সঞ্চালন (ওষুধ)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

ওষুধশাস্ত্র, গণস্বাস্থ্য এবং জীববিজ্ঞানে , সঞ্চালন হল সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি বা একদল ব্যক্তি হতে বিশেষ ব্যক্তি বা একদল ব্যক্তির মধ্যে জীবাণু সংক্রমন যদিও তারা হয়ত পূর্বে কখনো আক্রান্ত হয় নি। [১] শব্দটি যথাযথভাবে একজন ব্যক্তি থেকে অন্যজনের মধ্যে সরাসরি অণুজীবের সঞ্চালনকে বোঝায় যা নিম্নে উল্লিখিত এক বা একাধিক উপায়ে হতে পারে:

  • ড্রপলেট বা ফোঁটার মাধ্যমে সংস্পর্শ – আরেকজনের উপর কাশি বা হাঁচি দেওয়া।
  • সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শ – সংক্রমিত ব্যক্তিকে স্পর্শ, এমনকি যৌন সংস্পর্শও হতে পারে।
  • পরোক্ষ শারীরিক সংস্পর্শ – সাধারণত জীবাণুআক্রান্ত কোন কিছু স্পর্শ করা এমনকি এটা মাটিও হতে পারে। (ব্যবহার্য বস্তু)
  • বায়ুবাহিত সঞ্চালন – যদি অণুজীব বায়ুতে লম্বা সময়ের জন্য অবস্থান করতে পারে।
  • মল (পায়ু) থেকে মুখে সঞ্চালন – সাধারণত শিশুরোগ চিকিৎসা, পশু চিকিৎসা এবং উন্নয়নশীল দেশে স্বাস্থ্যবিধান এবং স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাসের অভাবে অধৌত হাত, দূষিত খাবার ও পানি একটি গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চালনের রাস্তা হিসেবে কাজ করে।

সঞ্চালন পরোক্ষভাবে অন্য কোন জীব যেমন- ভেক্টর মাধ্যম (ঊদাহরণ– মশা বা মাছি) বা মধ্যবর্তী বাহকের (ঊদাহরণ– শূকরের টেপওয়ার্ম মানুষের মধ্যে সঞ্চালিত হতে পারে যদি কেঊ সঠিকভাবে রান্না না করা শূকরের মাংস গ্রহণ করে) মাধ্যমে হতে পারে। পরোক্ষ সঞ্চালনের সাথে জুওনোজ যুক্ত থাকতে পারে যাদেরকে আরো স্পষ্টভাবে মাইক্রোপ্যারাসাইট বলে এবং এরা আকারে বড় এবং এদের জীবনচক্র অধিক জটিল। সঞ্চালন সহজাত (উদাহরণ – একই জায়গায় দুজন আলাদা ব্যক্তির মধ্যে) হতে পারে অথবা অণুজীবের ভ্রমনের মাধ্যমে বা আক্রান্ত বাহকের মাধ্যমেও হতে পারে।

সংজ্ঞা এবং সম্পর্কিত শব্দ[সম্পাদনা]

সংক্রামক রোগের জীবাণু দুইটি উপায়ে সঞ্চালিত হতে পারে: আড়াআড়ি (horizontal) জীবাণু সঞ্চালনের মাধ্যমে যা একই প্রজন্মের (একই বয়সের সমকক্ষ ব্যক্তির দল) একজন হতে অন্যজনের মধ্যে সঞ্চালিত হয়। [২] এটি সরাসরি সংস্পর্শের (লেহন, স্পর্শ, কামড়ানো) মাধ্যমে অথবা পরোক্ষভাবে বাতাসের সাথে সংস্পর্শ- কাশি বা হাঁচির (ভেক্টর বা ব্যবহার্য বস্তু সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শ ছাড়াও রোগের জীবাণুর সঞ্চালন ঘটায়) মাধ্যমে হতে পারে। [৩] অথবা উল্লম্ব (vertical) জীবাণু সঞ্চালনের মাধ্যমে যা জন্মের পূর্বে বা পরে মাতা হতে সন্তানের মধ্যে রোগের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। [৪]

সংক্রমণক্ষমতা শব্দটি কোন জীবাণুর বাহকের মধ্যে প্রবেশ, টিকে থাকা এবং বংশবিস্তারকে বোঝায় যেখানে রোগের সংক্রমণশীলতা বলতে কোন জীবাণুর তুলনামূলক সহজভাবে অন্যান্য বাহকে রোগের সঞ্চালনকে বোঝায়।[৫] জীবাণুর সঞ্চালন বিভিন্নভাবে পারে, যেমন- শারীরিক সংস্পর্শ, দূষিত খাদ্য, শরীরের তরল, ব্যবহার্য বস্তু, বায়ুবাহিত শ্বসন এবং ভেক্টরের মাধ্যমে।[৬]

