বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ উন্নয়ন সমবায় লিমিটেডের অধীনস্থ একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র। বর্তমানে এই কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ৬৩০ মেগাওয়াট। এছাড়াও একটি ৪২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাবিশিষ্ট ইউনিট নির্মাণের কাজ চলছে।

অবস্থান[সম্পাদনা]

বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবস্থান স্থানাঙ্ক হল: ২৩°৫০′উত্তর ৮৭°২৭′পূর্ব / ২৩.৮৩° উত্তর ৮৭.৪৫° পূর্ব / 23.83; 87.45। এটি বীরভূম জেলার চিনপাই ও ভুরকুনা গ্রামপঞ্চায়েত অঞ্চলে অবস্থিত।[১] পানাগড়-মোরগ্রাম সড়কের ধারে বক্রেশ্বর নদের তীরে বক্রেশ্বর মন্দির ও উষ্ণ প্রস্রবণের কিছু দূরে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে। অন্ডাল-সাঁইথিয়া শাখার চিনপাই এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিকটতম রেলস্টেশন।

উৎপাদন ক্ষমতা[সম্পাদনা]

প্রতিক্ষেত্রে ২১০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা সম্পন্ন তিনটি ইউনিট স্থাপিত হয় ১৯৯৯ ও ২০০১ সালে।[২][৩] এই তিনটি ইউনিটের জন্য জাপান ব্যাঙ্ক অফ ইন্টারন্যাশানাল কোঅপরেশন ৮০.৮ মিলিয়ন ইয়েন বা ২,৫২৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়।[১] ৩৭ মাসের রেকর্ড সময় প্রথম ইউনিটটি সমাপ্ত হয় ও ১৯৯৯ সালের ১৭ জুলাই চালু হয়। উল্লেখ্য, ২০০-২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সাধারণ সময় মাপকাঠি ৪৮ মাস।[১]

বক্রেশ্বর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্টেজ ২-এর অন্তর্গত নির্মীয়মান দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ২১০ মেগাওয়াট এবং নির্মাণের আনুমানিক ব্যয় ধার্য হয়েছে ২,০০০ কোটি টাকা।[৪]

নীল নির্জন[সম্পাদনা]

বক্রেশ্বর নদীতে বাঁধ দিয়ে একটি জলাধার গড়ে তোলা হয়েছে। এই জলাধারটির নাম নীল নির্জন। এই জলাধার থেকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় জল সরবরাহ করা হয়। এছাড়া এটি পর্যটকদের কাছেও বিশেষ আকর্ষণীয় স্থান।[৫]

রাজনৈতিক বিতর্ক[সম্পাদনা]

বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বেশ কয়েক বছর ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রাথমিকভাবে এই কেন্দ্রটি কেন্দ্রীয় ও রাজ্যসরকারের যৌথ সহযোগিতায় স্থাপনার কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় অর্থসাহায্য রাজ্যসরকারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এসে পৌঁছায়নি। ১৯৭৭ সালে যখন বামফ্রন্ট সরকার স্থাপিত হয় তখন বক্রেশ্বর ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতার শিকার। এই কারণে মার্কসবাদী নেতারা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই প্রকল্পের কাজে এগিয়ে না আসার জন্য বিমাতৃসুলভ মনোভাবের অভিযোগ তোলেন। বেশ কয়েকবছর এই প্রকল্পের কাজ আটকে রাখা হয়, কারণ সোভিয়েত ইউনিয়ন এই প্রকল্পের জন্য অর্থসাহায্যে প্রতিশ্রুত হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েকবছর সোভিয়েত অর্থের জন্য অপেক্ষা করেও যখন তা এসে পৌঁছায় না, তখন অন্য উপায়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ Sarajit Pramanick, Birbhumer Ahankar:Bakreshwar Tapbidyut Kendra, Paschim Banga, Birbhum special issue, pp. 189–192, (in Bengali), February 2006, Information and Culture Department, Government of West Bengal
  2. "West Bengal Power Development Corporation Limited"। সংগৃহীত ২০০৯-০৪-১০ 
  3. ৩.০ ৩.১ Bhattacharya, AK। "Bakreshwar, Haldia and Singur"। Business Standard, 24 September 2008। সংগৃহীত ২০০৯-০৪-১০ 
  4. "Bakreshwar unit-V may be put off"। সংগৃহীত ২০০৯-০৪-১০ 
  5. Sarkar, Joydeep, Paryatan Boichitre Birbhum Jela, Paschim Banga, p. 200