১৯৭৫–৭৬ বুন্দেসলিগা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
বুন্দেসলিগা
মৌসুম১৯৭৫–৭৬
তারিখ৯ আগস্ট ১৯৭৫ – ১২ জুন ১৯৭৬
চ্যাম্পিয়নবরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ
৪র্থ বুন্দেসলিগা শিরোপা
৪র্থ জার্মান শিরোপা
অবনমনহানোফার ৯৬
কিকার্স অফেনবাখ
বায়ার ০৫ উরডিঙ্গেন
ইউরোপীয় কাপবরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ
বায়ার্ন মিউনিখ (চ্যাম্পিয়ন)
কাপ উইনার্স কাপহামবুর্গার
উয়েফা কাপকলন
আইন্ট্রাখট ব্রাউনশভাইগ
শালকে
কাইজারস্লাউটার্ন
মোট খেলা৩০৬
মোট গোলসংখ্যা১০০৯ (ম্যাচ প্রতি ৩.৩টি)
শীর্ষ গোলদাতাপশ্চিম জার্মানি ক্লাউস ফিশার (২৯টি গোল)
সবচেয়ে বড় হোম জয়ফ্রাঙ্কফুর্ট ৬–০ বোখুম (৮ নভেম্বর ১৯৭৫)
ফ্রাঙ্কফুর্ট ৬–০ বায়ার্ন মিউনিখ (২২ নভেম্বর ১৯৭৫)
সবচেয়ে বড় অ্যাওয়ে জয়উরডিঙ্গেন ০–৫ ফ্রাঙ্কফুর্ট (৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬)
সর্বোচ্চ স্কোরিংবায়ার্ন মিউনিখ ৭–৪ হের্টা (১২ জুন ১৯৭৬)

১৯৭৫–৭৬ বুন্দেসলিগা পশ্চিম জার্মানির পেশাদার ফুটবল লীগের শীর্ষ স্তর বুন্দেসলিগার ১৩তম মৌসুম ছিল। এই মৌসুমটি ১৯৭৫ সালের ৯ই আগস্ট তারিখে শুরু হয়ে ১৯৭৬ সালের ১২ই জুন তারিখে সম্পন্ন হয়েছিল।[১][২] বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখের জার্মান আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হেনিং ইয়েনসেন এই মৌসুমের প্রথম গোল করেছিলেন।[৩]

বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ বুন্দেসলিগার পূর্ববর্তী আসরের চ্যাম্পিয়ন, যারা ১৯৭৪–৭৫ মৌসুমে ৫০ পয়েন্ট অর্জন করে এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ৩য় বারের মতো শিরোপা জয়লাভ করেছিল।

এই মৌসুমে ৪৫ পয়েন্ট অর্জন করে বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ ৪র্থ বারের মতো বুন্দেসলিগা এবং ৪র্থ বারের মতো জার্মান শিরোপা জয়লাভ করেছিল। শালকের জার্মান আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ক্লাউস ফিশার ২৯ গোল করে এই মৌসুমের শীর্ষ গোলদাতার পুরস্কার জয়লাভ করেছিলেন।

প্রতিযোগিতার ধরন[সম্পাদনা]

প্রতিটি ক্লাব একে অপরের বিরুদ্ধে দুইটি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল; একটি নিজেদের মাঠে এবং অপরটি প্রতিপক্ষ দলের মাঠে। ক্লাবগুলো প্রতিটি জয়ের জন্য দুই পয়েন্ট এবং ড্রয়ের জন্য এক পয়েন্ট করে অর্জন করেছিল। যদি দুই বা ততোধিক ক্লাব সমান পয়েন্ট অর্জন করে থাকে, তবে গোল পার্থক্যের মাধ্যমে পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। সর্বাধিক পয়েন্ট অর্জনকারী ক্লাবটি চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা জয়লাভ করেছিল এবং সর্বনিম্ন পয়েন্ট অর্জনকারী তিনটি ক্লাব ২. বুন্দেসলিগার বিভিন্ন বিভাগে অবনমিত হয়েছিল।

দল[সম্পাদনা]