রুটস বা রাস্তাসমূহ[সম্পাদনা]

বায়ুবাহিত[সম্পাদনা]

“সংক্রমণশীল জীবাণু যা নিউক্লিয়াসের ড্রপলেট বা ফোঁটার (ঘনীভূত ড্রপলেট বা ফোঁটার অবশিষ্টাংশ) মাধ্যমে ছড়ায় এবং যার মধ্যে সংক্রমণক্ষম অণুজীব থাকে বায়ুবাহিত সঞ্চালন বলা হয়। এই অণুজীবগুলো শরীরের বাইরেও টিকে থকতে পারে এবং খোলা বাতাসে লম্বা সময়ের জন্য অবস্থান করতে পারে। এরা উপর এবং নিচের শ্বসনতন্ত্রের মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।”[৭] যেসব রোগ সাধারণত কাশি অথবা হাঁচির মাধ্যমে ছড়ায় সেগুলোর মধ্যে ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস, জলবসন্ত, সাধারন ঠাণ্ডা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, মাম্পস, গলা ব্যাথা, যক্ষ্মা, হাম, রুবেলা, হুপিং কাশি, শ্বসনতন্ত্রের তীব্র লক্ষণ বা এসএআরএস এবং কুষ্ঠরোগ অন্তর্ভুক্ত।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ড্রপলেট বা ফোঁটার মাধ্যমে[সম্পাদনা]

“শ্বসনতন্ত্র থেকে সৃষ্ট কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে অথবা কোন সংবেদনশীল মিউকোস্যাল তল যেমন- চোখ, নাক বা মুখের সংস্পর্শে আসার কারণে ড্রপলেট বা ফোঁটার মাধ্যমে জীবাণুর সঞ্চালন ঘটে। কোন দূষিত ব্যবহার্য বস্তু হাত দিয়ে স্পর্শ করে এরপর কোন মিউকোস্যাল তলের সংস্পর্শে এলে পরোক্ষভাবে জীবাণুর সঞ্চালন ঘটতে পারে। শ্বসনতন্ত্র থেকে নির্গত ড্রপলেটস বা ফোঁটাগুলো আকারে বড় হওয়ায় তারা বেশিক্ষণ বাতাসে ভেসে থাকতে পারে না, আর এজন্য তারা স্বল্প দূরত্বের ব্যবধানে ছড়িয়ে পড়ে।”[৮]

জীবাণুযুক্ত কণা যাদের ব্যাসার্ধ ০.১-০.২ মিমি তাদের ফ্লাজি (Flügge) বা ফ্লাজি ড্রপলেটও (কার্ল ফ্লাজির নাম থেকে সৃষ্ট) বলে এবং এরা ঘনীভবনের মাধ্যমে আকারে হ্রাস পেয়ে নিউক্লিয়াসের ড্রপলেটে পরিণত হয়- যারা আকারে ক্ষুদ্র (১০০ মাইক্রনের চেয়েও ছোট ব্যাসার্ধ) এবং শুকনো হওয়ার কারণে লম্বা সময় ধরে বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। [৯]

জীবাণু যারা ড্রপলেট বা ফোঁটার মাধ্যমে সঞ্চালিত হয় তাদের মধ্যে শ্বসণতন্ত্রের বিভিন্ন ভাইরাস (উদাহরণ– ইনফুয়েঞ্জাপ্যারাইনফুয়েঞ্জা ভাইরাস, এডেনোভাইরাস, শ্বসণতন্ত্রের সিনসিশিয়াল ভাইরাস, মানুষের মেটনিউমোভাইরাস), Bordetella pertussis, নিউমোকক্কাস, ডিপথেরিয়া এবং রুবেলা অন্তর্ভুক্ত।[১০]

মল (পায়ু) থেকে মৌখিক মাধ্যমে[সম্পাদনা]

মল থেকে মৌখিক রাস্তায়, একজনের মলের মধ্যে থাকা বিভিন্ন জীবাণু অন্যজনের মুখে সংক্রমিত হয়। মল থেকে মৌখিক রাস্তায় রোগ সঞ্চালনের প্রধান কারণ হল পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধান এবং শৌচাগারের অভাব - যেগুলো বিভিন্ন রকমের হতে পারে।

