নরবার্ট ফিলিপ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
নরবার্ট ফিলিপ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামনরবার্ট ফিলিপ
জন্ম (1948-06-12) ১২ জুন ১৯৪৮ (বয়স ৭৩)
বায়োচি, ডোমিনিকা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১৬৮)
৩১ মার্চ ১৯৭৮ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ বনাম ভারত
একমাত্র ওডিআই
(ক্যাপ ৩১)
১২ এপ্রিল ১৯৭৮ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৬৯ - ১৯৮৫উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডস
১৯৭০ - ১৯৮০কম্বাইন্ড আইল্যান্ডস
১৯৭৮ - ১৯৮৫এসেক্স
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ২৩০ ১৮২
রানের সংখ্যা ২৯৭ ৭,০১৩ ২,৪৫০
ব্যাটিং গড় ২৯.৭০ ০.০০ ২৩.৬১ ১৯.৬০
১০০/৫০ ০/০ ০/০ ১/৩৯ ০/৯
সর্বোচ্চ রান ৪৭ ১৩৪ ৯৫
বল করেছে ১,৮২০ ৪২ ৩৩,৯৯৩ ৮,০৩৮
উইকেট ২৮ ৬৮৮ ২২৭
বোলিং গড় ৩৭.১৭ ২২.০০ ২৪.৭৫ ২২.৭৩
ইনিংসে ৫ উইকেট ৩০
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৪/৪৮ ১/২২ ৭/৩৩ ৬/১৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৫/– ০/– ৭৫/– ২৭/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১ সেপ্টেম্বর ২০২০

নরবার্ট ফিলিপ (ইংরেজি: Norbert Phillip; জন্ম: ১২ জুন, ১৯৪৮) বায়োচি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ডোমিনীকিয় বংশোদ্ভূত সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে কম্বাইন্ড আইল্যান্ডস, উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন তিনি।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৬৯-৭০ মৌসুম থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত নরবার্ট ফিলিপের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। কার্যকর অল-রাউন্ডার হিসেবে নরবার্ট ফিলিপের সুনাম ছিল। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে বেশ সফল হয়েছিলেন। ২০-এর শেষদিকে ও ৩০-এর শুরুরদিকে স্মরণীয় অবদান রাখেন। ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার ও আক্রমণধর্মী মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত কম্বাইন্ড আইল্যান্ডসের পক্ষে অনিয়মিতভাবে খেলতেন। এ পর্যায়ে ২৭ বছর বয়সী নরবার্ট ফিলিপ পরবর্তী মৌসুমে ১৭.৭১ গড়ে ২১ উইকেট ও ৭৬.৬৬ গড়ে ২৩০ রান তুলেন। ফলশ্রুতিতে, বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে নিয়মিত খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের কারণে দূর্বল হয়ে পড়া জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে দল নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক আহুত হন।

১৯৭৮ সালে এসেক্সে যোগদান করে ও তাৎক্ষণিকভাবে সফলতার মুখ দেখেন। ২২.৪০ গড়ে ৭১ উইকেট ও ২৬.৮৭ গড়ে ৬৪৫ রান তুলেন তিনি। ১৯৭৯ সালে ২১.৫১ গড়ে ৭০ উইকেট পান এবং এসেক্সের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপ ও বেনসন এন্ড হেজেস কাপের দ্বৈত শিরোপা লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ১৯৮১ সালের জন প্লেয়ার লীগের শিরোপা বিজয়ী দলেরও তিনি সদস্য ছিলেন। ১৯৮৩ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপে উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

সব মিলিয়ে ১৪৪টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। তন্মধ্যে, কম্বাইন্ড আইল্যান্ডসের পক্ষে ৩১টি খেলায় অংশ নেন। কিন্তু, কম্বাইন্ড দলের পক্ষে কোন শতরানের ইনিংস খেলতে না পারলেও ৯৯ রান তুলেছিলেন। দলের পক্ষে ১০৬টি উইকেট পান ও অ্যান্ডি রবার্টসের চেয়ে মাত্র একটি উইকেট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে নয়টিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন নরবার্ট ফিলিপ। ৩১ মার্চ, ১৯৭৮ তারিখে জর্জটাউনে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ তারিখে কানপুরে স্বাগতিক ভারত দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি। এছাড়াও, ১২ এপ্রিল, ১৯৭৮ তারিখে কাস্ত্রিসে অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে একমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

অস্ট্রেলীয় ধনকুবের ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে অনেক জাতীয় খেলোয়াড় যুক্ত হলে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। ১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সময়কালে নয়টি টেস্ট ও একটি ওডিআইয়ে অংশ নিতে পেরেছিলেন তিনি।[১]

গায়ানায় অনুষ্ঠিত নিজস্ব প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ছয় উইকেট পান। কিন্তু, পরবর্তীতে প্রতিকূল অবস্থার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ছয় টেস্টে গড়া সিরিজের প্রত্যেকটিতেই তার অংশগ্রহণ ছিল। ৩৪.২১ গড়ে ১৯ উইকেট পেয়েছিলন।

বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট থেকে খেলোয়াড়দের প্রত্যাবর্তনের ফলে নরবার্ট ফিলিপেরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের সমাপ্তি ঘটে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে উপেক্ষিত হলেও ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে ঠিকই সতেজভাব বজায় রেখেছিলেন। ১৯৮৫ সালে কাউন্টি খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি টানতে হয়। এ পর্যায়ে তিনি বয়সের ভারে ন্যূহ ও আঘাতে জর্জড়িত ছিলেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "South Africa's bearded wonder"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৩ এপ্রিল ২০১৯ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]