সি. এস. নায়ডু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সি. এস. নায়ডু
সি. এস. নায়ডু.jpg
১৯৪৬ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে সি. এস. নায়ডু
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামকোত্তারি সুবন্ন নায়ডু
জন্ম(১৯১৪-০৪-১৮)১৮ এপ্রিল ১৯১৪
নাগপুর, মহারাষ্ট্র, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু২২ নভেম্বর ২০০২(2002-11-22) (বয়স ৮৮)
ইন্দোর, মধ্যপ্রদেশ, ভারত
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনলেগ ব্রেক গুগলি
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
সম্পর্কসি. কে. নায়ডু (জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২০)
৫ জানুয়ারি ১৯৩৪ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১২ জানুয়ারি ১৯৫২ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১১ ১৭৪
রানের সংখ্যা ১৪৭ ৫৭৮৬
ব্যাটিং গড় ৯.১৮ ২৩.৯০
১০০/৫০ -/- ৪/৩৩
সর্বোচ্চ রান ৩৬ ১২৭
বল করেছে ৫২২ ৩০৯৬১
উইকেট ৬৪৭
বোলিং গড় ১৭৯.৫০ ২৬.৫৪
ইনিংসে ৫ উইকেট ৫০
ম্যাচে ১০ উইকেট ১৩
সেরা বোলিং ১/১৯ ৮/৯৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/- ১৪৪/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯

কোত্তারি সুবন্ন নায়ডু (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; মারাঠি: सी.एस. नायडू; জন্ম: ১৮ এপ্রিল, ১৯১৪ - মৃত্যু: ২২ নভেম্বর, ২০০২) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুর এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩৪ থেকে ১৯৫২ সময়কালে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে অন্ধ্রপ্রদেশ, বরোদা, বাংলা, মধ্য ভারত, মধ্যপ্রদেশ ও বেরার, হিন্দু, হোলকার, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন সি. এস. নায়ডু

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৩১-৩২ মৌসুম থেকে ১৯৬০-৬১ মৌসুম পর্যন্ত সি. এস. নায়ডু’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৭ বছর বয়সে ১৯৩২ সালে সর্বপ্রথম প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন সি. এস. নায়ডু। ১৯৬১ সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৬ বছর।[১] রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় ৫৬ খেলায় অংশ নেন। এছাড়াও, অংশগ্রহণকৃত আটটি প্রতিনিধিত্ব দলের পক্ষে খেলাসহ চারটিতে অধিনায়কের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।[২]

দীর্ঘদিন ও বর্ণাঢ্যময় রঞ্জী ট্রফি প্রতিযোগিতায় বিচরণ করেন। ১৯৩১-৩২ মৌসুমে থেকে ১৯৬১-৬২ মৌসুম পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশ ও বেরার, মধ্য ভারত, বরোদা ও হোলকারের পক্ষে খেলেন। এরপর বাংলা দলের পক্ষে অধিনায়কের দায়িত্ব পালনসহ অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের নেতৃত্বে ছিলেন। রঞ্জী ট্রফিতে ৫৬ খেলায় অংশ নিয়ে লেগ ব্রেক ও গুগলি বোলিংয়ে ২৩.৪৯ গড়ে ২৯৫ উইকেট পান।

