ছায়ানট
ছায়ানট হলো বাংলা সংস্কৃতির প্রতি নিবেদিত একটি প্রতিষ্ঠান, যা ১৯৬১ সালে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে পাকিস্তান শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত অনুরূপ বহু প্রতিষ্ঠানের মতোই, বাংলার সাংস্কৃতিক ও সংগীত ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়। প্রতি বছর, ছায়ানট বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করে। ছায়ানট ভারত সরকার কতৃক সম্মাননাপ্রাপ্ত একটি সংগঠন।[১]
| গঠিত | ১৯৬১ |
|---|---|
| ধরন | সাংস্কৃতিক |
| সদরদপ্তর | ঢাকা |
| অবস্থান |
|
যে অঞ্চলে | বাংলাদেশ |
দাপ্তরিক ভাষা | বাংলা |
সভাপতি | ডা. সারওয়ার আলী |
সাধারণ সম্পাদক | লাইসা আহমদ লিসা |
| ওয়েবসাইট | chhayanaut |
ছায়ানট সারা বছর ধরে নানাবিধ সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আয়োজন করে, যার মধ্যে রমনার বটমূলে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন, বিভিন্ন জাতীয় দিবসের স্মরণানুষ্ঠান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে উৎসব এবং ঋতুভিত্তিক অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি তারা লোকসংস্কৃতি ও লোকসংগীত উৎসব, নাট্য ও নৃত্যানুষ্ঠান এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তৃতার আয়োজন করে। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ছায়ানট একটি সঙ্গীত কেন্দ্র এবং ‘নালন্দা’ নামের সাংস্কৃতিক ও সাধারণ শিক্ষা বিদ্যালয় পরিচালনা করে; শিশুদের বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করাতে ‘শিকড়’ কর্মসূচি চালু করেছে; অটিস্টিক শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে; এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতিনির্ভর বাংলা ত্রৈমাসিক পত্রিকা বাংলাদেশের হৃদয় হতে প্রকাশ করে।[২][৩][৪][৫]
১৯৬৪ সালে বাংলা নববর্ষ ১৩৭১ উপলক্ষে ছায়ানট রমনা পার্কের বটমূলে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অনুষ্ঠানটি একটি বৃহৎ জাতীয় সাংস্কৃতিক আয়োজনে পরিণত হয়। এছাড়া ছায়ানট রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী (২৫শে বৈশাখ ও ২২শে শ্রাবণ) উপলক্ষে স্মরণানুষ্ঠান আয়োজন করে এবং শরৎ ও বসন্ত উৎসবের মতো ঋতুভিত্তিক বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও পরিচালনা করে।[৬]
প্রতিষ্ঠা
[সম্পাদনা]ষাটের দশকে ফৌজি পাক-সরকার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্র সংগীত গাওয়া, বেতার বা টেলিভিশনে সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে। এতে বাংলাদেশের প্রবাদপ্রতিম রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী কলিম শরাফী দমে না গিয়ে অন্যান্যদের সহায়তায় রবীন্দ্র সংগীত, নাটক ও নৃত্যনাট্যের সংস্থা ছায়ানট গড়ে তোলেন। নিষেধাজ্ঞার ভিতর গুপ্ত সংগঠনের মতো জেলা শহরগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছিল 'ছায়ানট'-এর শাখা।[৭] ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র-জন্মশতবার্ষিকী উৎযাপনের পর একটি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন কয়েকজন সংগঠক। তাদের মধ্যে মোখলেসুর রহমান (সিধু ভাই নামে পরিচিত), শামসুন্নাহার রহমান, সুফিয়া কামাল, ওয়াহিদুল হক অন্যতম। সাঈদুল হাসানের প্রস্তাবে সংঠনটির নামকরণ করা হয় ছায়ানট।
১৯৬১ সালে সুফিয়া কামালকে সভাপতি আর ফরিদা হাসানকে সম্পাদক করে প্রথম কমিটি গঠিত হয়। সহ-সভাপতি জহুর হোসেন চৌধুরী, সাঈদুল হাসান। সহ-সম্পাদক সাইফুদ্দীন আহমদ মানিক, মিজানুর রহমান ছানা। কোষাধ্যক্ষ পদে মোখলেসুর রহমান ও সদস্যরা ছিলেন কামাল লোহানী, ওয়াহিদুল হক, সনজীদা খাতুন, আহমেদুর রহমান প্রমুখ।
কার্যক্রম
[সম্পাদনা]১৯৬১ সালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ছায়ানটের প্রথম অনুষ্ঠান পুরানো গানের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬৩ সালে সনজীদা খাতুনের উদ্যোগে বাংলা একাডেমীর বারান্দায় সঙ্গীত শেখার ক্লাস শুরু হয়। সনজীদা খাতুন ও ফরিদা মালিক রবীন্দ্র সঙ্গীত, বজলুল করিম তবলা, মতি মিয়া বেহালা ও সেতার এবং সোহরাব হোসেন নজরুল গীতি শেখাতেন। ঐ সালেই ছায়ানট সঙ্গীত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১লা বৈশাখ, ১৩৭০ বঙ্গাব্দে ওস্তাদ আয়েত আলী খান এই বিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন।
