পারস হাম্ব্রে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পারস হাম্ব্রে
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামপারস লক্ষ্মীকান্ত হাম্ব্রে
জন্ম২০ জুন, ১৯৭২
বোম্বে, মহারাষ্ট্র, ভারত
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার, কোচ
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২০৩)
৬ জুন ১৯৯৬ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট২০ জুন ১৯৯৬ বনাম ইংল্যান্ড
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৯৭)
২৩ মে ১৯৯৬ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ ওডিআই২৫ মে ১৯৯৮ বনাম বাংলাদেশ
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই
ম্যাচ সংখ্যা
রানের সংখ্যা ৫৮
ব্যাটিং গড় ২৯.০০ -
১০০/৫০ ০/০ ০/০
সর্বোচ্চ রান ২৮ ৭*
বল করেছে ২৫৮ ১২৬
উইকেট
বোলিং গড় ৭৪.০০ ৪০.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট - -
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ১/৪৩ ২/৬৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- -/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

পারস লক্ষ্মীকান্ত হাম্ব্রে (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; মারাঠি: पारस लक्ष्मीकांत म्हांब्रे; জন্ম: ৯ জুন, ১৯৭২) মহারাষ্ট্রের মুম্বই এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও কোচ। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে মুম্বই দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন পারস হাম্ব্রে

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত তার প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। মুম্বই থেকে আগত পারস হাম্ব্রে ডানহাতি মিডিয়াম পেসার ছিলেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে খেলার জগতে প্রবেশ করেন। ২৩.৭৭ গড়ে ৩০ উইকেট পান তিনি। ফলশ্রুতিতে, পরের মৌসুমে ভারত এ-দলের সদস্যরূপে খেলার জন্যে মনোনীত হন।

ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে তিনি বেশ ভালোমানের খেলা উপহারে সচেষ্ট ছিলেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমের রঞ্জী ট্রফিতে ২৩.৭৭ গড়ে ৩০ উইকেট পান। পরের মৌসুমে ভারত এ-দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। বল হাতে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ২৪.৩৬ গড়ে ২৮৪ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে খেলোয়াড়ী জীবনে পাঁচবার মুম্বই দলের রঞ্জী ট্রফির শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ২০০২-০৩ মৌসুমে সর্বশেষ শিরোপা বিজয়ের পর তিনি অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে দুইটিমাত্র টেস্টে ও তিনটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন পারস হাম্ব্রে। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি। ৬ জুন, ১৯৯৬ তারিখে বার্মিংহামে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এরপর, ২০ জুন, ১৯৯৬ তারিখে লর্ডসে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ড সফরে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ঐ একই সফরে সৌরভ গাঙ্গুলী, রাহুল দ্রাবিড়ভেঙ্কটেশ প্রসাদ তাদের প্রথম টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু, অন্য তিনজনের তুলনায় তার খেলোয়াড়ী জীবন বেশ সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ঐ সফরে মাত্র দুইটি টেস্ট ও দুইটি ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার পর ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে আর একটিমাত্র ওডিআই খেলার সুযোগ লাভ করেন।

১৯৯৬ সালে ভারত দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। এজবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সফরকারী দলের তৃতীয় সিমার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার। মাইকেল অ্যাথারটনকে আউট করে নিজস্ব প্রথম উইকেটের সন্ধান পান তিনি। তবে, তিনি বল হাতে নিয়ে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। একমাত্র সিরিজে তিনি মাত্র পাঁচটি উইকেট পেয়েছেন। এছাড়াও, নর্থ মেইডেনহেড সিসি’র পক্ষে বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত হন।

কোচিংয়ে অংশগ্রহণ[সম্পাদনা]

বেঙ্গালুরুভিত্তিক ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে তৃতীয় পর্যায়ের কোচিং ডিপ্লোমা লাভ করেন। ভারতীয় ঘরোয়া আসরে বাংলা ক্রিকেট দলের কোচের দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর দলটি রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় অবতীর্ণ হয়।[১] দুই মৌসুম মহারাষ্ট্র দলকে প্রশিক্ষণ দেয়ার পর বাংলা দলের দায়িত্ব পান। দুই মৌসুমের প্রত্যেকটিতে রঞ্জী ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় উপনীত করেন। সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সালে নিজ দেশে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে ভারত এ দলের কোচের দায়িত্বে ছিলেন।

এছাড়াও, মহারাষ্ট্র, বরোদরা ও বিদর্ভের কোচের দায়িত্ব পালন করেন।[২] ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে সহকারী কোচ ছিলেন। তিনি সাবেক ভারতীয় অল-রাউন্ডার রবিন সিংয়ের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।[৩]

বর্তমানে তিনি ভারত এ-দল ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের উভয়টিতেই বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।[৪][৫]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]