সুব্রত গুহ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সুব্রত গুহ
সুব্রত গুহ.jpg
১৯৬৭ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে সুব্রত গুহ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামসুব্রত গুহ
জন্ম৩১ জানুয়ারি, ১৯৪৬
কলকাতা, বাংলা প্রদেশ, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু৫ নভেম্বর, ২০০৩
মুম্বই, ভারত
উচ্চতা৬ ফুট ০ ইঞ্চি (১.৮৩ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম-ফাস্ট
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১১৪)
৮ জুন ১৯৬৭ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১২ ডিসেম্বর ১৯৬৯ বনাম অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৮৫
রানের সংখ্যা ১৭ ১০৬৭
ব্যাটিং গড় ৩.৩৯ ১২.৭০
১০০/৫০ -/- -/-
সর্বোচ্চ রান ৭৫
বল করেছে ৬৭৪ ৬০৬৮
উইকেট ২৯৯
বোলিং গড় ১০৩.৬৬ ২০.২৯
ইনিংসে ৫ উইকেট - ১৮
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ২/৫৫ ৭/১৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/- ৪৫/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৫ জুন ২০২০

সুব্রত গুহ (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; জন্ম: ৩১ জানুয়ারি, ১৯৪৬ - মৃত্যু: ৫ নভেম্বর, ২০০৩) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রদেশের কলকাতা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬০-এর দশকের শেষার্ধ্বে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বাংলা দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি মিডিয়াম-ফাস্ট বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন তিনি।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

এক দশকের অধিক সময় ধরে বাংলা দলের প্রধান খুঁটি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে সচেষ্ট ছিলেন। ১৪.৬১ গড়ে ২০৯ উইকেট লাভ করেন।

১৯৬৫-৬৬ মৌসুম থেকে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত সুব্রত গুহের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। সঠিকমানের ডানহাতি মিডিয়াম পেস বোলার হিসেবে বলকে উইকেটের উভয় দিকেই সুইং করানোয় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তবে, টেস্ট পর্যায়ে এর বিপরীত চিত্র লক্ষ্য করা যায়। সমগ্র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে ২০.২৯ গড়ে ২৯৯ উইকেট পান।

উদ্বোধনী বোলার হিসেবে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন সুব্রত গুহ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করতেন। ছাত্র অবস্থাতেই বিশ বছর বয়সী সুব্রত গুহ ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান একাদশের বিপক্ষে খেলে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখেন। সম্মিলিতভাবে মধ্য ও পূর্ব অঞ্চল দলের সদস্যরূপে ৪/৬৪ ও ৭/৪৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়ে সফরকারীদের একমাত্র পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।[১]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন সুব্রত গুহ। ১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে অংশগ্রহণকৃত চার টেস্টে ১০৩.৬৭ গড়ে মাত্র তিনটি উইকেট পেয়েছিলেন। ৩.৪০ গড়ে ১৭ রান তুলেন। ৮ জুন, ১৯৬৭ তারিখে লিডসে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১২ ডিসেম্বর, ১৯৬৯ তারিখে কলকাতায় সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৬৭ সালে পতৌদি’র নবাবের অধিনায়কত্বে, এম চীনাস্বামীর আর্থিক দিক পরিচালনা ও কেকি তারাপোরের ব্যবস্থাপনায় ইংল্যান্ড সফরে দলের সাথে যান। দলের সাথে ভি সুব্রামন্য, ভাগবত চন্দ্রশেখর, সদানন্দ মহল, সুব্রত গুহ, এস ভেঙ্কটরাঘবন, ফারুক ইঞ্জিনিয়ার, অজিত ওয়াড়েকর, রমেশ সাক্সেনা, হনুমন্ত সিং, বিষেন বেদী, ইরাপল্লী প্রসন্ন, রুসি সুর্তি, চান্দু বোর্দে, বুধি কুন্দরনদিলীপ সরদেশাই গিয়েছিলেন।

এ সফরে তিনি কম সফল হন। টেস্টগুলোর মধ্যে কেবলমাত্র একটিতেই তিনি অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। হেডিংলি টেস্টে দীর্ঘ ৪৮ ওভার বোলিং করে ১১৫ রান খরচায় কোন উইকেট লাভে ব্যর্থতার পরিচয় দেন।

১৯৬৯-৭০ মৌসুমে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে তিন টেস্টে অংশ নিয়ে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি।[২] কানপুর টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং ২/৫৫ লাভ করেন। পল শিহানজন গ্লিসন তার শিকারে পরিণত হয়েছিলেন।

অবসর[সম্পাদনা]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পরও রঞ্জী ট্রফিতে বল হাতে নিয়ে সফল হয়েছিলেন। বাংলার সদস্যরূপে ১৯৭২-৭৩ মৌসুমে গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত খেলায় আসামের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৭/১৮ দাঁড় করান।[৩]

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। নীলম গুহ নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ৫ নভেম্বর, ২০০৩ তারিখে ৫৭ বছর বয়সে মুম্বই এলাকায় সুব্রত গুহের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Combined East & Central v West Indies 1966-67"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০১৯ 
  2. Wisden 2004, pp. 1543–44.
  3. "Assam v Bengal 1972-73"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৬ আগস্ট ২০১৯ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]