১৯৭৪–৭৫ মৌসুম শেষে স্টুটগার্ট, টেনিস বরুসিয়া বার্লিন এবং ভুপারটাল মৌসুমে সর্বনিম্ন পয়েন্ট অর্জন করে পয়েন্ট তালিকার সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা দুই ক্লাব হিসেবে বুন্দেসলিগা হতে সরাসরি অবনমিত হয়েছিল। অন্যদিকে, তাদের বদলে হানোফার ৯৬, কার্লস্রুহার এবং বায়ার ০৫ উরডিঙ্গেন বুন্দেসলিগায় উন্নীত হয়েছিল। পূর্ববর্তী মৌসুমের মতো এই মৌসুমেও ১৮টি ক্লাব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল।

ক্লাব মাঠ[৪] ধারণক্ষমতা[৪]
হের্টা বার্লিন অলিম্পিক স্টেডিয়াম ১,০০,০০০
বোখুম রুর স্টেডিয়াম ৪০,০০০
আইন্ট্রাখট ব্রাউনশভাইগ আইন্ট্রাখট স্টেডিয়াম ৩৮,০০০
ভেয়ার্ডার ব্রেমেন ভেজার স্টেডিয়াম ৩২,০০০
ডুসবুর্গ ভেডাউস্টাডিওন ৩৮,৫০০
ফর্টুনা ডুসেলডর্ফ রাইন স্টেডিয়াম ৫৯,৬০০
এসেন গেওর্গ মেলশেস স্টেডিয়াম ৪০,০০০
আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট ভাল্ডস্টাডিওন ৬২,০০০
হামবুর্গার ফক্সপার্কস্টাডিওন ৮০,০০০
হানোফার ৯৬ নিডারজারকসেন স্টেডিয়াম ৬০,৪০০
কাইজারস্লাউটার্ন বেৎসেনবার্গ স্টেডিয়াম ৪২,০০০
কার্লস্রুহার ভিল্ডপার্কস্টাডিওন ৫০,০০০
কলন মুঙ্গার্সডর্ফার স্টেডিয়াম ৬১,০০০
বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ বোকেলবার্গস্টাডিওন ৩৪,৫০০
বায়ার্ন মিউনিখ মিউনিখ অলিম্পিক স্টেডিয়াম ৭০,০০০
কিকার্স অফেনবাখ বিবারার বার্গ স্টেডিয়াম ৩০,০০০
শালকে পার্ক স্টেডিয়াম ৭০,০০০
বায়ার ০৫ উরডিঙ্গেন গ্রটেনবুর্গ স্টেডিয়াম ২২,০০০

পয়েন্ট তালিকা[সম্পাদনা]

অব দল ম্যাচ জয় ড্র হার স্বগো বিগো গোপা পয়েন্ট যোগ্যতা অর্জন বা অবনমন
বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ (C) ৩৪ ১৬ ১৩ ৬৬ ৩৭ +২৯ ৪৫ ইউরোপীয় কাপের প্রথম পর্বে উত্তীর্ণ[ক]
হামবুর্গার ৩৪ ১৭ ১০ ৫৯ ৩২ +২৭ ৪১ কাপ উইনার্স কাপের প্রথম পর্বে উত্তীর্ণ
বায়ার্ন মিউনিখ ৩৪ ১৫ ১০ ৭২ ৫০ +২২ ৪০ ইউরোপীয় কাপের প্রথম পর্বে উত্তীর্ণ[ক]
কলন ৩৪ ১৪ ১১ ৬২ ৪৫ +১৭ ৩৯ উয়েফা কাপের প্রথম পর্বে উত্তীর্ণ[খ]
আইন্ট্রাখট ব্রাউনশভাইগ ৩৪ ১৪ ১১ ৫২ ৪৮ +৪ ৩৯
শালকে ৩৪ ১৩ ১১ ১০ ৭৬ ৫৫ +২১ ৩৭
কাইজারস্লাউটার্ন ৩৪ ১৫ ১২ ৬৬ ৬০ +৬ ৩৭
রট-ভাইস এসেন ৩৪ ১৩ ১১ ১০ ৬১ ৬৭ −৬ ৩৭
আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট ৩৪ ১৩ ১০ ১১ ৭৯ ৫৮ +২১ ৩৬
১০ ডুসবুর্গ ৩৪ ১৩ ১৪ ৫৫ ৬২ −৭ ৩৩
১১ হের্টা ৩৪ ১১ ১০ ১৩ ৫৯ ৬১ −২ ৩২
১২ ফর্টুনা ডুসেলডর্ফ ৩৪ ১০ ১০ ১৪ ৪৭ ৫৭ −১০ ৩০
১৩ ভেয়ার্ডার ব্রেমেন ৩৪ ১১ ১৫ ৪৪ ৫৫ −১১ ৩০
১৪ বোখুম ৩৪ ১২ ১৬ ৪৯ ৬২ −১৩ ৩০
১৫ কার্লস্রুহার ৩৪ ১২ ১৬ ৪৬ ৫৯ −১৩ ৩০
১৬ হানোফার ৯৬ (R) ৩৪ ১৬ ৪৮ ৬০ −১২ ২৭ ২. বুন্দেসলিগায় অবনমিত
১৭ কিকার্স অফেনবাখ (R) ৩৪ ১৬ ৪০ ৭২ −৩২ ২৭
১৮ বায়ার ০৫ উরডিঙ্গেন (R) ৩৪ ১০ ১৮ ২৮ ৬৯ −৪১ ২২
উৎস: জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন
শ্রেণীবিভাগের নিয়মাবলী: ১) পয়েন্ট; ২) গোল পার্থক্য; ৩) স্বপক্ষে গোল।
(C) চ্যাম্পিয়ন; (R) অবনমিত।
টীকা:
  1. বায়ার্ন মিউনিখ কাপ উইনার্স কাপের জন্য উত্তীর্ণ হওয়ায় উয়েফা কাপে তাদের বরাদ্দকৃত স্থানটি ষষ্ঠ স্থান অধিকারী শালকেকে প্রদান করা হয়েছিল।
  2. হামবুর্গার কাপ উইনার্স কাপের জন্য উত্তীর্ণ হওয়ায় উয়েফা কাপে তাদের বরাদ্দকৃত স্থানটি ১৯৭৫–৭৬ ডিএফবি-পোকালের রানার-আপ কাইজারস্লাউটার্নকে প্রদান করা হয়েছিল।

