ব্যারি শেফার্ড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ব্যারি শেফার্ড
ওএএম
ব্যারি শেফার্ড.jpg
১৯৬৩ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে ব্যারি শেফার্ড
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামব্যারি কেনেথ শেফার্ড
জন্ম(১৯৩৭-০৪-২৩)২৩ এপ্রিল ১৯৩৭
ডনব্রুক, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া
মৃত্যু১৯ সেপ্টেম্বর ২০০১(2001-09-19) (বয়স ৬৪)
ফ্রিম্যান্টল, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি অফ ব্রেক
ভূমিকাব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২২৩)
১১ জানুয়ারি ১৯৬৩ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১৪ মে ১৯৬৫ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১১০
রানের সংখ্যা ৫০২ ৬৮৩৪
ব্যাটিং গড় ৪১.৮৩ ৪১.১৬
১০০/৫০ ০/৫ ১৩/৩৬
সর্বোচ্চ রান ৯৬ ২১৯
বল করেছে ২৬ ৫৭৩
উইকেট
বোলিং গড় ৮৫.৭৫
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ১/১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/০ ৭২/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৭ অক্টোবর ২০১৯

ব্যারি কেনেথ শেফার্ড, ওএএম (ইংরেজি: Barry Shepherd; জন্ম: ২৩ এপ্রিল, ১৯৩৭ - মৃত্যু: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০০১) পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ডনব্রুক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৫ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন ব্যারি শেফার্ড

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

কিশোর বয়সেই অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবল, হকি ও ক্রিকেটে অসাধারণ দক্ষতা প্রদর্শনে সক্ষম হয়েছিলেন। বিদ্যালয় বালকদের ফুটবলে দুইবার পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রথম বছরেই তাসমানিয়ায় উৎসবের খেলায় সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন। পরের বছর মেলবোর্নে রানার-আপ হয়েও একই পদক লাভ করেন। ফলশ্রুতিতে, রিচমন্ড ফুটবল ক্লাব তাকে দলের অন্তর্ভূক্তির প্রশ্নে বেশ আগ্রহ দেখায়। এছাড়াও, হকিতে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলেন। ফুল ব্যাক অবস্থানে থেকে অস্ট্রেলীয় নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থা অর্জন করেন। তবে, ক্রিকেট খেলার দিকেই পরবর্তীকালে ধাবিত হন।

১৮ বছর বয়সে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। পরবর্তীতে রাজ্য দলটির অধিনায়কের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। লড়াকু চিত্তের অধিকারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। দলকে স্থিরতায় আনেন ও মাঠে প্রভূতঃ সফলতা পান। নিজ শহরে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক ঘটা প্রথম-শ্রেণীর খেলার দ্বিতীয় ইনিংসে দলীয় সংগ্রহ ৮৭/৬ থেকে ২৬৮/৮-এ নিয়ে যান। রে লিন্ডওয়াল, কেন ম্যাকেরন আর্চারের বোলিং আক্রমণ মোকাবেলা করে অপরাজিত ১০৩ রানের ইনিংস খেলেন। এরফলে, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে শেফিল্ড শিল্ডের অভিষেক ঘটা খেলায় সেঞ্চুরি করেছেন। বাদ-বাকীরা হচ্ছেন জন শী ও আলেকজান্ডার বারাস। কেন মিউলম্যানও শেফার্ডের পূর্বে অভিষেক খেলায় সেঞ্চুরি করেছেন। তবে, ঐ খেলাটি সফররত দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে ছিল।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুম থেকে ১৯৬৫-৬৬ মৌসুম পর্যন্ত ব্যারি শেফার্ডের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। রাজ্য দলে এক দশকেরও অধিক সময় প্রধান ব্যাটিং মেরুদণ্ডকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া দলকে ৩৯বার নেতৃত্ব দিলেও শেফিল্ড শিল্ডের শিরোপা লাভ করতে পারেন তার দল। তাসত্ত্বেও, ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে দলের উত্থানে প্রধান রূপকার ছিলেন ও বেশ কয়েকটি বছর শক্তিধর দলে পরিণত করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে নয়টিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন ব্যারি শেফার্ড। ১১ জানুয়ারি, ১৯৬৩ তারিখে সিডনিতে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৪ মে, ১৯৬৫ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

