজা।[৯] বেহালা থিম-ভিত্তিক সর্বজনীন দুর্গাপূজার জন্যও বিখ্যাত। বেহালার অপর একটি বিখ্যাত উৎসব হল বড়িশা চণ্ডীপূজা ও চণ্ডীমেলা। ১৭৯২ সাল থেকে প্রতি বছর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে ১০ দিন ধরে এই উৎসব পালিত হয়। বেহালার প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলি হল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুরাতাত্ত্বিক সংগ্রহালয়, সাবর্ণ সংগ্রহশালা, বেহালা বিমানবন্দর, সোনার দুর্গাবাড়ি, বড়িশা চণ্ডী মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির ইত্যাদি।

ব্যুৎপত্তি[সম্পাদনা]

পশ্চিমবঙ্গের লৌকিক চিত্রকলায় বেহুলার (উপরে বাঁদিকে) যাত্রাপথ। "বেহালা" নামটি "বেহুলা" নামের অপভ্রংশ বলে মনে করা হয়।

লৌকিক বিশ্বাস অনুসারে, মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান নারী চরিত্র বেহুলার নাম থেকে "বেহালা" নামটি এসেছে।[১০] অন্যমতে, "বহুলাপুর" শব্দটি থেকে "বেহালা" নামটি এসেছে। "বহুলা" কথার অর্থ "বহু নদীর হাত" বা "অন্ধকার নগরী"।[১০] আবার হিন্দু দেবী চণ্ডী বা কালীর অপর নাম "বহুলা"।[১০] বেহালা অঞ্চলের অধিবাসী রেভারেন্ড জেমস লং তাঁর প্রথম দিকের লেখালিখিতে বেহালাকে "ব্যালা" (Byala) নামে উল্লেখ করেছেন।[১০] নগরায়ণের আগে বেহালা অঞ্চলটি ছিল কয়েকটি গ্রামের সমষ্টি। প্রতিটি গ্রামের নামের সঙ্গে "-বেহালা" শব্দটি যুক্ত ছিল। যেমন - বাজারবেহালা, তামতেলবেহালা, বোঁড়শেবেহালা (বড়িশা), সরশুনোবেহালা (সরশুনো) ইত্যাদি।[১০] এমনকি দক্ষিণ শহরতলি পুরসভার নথিপত্রেও রাজারবাগানবেহালা, সাহাপুরবেহালা, নস্করপুরবেহালা ও সন্তোষবাটিবেহালার নামের উল্লেখ পাওয়া যায়।[১০]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

তারাতলা থেকে ঠাকুরপুকুর পর্যন্ত ডায়মন্ড হারবার রোডের দুই ধারে প্রসারিত জনবসতিটি বেশ পুরনো। এই রাস্তা বেহালা অঞ্চলটিকে তিন ভাগে বিভক্ত করে – পূর্ব বেহালা, পশ্চিম বেহালা ও দক্ষিণ বেহালা। পূর্ববঙ্গ (পরবর্তীকালের পূর্ব পাকিস্তান, বর্তমানে বাংলাদেশ) থেকে আগত ছিন্নমূল মানুষেরা এই অঞ্চলের জনসংখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই অঞ্চলের লোকবসতির সূত্রপাত ১৭৯৭ সাল নাগাদ। তবে বেহালার জনসংখ্যার ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটে স্বাধীনতার পর এবং এই অঞ্চলের নগরায়ণ ঘটে অতি সাম্প্রতিক কালে।

আজকের বেহালা[সম্পাদনা]

বর্তমানে বেহালা কলকাতা মহানগরীর বৃহত্তম নগরপুঞ্জগুলির মধ্যে অন্যতম। ১৯৮০-এর দশক থেকে ব্যাপক হারে এই অঞ্চলে জনসংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। এর ফলে সাধারণ দিনমজুর থেকে উচ্চশিক্ষিত – সকল শ্রেণির মানুষের বসতাঞ্চলে পরিণত হয় বেহালা। এই ব্যাপক ও অপরিকল্পিত জনবৃদ্ধির ফলে যাতায়াত-ব্যবস্থা পুরোপুরিই এই অঞ্চলের প্রধান রাস্তা ডায়মন্ড হারবার রোডের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। যদিও জেমস লঙ সরণি (সাধারণভাবে রেল লাইন নামে পরিচিত) এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

