বশিরুল হক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Jump to navigation Jump to search
বশিরুল হক
Bashirul Haq.jpg
বশিরুল হক
জন্ম (১৯৪২-০৬-২৪) ২৪ জুন ১৯৪২ (বয়স ৭৬)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান বাংলাদেশ)
জাতীয়তাবাংলাদেশী
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানন্যাশনাল কলেজ অফ আর্টস
নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়
পুরস্কারআগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার (মনোনয়ন ৩ বার)
স্থাপত্য প্রতিষ্ঠানবশিরুল হক অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস
ভবনসমুহছায়ানট ভবন
আসা প্রধান অফিস ভবন

বশিরুল হক (জন্ম: ২৪ জুন, ১৯৪২) একজন বাংলাদেশী স্থপতি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ছায়ানট ভবন ও আসা প্রধান অফিস ভবনের স্থপতি। তিনি তাঁর পরিবেশবাদী স্থাপনার ধরনের জন্য প্রসিদ্ধ।

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

বশিরুল হক ১৯৪২ সালের ২৪ জুন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করনে। তাঁর পিতা ছিলেন সিলেট জেলার ডেপুটি কালেক্টর। পিতার চাকরীর কারণে তাঁর শৈশব কাটে সিলেটে। তিনি পাকিস্তানের লাহোরের ন্যাশনাল কলেজ অফ আর্টস থেকে ব্যাচেলর অফ আর্কিটেকচার ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে "জন হাইম্‌রিখ টিউশন বৃত্তি" লাভ করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সালে তিনি মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।[১]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

স্কিডমোর, অয়িং অ্যান্ড মেরিল প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ফজলুর রহমান খান তাকে সেই প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়ে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং ১৯৭৭ সালে বশিরুল হক অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস প্রতিষ্ঠা করে স্থাপত্য চর্চা শুরু করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি নকশা সমালোচক হিসেবে ম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে যান।[১]

তাঁর কর্মজীবনে তিনি তিন শতাধিক ভবনের নকশা করেছেন। তিনি বলেন তরুণ বয়স থেকে তিনি আলভার আল্‌তোর কাজ দ্বারা অনুপ্রাণিত। বশিরুল হকের স্থাপত্যশৈলীতে সাংস্কৃতিক উপাদান, স্থানীয় বিষয়বস্তু, শহুরে টেকসই নির্মাণ এবং প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের ব্যবহার লক্ষণীয়। তাঁর নকশাকৃত ভবনে হস্তনির্মিত ইট, কংক্রিট, ও প্রাকৃতিক কাঠের মত উপাদানের ব্যবহার দেখা যায়।[২]

স্থাপনা[সম্পাদনা]

বসতবাড়ি[সম্পাদনা]

  • স্থপতিদের পারিবারিক বাড়ি ও স্টুডিও, ইন্দিরা রোড, ঢাকা
  • ভাতশালা হাউজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  • রমনা অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স, মগবাজার, ঢাকা
  • সেঞ্চুরি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স, মগবাজার, ঢাকা
  • সেঞ্চুরি টাওয়ার, মগবাজার, ঢাকা
  • লেক ভিউ অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স, ধানমন্ডি, ঢাকা
  • সেগুনবাগিচা অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স, সেগুনবাগিচা, ঢাকা
  • কালিন্দি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স, ৩৬ ইন্দিরা রোড, ঢাকা
  • গুলশান প্রাইড, গুলশান, ঢাকা
  • ধানসিঁড়ি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স, ৩৫ ইন্দিরা রোড, ঢাকা
  • অশ্র অ্যাপার্টমেন্ট, ধানমন্ডি, ঢাকা

অফিস ভবন[সম্পাদনা]

  • ২০ তলা অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (আসা) প্রধান অফিস ভবন
  • ২০ তলা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ড্রাস্টিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) প্রধান অফিস ভবন, দিলকুশা বা/এ, ঢাকা
  • ২০ তলা পিপল্‌স ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড (পিআইসিএল) প্রধান অফিস ভবন, দিলকুশা বা/এ, ঢাকা
  • প্রোজেক্ট আন্ডার সাইক্লোন রিলেটেদ ডিসেস্টার প্রিপারেডনেস প্রোগ্রাম
  • কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট সেন্টার, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, ও কক্সবাজার
  • জার্মান রেড ক্রস কমিউনিটি বেসড মাল্টিপারপাস সাইক্লোন শেল্টারস, টেকনাফ, কক্সবাজার
  • সাইক্লোন রেসিস্ট্যান্ট হাউজিং, কক্সবাজা
  • মিডাস সেন্টার, ধানমন্ডি, ঢাকা

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

  • আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার, ১৯৮০, ১৯৯২ ও ২০০১ সালে মনোনীত
  • ফজলুর রহমান খান ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য
  • "পাকিস্তানের ৫০০০ বছর" শীর্ষক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ
  • হোলসিম গ্রিন বিল্ড বাংলাদেশ পুরস্কারের জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Bashirul Haq & Associates Ltd."Architecturebd। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০১৭ 
  2. "প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রেখেই স্থাপনা নির্মাণ"দৈনিক প্রথম আলো। ১৮ জানুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০১৭ 
  3. "Holcim awards 8 green projects"দ্য ডেইলি স্টার (বাংলাদেশ)। ১৭ জুন ২০১০। সংগ্রহের তারিখ ৬ এপ্রিল ২০১৭ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]