সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের অংশগ্রহণের ঐচ্ছিক প্রটোকল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের অংশ গ্রহণের ঐচ্ছিক প্রটোকল
{{{image_alt}}}
  স্বাক্ষরকারী দেশ
  যেসব দেশ স্বাক্ষর করেছে, কিন্তু অনুমোদিত নয়
  যেসব দেশ স্বাক্ষর করেনি
স্বাক্ষর২৫ মে ২০০০[১]
স্থাননিউইয়র্ক[১]
কার্যকর১২ ফেব্রুয়ারী ২০০২[১]
শর্ত১০ অনুমোদন
স্বাক্ষরকারী১৮০[১]
অংশগ্রহণকারী১৭০[১]
Depositaryজাতিসংঘের মহাসচিব
ভাষাসমূহআরবি, চীনা, ইংরেজি, ফরাসি, রাশিয়ান এবং স্প্যানিশ
সশস্ত্র সংঘর্ষে শিশুদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে শিশু অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রটোকল at Wikisource

সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের অংশগ্রহণের ঐচ্ছিক প্রটোকল (ওপ্যাক) যা শিশু সৈনিক চুক্তি নামেও পরিচিত। এটি একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি যার দ্বারা রাষ্ট্রসমূহ সম্মত হয় যে, ১) সামরিক বাহিনীতে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু নিয়োগ নিষিদ্ধ; ২) তারা নিশ্চিত করে যে, সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের বয়স ১৬ বছরের কম নয়; এবং ৩) ১৬ বা ১৭ বছর বয়সী নিয়োগকৃত শিশুদের সরাসরি যুদ্ধ ক্ষেত্রে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকবে। এই চুক্তিতে অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুকে যেকোনো কাজে নিয়োগ করতে নিষেধ করা হয়েছে। ২৫ মে ২০০০ তারিখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৫৪/২৬৩ নং রেজুলেশনের মাধ্যমে শিশু অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশনের একটি সম্পূরক প্রোটোকল হিসাবে এই চুক্তিটি গ্রহণ করে।[২] ২০০২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রটোকলটি কার্যকর হয়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৭০টি দেশ প্রোটোকলে স্বাক্ষর করে। আরও ১০টি দেশ স্বাক্ষর করেছে কিন্তু তা অনুমোদন করেনি এবং ১৭টি দেশ এতে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকে।[১]

পটভূমি[সম্পাদনা]