পরিকল্পনা ও স্থানের অভাবের কারণে ব্যস্ত ডায়মন্ড হারবার রোডের দুই ধার হকারদের দখলে চলে যাওয়ার ফলে অনেক সময়েই পথচারীরা রাস্তায় নেমে পড়তে বাধ্য হন। বেহালা ট্রাম ডিপো, বেহালা চৌরাস্তা ও বেহালা সখের বাজার অঞ্চল বর্তমানে ‘কলকাতা সবুজ ক্ষেত্র’ বা ‘কলকাতা গ্রিন জোন’-এর অন্তর্গত। এই অঞ্চলে অফিস-টাইমে গাড়ি অত্যন্ত ধীরে চলে। জোকা থেকে বেহালা ট্রামডিপো পর্যন্ত ট্রামরাস্তাটি পথের ঠিক মধ্যস্থলে অবস্থিত হওয়ার কারণে অনেকেই দ্রুত পরিবহণের জন্য ট্রামের সাহায্য নিয়ে থাকেন। পূর্বে কলকাতার মূল অঞ্চলের সঙ্গে ট্রামপথেও বেহালা যুক্ত ছিল। পরে তারাতলা উড়ালপুল নির্মাণের সময় মোমিনপুর-বেহালা ট্রাম-যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

পরিবহণ[সম্পাদনা]

কলকাতার অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে বেহালার যোগাযোগ রক্ষা করে বাস, ট্রাম ও অটোরিক্সা। সিটিসি, সিএসটিসি ও বিভিন্ন বেসরকারি বাস রুট কলকাতা, হাওড়াবিধাননগরের সঙ্গে কলকাতাকে যুক্ত করেছে। অতীতে কলকাতার অন্যান্য অংশের সঙ্গে বেহালার ট্রাম-যোগাযোগ থাকলেও, বর্তমানে ট্রামলাইন কেবলমাত্র বেহালা থেকে জোকা পর্যন্তই প্রসারিত। বেহালার বিভিন্ন পাড়ার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা রক্ষা করে অটোরিক্সা ও সাইকেল রিক্সা। ট্যাক্সি পরিষেবাও সুলভ।

মেট্রো রেল[সম্পাদনা]

বেহালার জোকা থেকে মধ্য কলকাতার বিবাদীবাগ পর্যন্ত একটি মেট্রো করিডোর তৈরি হচ্ছে। এই করিডোরে জোকা, ঠাকুরপুকুর, সখেরবাজার, বেহালা চৌরাস্তা, বেহালা বাজার ও তারাতলা - এই ছয়টি স্টেশন তৈরি হচ্ছে বেহালা অঞ্চলে।

বিমানবন্দর[সম্পাদনা]

বেহালা বিমানবন্দরবেহালা ফ্লাইং ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন পশ্চিমবঙ্গের একটি বিমানবন্দর ও বিমান-চালনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এটি ভারত সরকারের অসমারিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক ও ভারতের বিমানবন্দর প্রাধিকরণের অধীনস্থ। সম্প্রতি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীচাপ হ্রাস করার জন্য এটিকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করার কাজ চলছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থা[সম্পাদনা]

বেহালায় দুটি সাধারণ হাসপাতাল অবস্থিত – ব্রাহ্মসমাজ রোডের বিদ্যাসাগর হাসপাতাল ও পাঠকপাড়া অঞ্চলের বালানন্দ ব্রহ্মচারী হাসপাতাল। এছাড়াও বেহালায় একাধিক নার্সিংহোম, চক্ষু চিকিৎসালয় ও শিশু চিকিৎসালয় অবস্থিত।

উৎসব[সম্পাদনা]

দুর্গাপূজা বেহালার প্রধান উৎসব। সারা কলকাতার মতো এখানেও এই উৎসব বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয়। বেহালা-বড়িশা অঞ্চলে দুর্গোৎসব দেখতে কলকাতা এমনকি কলকাতার বাইরে থেকেও দর্শনার্থীরা এসে ভিড় জমান। বেহালা ক্লাব, সৃষ্টি, বড়িশা ক্লাব, শ্রীসংঘ, বেহালা ইয়ংস ইত্যাদি ক্লাব দুর্গাপূজার সময় মণ্ডপ-পরিক্রমার জনপ্রিয় গন্তব্য এবং বিগত দশক থেকে এই ক্লাবগুলি নিয়মিত শারদ পুরস্কার পেয়ে আসছে।

