ঔষধবিহীন হস্তক্ষেপ (রোগবিস্তার বিজ্ঞান)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

রোগবিস্তার বিজ্ঞানের আলোচনায় ঔষধবিহীন হস্তক্ষেপ (ইংরেজি: Non-pharmaceutical intervention, সংক্ষেপে NPI) বলতে কোনও মহামারীতে রূপ নেওয়া রোগের বিস্তার হ্রাস করতে গৃহীত এমন যেকোনও পদ্ধতিকে বোঝায়, যাতে ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা আবশ্যক নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র সিডিসি ব্যক্তিগত স্তরে ঔষধবিহীন হস্তক্ষেপ, সম্প্রদায়গত ঔষধবিহীন হস্তক্ষেপ এবং পরিবেশগত ঔষধবিহীন হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছে।[১]

ঔষধবিহীন হস্তক্ষেপে বৈশ্বিক মহামারীর রূপ ধারণকারী ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের জন্য একাধারে স্থানীয়[২] ও বৈশ্বিক পর্যায়ে[৩] সুপারিশ করা হয়েছে এবং ২০০৯-এর শূকর ইনফ্লুয়েঞ্জার বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে এবং কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে[৪][৫] এই পদ্ধতিটির উপর বৃহৎ মাপের গবেষণা সম্পাদন করা হয়।[৬] ঔষধবিহীন হস্তক্ষেপ হল কতগুলি গৃহীত পদক্ষেপের সমষ্টি যেগুলি যেকোনও সময়ে প্রয়োগ করা সম্ভব। এগুলিকে কোনও মহামারীতে রূপ নেওয়া রোগের প্রাদুর্ভাবের পরে কার্যকরী টিকা জনগণের কাছে পৌঁছে দেবার আগ পর্যন্ত প্রয়ো করা হয়।[৭]

ধরন[সম্পাদনা]

কোনও সম্ভাব্য অসুস্থতার লক্ষণ-উপসর্গ ছড়িয়ে দেওয়া প্রতিরোধ করতে গৃহে স্বেচ্ছায় অন্তরীণ থাকা, কাশি ও হাঁচির সময় মুখ ঢাকা, নিয়মিত হাত ধোয়া, ইত্যাদি হল ঔষধবিহীন হস্তক্ষেপের কয়েকটি উদাহরণ।[৮] আরেকটি উদাহরণ হল বিদ্যালয়, কর্মস্থল, জনসমাগম এলাকা, ইত্যাদিতে প্রশাসকদের বা দায়িত্ববান ব্যক্তিদের সঠিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনসাধারণকে সাবধানতা অবলম্বনে জন্য স্মরণ করিয়ে দেওয়া যাতে রোগের বিস্তার প্রতিরোধ করা যায়।[৮] সিংহভাগ ঔষধবিহীন হস্তক্ষেপই সরল প্রকৃতির, এগুলিকে বাস্তবায়ন করার জন্য খুব বেশি প্রচেষ্টার প্রয়োজন নেই, এবং এগুলিকে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব।

ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সমাধান[সম্পাদনা]

হাতের স্বাস্থ্যবিধি[সম্পাদনা]

সাবান ও পানি দিয়ে কিংবা অ্যালকোহল-ভিত্তিক জীবাণুনিবারক দিয়ে হাত ধোয়া যেতে পারে। অনেক দেশে ইতিমধ্যেই সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগের বিস্তার প্রতিরোধ করার জন্য হাত ধোয়ার রীতি প্রচলিত। যদিও অ্যালকোহল দিয়ে হাত ঘষে নেওয়ার পদ্ধতিটি কোনও কোনও পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হতে পারে, এর বিপরীতে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুয়ে স্বাস্থ্যসম্মত করাকে সবচেয়ে সাশ্রয়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলির একটি।[৭]

শ্বসন-সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সৌজন্যবিধি[সম্পাদনা]

শ্বসন-সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সৌজন্যবিধি বলতে সেইসব ব্যবস্থা বা পদ্ধতিকে বোঝায় যেগুলি ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দেবার সময় রোগের সংবহন ও সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারেন। যেমন কাশি-হাঁচি দেবার সময় হাত, কনুইয়ের ভাঁজ কিংবা জামার হাতাতে মুখ ঢাকা এবং হাঁচি-কাশি দেবার পরে ঢাকার জন্য ব্যবহৃত উপাদান হয় ফেলে দেওয়া বা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ধুয়ে ফেলা। হাতের স্বাস্থ্যবিধির মতো এটিও একটি ব্যয়সাশ্রয়ী হস্তক্ষেপের ধরন।[৭]

মুখাবরণী বা মুখোশ পরিধান[সম্পাদনা]

ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে শ্বাসযন্ত্রীয় রোগ সংবহন হ্রাস করার জন্য মুখোশ পরিধান করা যেতে পারে। ডাক্তারি মুখোশ মূলত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী পরিবেশে পরিধান করা হয়। সাধারণত বৈশ্বিক মহামারী না থাকলেও এগুলি চিকিৎসাকেন্দ্র ও হাসপাতালে পরিধান করা হয়ে থাকে। বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে লক্ষণ-উপসর্গবিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে সর্বক্ষণ একবার ব্যবহারের পর পরিত্যাজ্য ডাক্তারি মানের মুখোশ পরার সুপারিশ করা হয়। অন্যদিকে গুরুতর বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে লক্ষণ-উপসর্গহীন ব্যক্তিদেরকেও রোগের সংবহন হ্রাস করার জন্য মুখোশ পরার পরামর্শ দেওয়া হয়। করোনাভাইরাস রোগের বৈশ্বিক মহামারীর প্রেক্ষাপটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব না হলে "যথাসম্ভব সব কিছু করুন!" দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সর্বসাধারণকে মুখোশ পরার পরামর্শ দিয়েছে।[৯]

পরিবেশগত পদক্ষেপসমূহ[সম্পাদনা]

পৃষ্ঠতল ও বস্তু পরিস্কারকরণ[সম্পাদনা]

অতিবেগুনী রশ্মি[সম্পাদনা]

বায়ুচলাচল বৃদ্ধিকরণ[সম্পাদনা]

আর্দ্রতা পরিবর্তন[সম্পাদনা]

সামাজিক দূরত্ব স্থাপনকারী পদক্ষেপ[সম্পাদনা]

সংক্রমণ বাহক অনুসন্ধান[সম্পাদনা]

অসুস্থ ব্যক্তিদের অন্তরণ[সম্পাদনা]

সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গনিরোধ[সম্পাদনা]

বিদ্যালয়গুলিতে গৃহীত পদক্ষেপ ও বিদ্যালয় বন্ধকরণ[সম্পাদনা]

কার্যালয়ে গৃহীত পদক্ষেপ ও কার্যালয় বন্ধকরণ[সম্পাদনা]

ভিড় এড়ানো[সম্পাদনা]

ভ্রমণ সংক্রান্ত পদক্ষেপসমূহ[সম্পাদনা]

ভ্রমণ-সংক্রান্ত পরামর্শ[সম্পাদনা]

কোভিড-১৯[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Nonpharmaceutical Interventions (NPIs) | CDC"www.cdc.gov (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০৬-১১। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-১৬ 
  2. Bell D, Nicoll A, Fukuda K, Horby P, Monto A, Hayden F, ও অন্যান্য (জানুয়ারি ২০০৬)। "Non-pharmaceutical interventions for pandemic influenza, national and community measures"Emerging Infectious Diseases12 (1): 88–94। ডিওআই:10.3201/eid1201.051371পিএমআইডি 16494723পিএমসি 3291415অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  3. Bell D, Nicoll A, Fukuda K, Horby P, Monto A, Hayden F, ও অন্যান্য (জানুয়ারি ২০০৬)। "Non-pharmaceutical interventions for pandemic influenza, international measures"Emerging Infectious Diseases12 (1): 81–7। ডিওআই:10.3201/eid1201.051370পিএমআইডি 16494722পিএমসি 3291414অবাধে প্রবেশযোগ্য 
  4. Imai N, Gaythorpe KA, Abbott S, Bhatia S, van Elsland S, Prem K, ও অন্যান্য (২০২০-০৪-০২)। "Adoption and impact of non-pharmaceutical interventions for COVID-19"Wellcome Open Research5: 59। ডিওআই:10.12688/wellcomeopenres.15808.1অবাধে প্রবেশযোগ্যপিএমআইডি 32529040 |pmid= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য)পিএমসি 7255913অবাধে প্রবেশযোগ্য |pmc= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য) 
  5. "Report 9 - Impact of non-pharmaceutical interventions (NPIs) to reduce COVID-19 mortality and healthcare demand"Imperial College London (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-১৬ 
  6. Mitchell T, Dee DL, Phares CR, Lipman HB, Gould LH, Kutty P, ও অন্যান্য (জানুয়ারি ২০১১)। "Non-pharmaceutical interventions during an outbreak of 2009 pandemic influenza A (H1N1) virus infection at a large public university, April-May 2009"Clinical Infectious Diseases। 52 Suppl 1 (suppl_1): S138–45। ডিওআই:10.1093/cid/ciq056অবাধে প্রবেশযোগ্যপিএমআইডি 21342886 
  7. Non-pharmaceutical public health measures for mitigating the risk and impact of epidemic and pandemic influenza (PDF)World Health Organization। ২০১৯। আইএসবিএন 978-92-4-151683-9। ২০২০-১১-২৫ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১১-২৫ 
  8. https://www.cdc.gov/nonpharmaceutical-interventions/personal/index.html
  9. "Coronavirus disease (COVID-19): Masks"www.who.int (ইংরেজি ভাষায়)। World Health Organization। ২০২০-১০-০৯। ২০২০-১১-২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১১-২৬ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]