দূষিত খাদ্যদ্রব্য বা পানির মাধ্যমে মল থেকে মুখে জীবাণু সঞ্চালিত হতে পারে। যখন মানুষ মলত্যাগের পর এবং খাদ্য প্রস্তুত করার পূর্বে বা রোগীর পরিচর্যা করার পর ভালভাবে হাত পরিষ্কার করে না তখনও এটা ঘটতে পারে।

উন্নয়নশীল দেশে যারা শহরের বস্তিতে বসবাস করে এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধান মেনে চলতে পারে না তাদের জন্য মল থেকে মৌখিক রাস্তায় জীবাণু সঞ্চালন বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এখানে মলমূত্র অথবা অপরিশোধিত বিভিন্ন নর্দমার পানি পানযোগ্য পানির উৎসকে (ভূতল অথবা ভূ-পৃষ্ঠের পানি) দূষিত করতে পারে। যারা দূষিত পানি পান করে তারাই সংক্রমিত হতে পারে। ভারতের মত কিছু উন্নয়নশীল দেশে আরেকটি সমস্যা হল খোলা জায়গায় মলত্যাগ করা যার কারণে মল থেকে মৌখিক রাস্তায় জীবাণুর সঞ্চালন হতে পারে।

এমনকি উন্নত দেশেও মাঝে মাঝে কিছু ব্যবস্থাগত ত্রুটির কারণে নর্দমার পানি উপচে পড়া দেখা যায়। এটা সাধারণত কিছু সংক্রামক জীবাণুর সঞ্চালন ঘটায় যাদের উদাহরণ হল: কলেরা, হেপাটাইটিস এ, পোলিও, রোটাভাইরাস, সালমোনেলা এবং বিভিন্ন পরজীবী (উদাহরণ – Ascaris lumbricoides)।

যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে[সম্পাদনা]

এটা নির্দেশ করে যে, কোন রোগ যৌন কার্যক্রমের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে এবং এই যৌন সম্পর্ক যোনিপথে বা পায়ুপথে বা (কম প্রচলিত) মৌখিক (oral) মাধ্যমেও হতে পারে। যৌন মিলনের সময় (ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের সাধারণ রাস্তা এবং এই সংক্রমণ ক্ষতের সৃষ্টি করে) সরাসরি সংস্পর্শে আসার কারণে অথবা নিঃসৃত তরল (বীর্য অথবা মেয়েদের উত্তেজিত হওয়ার ফলে নির্গত তরল) যা সংক্রমিত জীবাণু বহন করে এবং শিশ্ন, যোনি বা মলাশয়ের (ভাইরাসের জন্যে সবথেকে প্রচলিত রাস্তা) ক্ষুদ্র ক্ষতের মাধ্যমে সঙ্গীর রক্তে প্রবেশ করে সঞ্চালন ঘটায়। দ্বিতীয় ঘটনার ক্ষেত্রে পায়ুপথের মিলনকে অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় কারণ যোনি অধিক স্থিতিস্থাপক এবং উপযোগী হওয়ায় পায়ুপথের মিলনে শিশ্নে অধিক ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

যৌনপথে সঞ্চালিত হয় এমন কিছু রোগের মধ্যে এইচআইভি বা এইডস, ক্ল্যামাইডিয়া, জেনিটাল ওয়ার্টস, গনোরিয়া, হেপাটাইটিস বি, সিফিলিস, হার্পিস এবং ট্রাইকোমোনিয়াসিস অন্তর্ভুক্ত।

ওরাল (মৌখিক) সেক্সের মাধ্যমে[সম্পাদনা]

এইচআইভি এবং হেপাটাইটিস বি এর মত সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজগুলি সাধারণত মুখ থেকে মুখের সংস্পর্শে সঞ্চালিত হয় না, যদিও ওরাল (মৌখিক) সেক্সের সময় যৌনাঙ্গ ও মুখের সংস্পর্শের মাধ্যমে কিছু STD (সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ) সঞ্চালিত হওয়া সম্ভব। এইচআইভি এর ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা প্রমাণিত হয়েছে। হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস ১ (সাধারণত মৌখিক সংক্রমণের জন্য দায়ী) এর আক্রমনের ফলে যৌনাঙ্গের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়া এবং টাইপ ২ (সাধারণত যৌনাঙ্গের সংক্রমণ) এর আক্রমনের ফলে মৌখিক সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার জন্যেও এটা দায়ী।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

মৌখিক মাধ্যমে[সম্পাদনা]

