বিল হাওয়েল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
বিল হাওয়েল
Bill Howell c1899cr.jpg
আনুমানিক ১৮৯৯ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে বিল হাওয়েল
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামউইলিয়াম পিটার হাওয়েল
জন্ম২৯ ডিসেম্বর, ১৮৬৯
পেনরিদ, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া
মৃত্যু১৪ জুলাই, ১৯৪০
ক্যাসলরিগ, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
সম্পর্কউইলিয়াম হান্টার হাওয়েল (পুত্র)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৭৭)
১৪ জানুয়ারি ১৮৯৮ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১৫ জানুয়ারি ১৯০৪ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ১৮ ১৪১
রানের সংখ্যা ১৫৮ ২২২৭
ব্যাটিং গড় ৭.৫২ ১৪.৮৪
১০০/৫০ ০/০ ১/৬
সর্বোচ্চ রান ৩৫ ১২৮
বল করেছে ৩৮৯২
উইকেট ৪৯ ৫১৯
বোলিং গড় ২৮.৭১ ২১.৪৯
ইনিংসে ৫ উইকেট ৩০
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৫/৮১ ১০/২৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১২/০ ১২৬/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৭ এপ্রিল ২০২০

উইলিয়াম পিটার হাওয়েল (ইংরেজি: Bill Howell; জন্ম: ২৯ ডিসেম্বর, ১৮৬৯ - মৃত্যু: ১৪ জুলাই, ১৯৪০) নিউ সাউথ ওয়েলসের পেনরিদ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৮৯৮ থেকে ১৯০৪ সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলস দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকরী ব্যাটিং করতেন উইলিয়াম হাওয়েল নামে পরিচিত বিল হাওয়েল

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৮৯৪-৯৫ মৌসুম থেকে ১৯০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত বিল হাওয়েলের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। বেশ লম্বাটে ও মজবুত গড়নের অধিকারী বিল হাওয়েল কব্জি মোচড় পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করতেন। ম্যাটিং পিচে বলকে বেশ ঘুরাতে পারতেন। নভেম্বর, ১৮৯৪ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসে থাকাকালে তার প্রতিভাকে তুলে ধরতে সচেষ্ট হন।

বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি অনেক সময় বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতেন। দর্শনীয় আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দর্শকদেরকে আনন্দের খোড়াক জোটাতো। শেফিল্ড শিল্ডে নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে ২৩.৫৫ গড়ে ১৫৯ উইকেট পেয়েছিলেন। শেফিল্ড শিল্ডের খেলায় ২২.৮৬ গড়ে ১,০২৯ রান তুলেন। ব্যক্তিগত সেরা করেন ১২৮ রান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে আঠারোটি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন বিল হাওয়েল। জানুয়ারি, ১৮৯৮ সালে অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হবার পর ১৯০৪ সাল পর্যন্ত ১৮ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।[১] ১৪ জানুয়ারি, ১৮৯৮ তারিখে অ্যাডিলেডে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৫ জানুয়ারি, ১৯০৪ তারিখে একই মাঠে ও একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

জানুয়ারি, ১৮৯৮ সালে অ্যাডিলেড ওভালে বিল হাওয়েল তার প্রথম টেস্ট খেলা সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে অংশ নেন। ১৮৯৯ ও ১৯০২ সালে দুইবার ইংল্যান্ড গমন করেন। এছাড়াও, ১৯০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেছিলেন তিনি।

ইংল্যান্ড গমন[সম্পাদনা]

১৮৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়া দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। জো ডার্লিংয়ের নেতৃত্বাধীন দলে থেকে তৃতীয় খেলায় সারের বিপক্ষে চমৎকার খেলেন। ১০/২৮ লাভের বিরল কৃতিত্বের অধিকারী হন। ২৩.২ ওভার বোলিং করে ১৪ মেইডেন দিয়ে ২৮ রানের বিনিময়ে ১০ উইকেটের সবগুলো করায়ত্ত্ব করেন। দলের নিয়মিত সদস্য লাভের পূর্বে দুই খেলায় তাকে রাখা হয়নি। পাঁচ টেস্টে খুব কমই ভূমিকা রাখেন। ৪৩ গড়ে মাত্র ৮ উইকেট পান। পুরো মৌসুমে ২০.৩৫ গড়ে ১১৭ উইকেট পেয়েছিলেন। কেবলমাত্র হিউ ট্রাম্বলআর্নেস্ট জোন্স তার তুলনায় অধিক ব্যাটসম্যানকে আউট করেছিলেন তিনি।

