শরীফ উদ্দিন আহমেদ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
শরীফ উদ্দিন আহমেদ
জন্ম (1945-01-11) ১১ জানুয়ারি ১৯৪৫ (বয়স ৭৬)
জাতীয়তাবাংলাদেশ বাংলাদেশী
শিক্ষাপিএইচডি
মাতৃশিক্ষায়তনঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়
পেশাঅধ্যাপক, ইতিহাসবিদ
পুরস্কারইউজিসি পদক ২০০৭

শরীফ উদ্দিন আহমেদ একজন বাংলাদেশী ইতিহাসবিদঢাকার ইতিহাস নিয়ে গবেষণার জন্য পরিচিতি রয়েছে তার। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার প্রথম সংস্করণের সম্পাদনা পরিষদের অন্যতম সদস্য এবং বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে রাজধানী ঢাকার ৪০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত ঢাকা বিষয়ক ২১টি বইয়ের প্রধান সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইতিহাস একাডেমি এবং বাংলাদেশ আরকাইভস অ্যান্ড রেকর্ডস ম্যানেজমেন্ট সোসাইটির (বারমস) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।[১]

প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা[সম্পাদনা]

শরীফ উদ্দিন আহমেদ ১৯৪৫ সালের ১১ জানুয়ারি দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে ১৯৬৪ সালে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে ইতিহাসে বি.লিট এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল এন্ড আফ্রিকান স্টাডিজ থেকে ১৯৭৮ সালে ঢাকার ইতিহাস-এর উপর পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।[২][৩]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

শরীফ উদ্দিন আহমেদ ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। তিনি ১৯৮৮ সালে একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, ১৯৮৯ সালে সহযোগী অধ্যাপক এবং ১৯৯৫ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ও অনারারি অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালে তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগে যোগদান করেন এবং বিভাগটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।[৪][৫]

কর্মজীবনে অধ্যাপনা ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের সহকারী হাউস টিউটর, উচ্চতর মানববিদ্যা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।[২]

দীর্ঘ এক দশক (১৯৯৭-২০০৭) তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরে ডেপুটেশনে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। এসময় তিনি ঐতিহাসিক দলিলপত্র সংরক্ষণে মূল্যবান অবদান রাখেন। তিনি এশিয়াটিক সোসাইটি ঐতিহ্য জাদুঘরের প্রধান গবেষণা সমন্বয়ক এবং নজরুল ইনস্টিটিউটের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।[৬][৭]

শরীফ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির যুগ্ম-সম্পাদক ও সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন।[৩][৫][৮][৯]

বর্তমানে তিনি ইতিহাস একাডেমি এবং বাংলাদেশ আরকাইভস অ্যান্ড রেকর্ডস ম্যানেজমেন্ট সোসাইটির (বারমস) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।[১০][১১]

গবেষণাকর্ম ও প্রকাশনা[সম্পাদনা]

শরীফ উদ্দিন আহমেদ এর পিএইচডি অভিসন্দর্ভ ১৯৮৬ সালে লন্ডনের কার্জন প্রেস থেকে ‘ঢাকা—এ স্টাডি ইন আরবান হিস্ট্রি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ১৮৪১-১৮৮৫’ শিরোনামে (ইংরেজি ভাষায়) বই আকারে প্রকাশিত হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার প্রথম সংস্করণের সম্পাদনা পরিষদের অন্যতম সদস্য, বঙ্গভবন প্রেস উইং কর্তৃক প্রকাশিত ‘বঙ্গভবনের শতবর্ষ ১৯০৫-২০০৫’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রধান সমন্বয়ক, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে রাজধানী ঢাকার ৪০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত ঢাকা বিষয়ক ২১টি বইয়ের প্রধান সম্পাদক। এছাড়া তিনি এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালের সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।[৩][১২]

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক মোহাঃ খালেদ সাইফুল্লাহ জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি জার্নাল অব আর্টস এ প্রকাশিত নগর ইতিহাসবিদ ও ঢাকা নগরের ইতিহাসচর্চাঃ পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমল শীর্ষক এক গবেষণা প্রবন্ধে ঢাকার ইতিহাস গবেষণায় ইতিহাসবিদ শরীফ উদ্দিন আহমেদের অবদান উল্লেখ করে লেখেন,[১৩]