দ্য কনভেনশন অন দ্য রাইটস অফ দ্য চাইল্ড (১৯৮৯) একজন শিশুকে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে। ইতিহাস ও সংস্কৃতি থেকে জানা যায়, সামরিক অভিযানে শিশুদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল।[৩] গ্রেট ব্রিটেনে আঠারো বছরের কম বয়সী ২,৫০,০০০ জন ছেলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পেরেছিল।[৪] দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শিশু সৈন্যরা ইউরোপ জুড়ে, ওয়ারশো বিদ্রোহে, ইহুদি প্রতিরোধে,[৫] এবং সোভিয়েত সেনাবাহিনীতে যুদ্ধ করেছিল ।[৬] শীতল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সশস্ত্র সংঘর্ষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং সামরিক উদ্দেশ্যে শিশুদের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়, যা ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩,০০,০০০ জন শিশুকে প্রভাবিত করে।[৭] শেষের দিকে সামরিক উদ্দেশ্যে শিশুদের ব্যবহার ধীরগতিতে চলে। এর আংশিক কারণ হলো, অনেক জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী তাদের পদ পূরণের জন্য শিশুদের উপর নির্ভর করে।[৮][৯][৭] তবে সশস্ত্র সংঘর্ষে শিশুদের অংশগ্রহণ সীমিত করার এটা প্রাথমিক প্রচেষ্টা। ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনে অতিরিক্ত প্রটোকল (আর্ট-৭৭.২) ১৯৭৭ সালে গ্রহণের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল।[১০] নতুন প্রটোকলে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামরিক নিয়োগ এবং শত্রুদের সাথে সরাসরি অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছিল, কিন্তু রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র বাহিনী এবং অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের নিয়োগ ও যুদ্ধে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া অব্যাহত রেখেছিল।[১১] এ ছাড়াও প্রোটোকলগুলি যুদ্ধবাজদের ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের শত্রুতায় ব্যবহার করতে নিষেধ করেনি যখন তাদের অংশগ্রহণ "সরাসরি" ছিল না। উদাহরণস্বরূপ স্কাউট, কুলি, তথ্যদাতা, গুপ্তচর, বার্তা বাহক এবং অন্যান্য সহায়ক ভূমিকায়। ১৯৮৯ সালে এই সীমিত মানগুলি শিশু অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশনে (সিআরসি) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে শিশু অধিকারের সমর্থকরা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন এবং বিশ্বাস করেছিলেন যে, শিশুদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি চুক্তিতে তাদের সকল প্রকার সামরিক সম্পৃক্ততা থেকে রক্ষা করা উচিত।[৭] এটি অর্জনের জন্য মানবাধিকার প্রচারকরা এবং সহানুভূতিশীল সরকারদের একটি ছোট দল একটি নতুন চুক্তির জন্য বৈশ্বিক প্রচারাভিযান শুরু করে, যা ২০০০ সালে সশস্ত্র সংঘর্ষে শিশুদের জড়িত থাকার বিষয়ে শিশু অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রোটোকল হিসাবে গৃহীত হয়েছিলো।[৭]

একটি নতুন চুক্তির জন্য প্রচার[সম্পাদনা]

প্রাথমিক আলোচনা[সম্পাদনা]

শিশু অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশন গৃহীত হওয়ার পাঁচ বছর পর অর্থাৎ ১৯৯৪ সালের মধ্যে শিশুদের অধিকারের সমর্থক ও সহানুভূতিশীল সরকারগুলি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠার জন্য প্ররোচিত করেছিল।[৭][১২] এর আদেশ ছিল যে, কনভেনশনের একটি নতুন প্রটোকল নিয়ে আলোচনা শুরু করা যা সামরিক উদ্দেশ্যে শিশুদের ব্যবহার সম্পর্কিত মান বাড়াবে। প্রোটোকল নিয়ে আলোচনায় থাকা বৃহৎ রাষ্ট্রগুলি ১৮ বছরের কম বয়সীদেরকে (তথাকথিত "স্ট্রেইথ-১৮" নীতি) সমস্ত সামরিক নিয়োগ বন্ধ করতে ইচ্ছুক হলেও, অল্প সংখ্যক দেশ এর বিরোধী ছিল। দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, কিউবা, ইসরাইল, দক্ষিণ কোরিয়া, কুয়েত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র। জো বেকারের মতে, আলোচনায় সক্রিয়ভাবে জড়িত একজন মানবাধিকার আইনজীবী বলেন,[১৩]

সরকারগুলি জেনেভায় বার্ষিক আলোচনার একটি সিরিজ শুরু করেছিল, কিন্তু ১৯৯৮ সালের মধ্যে আলোচনাগুলি ভেস্তে গেলে এর কারণ স্পষ্ট হয়। আর তা হলো, সরকারগুলি তাদের জাতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে দীর্ঘকাল ধরে সৈনিক নিয়োগে আঠারো বছর বয়স ব্যবহার করেছিল। তারা একটি নতুন মান সমর্থন করতে ইচ্ছুক ছিল না, যা তাদের জাতীয় অনুশীলনের সাথে সাংঘর্ষিক।

