বিষয়বস্তুতে চলুন

আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর
সংক্ষেপেএনএএনএল
গঠিত১৯৭২
ধরনসরকারি
আইনি অবস্থাসক্রিয়
সদরদপ্তর৩২, বিচারপতি এস.এম. মোর্শেদ সরণি, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর
অবস্থান
যে অঞ্চলে কাজ করে
বাংলাদেশ
সদস্য
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
দাপ্তরিক ভাষা
বাংলা ও ইংরেজি
মহাপরিচালক
খন্দকার জহিরুল ইসলাম
ওয়েবসাইটwww.nanl.gov.bd

আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর বাংলাদেশের একটি অধিদপ্তর যা জাতীয় গ্রন্থাগার এবং জাতীয় আরকাইভস পরিচালনায় নিয়োজিত।[১] এই প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত।[২] এটি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড বুক নম্বর সংস্থার প্রতিনিধি।[৩]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

১৮৯১ সনের ১১ মার্চ কোলকাতায় ইমপেরিয়াল রেকর্ড ডিপার্টমেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৭ সনে দেশ বিভাগের পর ইমপেরিয়াল রেকর্ড ডিপার্টমেন্টই ন্যাশনাল আরকাইভস অব ইন্ডিয়া নামে পরিচিতি পায়। ১৯৫১ সনের নভেম্বরে করাচীতে ডাইরেক্টরেট অব আরকাইভস এন্ড লাইব্রেরিস এর অধীনে ন্যাশনাল আরকাইভস অব পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতা পূর্বকালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে উক্ত অফিসের শাখা অফিস হিসেবে ঢাকার মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের ভাড়া বাড়িতে ‘‘ডেলিভারী অব বুকস এন্ড নিউজ পেপার শাখা’’ নামে একটি অফিস চালু ছিল। জাতীয় আরকাইভস এর কোন শাখা পূর্ব পাকিস্তানে ছিল না।    

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ সময়ে উক্ত অফিসের দায়িত্বে ছিলেন জনাব মোঃ আবুল হাশেম। যুদ্ধ চলাকালে সহকারী পরিচালক জনাব সাহাবুদ্দিন খান করাচী থেকে চলে এসে সেখানে যোগদান করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে তারা ১০৩ পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডে একটি পরিত্যক্ত বাড়ীর দোতলায় শাখাটি স্থানান্তর করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবান দলিলসমূহসহ সরকারের স্থায়ী রেকর্ডস ও আরকাইভস সমূহ সংরক্ষণের গুরুত্ব অনুধাবন করে ১৯৭২ সনে সদ্য স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক বিভাগের অধীনে জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগার এর সমন্বয়ে আরকাইভস ও গ্রন্থাগার পরিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে।    

৬ নভেম্বর ১৯৭২ তারিখে ড. খোন্দকার মাহবুবুল করিম, পরিচালক, পাকিস্তান ডাইরেক্টরেট অব আরকাইভস এণ্ড লাইব্রেরিস পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগদান করলে তাকে পরিচালক, আরকাইভস ও গ্রন্থাগার পরিদপ্তর হিসেবে এডহক দায়িত্ব প্রদান করা হয়।  ১৯৭৩ সনের মধ্যে পাকিস্তান থেকে অন্যান্য বাঙ্গালি কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ রিপ্যাট্রিয়েশনের মাধ্যমে দেশে ফেরৎ এসে ১০৩ পুরাতন এলিফ্যান্ট রোড এবং ৩৭২ পুরাতন এলিফ্যান্ট রোড অফিসে যোগদান করেন। এরপরই প্রথম ৪৮টি পদ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অস্থায়ী জনবল কাঠামো ও বাজেট অনুমোদিত হয়।

১৯৭৪ সনের ৩ জানুয়ারি সরকার  জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারের জন্য ৩২, বিচারপতি এস.এম মোর্শেদ সরণি, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর এর বর্তমান জায়গায় ২ একর করে মোট ৪ একর জমি বরাদ্দ করে। প্রথম পাঁচশালা পরিকল্পনার আওতায় জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারের স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য সরকারের নিকট প্রকল্প প্রস্তাব দাখিল করা হয়। শেরেবাংলা নগরের অন্যান্য ভবনসমূহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থপতি খন্দকার মাজহারুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ভবনটির স্থাপত্য নকশা তৈরি করা হয়। প্রকল্প প্রস্তাব ও নকশা অনুমোদনের পর প্রথম পর্যায়ে জাতীয় গ্রন্থাগার ভবনের নির্মাণ কাজ শুরুর লক্ষ্যে ২১ জানুয়ারি ১৯৭৮ তারিখে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হয়।  ১৯৭৯ সনে ১০৩ পুরাতন এলিফ্যান্ট রোড থেকে জাতীয় গ্রন্থাগার ১০৬, সেন্ট্রাল রোডের ভাড়া বাড়ীতে স্থানান্তর করা হয়।    

ভবন নির্মাণ শেষে ১৯৮৫ সনের ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রন্থাগারের স্থায়ী ভবন আগারগাঁও এ স্থানান্তরিত হয়। কিছুদিন পর ৩৭২ এলিফ্যান্ট রোড থেকে জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগার ভবনে স্থানান্তরিত হয়।    