সরাসরি মৌখিক সংস্পর্শ যেমন– চুম্বন অথবা পরোক্ষ সংস্পর্শ যেমন- পানির গ্লাস বা সিগারেট ভাগাভাগি করে খাওয়ার জন্যে প্রাথমিকভাবে রোগের সঞ্চালন ঘটতে পারে। চুমু বা অন্যান্য সরাসরি সংস্পর্শ অথবা পরোক্ষভাবে মৌখিক সংস্পর্শের মাধ্যমে যে রোগগুলো সঞ্চালিত হয় সেগুলোর মধ্যেই ড্রপলেট বা ফোঁটার মাধ্যমে সঞ্চালিত হওয়া রোগগুলো (কমপক্ষে) অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলো হল সকল ধরণের হার্পিস ভাইরাস, সকল ধরণের হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস (বিশেষভাবে HSV-1) হতে সাইটোমেগালো ভাইরাস সংক্রমণ এবং সংক্রামক মনোনিউক্লিওসিস[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে[সম্পাদনা]

যেসব রোগ সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয় তাদেরকে ছোঁয়াচে রোগ (ছোঁয়াচে এবং সংক্রামক একই কথা নয়; যদিও সকল ছোঁয়াচে রোগই সংক্রামক রোগ কিন্তু সকল সংক্রামক রোগ ছোঁয়াচে নয়) বলে। একই তোয়ালে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করলে (যখন তোয়ালে দিয়ে উভয়ের শরীরই জোরে জোরে মোছা হয়) অথবা যেসব কাপড় খুব আবদ্ধভাবে শরীরের সংস্পর্শে আসে (যেমন- মোজা), সেগুলো আরেকজনের ব্যবহারের আগে না ধুলেও এই রোগগুলো সঞ্চালিত হতে পারে। এই কারণে ছোঁয়াচে রোগ অনেক সময় স্কুলে মহামারীর আকার ধারন করে কারণ সেখানে চেঞ্জ রূমে একই তোয়ালে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা হয় এবং ব্যক্তিগত ব্যবহার্য কাপড় অসাবধানতাবশত অদল বদল হয়ে যেতে পারে।

যেসব রোগ সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয় সেগুলোর মধ্যে অ্যাথলেটস ফুট, impetigo (মুখমণ্ডলে ক্ষত), সিফিলিস (খুবই বিরল, যদি সুস্থ ব্যক্তি কোন chancre বা যৌনাঙ্গের ক্ষত স্পর্শ করে), ওয়ার্টস এবং চোখ-ওঠা অন্তর্ভুক্ত।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

উল্লম্ব মাধ্যমে[সম্পাদনা]

এটা মাতৃগর্ভে, সন্তান জন্মদানের সময় (জন্মপূর্ববর্তী/জন্মদানকালীন সংক্রমণও বলা হয়) বা সন্তান জন্মদানের পরে মা ও শিশুর সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শের কারণে মা থেকে সন্তানে সঞ্চালিত হয় (পিতা থেকে সন্তানে সঞ্চালন বিরল)। মানুষসহ স্তন্যপায়ী প্রাণির ক্ষেত্রে এটি বুকের দুধের মাধ্যমেও সঞ্চালিত হতে পারে। এই উপায়ে যেসব সংক্রামক রোগ সঞ্চালিত হয় সেগুলো হল: এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি এবং সিফিলিস। অনেক উপকারী অণুজীবও উল্লম্বভাবে সঞ্চালিত হয়।[১১]

চিকিৎসার পদ্ধতি বা উপকরণের মাধ্যমে[সম্পাদনা]

বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে জীবাণু সঞ্চালিত হতে পারে যেমন- ক্ষত স্পর্শ করা, সংক্রমিত উপাদান দ্বারা ইনজেকশন বা ট্রান্সপ্লান্টেশন করা। যেসব রোগ চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে সঞ্চালিত হয় সেগুলো হল: সংক্রমিত মানুষের গ্রোথ হরমোন ইনজেকশনের মাধ্যমে Creutzfeldt–Jakob রোগ, MRSA এবং আরো অন্যান্য।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ভেক্টর বা মাধ্যমবাহিত[সম্পাদনা]

ভেক্টর এমন একটি জীব যা নিজে রোগ সৃষ্টি করে না কিন্তু এক বাহক থেকে অন্য বাহকে জীবাণু বহন করার মাধ্যমে সংক্রামক রোগের সংক্রমণ ঘটায়।[১২]

