জ্যাক ব্রাউন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জ্যাক ব্রাাউন
Jack Brown cricketer c1895.jpg
১৮৯০-এর দশকে জ্যাক ব্রাউন
ক্রিকেট তথ্য
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনলেগব্রেক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৮৩
রানের সংখ্যা ৪৭০ ১৭,৯২০
ব্যাটিং গড় ৩৬.১৫ ৩০.৫২
১০০/৫০ ১/১ ২৯/৭৬
সর্বোচ্চ রান ১৪০ ৩১১
বল করেছে ৩৫ ৯,৩৯১
উইকেট ১৯০
বোলিং গড় ২৯.৬১
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৬/৫১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৭/– ২৩০/–
উৎস: ক্রিকইনফো, ১৪ আগস্ট ২০১৮

জন থমাস ব্রাউন (ইংরেজি: Jack Brown; জন্ম: ২০ আগস্ট, ১৮৬৯ - মৃত্যু: ৪ নভেম্বর, ১৯০৪) ইয়র্কশায়ারের ড্রাইফিল্ডে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত পেশাদার ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন।[১] ১৮৯৪ থেকে ১৮৯৯ সময়কালে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও লেগ ব্রেক বোলিংয়ে সবিশেষ দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন ‘জ্যাক’ ডাকনামে পরিচিত জ্যাক ব্রাউন

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

ইয়র্কশায়ারের ড্রাইফিল্ড এলাকায় জ্যাক ব্রাউনের জন্ম।[১][২] ইয়র্কশায়ারের ক্রিকেটার জন ব্রাউনের সাথে নামের মিল থাকলেও সময়গত ব্যবধান ছিল। ইয়র্কশায়ারের পক্ষে অনিয়মিতভাবে খেলতেন। তাকে প্রায়শই ব্রাউন, জে. টি. (ডারফিল্ড) নাম চিত্রিত করা হতো।

১৮৮৯ সালে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার।[১] দলে তিনি জন টানিক্লিফের সাথে সফলতম উদ্বোধনী জুটি গড়েন। ১৮৯৫ থেকে ১৯০৩ সময়কালে প্রত্যেক মৌসুমেই সহস্রাধিক রানের সন্ধান পেয়েছেন। তন্মধ্যে ১৮৯৭ সালে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩১১ রানের ইনিংস খেলেন। ব্রামল লেনে অনুষ্ঠিত সাসেক্সের বিপক্ষে এ রান তোলার পরের বছর চেস্টারফিল্ডে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ৩০০ রান তুলেন। ঐ খেলায় টানিক্লিফের সাথে প্রথম উইকেট জুটিতে ৫৫৪ রান তুলে তৎকালীন যে-কোন উইকেটে রেকর্ডসংখ্যক রান তুলেছিলেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে টানিক্লিফের সাথে ১৯বার সেঞ্চুরি রানের জুটি গড়েছিলেন। একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে দুইটি ত্রি-শতক করার গৌরব অর্জন করেছেন। ১৯০০ সালে জেন্টলম্যানের বিপক্ষে ৫০১ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় নেমে ১৬৩ রান তুলে প্লেয়ার্সকে ২ উইকেটের নাটকীয় জয় এনে দেন।

পূর্ববর্তী বছরের ঘরোয়া ক্রিকেটে অনিন্দ্য সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৯৫ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের মর্যাদা লাভ করেন জ্যাক ব্রাউন।

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে লেগ ব্রেক বোলিং করে তিনবার ইনিংসে পাঁচ-উইকেট লাভে দক্ষতা দেখিয়েছেন। ১৯০১ সালে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। ঐ মৌসুমে বল হাতে কম অংশগ্রহণ করলেও ৫৭ উইকেট পেয়েছিলেন। ইয়র্কশায়ারের প্রথমদিকের সেরা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের স্বীকৃতি পেয়েছেন জ্যাক ব্রাউন যা পরবর্তীকালে হার্বার্ট সাটক্লিফ, লেন হাটনজিওফ্রে বয়কটের মাঝে বহমান ছিল।

