মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা
মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা.jpg
জন্ম
মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (মঞ্জু)

(১৯৩৯-০৯-১৫)১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯
মহাপ্রুম গ্রাম, বুড়িঘাট, নানিয়ারচর থানা, রাঙ্গামাটি
মৃত্যু১০ নভেম্বর ১৯৮৩(1983-11-10) (বয়স ৪৪)
খেদারা ছড়ার থুম, পানছড়ি, খাগড়াছড়ি
জাতীয়তা ব্রিটিশ ভারত (১৯৪৭ সালের পূর্বে)
 পাকিস্তান (১৯৭১ সালের পূর্বে)
 বাংলাদেশ (১৯৭১ সালের পর)
যেখানের শিক্ষার্থীচট্টগ্রাম সরকারি কলেজ
পেশাশিক্ষকতা, আইনজীবি
পরিচিতির কারণরাজনীতিবিদ
অফিসসাবেক সংসদ সদস্য
রাজনৈতিক দলপার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি
পিতা-মাতা
  • চিত্তকিশোর চাকমা (বাবা)
  • সুভাষিণী দেওয়ান (মা)

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (জন্ম: ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৯ - মৃত্যু: ১০ নভেম্বর, ১৯৮৩) উপজাতীয় নেতা ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ছিলেন। পাহাড়ি জনতার প্রাণের দাবিতে তিনি সারা জীবন আন্দোলন করে গেছেন। ১৯৯৭ সালে ২রা ডিসেম্বর[১] তার আন্দোলনের সফলতা অর্জিত হয় শান্তিচুক্তির মাধ্যমে। তিনি ছিলেন আসলে শোষিত মানুষের নেতা।[২]

শিক্ষা জীবন[সম্পাদনা]

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার প্রথম বিদ্যালয় ছিল মহাপ্রুম জুনিয়র হাইস্কুল। তিনি ১৯৫৮ সালে রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৬০ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। বিএ ও বিএড ডিগ্রি লাভ করেন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে যথাক্রমে ১৯৬৫ ও ১৯৬৮ সালে। তিনি ১৯৬৯ সালে এলএলবি ডিগ্রিও লাভ করেন।[৩]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৬৬ সালে দীঘিনালা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে। তিনি ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে কলোনি হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষকের হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম বার এসোসিয়েশনে আইনজীবী কাজ শুরু করেন।[৩]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

তার মায়ের নাম ছিল সুভাষিণী দেওয়ান এবং বাবার নাম চিত্তকিশোর চাকমা। তার সহধর্মিনীর নাম পঙ্কজিনী চাকমা এবং ছেলে জয়েস লারমা, মেয়ে পারমিতা লারমা। মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার বোন জ্যোতিপ্রভা লারমা, ভাই শুভেন্দু প্রভাষ লারমা এবং জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।[৩]

রাজনৈতিক জীবন[সম্পাদনা]

মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি পাহাড়ি ছাত্র পরিষদে যোগ দেন। ১৯৫৭ সালে তিনি পাহাড়ী ছাত্র আন্দোলন গড়ে তোলেন।১৯৬০ সালে পাহাড়ি ছাত্র সমাজের নেতা হয়ে যান। ১৯৫৮ সালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। ১৯৬১ সালে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। তিনি পাকিস্তান সরকারের হাতে গ্রেফতারও হন ১৯৬৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। পরে ১৯৬৫ সালে শর্তসাপেক্ষে ছাড়া পান।[৪] তিনি ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭২ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি তিনি ১১টি উপজাতীয় গোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে গড়ে তোলেন জনসংহতি সমিতি এবং বঙ্গবন্ধুর কাছে মোট ৪ দফা দাবি পেশ করেন আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসনের জন্য। ঐ বছরের ৩১শে অক্টোবর তিনি সংসদ ত্যাগ করেন সংবিধানে পাহাড়ীদের বাঙালী বলার প্রতিবাদে। ১৯৭৩ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।[৫] ১৯৭৪ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের পার্লামেন্টের প্রতিনিধি হিসেবে কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দেন ইংল্যান্ডে। তিনি মনে করতেন পাহাড়ি ও বাঙ্গালী ২টি আলাদা গোষ্ঠী। তাই বঙ্গবন্ধু যখন বলতেন পাহাড়িরাও বাঙালী তা তিনি মেনে নেননি। তিনি ১৯৭৫ সালে বাকশালেও যোগদান করেছিলেন।

সশস্ত্র সংগ্রাম[সম্পাদনা]

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরের দিনই তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং গড়ে তোলেন জনসংহতি সমিতির সামরিক শাখা শান্তি বাহিনী। একই সাথে তিনি গড়ে তুলেছিলেন মহিলা সমিতি, জুমিয়া সমিতি, যুব সমিতি ও গিরিসুর শিল্পী গোষ্ঠী। অনেকের মতে ১৯৭৩ সালের ৭ জানুয়ারি গঠিত হয় শান্তিবাহিনী।[১] মার্ক্সীয় আদর্শ তিনি ধারণ করেছিলেন তার আন্দোলনের জন্য। পরে জিয়াউর রহমান নতুন বাঙালীদের পাহাড়ী অঞ্চলে অভিবাসিত করলে তাদের সংগ্রাম তীব্র হয়ে ওঠে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাথে তাদের লড়াই তীব্রতর হয়ে ওঠে।[৬] মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার দলেও সৃষ্টি হয় অন্তর্দন্ধ এবং দলটি ২টি ধারা এম এন রায় গ্রুপ ও প্রীতি গ্রুপে ভাগ হয়ে যায়। ১৯৭৭ সালে এবং ১৯৮২ সালেও মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা জনসংহতি সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৩ সালের ১০ই নভেম্বর তিনি বিপক্ষ দলের আক্রমণে ৮ জনসহ মারা যান খাগড়াছড়িতে[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ভেঙ্গে গেলো জনসংহতি সমিতি, নতুন কমিটি"। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১১ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. "আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি না দেওয়াটা ছিল ভুল"দৈনিক প্রথম আলো। ১২ নভেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১১ 
  3. কবীর, বিলু (২২ ফেব্রুয়ারি ২০১১)। "খন্ডিত বীক্ষণে মানবেন্দ্র লারমা"দৈনিক সংবাদ। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১১ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. খীসা, দীপায়ন (১ জানুয়ারি ২০০২)। "মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা চির অম্লান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে"। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১১ 
  5. ত্রিপুরা, শক্তিপদ (১০ নভেম্বর ২০১০)। "এম এন লারমা : আদিবাসীদের এক অবিসংবাদিত নেতা"দৈনিক কালের কন্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১১ 
  6. হাসান, সোহরাব (১১ নভেম্বর ২০১০)। "শ্রদ্ধাঞ্জলিঃশহীদ এম এন লারমার সংগ্রাম"দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১১ 
  7. "মানবেন্দ্র লারমার স্বপ্ন পূরণের আহ্বান"দৈনিক প্রথম আলো। ১২ নভেম্বর ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১১