যদিও কিছু রাজ্য পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছিল তবুও তারা বলেছিল যে তারা এটিকে বাতিল করবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেকারত্ব কমাতে তার অবস্থানের উপর জোর দিয়েছিল।[৭] শিশুদের সশস্ত্র সংঘর্ষের প্রভাব সম্পর্কে একটি বড় গবেষণায় শিশু অধিকারের সমর্থকদের একটি প্রস্তাব এই চুক্তির জন্য উচ্চ স্তরের সমর্থন সংগ্রহের উপকরণ ছিল।[১২] এই গবেষণায় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে, শিশু অধিকার বিষয়ক কমিটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক কমিশন করা হয়েছিল এবং ১৯৯৬ সালে গ্রা মাচেল দ্বারা শুরু হয়েছিল। সেটি হলো- শিশুদের উপর সশস্ত্র সংঘাতের প্রভাব[১৪] প্রতিবেদনটি বিশেষ করে সশস্ত্র সংঘর্ষে অংশগ্রহণকারী হিসেবে ছোট শিশুদের ব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু নিহত, পঙ্গু এবং মানসিকভাবে আহত হওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করে। এতে সকল সশস্ত্র বাহিনীতে শিশুদের নিয়োগ বন্ধেরও আহ্বান জানানো হয়।[১৪]

শিশু সৈনিকদের ব্যবহার বন্ধ করার জন্য জোট[সম্পাদনা]

১৯৯৮ সালে নতুন চুক্তির বিষয়ে আলোচনা স্থগিত হয়। তবে “দ্য কোলিশন টু স্টপ দ্য ইউজ অফ দ্য ইউজ অব চাইল্ড সোলজারস” (বর্তমানে চাইল্ড সোলজারস ইন্টারন্যাশনাল নামে পরিচিত) ছয়টি মানবাধিকার ও মানবিক সংস্থা (অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন টের ডেস হোমস, জেসুইট রিফিউজি সার্ভিস, কোয়েকার ইউনাইটেড নেশনস অফিস (জেনেভা) এবং সেভ দ্য চিলড্রেন) এ ব্যাপারে ঐক্যমত হয।[৭] নতুন চুক্তিতে স্ট্রেইথ-১৮ নীতি অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে, জোট দ্রুতগতিতে ত্রিশটিরও বেশি দেশকে জাতীয় তালিকায় অধিভুক্ত করে।[৭] দ্য কোয়ালিশন আন্তর্জাতিকভাবে স্ট্রেইথ-১৮ নীতিকে সক্রিয়ভাবে সমর্থনকারী কয়েকটি ছোট্ট দেশকে নিয়ে জোটে করে। দেশগুলো হলো কানাডা, ডেনমার্ক, ইথিওপিয়া, ফিনল্যান্ড, জাপান, মোজাম্বিক, নরওয়ে, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেনসুইজারল্যান্ড[৭] কানাডিয়ান সরকারের প্রাথমিক অর্থায়নে কোয়ালিশন ধারাবাহিকভাবে আঞ্চলিক আন্তঃসরকার সম্মেলনের আয়োজন করে। আফ্রিকান ও ল্যাটিন-আমেরিকান সম্মেলনগুলি স্ট্রেইথ-১৮ নীতিকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।[৭] ইউরোপীয় ইউনিয়ন শিশুদের সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার ১৮ বছরকে গ্রহণ করে। তবে অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডসযুক্তরাজ্য শিশুদের ১৬ বা ১৭ বছর বয়সে সশস্ত্র সংঘর্ষে অংশগ্রহণকে সমর্থন করে।[৭] (২০১৭ সালের হিসাবে লুক্সেমবার্গ ছাড়া বাকিরা এখনও তাই করে।)[৮] ১৯৯৯ সালে স্ট্রেইথ-১৮ নীতিটি বৃহৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের সমর্থন করে। সেইসাথে শিশু অধিকার কমিটি, রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটি, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, আফ্রিকান ইউনিটি এবং ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অফ গীর্জাও সমর্থন করে।[৭][১২]

চূড়ান্ত আলোচনা[সম্পাদনা]