সঞ্চালনের রাস্তা এপিডেমিওলজিস্টদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কারণ সামাজিক-অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য বৈশিষ্টের উপর ভিত্তি করে একই দেশের জনসংখ্যা বা কোন অঞ্চলের জনসংখ্যার মধ্যে সংস্পর্শের ধরণ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। উদাহরণ- বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের অভাবে নিচুস্তরের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাসের অভাব দেখা যায়, এর ফলে মল থেকে মৌখিক মাধ্যমে রোগ সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় যা কলেরার মত রোগ সৃষ্টি করে। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টির ঘটনা আবার রোগ সঞ্চালনের বিভিন্ন রাস্তার দিকে আলোকপাত করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, অনুন্নত দেশের যেসব শহরে ভাল পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে সেসব জায়গার চেয়ে যেসব শহরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের অভাব সেসব জায়গার পোলিও রোগ বেশি দেখা যায় কারণ রোগের আগাম তত্ত্ব থেকে বলা যায় পোলিও রোগ মল থেকে মৌখিক রাস্তায় ছড়ায়। আমরা কি করছি তা যদি বিবেচনা করি তাহলে নিশ্চিতভাবে পোলিও রোগের ব্যপ্তি কমানো যেতে পারে।

ভেক্টর মেকানিক্যাল (যান্ত্রিক) বা বায়োলজিক্যাল হতে পারে। একটি মেকানিক্যাল ভেক্টর কোন সংক্রমিত রোগের জীবাণু এর শরীরের বাইরের অংশ দ্বারা উত্তোলন করে নিষ্ক্রিয়ভাবে তা ছড়িয়ে দেয়। মেকানিক্যাল ভেক্টরের একটি উদাহরণ হল মাছি যা গোবরের উপর বসলে মল থেকে ব্যাকটেরিয়া এর উপাঙ্গে লেগে যায় এবং পরিবেশনকৃত খাবারের উপর পুনরায় বসে খাবারে জীবাণু ছড়ায়। জীবাণু কখনো মাছির শরীরের ভেতর প্রবেশ করে না। অন্যদিকে বায়োলজিক্যাল ভেক্টর জীবাণুকে শরীরের ভেতর আশ্রয় দেয় এবং সষ্ক্রিয়ভাবে যেমন- কামড়ের মাধ্যমে অন্য বাহকের মধ্যে স্থানান্তরিত করে। বায়োলজিক্যাল ভেক্টরগুলো ভয়াবহ রক্তরোগ যেমন– ম্যালেরিয়া, ভাইরাসঘটিত মস্তিষ্কপ্রদাহ, চাগাস রোগ, লাইম রোগ এবং আফ্রিকান স্লিপিং সিকনেস এর জন্যে দায়ী। যদিও সব নয় তবে অধিকাংশ বায়োলজিক্যাল ভেক্টরগুলোই আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণী যেমন– মশা, এঁটেল পোকা, মাছি এবং উকুন। জীবাণুদের জীবনচক্র সম্পন্ন করতেও কখনো কখনো ভেক্টরের প্রয়োজন পড়ে। ভেক্টরবাহিত রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রন করাও জন্যে একটি সাধারণ কৌশল হল ভেক্টরগুলোকে ধ্বংস করে জীবাণুদের জীবনচক্র ব্যাহত করা।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

ট্র্যাকিং বা অনুসরণকরণ[সম্পাদনা]

সংক্রামক রোগের জীবাণুর সঞ্চালন পথ ট্র্যাকিং করাকে রোগ তত্ত্বাবধান বলে। সাধারণ জনগণের মধ্যে সংক্রামক রোগের তত্ত্বাবধান করা প্রথাগতভাবে কোন দেশের জাতীয় বা স্থানীয় পর্যায়ের গণস্বাস্থ্য এজেন্সিগুলোর দায়িত্ব। জনস্বাস্থ্য কর্মী সাধারণ জনগণের গুরুত্বপূর্ণ রোগের কেস প্রতিবেদন করার জন্যে স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধান কর্মী ও মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরির উপর নির্ভরশীল। একত্রিত করা তথ্যগুলোর বিশ্লেষণ রোগের বিস্তার এবং মহামারী আকার ধারণের মূল কারণগুলোকে দেখায়। বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে অজানা রোগের সংক্রমণের ধরণ বোঝার জন্য নির্দিষ্ট উপায়ে (পরিশীলনের মাধ্যমে) তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন অথবা উদাহরণস্বরূপ ইন্সুরেন্স কোম্পানী ও এন্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ বিক্রেতাদের সংগৃহিত তথ্য খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, কোন প্রতিষ্ঠান যেমন- হাসপাতাল, জেলখানা, বোর্ডিং স্কুল, এতিমখানা, উদ্বাস্তু শিবির প্রভৃতি জায়গায় রোগের সঞ্চালন পরীক্ষা করার জন্যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হয় যিনি হাসপাতালের এপিডেমিওলজি প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে রোগের সঞ্চালন বিশ্লেষণ করার জন্যে এসব জায়গায় মেডিক্যাল রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করে থাকেন।