দুর্গাপূজা ছাড়াও বেহালায় একাধিক হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিস্টান উৎসব পালিত হয়। তবে অগ্রহায়ণ মাসে দশদিনব্যাপী বড়িশা অঞ্চলের চণ্ডীপূজা ও মেলা দুর্গাপূজার পরেই এই অঞ্চলের বৃহত্তম উৎসব। এছাড়া বেশ কিছু অসাম্প্রদায়িক উৎসবও বিশেষ উৎসাহের সঙ্গে বেহালায় অনুষ্টিত হয়। যেমন – বেহালা নাট্যোৎসব, বেহালা মিলনোৎসব, বেহালা উৎসব ও বেহালা বইমেলা।

সংস্কৃতি[সম্পাদনা]

বেহালায় বেশ কয়েকটি অডিটোরিয়াম, সিনেমা হল তথা মেলাপ্রাঙ্গন অবস্থিত যেখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসকল আয়োজিত হয়ে থাকে। এই অঞ্চলের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অডিটোরিয়াম হল কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত শরৎ-সদন। এটি ম্যান্টন শপিং মলের একাংশে অবস্থিত। বেহালার সিনেমা হলগুলি ডায়মন্ড হারবার রোডের উপরে বা নিকটে অবস্থিত। এগুলি হল অজন্তা (পাঠকপাড়া, পশ্চিম বেহালা), ইলোরা (বেহালা ট্রামডিপো, পূর্ব বেহালা), অশোকা (ম্যান্টন, পূর্ব বেহালা) ও পুষ্পশ্রী (সখের বাজার, দক্ষিণ বেহালা)।

বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব[সম্পাদনা]

ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক

বেহালার বিশিষ্ট বাসিন্দারা হলেন:

বাজার[সম্পাদনা]

ডায়মন্ড হারবার রোডের দুই ধারে বেহালা-বড়িশা অঞ্চলে একাধিক বড় ও ছোটো বাজার ও অসংখ্য দোকান অবস্থিত। সকল প্রকার পণ্যই এখানে সুলভ। বেহালা বাজার এখানকার বিখ্যাত বাজার।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান[সম্পাদনা]

  • বড়িশা হাই স্কুল (বেহালা চৌরাস্তা)
  • বেহালা অন্ধ বিদ্যালয় (বেহালা চৌরাস্তা)
  • ডিএভি ইনস্টিটিউশনস (পূর্বতন ডিএভি পাবলিক স্কুল)
  • বেহালা আর্য বিদ্যামন্দির
  • ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট ক্যালকাটা, জোকা
  • বিবেকানন্দ কলেজ (ঠাকুরপুকুর)
  • বিবেকানন্দ মহিলা মহাবিদ্যালয় (বেহালা চৌরাস্তা)
  • বেহালা কলেজ
  • ন্যাশানাল জেমস স্কুল
  • বিবেকানন্দ মিশন স্কুল
  • বিদ্যাভারতী
  • ওরিয়েন্ট ডে স্কুল
  • মেঘমালা রায় এডুকেশন সেন্টার
  • পর্ণশ্রী বিদ্যামন্দির
  • বেহালা ফ্লাইং ক্লাব
  • ব্রতচারী বিদ্যাশ্রম
  • বিবেকানন্দ স্কুল
  • পূর্ব বড়িশা উচ্চ বিদ্যালয়
  • শ্যামাসুন্দরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
  • পূর্বপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়
  • শ’ পাবলিক স্কুল
  • বেহালা হাই স্কুল
  • বিবেকানন্দ পল্লি কিশোর ভারতী হাই স্কুল
  • বেহালা গার্লস হাই স্কুল
  • বেহালা শিক্ষায়তন

এম. পি. বিড়লা ফাউন্ডেশন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল[সম্পাদনা]

এম. পি. বিড়লা ফাউন্ডেশন হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল বেহালার জেমস লং সরণিতে অবস্থিত একটি বিখ্যাত বিদ্যালয়। এই স্কুলের ছাত্রসংখ্যা প্রায় ৩,৬০০। এটি সহশিক্ষামূলক এবং ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়।[১১] ১৯৮৮ সালে এই স্কুলটি চালু হয়। এটি পরিচালনা করে বিড়লা পরিবারের জনকল্যাণমূলক শাখা এম. পি. বিড়লা গোষ্ঠী

দ্রষ্টব্য[সম্পাদনা]