চূড়ান্ত আলোচনা হলো, মাত্র পাঁচটি দেশ এখনও স্ট্রেইথ-১৮ নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে। দেশগুলো হলো মিশর, কুয়েত, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য এবং সবচেয়ে বেশি বিরোধীতাকারি দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র[১৫] ব্রিটিশ দেশ যুক্তরাজ্য আমেরিকার সমর্থন নিয়ে জোর দিয়ে বলে, ১৭ বছর বয়সীকে যুদ্ধে পাঠার ক্ষেত্রে বাধা দেয়ার নীতিকে তারা সমর্থন করবে না।[৭][১৫] বেকারের মতে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাডেলিন আলব্রাইটের হস্তক্ষেপের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নড়েচড়ে বসেছিল, যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৭ বছরকে ও যুক্তরাজ্য ১৬ বছরকে সেনাবাহিনীতে শিশুদের নিয়োগের অধিকারের উপর জোর দিয়ে চলেছে।[৭] এই পরিবর্তনটি আলোচনাকারী দেশগুলির মধ্যে সমঝোতা ও ঐকমত্যের অনুমতি দেয় যে, নতুন চুক্তি অনুযায়ী দেশগুলি ১৬ বা ১৭ বছর বয়সী শিশুকে তাদের সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া থেকে বিরত রাখবে না, তবে "সমস্ত সম্ভাব্য ব্যবস্থা" নেওয়ার বিষয় নিশ্চিত করবে যে শিশুরা "সরাসরি" যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করবে না।

অনুমোদনের সীমা এবং স্ট্রেট-১৮ নীতির অবস্থান[সম্পাদনা]

ওপেক চুক্তিটি ব্যাপকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। সেপ্টেম্বর ২০২০ পর্যন্ত ১৭০টি দেশ চুক্তিটি অনুমোদন করেছিল; আরও ১০টি দেশ স্বাক্ষর করে কিন্তু এখনো তা অনুমোদন করেনি।[১] ওপেক চুক্তিটি গ্রহণ করলে অনেক দেশ ১৮ বছরের বেশি প্রাপ্তবয়স্কদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগে জোর দেয়। চাইল্ড সোলজার্স ইন্টারন্যাশনালের মতে, ২০০১ সালে ৮৩টি দেশ, ২০১৬ সালে ১২৬টি দেশ চুক্তিটি গ্রহণ করে যা সশস্ত্র বাহিনীর দেশগুলির ৭১ শতাংশ।[৮] এর মধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে যারা সেনাবাহিনীতে শিশু নিয়োগ দেয়াকে রুটিন করেছিল, যেমন কলম্বিয়াসিয়েরা লিওন[৭] আনুমানিক ৬০টি অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী তাদের শিশুদের ব্যবহার বন্ধ বা স্কেল করার চুক্তি করে।[১৬] এই প্রবণতা সত্ত্বেও, চাইল্ড সোলজার্স ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্ট করে যে সামরিক উদ্দেশ্যে শিশুদের নিয়োগ ব্যাপকভাবে বহাল রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনী দ্বারা সবচেয়ে জনবহুল তিনটি দেশ-চীন, ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী (ইতালি ও জাপান বাদে সমস্ত জি-৭ দেশ)[৯] বিপুল সংখ্যক অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী শিশুদের সেনাবাহিনীতে নিয়মিত নিয়োগ দেয় ও তাদের ব্যবহার করে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে আফ্রিকামধ্যপ্রাচ্যেইসলামপন্থী জঙ্গি আন্দোলনের পাশাপাশি বিরোধী মিলিশিয়াদের দ্বারা শিশু নিয়োগে বৃদ্ধি পাওয়ার পর।[৮][১৭]

'ওপেক টার্নস ১৮ বছর’ : ১৮তম বার্ষিকী অনুষ্ঠান, ২০১৮[সম্পাদনা]