খাঁটিমানের বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যারি শেফার্ডের ব্যাপক পরিচিতি ছিল। নয় টেস্টের চৌদ্দ ইনিংসে অংশগ্রহণ করে পাঁচটি অর্ধ-শতরান করলেও কোনটিকেই তিন অঙ্কের কোটায় নিয়ে যেতে পারেননি। দূর্ভাগ্যজনকভাবে ১৯৬৪ সালের ইংল্যান্ড সফর থেকে তাকে উপেক্ষার শিকার হতে হয়। এছাড়াও, দলের ব্যাটিং শক্তিমত্তার কারণে তিনি সীমিত পর্যায়ের সুযোগ পেয়েছিলেন।

১৯৬২-৬৩ মৌসুমে ইংল্যান্ড দল অস্ট্রেলিয়া গমন করে। সিডনিতে অ্যাশেজ সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। পিটার বার্জের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের অফ-স্পিনার ফ্রেড টিটমাসের বোলিং তোপে অস্ট্রেলীয় ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙ্গে পড়লেও তিনি ৭১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। টিটমাস ৭/৭৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। প্রস্তুতিমূলক অন্যান্য খেলায় তেমন ভালো করতে না পারায় এক পর্যায়ে ইংরেজ দল ভেবেছিল যে, তাকে হয়তোবা পরবর্তীতে দলে নিতে পারবে। সিরিজের বাদ-বাকী খেলায় তিনি আর মাত্র ২৩ রান তুলতে পেরেছিলেন। ফলে, পঞ্চম টেস্টে পুণরায় পিটার বার্জকে দলে নেয়ায় তাকে মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হয়। তাসত্ত্বে ৪৭.০০ গড়ে ৯৪ রান তুলেছিলেন ও অস্ট্রেলীয়দের মধ্যে ব্যাটিং গড়ে তৃতীয় স্থান দখল করেন।

ভারতনিউজিল্যান্ড বাদে পৃথক চারটি দেশের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ৪১.৮৩ গড়ে ৫০২ রান তুললেও কোন শতরানের সন্ধান পাননি তিনি। একমাত্র টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে পাঁচশতাধিক রান তুললেও কোন শতরান করতে পারেননি।

অবসর[সম্পাদনা]

২৮ বছর বয়সে ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে সকল স্তরের ক্রিকেট জগৎ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ব্যবসায়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন।[১] আর্থিক খাতে জড়িত হলেও ক্রিকেটের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীকালে ক্রিকেট প্রশাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন ব্যারি শেফার্ড। ১২ বছর এ দায়িত্বে থেকে বোর্ডের নির্বাহী, আম্পায়ার মনোনয়ন ও আন্তঃরাজ্য ক্রিকেট কমিটিতে সম্পৃক্ত ছিলেন।

১৯৭৯ সালে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়াকা) নির্বাহী কমিটিতে নির্বাচিত হন। ১৯৮৫ সালে তাকে সংস্থার আজীবন সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়। ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক পরিচালক পদে নিযুক্ত হন। ২০০০ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব-পর্যন্ত এ পদে ছিলেন। ১৯৯৯ সালে ক্রিকেট খেলায় অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া পদকে ভূষিত হন।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০০১ তারিখে ৬৪ বছর বয়সে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার ফ্রিম্যান্টল এলাকায় ব্যারি শেফার্ডের দেহাবসান ঘটে।[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Barry Shepherd OAM retires – Cricinfo. Published 3 April 2000. Retrieved 26 March 2012.
  2. Barry Shepherd OAM – Cricinfo. Published 19 September 2001. Retrieved 26 March 2012.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]