কেকি তারাপোর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
কেকি তারাপোর
কেকি তারাপোর.jpg
১৯৬৭ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে কেকি তারাপোর
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামকেকি খুরশেদজী তারাপোর
জন্ম১৭ ডিসেম্বর, ১৯১০
বোম্বে, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু১৫ জুন, ১৯৮৬
পুনে, মহারাষ্ট্র, ভারত
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স
ভূমিকাবোলার, প্রশাসক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ৪৬)
১০ নভেম্বর ১৯৪৮ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪০
রানের সংখ্যা ৪৪১
ব্যাটিং গড় ২.০০ ১১.৩০
১০০/৫০ -/- -/-
সর্বোচ্চ রান ৪২
বল করেছে ১১৪ ১০৮৪৭
উইকেট - ১৪৮
বোলিং গড় - ২৮.৭৭
ইনিংসে ৫ উইকেট -
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং - ৮/৯১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং -/- ১৬/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৬ এপ্রিল ২০২০

কেকি খুরশেদজী তারাপোর (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; মারাঠি: केकी तारापोर; জন্ম: ১৭ ডিসেম্বর, ১৯১০ - মৃত্যু: ১৫ জুন, ১৯৮৬) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৪৮ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে বোম্বে দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন কেকি তারাপোর

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৩৭-৩৮ মৌসুম থেকে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুম পর্যন্ত কেকি তারাপোরের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। খেলোয়াড়ী জীবনে তিনি স্লো লেফট-আর্ম বোলার হিসেবে খেলতেন। এক দশকের অধিক সময়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। এ পর্যায়ে ২৮.৭৭ গড়ে ১৪৮ উইকেট লাভ করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন কেকি তারাপোর। ১০ নভেম্বর, ১৯৪৮ তারিখে দিল্লিতে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

তারাপোরকে বিনু মানকড়কে সহায়তাকল্পে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে তিন থেকে চারজন বামহাতি স্পিনারকে রাখা হয়।

তার স্বল্পকালীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবন সম্পর্কে সুজিত মুখোপাধ্যায় মন্তব্য করেন যে, ‘শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে ১৯৪৮ সালে দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলায় ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের বিপক্ষে খেলানো হয়। প্রথম দুই দিন ভারতীয় বোলারের মাত্র তিনটি উইকেটের পতন করেছিলেন। তন্মধ্যে, তিনি সর্বাপেক্ষা দূর্ভাগা ছিলেন। বোম্বে পঞ্চদলীয় প্রতিযোগিতার পর এটিই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় তার প্রথম অংশগ্রহণ ছিল। আটত্রিশ বছর বয়সী কেকি তারাপোর মাঠে দর্শকদের চক্ষুশূলে পরিণত হন।’

খেলার দ্বিতীয় দিনে ডিপ এক্সট্রা কভার অঞ্চলে ফিল্ডিংকালে বিনু মানকড়ের বলে রবার্ট ক্রিস্টিয়ানি’র চার আটকাতে গিয়ে আঙ্গুলে আঘাত পান। এরফলে, তিনি মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর মাঠে ফিরে আসলে যখনই তিনি বল আটকাতে তৎপর হন, তখনই দর্শকেরা তাকে লক্ষ্য করে দুয়ো দুয়ো ধ্বনি করতে থাকে।[১]

অবসর[সম্পাদনা]

একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের চার মাস পর সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নেন কেকি তারাপোর। রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় বোম্বে ও বরোদার মধ্যকার চূড়ান্ত খেলায় তিনি অংশ নেন। এ পর্যায়ে তিনি ৯৯ ওভার বোলিং করেছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ক্রিকেট প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৬৭ সালে ভারত দলকে ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব নিয়ে ইংল্যান্ড ও ১৯৭০-৭১ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমন করেন। তন্মধ্যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজে ভারত দল প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ে সমর্থ হয়েছিল। ১৯৫৪ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ইন্ডিয়া ক্রিকেট ক্লাবের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

প্যাডেলযুক্ত মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আঘাতপ্রাপ্ত হন ও পরবর্তীতে নিহত হন। ১৫ জুন, ১৯৮৬ তারিখে ৭৫ বছর বয়সে মহারাষ্ট্রের পুনে এলাকায় কেকি তারাপোরের জীবনাবসান ঘটে। ভারতীয় ক্রিকেটে আরও একজন কেকি তারাপোর (১৯২২ - ২০০১) ক্রিকেট কোচের দায়িত্বে ছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Indian Express, 12 November 1948

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

গ্রন্থপঞ্জী[সম্পাদনা]