চুক্তির ১৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে জাতিসংঘে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।[১৮] চাইল্ড সোলজার্স ইন্টারন্যাশনাল, ইউনিসেফ এবং বেলজিয়াম, কানাডা, কলম্বিয়া, ফ্রান্স এবং সিয়েরা লিওনের সরকারগুলির সহ-পৃষ্ঠপোষকতায় প্রায় ১০০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। শিশু ও সশস্ত্র সংঘর্ষের জন্য জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি ভার্জিনিয়া গাম্বা চুক্তিটি গৃহীত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতি হয়েছে এবং এখনও অর্জন করা যাবে সে সম্পর্কে রিপোর্ট করে বলেন,

আমরা সত্যিই অনেক দূর এগিয়ে এসেছি। আজ ১৮ বছর চলে গেছে। আমাদের পরিমাপযোগ্য অগ্রগতি উদযাপন করা উচিত। শিশু ও সশস্ত্র সংঘর্ষের বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডায় স্থান দেওয়া হয়েছে। ২০০০ সাল থেকে শিশু সুরক্ষার নেতাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে কমপক্ষে ১,৩০,০০০ শিশু সৈনিক মুক্তি পেয়েছে। আরও হাজার হাজার শিশু নিয়োগ ও অগ্নিপরীক্ষা থেকে রক্ষা পেয়েছিল। কারণ তাদের দেশ ওপেকের সাথে যোগ দিয়েছে এবং শিশুদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে। মুক্তিপ্রাপ্ত সকল ছেলে ও মেয়ে এবং তাদের কমিউনিটিগুলি অর্থপূর্ণ পুনর্গঠনে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে। তারা দুঃখজনক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে, যা অপরিহার্যও বটে। কিন্তু এটিতে একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

ওপেক চুক্তির বিধান[সম্পাদনা]

প্রধান বাধ্যবাধকতা[সম্পাদনা]

ওপ্যাক চুক্তির প্রধান বাধ্যবাধকতা হচ্ছে- [১৯] (১) কোনো রাষ্ট্রীয় দল এমন কাউকে নিয়োগ করতে পারে না, যিনি এখনও রাষ্ট্রের দ্বারা নির্ধারিত ন্যূনতম বয়স অর্জন করেননি (অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘের কাছে জমা দেওয়া একটি বাধ্যতামূলক ঘোষণা) এবং সর্বক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বয়স ১৬ বছরের কম হতে হবে না। (২) যেসব দেশের সশস্ত্র বাহিনী ১৬ বা ১৭ বছর বয়সী শিশুদের নিয়োগ করে তাদের অবশ্যই: (ক) তাদের সশস্ত্র বাহিনীতে শিশুদের যোগ দিতে বাধ্য করবেন না; (খ) তালিকাভুক্তির আগে নিশ্চিত করবে যে "বয়সের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ" প্রদান করা হয়েছে; (গ) তালিকাভুক্তির পূর্বে নিশ্চিত করবে যে, শিশু আবেদনকারীরা সামরিক সেবার দায়িত্ব সম্পর্কে "সম্পূর্ণরূপে অবগত", তাদের তালিকাভুক্তির পছন্দ "প্রকৃতপক্ষে স্বেচ্ছাসেবী", এবং তাদের বাবা-মা বা আইনী অভিভাবকরা তাদের "অবহিত সম্মতি" দেয়; এবং (ঘ) শিশু রিক্রুটরা যাতে সরাসরি শত্রুতায় অংশ না নেয় তা নিশ্চিত করার জন্য "সমস্ত সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিবে"; (৩) অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী "কোন অবস্থাতেই, ১৮ বছরের কম বয়সী কোন শিশুকে নিয়োগ বা ব্যবহার করতে পারবে না" (এর আইনি শক্তি অনিশ্চিত, তবে[১২][২০][১৬]); (৪) চুক্তিভুক্ত দেশগুলিকে অবশ্যই তা বাস্তবায়নের বিষয়ে শিশু অধিকার সংক্রান্ত কমিটির কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে।