সোনার দুর্গাবাড়ির দুর্গাপ্রতিমা

বেহালার প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলি হল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুরাতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা (পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ একটি জাদুঘর), সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের বাসভবন, বড়িশা আটচালা ও সাবর্ণ সংগ্রহশালা (বড়োবাড়ি, বড়িশা), বড়িশা চণ্ডী মন্দির ও সোনার দুর্গাবাড়ি।

রাজনীতি[সম্পাদনা]

বেহালা অঞ্চলটি দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিভক্ত। যথা – বেহালা পূর্ব ও বেহালা পশ্চিম। পূর্বে এই কেন্দ্রদুটি যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল।[১২] সীমানা পুনর্গঠন কমিশনের পশ্চিমবঙ্গের সংসদীয় ক্ষেত্রগুলির সীমানা পুনর্গঠন সংক্রান্ত সুপারিশ অনুযায়ী এই দুটি বিধানসভা কেন্দ্র কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের (২৩ নং লোকসভা কেন্দ্র) অন্তর্ভুক্ত হয়।[১৩]

বেহালা পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক (পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভার সদস্য) হলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) (সিপিআইএম)-র কুমকুম চক্রবর্তী। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই অঞ্চল থেকে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস দলের পরশ দত্ত এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। সিপিআইএম-এর নিরঞ্জন মুখোপাধ্যায় ১৯৮৭, ১৯৮২ ও ১৯৭৭ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেছিলেন।[১৪]

বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসের পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি ২০০১ ও ২০০৬ সালে পরপর দুইবার এই কেন্দ্র থেকে বিধানসভায় নির্বাচিত হন। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সিপিআইএম-এর নির্মল মুখোপাধ্যায় এই কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারও আগে ১৯৭৭, ১৯৮২ ও ১৯৮৭ সালে সিপিআইএম-এরই রবিন মুখোপাধ্যায় এই কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন।[১৫]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Borough Committees
  2. Kolkata Municipal Corporation (2011)। "About Kolkata"। KMC। সংগৃহীত 1 September 2011 
  3. "Delimitation Commission Order No. 18 dated 15 February 2006"। Government of West Bengal। সংগৃহীত 2010-10-25 
  4. The Telegraph (2011)। "Midnight change of guard- 17 more police stations come under Lalbazar"। The Telegraph। সংগৃহীত 1 September 2011 
  5. Nair, P.Thankappan, The Growth and Development of Old Calcutta, in Calcutta, the Living City, Vol I, p. 11, edited by Sukanta Chaudhuri, Oxford University Press, ISBN 0-19-563696-1
  6. Press Trust Of India (7 October 2008)। "Ganguly: Bengal's greatest cricketer"। সংগৃহীত 31 August 2011 
  7. National Election Watch (2011)। "Sovan Chatterjee"। সংগৃহীত 31 August 2011 
  8. Clickindia (2011)। "Behala"। সংগৃহীত 31 August 2011 
  9. Banerjee, Sudeshna (2006) [2004]। Durga Puja: Yesterday, Today & Tomorrow (2nd সংস্করণ)। New Delhi: Rupa & Co। পৃ: 32। আইএসবিএন 81-291-0547-0 
  10. ১০.০ ১০.১ ১০.২ ১০.৩ ১০.৪ ১০.৫ Banerjee, Sudhindranath (1398 (Bengali Year))। "Janapad Rupe Name" [Name and Characteristics of the Township]। Behala Janapader Itihas [History of Behala Township] (Bengali ভাষায়)। Kolkata: Progressive Writers' Guild। পৃ: 45–49। 
  11. asklaila.com
  12. "Assembly Constituencies - Corresponding Districts and Parliamentary Constituencies"West Bengal। Election Commission of India। সংগৃহীত 2008-10-02 
  13. "Press Note, Delimitation Commission"Assembly Constituencies in West Bengal। Delimitation Commission। সংগৃহীত 2009-03-01 
  14. "State Elections 2006 - Partywise Comparision for 112-Behala East Constituency of West Bengal"। Election Commission of India। সংগৃহীত 2008-10-25 
  15. "State Elections 2006 - Partywise Comparision for 113-Behala West Constituency of West Bengal"। Election Commission of India। সংগৃহীত 2008-10-25 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

উইকিভ্রমণ থেকে Kolkata/Southern fringes ভ্রমণ নির্দেশিকা