ছায়ানটের প্রাথমিক কার্যক্রম ইংলিশ প্রিপারোটরি স্কুলে শুরু হয়। কিন্তু সরকারী বাধার কারণে কার্যক্রম অগ্রণী বালিকা বিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হয়। সেখানেও সরকারের ভয় ভীতির কারণে লেক সার্কাস গার্লস স্কুলে ছায়ানট আশ্রয় নেয়। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ছায়ানট এখানেই ছিল। স্বাধীনতার পর গভঃ ল্যাবরেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ ড. নূরুন নাহার ফয়জুন্নেসা তার স্কুলে ছায়ানটকে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেন। বিষয়টি তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অনুমোদন করেন।
ইংরেজি ১৯৬৪ সাল, বাংলা ১৩৭১ সালের ১লা বৈশাখ রমনার বটমূলে ছায়ানট বাংলা নববর্ষ পালন শুরু করে। কালক্রমে এই নববর্ষ পালন জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়। এছাড়াও ছায়ানট ২৫শে বৈশাখ, ২২শে শ্রাবণ, শারদোৎসব ও বসন্তোৎসব গুরুত্বের সাথে পালন করে। [৮]
স্বীকৃতি
[সম্পাদনা]২০১৫ সালে সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের রবীন্দ্রচর্চার সূতিকাগার ও বিখ্যাত সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ভারত সরকার প্রবর্তিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে।[৯]২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকালে নয়াদিল্লির প্রবাসী ভারতীয় কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ড.রামনাথ কোবিন্দ পুরস্কারটি প্রদান করেন ছায়ানটের সভাপতি ড. সনজীদা খাতুনকে। [১০]
নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়
[সম্পাদনা]| নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয় | |
|---|---|
| ঠিকানা | |
![]() | |
ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবন, বাড়ি-৭২, সড়ক-১৫এ, ধানমন্ডি ঢাকা , বাংলাদেশ , ১২০৯ | |
| তথ্য | |
| ধরন | বেসরকারি |
| প্রতিষ্ঠাকাল | ১৫ জানুয়ারি ২০০৩ |
| অনুমোদনকারী | ছায়ানট |
| ইআইআইএন | ১৩৩৯৯৫ |
| শিক্ষকমণ্ডলী | ৫০ |
| শ্রেণি | ১ম-১০ম শ্রেণি |
| ভর্তি | ১৭১ |
| ভাষা | বাংলা |
| শিক্ষায়তন | ৮২ শতাংশ |
| ক্যাম্পাসের ধরন | শহুরে |
| ওয়েবসাইট | nalonda |
নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয় ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত একটি সংস্কৃতি-সমন্বিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা ছায়ানটের শিক্ষাদর্শ অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। এখানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয় এবং পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সংগীত, শিল্পকলা, নৈতিকতা ও সৃজনশীল চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিশু-বান্ধব ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে নালন্দা শিক্ষার্থীদের কৌতূহল, মানবিক মূল্যবোধ ও স্বাধীন চিন্তাশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করে।[১১]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ প্রতিবেদক, নিজস্ব (২৫ অক্টোবর ২০১৮)। "সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি রক্ষায় অবদান: অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছে ছায়ানট"। Prothomalo। সংগ্রহের তারিখ ২ জানুয়ারি ২০২৬।
- ↑ "Baishakhi breeze blows across the country"। The Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০০৯।
- ↑ "Pahela Baishakh: The Cultural Essence"। The Financial Express। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০০৯।
- ↑ "PAHELA BAISHAKH"। Bangladesh Parjatan Corporation। ১৩ মার্চ ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০০৯।
- ↑ Mohammad, A. H.। "Chhayanaut"। Banglapedia। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪।
- ↑ Mamoon, Muntasir (২০০৯)। ঢাকা : স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী (২য় খন্ড)। Dhaka: Ananyā। পৃ. ৬৬। আইএসবিএন ৯৮৪৭০১০৫০১।
- ↑ অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, দ্বিতীয় খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, জানুয়ারি ২০১৯ পৃষ্ঠা ৮৩, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-২৯২-৬
- ↑ মুনতাসীর মামুন, ঢাকা : স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী (২য় খন্ড), পৃ:৬৭, ISBN 984-701-050190-2
- ↑ "রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাচ্ছে 'ছায়ানট'"। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০২৩।
- ↑ "আন্তর্জাতিক রবীন্দ্র পুরস্কার পেলো ছায়ানট"। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুন ২০২৩।
- ↑ "নালন্দা : ছায়ানটের সংস্কৃতি-সমন্বিত সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য"। nalonda.org। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০২৫।
