ওয়াহিদা রহমান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(ওয়াহিদা রেহমান থেকে ঘুরে এসেছে)
ওয়াহিদা রেহমান
Waheeda Rehman 75.jpg
জন্ম (১৯৩৬-০৫-১৪) ১৪ মে ১৯৩৬ (বয়স ৭৭)
Chingleput, মাদ্রাজ, British India
অন্য নাম ওয়াহিদা রহমান
পেশা অভিনয় শিল্পী
কার্যকাল ১৯৫৫-১৯৯১, ২০০২- বর্তমান
উল্লেখযোগ্য কাজ Reshma in Reshma Aur Shera
Rosie Marco/Miss Nalini in Guide
Rajkumari Neel Kamal/Sita in Neel Kamal
Nurse Radha in Khamoshi
দম্পতি কামালজিত সিং (১৯৭৪-২০০০)

ওয়াহিদা রেহমান একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র যিনি অভিনেত্রী যিনি বিংশ শতকের ষাট, সত্তর ও আশির দশকে হিন্দি সিনেমার সফল অভিনেত্রী হিসাবে খ্যাতিলাভ করেছিলেন। তিনি সত্যজিৎ রায়ের অভিযান ছবিতেও অভিনয় করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি দূর থেকে বিশেষ ভূমিকা রেখে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

জন্ম[সম্পাদনা]

ওয়াহিদা রেহমান ১৯৩৬ সালের ১৪ মে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। ওয়াহিদা রেহমান ১৯৫৬ সালে ‘সি.আই.ডি’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে হিন্দি সিনেমার জগতে প্রবেশ করেন। এ ছবির সাফল্যের পর ১৯৫৭ সালে‘পয়সা’ ছবিতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেন। এরপর ষাট, সত্তর ও আশির দশকে তিনি ছিলেন হিন্দি সিনেমার খ্যাতিমান অভিনেত্রী। তিনি সত্যজিৎ রায়ের অভিযান ছবিতেও অভিনয় করেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদান[সম্পাদনা]

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ্চ রাত্রিতে বাংলাদেশে গণহত্যা শুরু হলে মুম্বইয়ের অধিকাংশ সংবাদপত্র এর সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। মুম্বাইয়ের পেশাজীবী সচেতন মানুষ বাংলাদেশে গণহত্যার প্রতিবাদে ঐক্যবদ্ধ হন। বাংলাদেশকে সহায়তা করার লক্ষ্যে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তারা মুম্বাইয়ের সাংবাদিক সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসায় সমবেত হন। সভায় আলোচনাক্রমে মহারাষ্ট্রে ‘বাংলাদেশ এইড কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কমিটির সভাপতি, সহ-সভাপতি ও অনারেরি সেক্রেটারি মনোনীত হন যথাক্রমে মুম্বাইয়ের ব্যবসায়ী হরিশ মহেন্দ্র, সাংবাদিক সলিল ঘোষ এবং ওয়াহিদা রেহমান। কমিটি মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দানের লক্ষ্যে নানাবিধ ভূমিকা গ্রহণ করে এবং সেখানে ওয়াহিদা রেহমানের ছিল অতুলনীয় অবদান। ওয়াহিদা রেহমানকে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার একটি চিঠি পাঠায়। চিঠির বার্তাবাহক নূরুল কাদিরের মুখে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অত্যাচার ও গণহত্যার বিবরণ শুনে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বার্তাবাহককে মহারাষ্ট্রের তৎকালীন গভর্নর এবং বাংলাদেশ এইড কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক নবাব আলী ইয়ার জংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেন। তিনি স্বল্পতম সময়ে মুম্বাই চেম্বার অব কমার্স অ্যাণ্ড ইণ্ডাাস্ট্রিজের সভাপতি, মুম্বাই হাইকোর্টের ব্যারিস্টার, প্রখ্যাত ইংরেজি সাপ্তাহিক ব্লিৎজ সহ মুম্বইয়ের বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকের কাছে ফোন করে, কখনও সরাসরি গিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে তৎপরতা চালান। বুদ্ধিজীবী, শিল্পপতি, সম্পাদক এবং মহারাষ্ট্র প্রশাসনের কর্তাব্যাক্তি, যাদের ওপর ওয়াহিদা রহমানের ছিল প্রচ্ছন্ন প্রভাব, তাদের কাছেও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য যান। তিনি অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতায় বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের পক্ষে জনমত গঠন ছাড়াও মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্রাঙ্গনের সবাইকে মুক্তিযুদ্ধে সহায়তায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করেন।

পুরস্কার[সম্পাদনা]

ওয়াহিদা রেহমান ১৯৭১ সালে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে ভারতের জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। অন্যান্য পুরস্কারের মধ্যে ১৯৬৬ ও ১৯৬৮ সালে ফিল্ম ফেয়ার, ১৯৯৪ সালে ফিল্ম ফেয়ার আজীবন সম্মননা পুরস্কার, ১৯৭২ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কার এবং ২০১১ সালে পদ্মভূষণ পুরস্কার লাভ করেন।

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

টেমপ্লেট:National Film Award for Best Actress টেমপ্লেট:FilmfareBestActressAward টেমপ্লেট:FilmfareLifetimeAchievementAward