গতানুগতিক ওষুধগুলো ধীরগতির, সময় সাপেক্ষ এবং শ্রম সাপেক্ষ হওয়ার ফলে সঞ্চালনের প্রধান কারণকে গবেষণা করে খুঁজে বের করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় বিশেষ অবস্থায় সেনটিনেল (প্রহরী) সাইটে ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে ডাক্তারগণ ইনফ্লুয়েঞ্জার মত রোগের প্রধান কারণ খুঁজে বের করেন।[১৩] ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীকে ট্র্যাকিং করতে কিছু টুলস তৈরি করা হয়েছে যেগুলো ওয়েব ভিত্তিক প্রশ্ন খোঁজার মাধ্যমে রোগের বিভিন্ন নমুনা খুঁজে বের করতে সক্ষম। এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীতে ওয়েবে ইনফ্লুয়েঞ্জা সম্পর্কিত তথ্য খোঁজার সংখ্যা থেকে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার ধারণা পাওয়া পাওয়া যেতে পারে। ওয়েব কোয়েরিতে সময় ও জায়গা সম্পর্কিত তথ্যের পরীক্ষার মাধ্যমে ইনফ্লুয়েঞ্জা[১৪]ডেঙ্গুর [১৫] বিস্তৃতি সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য দেখিয়েছে।

সংক্রামক রোগের বিস্তারের ক্ষেত্রে কম্পিউটারের বিবরণ ব্যবহার করা হয়। [১৬] ঋতুগত পরিবর্তন এবং মানুষের একত্রিত হওয়া যেমন- স্কুলের বার্ষিক সূচনা, বুট ক্যাম্প ও বার্ষিক হজ্জ্ব প্রভৃতির মাধ্যমে রোগের সঞ্চালন এবং মহামারী সৃষ্টি হতে পারে। অতি সম্প্রতি মানুষের গতিবিধি সেল ফোণের তথ্য থেকে বেশ ভালোভাবে বোঝা যায় এবং রুবেলার মত সংক্রামক রোগের সঞ্চালন সম্পর্কে অনুমান করা যায়। [১৭]

রোগ সৃষ্টির ক্ষমতা বা তীব্রতা এবং টিকে থাকার মধ্যে সম্পর্ক[সম্পাদনা]

বিভিন্ন প্রজাতির জীবাণুর টিকে থাকার একটা উপায় হচ্ছে একজন বাহক হতে অন্যজনের মধ্যে সঞ্চালিত হওয়া। সংক্রামক জীবাণু সাধারণত একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সঞ্চালনের জন্যে বিশেষায়িত হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে যে, বিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া তাদের বাহকের শ্বসনযন্ত্রে কাশি ও হাঁচির লক্ষণ সৃষ্টি করে এবং এর বিশেষ উপকারিতা আছে কারণ এর মাধ্যমে তারা বাহক থেকে বের হয়ে আসে এবং অন্য বাহকে বাহিত হয়। বিভিন্ন অণুজীবের ডায়রিয়া সৃষ্টির কারণও এটা।

রোগ সৃষ্টির ক্ষমতা এবং সঞ্চালনের মধ্যে জটিল সম্পর্ক রয়েছে এবং জীবাণুর দীর্ঘমেয়াদি বিবর্তনের জন্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি দেখা যায়। কোন জীবাণু এর নতুন ভিকটিমকে গুরুতরভাবে আক্রান্ত করে কারণ একটি নতুন বাহক প্রজাতিতে প্রকাশিত হওয়ার জন্যে একটি অণুজীবের অনেক প্রজন্ম লেগে যায়। এটা সাধারণত কোন নতুন রোগ সৃষ্টির প্রথমদিকে হয়ে থাকে যার মৃত্যুহার অনেক বেশি। যদি কোন রোগ মারাত্নক হয়ে থাকে তাহলে অণুজীব অন্য কোন বাহকে চলে যাওয়ার পূর্বেই বাহকের মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু উচ্চ সংক্রমণশীলতার (স্বল্প মেয়াদের) কিছু উপকারের জন্যে এই ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা যেতে পারে যদি রোগ সঞ্চালনের প্রবণতা রোগ সৃষ্টির ক্ষমতার সাথে সংযুক্ত হয় এবং এটা কলেরার জরুরী অবস্থা (ভয়াবহ ডায়রিয়া ব্যাকটেরিয়াকে নতুন বাহক খুঁজে পেতে সাহায্য করে) এবং শ্বসনতন্রের সংক্রমণের (হাঁচি ও কাশি সংক্রামক এরোসল তৈরি করে) জন্যে দায়ী।