ফলাফল[সম্পাদনা]

স্বাগতিক \ সফরকারী BSC BOC EBS SVW DUI F95 RWE SGE HSV H96 FCK KSC KOE BMG FCB KOF S04 B05
হের্টা ৪–১ ১–০ ০–০ ১–২ ২–২ ২–২ ৪–৪ ১–১ ১–০ ৩–০ ১–১ ২–১ ৩–০ ২–১ ১–০ ২–১ ৫–০
বোখুম ২–০ ২–০ ০–৩ ১–২ ০–১ ২–১ ৫–৩ ০–৩ ২–০ ২–০ ৪–২ ১–০ ২–০ ৩–১ ৫–১ ১–৪ ৩–০
আইন্ট্রাখট ব্রাউনশভাইগ ৫–২ ১–১ ৩–২ ৩–১ ৩–১ ১–১ ২–০ ১–০ ৩–২ ২–০ ২–০ ০–০ ০–০ ১–১ ৫–১ ৪–১ ১–০
ভেয়ার্ডার ব্রেমেন ৩–২ ৪–১ ০–১ ২–০ ৩–০ ৩–৩ ১–২ ১–৩ ০–০ ৩–২ ১–০ ৩–২ ২–২ ০–০ ৩–১ ১–১ ৩–০
ডুসবুর্গ ২–১ ১–১ ১–০ ২–০ ২–২ ৪–০ ১–১ ১–১ ৪–৩ ১–২ ১–০ ০–৪ ২–৩ ১–১ ৬–২ ১–৩ ২–০
ফর্টুনা ডুসেলডর্ফ ২–১ ৩–১ ৩–৩ ৩–০ ১–৩ ৫–২ ১–১ ১–০ ৩–০ ৫–১ ০–২ ০–০ ১–১ ১–১ ০–০ ১–২ ২–০
রট-ভাইস এসেন ৩–১ ১–০ ২–২ ২–০ ৫–২ ২–২ ৪–৩ ১–১ ১–০ ৫–১ ১–০ ২–৩ ১–৩ ৩–৩ ২–২ ০–০ ২–১
আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট ১–১ ৬–০ ৬–১ ২–০ ১–১ ৫–২ ১–৩ ১–০ ৫–১ ১–১ ০–২ ২–২ ১–১ ৬–০ ১–০ ২–১ ৩–১
হামবুর্গার ২–১ ৫–৩ ৪–০ ১–২ ৩–০ ৩–১ ৪–১ ৪–২ ৩–০ ২–০ ৩–০ ২–১ ০–০ ০–১ ২–০ ৪–১ ০–০
হানোফার ৯৬ ২–৬ ৪–১ ২–০ ০–০ ০–২ ১–২ ০–০ ৩–২ ১–০ ২–০ ২–০ ৩–৩ ৩–৩ ২–২ ৪–০ ১–১ ৩–১
কাইজারস্লাউটার্ন ৫–০ ২–১ ৩–১ ৪–০ ৩–০ ২–১ ৫–০ ৩–১ ২–০ ২–২ ৩–১ ১–১ ০–৩ ২–১ ২–২ ১–৩ ১–২
কার্লস্রুহার ৩–০ ২–২ ০–২ ২–০ ২–২ ১–০ ১–২ ১–০ ৩–২ ৩–২ ৩–৫ ৩–১ ২–৪ ১–২ ২–১ ২–২ ১–০
কলন ২–০ ১–০ ১–১ ১–১ ৩–২ ৪–০ ৩–০ ৩–৩ ১–১ ২–১ ১–১ ১–৩ ০–৪ ১–০ ৪–০ ২–১ ৪–০
বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ ১–১ ১–১ ০–০ ৩–০ ৩–০ ১–০ ১–২ ৪–২ ১–১ ২–০ ৩–০ ৪–০ ২–১ ৪–১ ২–০ ০–২ ৬–১
বায়ার্ন মিউনিখ ৭–৪ ৪–০ ১–১ ৪–০ ৩–০ ৫–০ ৫–১ ১–১ ১–০ ৩–১ ৩–৪ ২–০ ১–২ ৪–০ ৩–১ ৩–২ ২–০