পরের দুইবারের সফরে ১৭.৮৬ গড়ে ৬৮ ও ১৯.৩৪ গড়ে ৭৯ উইকেট পান। ১৮৯৮-৯৯ মৌসুমে অ্যাডিলেডের উভয় খেলায় এ. সি. ম্যাকলারেনের সাথে টেস্ট ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। এ পর্যায়ে ল্যাঙ্কাশায়ারীয় শৌখিন ক্রিকেটারের গড় ছিল ৫৪। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সব মিলিয়ে ষোলবার অংশ নিলেও উল্লেখযোগ্য সফলতা পাননি। ব্যতিক্রম ছিল ১৯০৪ সালের মেলবোর্নের বিস্ময়কর বোলিং। এ সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ বিভাগ বেশ শক্তিধর ছিল। টেস্টে তিনি ৩৫.৫৭ গড়ে ৩৫ উইকেট পেয়েছেন।

এ. ই. স্টডার্টের দলের পাঁচজন ব্যাটসম্যান তার শিকারে পরিণত হন। অধিনায়ক স্টডার্ট ও ইয়র্কশায়ারীয় জে. টি. ব্রাউনসহ পাঁচ ব্যাটসম্যানকে বিদেয় করতে মাত্র ৪৪ রান খরচ করেন। ১৮৯৮ সালে স্টডার্টের দলের বিপক্ষে নিউ সাউথ ওয়েলসের সদস্যরূপে খেলতে নামেন। সবশেষে নেমে পৌনে এক ঘণ্টায় ৪৮ রান তুলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও চড়াও হন। এক ঘণ্টারও কম সময়ে ৯৫ রান তুলেন। তন্মধ্যে, ৭৬ রান বাউন্ডারি থেকে আসে।

১৯০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেছিলেন তিনি। তিন টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের দুই টেস্টে অংশ নেন। ১২.৪২ গড়ে ১৪ উইকেট পান তিনি। খেলার মান দূর্বলতর থাকায় স্বেচ্ছায় নিজেকে প্রথম খেলা থেকে বিরত রাখেন। পরের খেলায় ৫/৪৮ পান। দক্ষিণ আফ্রিকায় তাকে মোকাবেলা করা বেশ দুষ্কর ছিল।

মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

স্থানীয় খেলায় দশ রানের বিনিময়ে দশ উইকেট লাভের কৃতিত্ব দেখান। সাত বল নিয়ে গড়া ওভারে সাতটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন তিনি। ১৯৫৭ সালে পেনরিদ স্টেডিয়ামের ক্রিকেট ওভাল বিল হাওয়েলের ক্রিকেট অর্জনকে মূল্যায়ণে পেনরিদ হাওয়েল ওভাল নামাঙ্কিত হয়।

অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম প্রথিতযশা টেস্ট বোলার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তবে, দলে একই সময়ে অন্যতম বোলিং প্রতিভা হিউ ট্রাম্বল ছিলেন। বিশাল গোফের অধিকারী বিল হাওয়েল দক্ষতার সাথে বৈচিত্রপূর্ণ ফ্লাইট ও পেস সহযোগে প্রতিপক্ষীয় ব্যাটসম্যানদের ব্যতিব্যস্ত রাখতেন। ট্রাম্বলের তুলনায় দ্রুতগতিতে অফ ব্রেক বোলিংয়ে বাঁক খাওয়াতেন। অস্ট্রেলিয়ার শক্ত পিচে সতীর্থদের চেয়ে বেশ বাঁক খাওয়ানোয় পারদর্শী ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

১৯০২ সালে বিদেশ থাকাকালে তার অভিভাবক জর্জ ও হান্নাহ (কোলেস) হাওয়েল একদিনের ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করেন। তারা £১,১৬৫ পাউন্ড-স্টার্লিং মূল্যমানের দুইটি খামারের মালিক ছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর ক্যাসলরিগের একটি খামারের নিয়ন্ত্রণ নেন। অন্যদিকে তার ভ্রাতা অ্যাথল আরেক খামারের স্বত্ত্ব লাভ করেন। পেশাগত জীবনে মৌ চাষী ছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত তিনি। ১৮৯৯ সালে এমু প্লেইনসের জেমস ও সারাহ হান্টার দম্পতির কন্যা নেভা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। তার সন্তান উইলিয়াম হান্টার হাওয়েল নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

১৪ জুলাই, ১৯৪০ তারিখে ৭০ বছর বয়সে নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্যাসলরিগ এলাকায় বিল হাওয়েলের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "England tour of Australia, 1897/98"। ESPN/CricInfo। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]