শরীফ উদ্দিন আহমেদ রচিত, সম্পাদিত, যৌথভাবে সম্পাদিত এবং প্রধান সম্পাদক হিসেবে সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:[৫][১৪]

  • ঢাকা কোষ
  • বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ
  • তারিখ-ই-নুসরাত জঙ্গী
  • কুয়ালালামপুরের পথে পথে
  • সিলেট: ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  • দিনাজপুর: ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  • ঢাকা: এ সিলেক্টেড বিলিওগ্রাফি
  • ক্রান্তিকালে অপরূপ দক্ষিণ আফ্রিকা
  • ঢাকা: ইতিহাস ও নগর জীবন ১৮৪০-১৯২১
  • ঢাকা পাস্ট প্রেজেন্ট ফিউচার (ইংরেজি ভাষায়)
  • ঢাকা কলেজ: ইতিহাস ও ঐতিহ্য ১৮৪১-১৯২১
  • রাজধানী ঢাকার ৪০০ বছর ও উত্তরকাল (২১ খণ্ড)
  • বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সমীক্ষামালা - ৪: সাংস্কৃতিক ইতিহাস
  • মিটফোর্ড হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল স্কুল: ইতিহাস ও ঐতিহ্য ১৮৫৮-১৯৪৭

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য:[২][১৫]

সদস্যপদ[সম্পাদনা]

শরীফ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতি, ইতিহাস একডেমি এবং বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিসহ বিভিন্ন বিদ্বৎসমাজের সদস্য।[৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. হোসেন, তায়েব মিল্লাত (৯ জুন ২০২০)। "ডিজিটাল বাংলাদেশ, অ্যানালগ আরকাইভস!"ডয়চে ভেলে। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২১ 
  2. "Professor Sharif uddin Ahmed" [অধ্যাপক শরীফ উদ্দিন আহমেদ] (PDF)বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২১ 
  3. আক্রাম, রিদওয়ান (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)। "আমি কিন্তু আর্কিভিস্ট নই ইতিহাসবিদ"কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২১ 
  4. আহমেদ, ড. শরীফ উদ্দিন (৯ জুন ২০১৯)। "বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্কাইভস"কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২১ 
  5. "Dr. Sharifuddin Ahmed" [ড. শরীফ উদ্দিন আহমেদ]। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২১ 
  6. "নিমতলী দেউড়ি এখন ঐতিহ্য জাদুঘর"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ১২ অক্টোবর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২১ 
  7. আহমেদ, শরীফ উদ্দিন (২০০৭)। মিটফোর্ড হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল স্কুল ইতিহাস ও ঐতিহ্য ১৮৫৮-১৯৪৭ (১ম সংস্করণ)। ঢাকা: একাডেমিক প্রেস এন্ড পাবলিশার্স লাইব্রেরি। আইএসবিএন 9840802216 
  8. "বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির নেতৃত্ব"বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতি। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২১ 
  9. আহমেদ, শরীফ উদ্দিন (২০০৩)। ক্রান্তিকালে অপরূপ দক্ষিণ আফ্রিকা (১ম সংস্করণ)। ঢাকা: একাডেমিক প্রেস এন্ড পাবলিশার্স লাইব্রেরি। 
  10. "কার্যনির্বাহি কমিটি ২০১৯–২০২১"ইতিহাস একাডেমি-ঢাকা। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২১ 
  11. "মহামারির ইতিহাস লিখতে করোনার তথ্য সংগ্রহ করতে হবে"ঢাকাটাইমস। ১০ মে ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২১ 
  12. "সম্পাদকবৃন্দ"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২১ 
  13. সাইফুল্লাহ, মোহাঃ খালেদ, "নগর ইতিহাসবিদ ও ঢাকা নগরের ইতিহাসচর্চাঃ পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমল" (PDF), জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি জার্নাল অব আর্টস, ঢাকা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, (১): ৯৪–৯৬, আইএসএসএন 2519-5816 
  14. আহমেদ, শরীফ উদ্দিন (২০১০)। ঢাকা : ইতিহাস ও নগর জীবন ১৮৪০-১৯২১ (৪র্থ সংস্করণ)। ঢাকা: একাডেমিক প্রেস এন্ড পাবলিশার্স লাইব্রেরি। আইএসবিএন 9843233751 
  15. "দুই বছরের ইউজিসি পদক ঘোষণা"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ৪ অক্টোবর ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ২২ জুলাই ২০২১