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৮৯৪-৯৫ মৌসুমে ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। সিডনিতে অনুষ্ঠিত টেস্টে তার অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার। পাঁচ টেস্টের ঐ সিরিজের সবকটিতেই তার অংশগ্রহণ ছিল। সিডনির চতুর্থ টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়বরণ করে তার দল। ২-২ ব্যবধানে সিরিজ অগ্রসর হলে মেলবোর্নে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে নামে উভয় দল। ২৯৭ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রসর হলে এক পর্যায়ে ইংরেজ দলের সংগ্রহ ২৮/২ হয়। তারপর ব্রাউন আলবার্ট ওয়ার্ডের সাথে জুটি গড়ে ২১০-এ নিয়ে যান। ব্রাউন করেন ১৪০ রান, যা তার টেস্ট খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র সেঞ্চুরি ছিল। এ ইনিংসে ব্রাউন মাত্র ২৮ মিনিটে ৫০ রানে পৌঁছেন যা অদ্যাবধি রেকর্ডরূপে টিকে আছে। এরপর ৯১ মিনিটে করেন পরম আরাধ্য সেঞ্চুরিটি। এ সেঞ্চুরিটি তৎকালীন দ্রুতগতিসম্পন্ন রেকর্ড হিসেবে বিবেচ্য ছিল। খেলায় ইংল্যান্ড দল ছয় উইকেটে জয় পায় ও ৩-২ ব্যবধানে অ্যাশেজ জয় করার কৃতিত্ব দেখায়।[৩][৪] এ টেস্ট সেঞ্চুরিটি চতুর্থ ইনিংসে করেছিলেন যা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ছিল।[৫][৬][৭][৮]

এরপর তিনি আরও তিন টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। সবগুলোই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ছিল। ১৮৯৬ সালে দুইটি ও ১৮৯৯ সালে একটি টেস্টে অংশ নেন তিনি।

অবসর[সম্পাদনা]

শুধুমাত্র উইজডেনই নয়, অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের অভিমত - ১৮৯৭-৯৮ মৌসুমে অ্যাশেজ সিরিজে তাকে অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়টি বেশ দূর্ভাগ্যজনক বিষয় ছিল। আরও কয়েক মৌসুম ইয়র্কশায়ারের পক্ষে বেশ দূর্দান্ত ব্যাটিং করেন। কিন্তু, ১৯০৪ সালে তিনি মাত্র দুই খেলায় অংশ নেন। দুটো খেলাই মে মাসে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়লিচেস্টারশায়ারের বিপরীতে খেলেছিলেন। হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে জোরপূর্বক অবসর নিতে বাধ্য হন জ্যাক ব্রাউন।

দেহাবসান[সম্পাদনা]

তার স্বাস্থ্যের ক্রমশঃ অবনতি ঘটতে থাকে। ঐ বছর পর নিজগৃহে চিকিৎসাধীন থাকেন। মাত্র ৩৫ বছরবয়সে লন্ডনের পিমলিকো এলাকায় জ্যাক ব্রাউনের দেহাবসান ঘটে। তিনি খুবই ধূমপান করতেন। ফলে শ্বাসকষ্ট ও হৃদযন্ত্রের ব্যাঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হৃদযন্ত্র দূর্বল হয়ে পড়া ও মস্তিষ্কে রক্ত জমাট হওয়াই তার মৃত্যুর কারণ ছিল।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Warner, David (২০১১)। The Yorkshire County Cricket Club: 2011 Yearbook (113th সংস্করণ)। Ilkley, Yorkshire: Great Northern Books। পৃষ্ঠা 365। আইএসবিএন 978-1-905080-85-4 
  2. "John Brown – Player Profile – Test Cricket"www.howstat.com। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৭ 
  3. "The Match of the Century"Cricinfo। ৩ মে ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৭ 
  4. "5th Test: Australia v England at Melbourne, Mar 1–6, 1895 | Cricket Scorecard | ESPN Cricinfo"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৭ 
  5. "HowSTAT! Test Cricket – Players Scoring a Century in 4th Innings"www.howstat.com। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৭ 
  6. "Scorecard – 1894–1895 The Ashes – 5th Test – Melbourne – 01/03/1895"www.howstat.com। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৭ 
  7. "Brown under"Cricinfo (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৭ 
  8. "Big-time brutality"Cricinfo (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]