১৯৯৫ সনে  জাতীয় আরকাইভস ভবন নির্মাণ (প্রথম পর্যায়) শুরু হলে ২০০১ সনের ১৪ জুন বাংলাদেশ জাতীয় আরকাইভস ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০০৬ সালে জাতীয় আরকাইভস তার নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম শুরু করে। সর্বশেষ ১৬ আগস্ট ২০১৬ তারিখে ৪১ টি নতুন পদ সৃষ্টির জিও জারির মাধ্যমে আরকাইভস ও গ্রন্থাগার পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে উন্নীত করার আদেশ জারি হয়। ২০১৮ সালে অতিরিক্ত সচিব জনাব দিলীপ কুমার সাহা এ অধিদপ্তরের প্রথম মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব জনাব খন্দকার জহিরুল ইসলাম।

অবস্থান

[সম্পাদনা]

১৯৭৪ সালের ৩ জানুয়ারি সরকার জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারের জন্য ৩২, বিচারপতি এস.এম. মোর্শেদ সরণি, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর-এ ২ একর করে মোট ৪ একর জমি বরাদ্দ করলে প্রথম পাঁচশালা পরিকল্পনার আওতায় জাতীয় আরকাইভস ও জাতীয় গ্রন্থাগারের স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য সরকারের নিকট প্রকল্প প্রস্তাব দাখিল করা হয় এবং স্থপতি খন্দকার মাজহারুল ইসলাম নকশায় ১৯৭৮ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম পর্যায়ে জাতীয় গ্রন্থাগার ভবন নির্মাণ শুরু করা হয়।[১] ১৯৮৫ সালের ১ নভেম্বর স্থায়ী ভবনে জাতীয় গ্রন্থাগার স্থানান্তরিত হলে পরবর্তীতে জাতীয় আরকাইভস এখানে সরিয়ে আনা হয়। ১৯৯৫ সালে জাতীয় আরকাইভস ভবন নির্মাণ শুরু হয় এবং ২০০৬ সালে জাতীয় আরকাইভস তার নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম শুরু করে।[৪]

কার্যক্রম

[সম্পাদনা]

এই প্রতিষ্ঠানটি মূল্যবান আরকাইভাল সামগ্রী, যেমন নথিপত্র, বই, জার্নাল, পত্রিকা, স্মারক প্রভৃতি যাতে বিনষ্ট না-হয় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।[২] এটি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড বুক নম্বর সংস্থার প্রতিনিধি হিসাবে পুস্তক প্রকাশকদেরকে আইএসবিএন নম্বর প্রদান করে থাকে।[৩] বিভিন্ন সময় প্রকাশিত ও প্রচারিত সরকারি গেজেট, নিয়োগ, নীতিমালা, বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি, প্রটোকল, মূল্যবান রেকর্ড, নথিপত্র, রাষ্ট্রীয় জনগুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী আরকাইভাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করে আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর।[৫] আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের কার্যক্রম নিম্নরূপ:

১। অন্যূন ২৫ বছরের পুরানো রেকর্ডপত্র সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ডিজিটাইজেশন;

২। বাংলাদেশে প্রকাশিত সকল নূতন, সৃজনশীল ও মৌলিক প্রকাশনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ;[৬]

৩। আরকাইভাল সামগ্রী ও সংগৃহীত গ্রন্থাগার সামগ্রী ডিজিটাইজেশন, ডিজিটাল ক্যাটালগ তৈরি ও অনলাইন তথ্যসেবা প্রদান;[৭]

৪। জাতীয় গ্রন্থপঞ্জি প্রণয়ন, প্রকাশ ও বিতরণ;

৫। রেকর্ড ও আরকাইভ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও দপ্তর সংস্থার কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান;[৫]

৬। দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/দপ্তর/সংস্থা ও গ্রন্থাগারে কর্মরত পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ প্রদান;[১]

৭। ISBN (International Standard Book Number) বরাদ্দদান, সেবা ডিজিটাল ও অনলাইনকরণ;

৮। পাঠক ও গবেষকদের সেবা প্রদান।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 "আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্ত"। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ৩ এপ্রিল ২০১৯। ২৯ আগস্ট ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
  2. 1 2 "প্রত্নতত্ত্ব, আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর পরিদর্শন করলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী"। বিডিমর্নিং.কম। ২৯ জানুয়ারি ২০১৯। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
  3. 1 2 "Use of fictitious ISBN by Bangladeshi publishers"। দ্যা ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। ৩০ অক্টোবর ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
  4. ↑ "জনবল নেবে আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর"। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। ১৬ জুলাই ২০১৬। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
  5. 1 2 "'রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে আর্কাইভাল ম্যানেজমেন্ট'"। দৈনিক ইত্তেফাক। ৫ মে ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
  6. ↑ । {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); |ইউআরএল-অবস্থা=-এ বহিঃসংযোগ (সাহায্য); অবৈধ |ইউআরএল-অবস্থা=https://nanl.gov.bd/pages/static-pages/6922df15933eb65569e1fc02 (সাহায্য)
  7. ↑ এটি অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে থেকে নেয়া হয়েছে।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]