অন্যান্য বিধানাবলী[সম্পাদনা]

চুক্তির অন্যান্য বিধানগুলির মধ্যে রয়েছে:

  1. চুক্তি বাস্তবায়নে রাষ্ট্রপক্ষকে অবশ্যই একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে এবং অবৈধভাবে নিয়োগকৃত শিশুদের "পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনর্গঠনে" আর্থিক ও প্রযুক্তিগতভাবে সহায়তা করতে হবে।
  2. যেকোনো রাষ্ট্র এক বছরের নোটিশে চুক্তি ত্যাগ করতে পারে, তবে সেই সময় সশস্ত্র সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া যাবে না।
  3. এই চুক্তি রাজ্যগুলিকে সামরিক বিদ্যালয় পরিচালনা করতে বাধা দেবে না, যা অনেক দেশে প্রচলিত।[৮] তবে শর্ত থাকে যে, এগুলি শিশু অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশনে শিক্ষা পরিচালিত আইনি প্রয়োজনীয়তা মেনে চলে।
  4. চুক্তিটি দেশগুলিকে যেকোনো সময় তাদের ন্যূনতম তালিকাভুক্তির বয়স বাড়ানোর ও জাতিসংঘের কাছে বাধ্যতামূলক ঘোষণার মাধ্যমে বিকল্প আপডেটের অনুমতি দেয়। আর সেটা হলো নুন্যতম বয়স নির্ধারণ করা, যা কম করতে পারবে না।

রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটির ভাষ্য[সম্পাদনা]

"রাজ্য পক্ষগুলি তাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের যারা ১৮ বছর বয়সে পৌঁছায়নি তারা সংঘাতে সরাসরি অংশ না নেযোর নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি দেবে এবং সম্ভাব্য সবব্যবস্থা গ্রহণ করবে"। এ বাক্যটি (১) ১২ আগস্ট ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনের অতিরিক্ত প্রোটোকল ১ এর ৭৭.২ অনুচ্ছেদ থেকে রূপান্তরিত হয়েছিল; এবং (২) ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘর্ষের শিকারদের সুরক্ষা সম্পর্কিত নীতি দ্বারা পনের বছর থেকে আঠারো বছর পরিবর্তন এবং অন্যান্য ছোটখাটো পরিবর্তন হয়েছিল। ("দ্বন্দ্বের পক্ষগুলি সমস্ত সম্ভাব্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে যাতে পনেরো বছর বয়স না হওয়া শিশুদের সংঘাতে সরাসরি অংশ না নেয় এবং বিশেষ করে তারা তাদের সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া থেকে বিরত থাকে।") আইসিআরসির প্রটোকলের ভাষ্যে স্পষ্ট করে বলা হয় যে, যুদ্ধে শিশুদের নিয়োগের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন নেই। আইসিআরসি প্রস্তাব করেছিল যে, প্রটোকলের পক্ষ থেকে "সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা" প্রয়োজন, কিন্তু চূড়ান্ত পাঠ্যটি "সমস্ত সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিন" শব্দটি ব্যবহার করে, যা সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নয়। তদুপরি, পনেরো বছরের কম বয়সী শিশুদের নিয়োগ থেকে বিরত থাকা সশস্ত্র সেবার জন্য স্বেচ্ছাসেবী শিশুদের বাদ দেয় না। "যুদ্ধে অংশ নিন" ধারাটি নিয়ে আলোচনার সময়, "প্রত্যক্ষ" শব্দটি যোগ করা হয়েছিল, যার ফলে শিশু স্বেচ্ছাসেবীরা পরোক্ষভাবে যুদ্ধ, সামরিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রেরণ, অস্ত্র ও অস্ত্র পরিবহনে সহায়তা করার সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করা এবং সরবরাহের বিধান ইত্যাদি ছিল।[১১]