উপকারী অণুজীব[সম্পাদনা]

উপকারী মিথোজীবী অণুজীব যেমন – প্রবালের সাথে যুক্ত dinoflagellates অথবা মানুষের মাইক্রোবায়োটা প্রভৃতির সঞ্চালন প্রক্রিয়াও জীববিজ্ঞানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন জীব অণুজীবের সাথে যে মিথোজীবিতা তৈরি করতে পারে সে অণুজীবগুলো তাদের (জীব) পিতা-মাতা থেকে, পরিবেশ থেকে বা অন্য কারো থেকে বা উভয়ের থেকেই সঞ্চালিত হতে পারে।

উল্লম্ব সঞ্চালন[সম্পাদনা]

পিতা বা মাতা থেকে (সাধারণত মাতা) মিথোজীবী অণুজীবগুলো উল্লম্বভাবে সঞ্চালনের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। উল্লম্ব সঞ্চালন অন্তঃকোষীয় (উদাহরণ - transovarial বা ভেক্টরের মাধ্যমে) বা বহিঃকোষীয় (উদাহরণ - জন্মের পর মাতা এবং সন্তানের সংস্পর্শের মাধ্যমে) হতে পারে। অন্তঃকোষীয় এবং বহিঃকোষীয় উভয় ধরনের উল্লম্ব সঞ্চালন অ-জেনেটিক্যাল উত্তরাধিকার অথবা পেরেন্টাল ইফেক্ট এর রূপ হিসেবেই বিবেচিত হয়। এটা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে যে অধিকাংশ জীবই উল্লম্ব সঞ্চালনের মাধ্যমে মিথোজীবী অণুজীব অর্জন করে।[১৮] মিথোজীবী অণুজীবের উল্লম্ব সঞ্চালনের একটি উতকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে এফিডের (aphid) অর্জিত মিথোজীবী Buchnera (transovarially বা ভেক্টরের মাধ্যমে সঞ্চালিত অন্তঃকোষীয় অণুজীবী) যা এদের পুষ্টি যোগায় এবং মানুষের মাইক্রোবায়োটার (জন্মের সময় এবং বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর মধ্যে সঞ্চালিত হয়) কিছু উপাদান।

আড়াআড়ি সঞ্চালন[সম্পাদনা]

পরিবেশ অথবা সম্পর্কহীন জীব হতে কিছু উপকারী মিথোজীবী অণুজীব অর্জিত হয়। বাহক এবং মিথোজীবী অণুজীবের একে অপরকে চেনার জন্যে অথবা একে অপরের উৎপাদিত বস্তু বা উপকারিতাকে চেনার জন্যে কিছু বিশেষ প্রক্রিয়ার দরকার হয়। আড়াআড়িভাবে অর্জিত মিথোজীবী অণুজীবগুলো প্রাথমিক মেটাবলিজমের চেয়ে সেকেন্ডারি মেটাবলিজমের সাথেই বেশি সংযুক্ত থাকে যেমন - জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্ট করা,[১৯] কিন্তু পুষ্টি সম্পর্কিত কিছু প্রাথমিক মিথোজীবী অণুজীবও আড়াআড়িভাবে (পরিবেশের মাধ্যমে) অর্জিত হয়। [২০] আড়াআড়িভাবে সঞ্চালিত মিথোজীবী অণুজীবের কিছু উদাহরণ হল – ববটেইল স্কুইডের সাথে সংযুক্ত জৈব প্রতপ্রভাময় ব্যাকটেরিয়া এবং উদ্ভিদের মধ্যে নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যাকটেরিয়া।

মিশ্র প্রক্রিয়ায় সঞ্চালন[সম্পাদনা]

মিশ্র প্রক্রিয়ায় সঞ্চালন: মানুষের মাইক্রোবায়োটাসহ অনেক মিথোজীবী অণুজীব উল্লম্ব এবং আড়াআড়ি উভয়ভাবে সঞ্চালিত হতে পারে। মিশ্র প্রক্রিয়ার সঞ্চালন মিথোজীবী অণুজীবকে "দুই প্রকার উপকারিতাই" প্রদান করতে পারে, যখন বাহকের ঘনত্ব কম থাকে তখন অণুজীব উল্লম্বভাবে বাহকের সন্তানকে আক্রান্ত করে এবং যখন অতিরিক্ত বাহক সহজলভ্য থাকে তখন অণুজীব আড়াআড়িভাবে বিভিন্নরকম অতিরিক্ত বাহককে আক্রান্ত করে। মিশ্র প্রক্রিয়ার সঞ্চালন সম্পর্কের যে পরিণতি (উপকার বা ক্ষতির পরিমাণ) তৈরি করে তা হিসাব করা কঠিন কারণ মিথোজীবী অণুজীবের বিবর্তনগত সাফল্য বাহকের সাফল্যের সাথে সবসময় সংযুক্ত নাও হতে পারে।[১১]