১৯৩৯-৪০ মৌসুমে বরোদার সদস্যরূপে নয়ানগরের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৮/৯৩ বোলিং পরিসংখ্যানসহ খেলায় ১৩ উইকেট দখল করেন। ১৯৪২-৪৩ মৌসুমে চারটি শতরানের ইনিংস খেলেন। তন্মধ্যে, রাজপুতানা দলের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১২৭ রানের ইনিংস খেলেন। একই মৌসুমে রঞ্জী ট্রফির এক আসরে প্রথম বোলার হিসেবে বরোদার পক্ষে মাত্র চার খেলায় অংশ নিয়ে ৪০ উইকেট পান।[৩] অন্যদিকে, ১৯৪৪-৪৫ মৌসুমের চূড়ান্ত খেলায় প্রতিপক্ষীয় সি. কে. নায়ডু’র হোলকার দলের বিপক্ষে এক খেলায় ৯১৭ বল করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। তবে, এরজন্যে তাকে খেলায় সর্বাধিক রান খরচ করতে হয়েছিল।[৩]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে এগারোটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন সি. এস. নায়ডু। ৫ জানুয়ারি, ১৯৩৪ তারিখে কলকাতায় সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। প্রতিপক্ষীয় ইংল্যান্ডের হপার লেভেট এবং ভারতের মুশতাক আলী, দিলাবর হোসেনএম. জে. গোপালনের সাথে একযোগে টেস্ট অভিষেক ঘটে তার।[৪] ১২ জানুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে কানপুরে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বিরাট সাফল্য লাভ করলেও টেস্ট পর্যায়ে এর উল্টো চিত্র ধরা পড়ে। অংশগ্রহণকৃত ১১টি টেস্টের মধ্যে মাত্র তিনটি নিজ দেশে খেলার সুযোগ লাভ করেছিলেন। বাদ-বাকীগুলো ১৯৩৬ ও ১৯৪৬ সালে ইংল্যান্ডে এবং ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় খেলেছিলেন। তন্মধ্যে, চার টেস্টে তিনি উইকেট শূন্য অবস্থায় প্যাভিলিয়নে ফেরেন ও মাত্র ১৮ রান তুলতে পেরেছিলেন।

প্রাপ্ত দুই টেস্ট উইকেট লাভের জন্যে তাকে ৩৫৯ রান খরচ করতে হয়েছিল। মারকুটে ব্যাটিং করে সুনাম কুড়িয়েছিলেন ও কিছুটা সফলতা লাভ করেছিলেন। ৯.১৮ গড়ে ১৪৭ রান তুলেন। তবে, অভিষেক টেস্টে বেশ ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছিলেন। ১৯ বছর বয়সে ৩৬ ও ১৫ রান তুললেও কলকাতায় সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে স্বাগতিক ভারত দলকে পরাজয়বরণ করে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল।

আনুমানিক ১৯৩৪ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে (বামদিক থেকে) - সি. কে. নায়ডু, সি. এস. নায়ডু ও সি. এল. নায়ডু ভ্রাতৃত্রয়

মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

১৯৩৬ সালে দলীয় সঙ্গী কোটা রামস্বামী তার এ সমস্যা চিহ্নিত করেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ‘সি. এস. নায়ডু বল ডেলিভারি দেয়ার সময়কালে খুবই নিচুতে শরীরকে বেশ বাঁকাতেন ও তার মাথা স্ট্যাম্পের শীর্ষভাগে নিয়ে যেতেন। তিনি সম্পূর্ণভাবে বাহু তুলতেন ও শরীরের ওজনকে সাথে নিয়ে খুব দ্রুতগতিতে বলকে পিচে ফেলতেন। এছাড়াও, তিনি বেশ ভালোমানের বোলিং করলেও দূর্ভাগ্যবশতঃ নিখুঁতভাবে ও নিশানা বরাবর বল ফেলাকালীন নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারতেন না।’

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

২২ নভেম্বর, ২০০২ তারিখে ৮৮ বছর বয়সে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর এলাকায় সি. এস. নায়ডু’র দেহাবসান ঘটে। দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্ট ও হৃদযন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন। তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা সি. কে. নায়ডু ভারত দলের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণসহ প্রথম টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।[৩] ১৮ বছর উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন থাকলেও তার ছত্রচ্ছায়ায় ছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "First-Class Matches played by C.S. Nayudu"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ 
  2. Wisden Cricketers' Almanack 2003, pp. 1643–44.
  3. "The IPL is born"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০১৮ 
  4. "England in India (1933 – 1934): Scorecard of second Test"। Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২১, ২০১৯ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]