কিকার্স অফেনবাখ ২–১ ১–০ ৪–২ ২–০ ২–১ ১–১ ০–৪ ২–১ ৩–২ ১–০ ১–৪ ০–০ ১–৫ ১–১ ২–২ ১–১ ২–৩
শালকে ২–২ ১–১ ৫–১ ৪–২ ৫–১ ২–০ ৫–১ ২–৪ ০–১ ১–২ ২–২ ৬–২ ৩–১ ২–২ ২–২ ১–১ ৫–১
বায়ার ০৫ উরডিঙ্গেন ১–১ ০–০ ০–০ ২–১ ০–৪ ২–০ ১–১ ০–৫ ০–১ ১–১ ২–২ ১–১ ১–১ ১–১ ২–১ ১–২ ৩–২
উৎস: জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন
রং: নীল = স্বাগতিক দল বিজয়ী; হলুদ = ড্র; লাল = সফরকারী দল বিজয়ী।

শীর্ষ গোলদাতা[সম্পাদনা]

অবস্থান খেলোয়াড় ক্লাব গোল
পশ্চিম জার্মানি ক্লাউস ফিশার শালকে ২৯
পশ্চিম জার্মানি এরিখ বেয়ার হের্টা ২৩
পশ্চিম জার্মানি গের্ড মুলার বায়ার্ন মিউনিখ
পশ্চিম জার্মানি ক্লাউস টপমোলার কাইজারস্লাউটার্ন ২২
পশ্চিম জার্মানি হর্স্ট রুবেশ রট-ভাইস এসেন ১৮
সুইডেন রোলান্দ সান্দবার্গ কাইজারস্লাউটার্ন ১৭
পশ্চিম জার্মানি ভলফগাং ফ্রাঙ্ক আইন্ট্রাখট ব্রাউনশভাইগ ১৬
পশ্চিম জার্মানি বার্ন্ড হোলজেনবাইন আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট
ডেনমার্ক অ্যালান সিমনসেন বরুসিয়া মনশেনগ্লাডবাখ
১০ পশ্চিম জার্মানি বার্ন্ড নিকেল আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট ১৫

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Schedule Round 1"। DFB। 
  2. "Archive 1975/1976 Round 34"। DFB। 
  3. "Hannover 96 - Bor. Mönchengladbach 3:3 (Bundesliga 1975/1976, 1. Round)"worldfootball.net। ৬ মার্চ ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০২২ 
  4. Grüne, Hardy (২০০১)। Enzyklopädie des deutschen Ligafußballs, Band 7: Vereinslexikon (German ভাষায়)। Kassel: AGON Sportverlag। আইএসবিএন 3-89784-147-9 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]