হপার লেভেট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
হপার লেভেট
HopperLevett.jpg
আনুমানিক ১৯৩৪ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে হপার লেভেট
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামউইলিয়াম হাওয়ার্ড ভিনসেন্ট লেভেট
জন্ম(১৯০৮-০১-২৫)২৫ জানুয়ারি ১৯০৮
গোল্ডহার্স্ট, কেন্ট, ইংল্যান্ড
মৃত্যু১ ডিসেম্বর ১৯৯৫(1995-12-01) (বয়স ৮৭)
হ্যাস্টিংস, পূর্ব সাসেক্স, ইংল্যান্ড
ডাকনামহপার
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ২৭৩)
৫ জানুয়ারি ১৯৩৪ বনাম ভারত
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৩০ - ১৯৪৭কেন্ট
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১৭৫
রানের সংখ্যা ২,৫২৪
ব্যাটিং গড় ৭.০০ ১২.২৫
১০০/৫০ ০/০ ০/২
সর্বোচ্চ রান ৭৬
বল করেছে
উইকেট
বোলিং গড়
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৩/০ ২৮৩/১৯৫
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২১ জুলাই ২০১৯

উইলিয়াম হাওয়ার্ড ভিনসেন্ট হপার লেভেট (ইংরেজি: Hopper Levett; জন্ম: ২৫ জানুয়ারি, ১৯০৮ - মৃত্যু: ১ ডিসেম্বর, ১৯৯৫) কেন্টের গোল্ডহার্স্ট এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩৪ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতেন ‘হপার’ ডাকনামে পরিচিত হপার লেভেট

শৈশবকাল[সম্পাদনা]

ব্রাইটন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন তিনি। ১৯২৬ সালে সফররত অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে লর্ডসে পাবলিক স্কুলস পঞ্চদশ দলের সদস্যরূপে খেলেন। খেলায় তিনি জনি টেলরের ক্যাচ নেন ও বোলিং করে জ্যাক রাইডারকে ৩ রানে ফেরৎ পাঠান।

ক্লাব ক্রিকেটে বেশ সুনাম কুড়ান। স্ট্যাম্পের পিছনে অবস্থান করে সাহসিকতার পরিচয় তুলে ধরেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলারের বোলিংও উইকেটের পিছনে দণ্ডায়মান থেকে মোকাবেলা করতেন। শৌখিন খেলোয়াড় ছিলেন তিন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৩০ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত হপার লেভেটের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। কেন্টের ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদা পেয়েছিলেন হপার লেভেট। কাউন্টি দলটির উচ্চমানসম্পন্ন উইকেট-রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলন তিনি। এ পর্যায়ে তাকে লেসলি অ্যামিসের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল। উন্নততর ব্যাটিংয়ের কারণে লেসলি অ্যামিস ইংল্যান্ডের পক্ষে ৪৭ টেস্টে অংশ নেন ও ১৯৩০-এর দশকে বিশ্ব একাদশে নিঃসন্দেহে ঠাঁই পেতেন। সে তুলনায় হপার লেভেট ১৯৩০ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে কেন্টের পক্ষে ১৪২ খেলায় অংশ নেন। অ্যামিসের টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণ কিংবা আঘাতের কারণে অনুপস্থিতিজনিত ঘাটতি মোকাবেলায় সচেষ্ট ছিলেন।

১৯৩০ সালে কেন্টের পক্ষে দুই খেলায় অংশ নেন। ডোভারে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে তিনটি ক্যাচ ও পাঁচটি স্ট্যাম্পিং করেন। ১৯৩৩ সালে মেইডস্টোনের খেলায় নয়জন নটস ব্যাটসম্যানকে আউট করেন। ১৯৩৪ সালে নর্দাম্পটনেও এর পুণরাবৃত্তি ঘটান। ১৯৩৫ সালে টানব্রিজ ওয়েলসে সাসেক্সের বিপক্ষেও এ কৃতিত্ব দেখান।

১৯৩৪ সালে নর্দাম্পটনে ও ১৯৩৯ সালে নিদে ইনিংসে দুইবার ছয়টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছিলেন। ঐ সময়ে লেগ স্পিনার টিচ ফ্রিম্যানের সাথে সুন্দর বোঝাপড়া ঘটান। ১৭৫ খেলায় অংশ নিয়ে ৪৭৮টি প্রথম-শ্রেণীর ডিসমিসাল ঘটান। ব্যাট হাতে কখনোবা ব্যাটিং উদ্বোধনে নামতেন। কিন্তু, রান সংগ্রহের হার ছিল মাত্র ১২। সর্বোচ্চ করেন ৭৬। কেন্টের দ্বিতীয় একাদশেও তিনি খেলেছেন। জেন্টলম্যান বনাম প্লেয়ার্সের মধ্যকার আটটি খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, চারটি লর্ডসে খেলেছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন হপার লেভেট। ৫ জানুয়ারি, ১৯৩৪ তারিখে কলকাতায় স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। প্রতিপক্ষীয় ভারতের মুশতাক আলী, দিলওয়ার হোসেন, সি.এস. নায়ড়ুমোরাপ্পাকাম গোপালনের সাথে একযোগে টেস্ট অভিষেক ঘটে তার।[২] এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে ডগলাস জারদিনের অধিনায়কত্বে ভারত গমন করেন। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ড্র হওয়া টেস্টে হপার লেভেট তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন, ১৫টি বাই রান দেন। ব্যাট হাতে ৫ ও অপরাজিত ২ রান তুলেন। তিন টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টেই তিনি খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। এরপর আর তাকে টেস্ট আঙ্গিনায় খেলতে দেখা যায়নি।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন রয়্যাল ওয়েস্ট কেন্ট রেজিম্যান্টে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রাচীন কেন্টিশ পরিবারের সম্ভ্রান্ত কৃষক হিসেবে তার সুনাম ছিল ও অনেক বছর খামারের স্বত্ত্বাধিকারী ছিলেন। কেন্টের সদস্য হবার পর ১৯৭৪ সালে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ও সাপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি হন। হপার্স টাই ক্লাব গঠন করেন।

স্বীয় মৃত্যুর ছয় সপ্তাহ পূর্বে পুরনো ক্রিকেট ব্যাগ, উইকেট-রক্ষণে ব্যবহৃত গ্লাভস ও রক্ষাকবচ নিলামে £৭৭ পাউন্ডে বিক্রয় করে দেন। ১ ডিসেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে ৮৭ বছর বয়সে পূর্ব সাসেক্সের হ্যাস্টিংস এলাকায় হপার লেভেটের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. [১] ESPNcricinfo, ESPN, সংগ্রহের তারিখ: ১৭ জুলাই ২০১৯
  2. "England in India (1933 – 1934): Scorecard of second Test"। Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ জুলাই ২১, ২০১৯ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]