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bush, A.O. et al. (2001) Parasitism: the diversity and ecology of animal parasites. Cambridge University Press. Pp 391-399.
  2. Horizontal Disease Transmission, online-medical-dictionary.org. date ?
  3. Routes of transmission of infectious diseases agents from Modes of Introduction of Exotic Animal Disease Agents by Katharine M. Kurkjian & Susan E. Little of The University of Georgia College of Veterinary Medicine, date?
  4. Vertical transmission (definition -- medterms.com) date?
  5. "Glossary of Notifiable Conditions". Washington State Department of Health. Archived from the original on 2010-01-07. Retrieved 2010-02-03.
  6. Ryan KJ; Ray CG (editors) (2004). Sherris Medical Microbiology (4th ed.). McGraw Hill. ISBN 0-8385-8529-9.
  7. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি" (PDF)। ৫ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ 
  8. "Clinical Educators Guide for the prevention and control of infection in healthcare" (PDF). NHMRC, Commonwealth of Australia. 2010. Retrieved 2015-09-12.
  9. HARE R (1964). "THE TRANSMISSION OF RESPIRATORY INFECTIONS". Proc. R. Soc. Med. 57: 221–30. PMC 1897886 Freely accessible. PMID 14130877.
  10. "What is Diseases contagious from droplets?".
  11. Ebert, Dieter (2013). "The Epidemiology and Evolution of Symbionts with Mixed-Mode Transmission". Annual Review of Ecology, Evolution, and Systematics. 44: 623–643. doi:10.1146/annurev-ecolsys-032513-100555.
  12. Pathogens and vectors. MetaPathogen.com.
  13. P.M. Polgreen, E. Chen, A.M. Segre, M. Harris, M. Pentella, G. Rushton. Optimizing Influenza Sentinel Surveillance at the State Level American Journal of Epidemiology, 170 (November 2009), pp 1300–1306. doi:10.1093/aje/kwp270, PMID 19822570
  14. J. Ginsberg, M.H. Mohebbi, R.S. Patel, L. Brammer, M.S. Smolinski, L. Brilliant Detecting influenza epidemics using search engine query data Nature, 457 (2008), pp. 1012–1014, doi:10.1038/nature07634. PMID 19020500
  15. E.H. Chan, V. Sahai, C. Conrad, J.S. Brownstein Using web search query data to monitor dengue epidemics PLoS Negl Trop Dis, 5 (2011), p. e1206, doi:10.1371/journal.pntd.0001206
  16. Siettos CI, Russo L (15 May 2013). "Mathematical modeling of infectious disease dynamics". Virulence. 4 (4): 295–306. doi:10.4161/viru.24041. PMC 3710332 Freely accessible. PMID 23552814.
  17. Wesolowski A, Metcalf CJ, Eagle N, Kombich J, Grenfell BT, Bjørnstad ON, Lessler J, Tatem AJ, Buckee CO. (September 1, 2015). "Quantifying seasonal population fluxes driving rubella transmission dynamics using mobile phone data". PNAS. 112 (35): 11114–11119. doi:10.1073/pnas.1423542112. PMC 4568255 Freely accessible. PMID 26283349.
  18. Funkhouser, Lisa; Bordenstein, Seth (2013). "Mom Knows Best: The Universality of Maternal Microbial Transmission". PLoS Biology. 11 (8): e1001631. doi:10.1371/journal.pbio.1001631. PMC 3747981 Freely accessible. PMID 23976878.
  19. Kaltenpoth, Martin; Engl, Tobias (2013). "Defensive microbial symbionts in Hymenoptera". Functional Ecology. 28 (2): 315–327. doi:10.1111/1365-2435.12089.
  20. Nussbaumer, Andrea; Fisher, Charles; Bright, Monika (2006). "Horizontal endosymbiont transmission in hydrothermal vent tubeworms". Nature. 441: 345–348. doi:10.1038/nature04793. PMID 16710420.

টেমপ্লেট:সংক্রামক রোগ এবং অণুজীববিজ্ঞান (মাইক্রোবায়োলজি)