জাতীয় প্রতিক্রিয়া (উদাহরণ)[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়া[সম্পাদনা]

অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্সের ক্যাডেটরা সশস্ত্র সংঘর্ষে শিশুদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে শিশু অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশনের ঐচ্ছিক প্রটোকল অনুসরণ করে কিন্তু এখনও ১৩-১৪ বছর বয়সী (কর্মচারী ছাড়া) ক্যাডেটদের গ্রহণ করে এবং কখনও কখনও তাদেরকে এডিএফ ঘাঁটিতে নিয়ে আসে।

যুক্তরাজ্য[সম্পাদনা]

উল্লিখিত হিসাব অনুযায়ী ওপেকের আলোচনার সময় যুক্তরাজ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের উপর বাস্তবায়ন করার জন্য সমস্ত ধরণের সামরিক নিয়োগের জন্য ন্যূনতম বয়স ১৮ হওয়া উচিত বলে মত দেয়।[৭] তারপর যুক্তরাজ্য তার সশস্ত্র বাহিনীতে ১৬ বছর বয়স থেকে নিয়োগের অনুমতি দেয় এবং ১৫ বছর, ৭ মাস বয়সী শিশুদের আবেদন করার অনুমতি দেয়।[২১][২২] চুক্তি অনুমোদনের বিষয়ে যুক্তরাজ্য বাধ্যতামূলক ঘোষণা দেয় যে, প্রোটোকল অনুযায়ী তারা যুদ্ধে শিশুদের নিয়োগ দেবে এবং এ ক্ষেত্রে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদেরও তারা বাদ দেবে না। তবে সেই সব যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি অংশ নিবে যেখানে: (ক) একটি প্রকৃত সামরিক বাহিনী তাদের ইউনিট বা জাহাজকে এমন একটি এলাকায় মোতায়েন করতে হবে যেখানে যুদ্ধ চলছে; এবং খ) প্রকৃত পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের কারণে:- (১) এটি মোতায়েনের আগে উক্ত ধরনের ব্যক্তিদের প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়; অথবা (২) এটি তাদের জাহাজ বা ইউনিটের কার্যকরী কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করবে, এবং এর ফলে সামরিক মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করা অথবা অন্যান্য কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলবে।"[২৩] চাইল্ড সোলজার্স ইন্টারন্যাশনালের মতে, যুক্তরাজ্য ১৮ বছরের কম বয়সী ২২ জনকে ২০০৩ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে ইরাক ও আফগানিস্তানে শিশু সৈনিক হিসাবে মোতায়েন করেছে।[২৪] শিশু অধিকার সংক্রান্ত কমিটি যুক্তরাজ্যকে তার নীতি পরিবর্তন করার আহ্বান জানিয়েছে যাতে নিশ্চিত করা যায় যে, শিশুরা কোনো অবস্থাতেই সংঘাতে অংশ নিতে না পারে।[২৫]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Signatories & Dates of Ratification of the Optional Protocol to the Convention on the Rights of the Child on the Involvement of Children in armed conflict"। UN। ২৫ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ মে ২০১৬ 
  2. United Nations General Assembly Resolution 263 session 54 Optional protocols to the Convention on the Rights of the Child on the involvement of children in armed conflict and on the sale of children, child prostitution and child pornography on 25 May 2000
  3. Wessels, Michael (১৯৯৭)। "Child Soldiers": 32। ডিওআই:10.1080/00963402.1997.11456787 
  4. "How did Britain let 250000 underage soldiers fight in WW1?"BBC News। ২১ মার্চ ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  5. David M. Rosen (জানুয়ারি ২০০৫)। Armies of the Young: Child Soldiers in War and Terrorism। Rutgers University Press। পৃষ্ঠা 54–55। আইএসবিএন 978-0-8135-3568-5। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  6. Kucherenko, Olga (১৩ জানুয়ারি ২০১১)। Little Soldiers: How Soviet Children Went to War, 1941–1945। OUP Oxford। পৃষ্ঠা 3। আইএসবিএন 978-0-19-161099-8। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  7. Becker, J (২০১৩)। "Campaigning to stop the use of child soldiers"। Campaigning for justice: Human rights advocacy in practice। Stanford University Press। পৃষ্ঠা 11–31। আইএসবিএন 9780804774512ওসিএলসি 837635842 
  8. Child Soldiers International (২০১৭)। "Where are child soldiers?" (ইংরেজি ভাষায়)। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০১-২৫ 
  9. Child Soldiers International (২০১২)। "Louder than words: An agenda for action to end state use of child soldiers"। ৮ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০১৮ 
  10. International Committee of the Red Cross (১৯৭৭)। "Protocols additional to the Geneva Conventions of 12 August 1949" (PDF)। ৭ মার্চ ২০১৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০১-২৮ 
  11. ICRC Commentary on Protocol I: Article 77 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৩ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে website of the ICRC ¶ 3183–3191 also ¶ 3171 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৩ অক্টোবর ২০০৭ তারিখে
  12. Brett, R (২০০৫)। "Optional Protocol to the Convention on the Rights of the Child on Involvement of Children in Armed Conflict (OP/CAC)" (PDF)International Council on Human Rights Policy & International Commission of Jurists। ১৬ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০২-০৪ 
  13. Becker, J (২০১৩)। Campaigning for justice: Human rights advocacy in practice। Stanford University Press। পৃষ্ঠা 14। আইএসবিএন 9780804774512ওসিএলসি 837635842 
  14. Machel, G (১৯৯৬)। "Impact of armed conflict on children" (PDF)। ৮ জুলাই ২০১৭ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০১-২৮ 
  15. Olson, Elizabeth (২০০০)। "U.S. Fights Tide on a Move to Raise the Military Service Age"The New York Times (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০২-০৪ 
  16. Child Soldiers International (২০১৬)। "A law unto themselves? Confronting the recruitment of children by armed groups"। ৮ মার্চ ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৯ জানুয়ারি ২০১৮ 
  17. United Nations Secretary-General (২০১৭)। "Report of the Secretary-General: Children and armed conflict, 2017"www.un.org। ২৫ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০১-২৪ 
  18. Child Soldiers International (২০১৮)। "OPAC Turns 18 a great success at the UN" (ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ মার্চ ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৩-২৪ 
  19. Office of the High Commissioner for Human Rights (২০০০)। "Optional Protocol to the Convention on the Rights of the Child"www.ohchr.org (ইংরেজি ভাষায়)। ২ মে ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০২-০৪ 
  20. Geneva Call (২০১২)। "Engaging nonstate armed groups on the protection of children: Towards strategic complementarity" (PDF)। ২২ মার্চ ২০১৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০১-২৮ 
  21. Gee, David; Taylor, Rachel (২০১৬-১১-০১)। "Is it Counterproductive to Enlist Minors into the Army?": 36–48। আইএসএসএন 0307-1847ডিওআই:10.1080/03071847.2016.1265837 
  22. British Army (২০১৮)। "Age"mod.uk। ৪ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০২-০৫ 
  23. United Nations (২০১৮)। "United Nations Treaty Collection: 11. b Optional Protocol to the Convention on the Rights of the Child on the involvement of children in armed conflict" (ইংরেজি ভাষায়)। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০২-০৫ 
  24. Child Soldiers International। "Letter from UK Minister of Defence regarding deployment of under-18s on combat operations"Child Soldiers International (ইংরেজি ভাষায়)। ১৮ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০২-০৫ 
  25. UN Committee on the Rights of the Child (২০০৮)। "Consideration of Reports submitted by States Parties under Article 8 of the Optional Protocol to the Convention on the Rights of the Child on the Involvement of Children in Armed Conflict. Concluding observations: United Kingdom of Great Britain and Northern Ireland"। ২৪ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০২-০৫