দুর্ঘটনা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
কলেজ ফুটবল খেলায় স্টেডিয়ামের বেড়া ধ্বসে সৃষ্ট দুর্ঘটনার চিত্র

দুর্ঘটনা (ইংরেজি: Accident) একটি অদৃষ্টপূর্ব, অকল্পনীয় এবং আকস্মিক ঘটনা বা বিষয় যা প্রায়শঃই অমনোযোগীতা কিংবা প্রয়োজন-অপ্রয়োজনের ফলে সৃষ্ট হয়ে থাকে। সচরাচর ক্ষেত্রে এটি প্রায়শঃই ব্যক্তিকেন্দ্রীক, মানসিক কিংবা সামাজিক বিপর্যয় বয়ে নিয়ে আসে। কিন্তু আকস্মিকভাবে ঘটনা ঘটার পূর্বেই যদি দুর্ঘটনা চিহ্নিত করা যায়, তাহলে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব এড়িয়ে যাওয়ার মাধ্যমে।

আঘাত থেকে মুক্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা দুর্ঘটনাকে শুধুমাত্র একটি বিষয় হিসেবে মেনে নেয়ার পক্ষপাতি নন। তাদের অভিমত, দুর্ঘটনা এমন একটি বিষয় যা আঘাতের মাধ্যমে ঘটে থাকে। অধিকাংশ আঘাতজনিত ঘটনাকেই তারা চিহ্নিত করার মাধ্যমে পূর্ব সংকেত প্রদান করে নিরাময়ের উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। এ ধরণের ঘটনাগুলো যখন ব্যাপক আকারে পূর্ব সঙ্কেত প্রদানপূর্বক যথাযথ প্রচার ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া হয়, তখন তা অনেকখানিই সহনীয় মাত্রায় এসে যায় এবং ক্ষয়-ক্ষতির সম্ভাবনাও তুলনামূলকভাবে কম হয়। ঘটনা পরম্পরায় দুর্ঘটনার সংজ্ঞা ভিন্নতর হয়ে থাকে। তন্মধ্যে সংঘর্ষ, পানিতে ডুবে যাওয়া, সাপে কাটা, অগ্নিকাণ্ড কিংবা উঁচু স্থান থেকে পতিত হওয়া অন্যতম।

সাধারণতঃ সড়ক দুর্ঘটনায় গাড়ীর মুখোমুখি সংঘর্ষ, অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। এ জাতীয় দুর্ঘটনাগুলো সরেজমিনে তদন্তপূর্বক চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে এড়িয়ে যাওয়া যায় যা 'তৃণমূল পর্যায়ে কারণ চিহ্নিত বিশ্লেষণ' নামে পরিচিত। কিন্তু সচরাচর তা ব্যাপক আকারে ও অদৃষ্টবাদজনিত কারণে প্রতিপালিত হয় না। তৃণমূল পর্যায়ের কারণগুলো একই ধরণের নয় এবং পুরোটাই চক্রাকারে দুর্ঘটনা আকারে ফিরে আসে যা কখনোই চিহ্নিত করা সম্ভবপর হয়ে উঠে না। এরফলে ভবিষ্যতে এটি একই ধরণের দুর্ঘটনার পুণরাবৃত্তি নয় বিধায় তা 'আকস্মিক ঘটনা' হিসেবেই রয়ে যায়।

প্রকারভেদ[সম্পাদনা]

বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ[সম্পাদনা]

শারীরিক বা বাহ্যিক দুর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে অনাকাঙ্খিতভাবে সংঘর্ষ বা পতন। ধারালো জিনিসপত্র, খুব গরম তৈল কিংবা পানি, বৈদ্যুতিক সামগ্রীর সংস্পর্শ অথবা বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শ এর উদাহরণ।

অভ্যন্তরীণ দুর্ঘটনার মধ্যে রয়েছে অপ্রত্যাশিতভাবে গোপন তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়া কিংবা ভুলক্রমে ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোন বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে ব্যর্থ হওয়া ইত্যাদি। এছাড়াও, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি ভুলে যাওয়া, জরুরী কম্পিউটার ফাইল মুছে ফেলা কিংবা অন্যকে কপি করে দেয়া এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

কর্মরত অবস্থায়[সম্পাদনা]

যানবাহন সংক্রান্ত[সম্পাদনা]

  • সাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে মূলতঃ চর্চা ও সচেতনতার অভাবে এবং রাস্তায় ভুলভাবে পরিচালনা করলে। রাস্তায় সাইকেল চালনা-সহ রাস্তায় প্রচলিত নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে প্রতিপালনের অভাবই এর অন্যতম কারণ। রাতে সাইকেলে বাতি প্রজ্জ্বলনে দুর্ঘটনা অনেকাংশেই হ্রাস করা সম্ভব। এছাড়াও, সঠিকভাবে শারীরিক ভারসাম্য রক্ষা না করা কিংবা কোন যানবাহনের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে এ জাতীয় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
  • ট্রাম দুর্ঘটনা সাধারণতঃ ট্রাম কিংবা ট্রাম পরিচালনা পদ্ধতির সাথে সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনাবিশেষ। ট্রাম ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে পরিবেশ বান্ধব, কার্যোপযোগী এবং তুলনামূলকভাবে নিরাপদ যানবাহন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[৩] উল্লেখ্য, ১৪ই অক্টোবর, ১৯৫৪ সালে কলকাতার বালিগঞ্জে ট্রাম দুর্ঘটনায় ক্যাচারে আটকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাংলা কবি জীবনানন্দ দাশের শরীর দলিত হয়ে গিয়েছিল। ভেঙ্গে গিয়েছিল কণ্ঠা, ঊরু এবং পাঁজরের হাড়।[৪] গুরুতরভাবে আহত হয়ে ২২ অক্টোবর, ১৯৫৪ সালে মারা যান তিনি।
  • গাড়ী দুর্ঘটনায় একটি গাড়ী অপর একটি গাড়ীকে কিংবা অন্য কোন যানবাহনকে সামনে অথবা পিছন দিক দিয়ে ধাক্কা মারার ফলে হয়ে থাকে। এছাড়াও, জীব-জন্তুর আক্রমণ কিংবা বাঁচানোর প্রয়াস, রাস্তা যান চলাচলের অনুপযোগী অথবা গাছের সাথে ধাক্কা লাগার ফলে এ জাতীয় দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এর ফলাফলস্বরূপ ব্যক্তিগত আঘাত, মৃত্যু এবং সম্পত্তি ধ্বংসের মতো ঘটনাগুলো ঘটে থাকে।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তির অকাল মৃত্যু কিংবা পঙ্গুত্ববরণে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে সর্বস্বান্ত করে দিচ্ছে। ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন স্ত্রীর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুজনিত কারণে সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ জীবন শ্লোগান নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ আন্দোলন চালাচ্ছেন।
১৫ এপ্রিল, ১৯১২ সালে তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে বিশাল এবং বিলাসবহুল টাইটানিক জাহাজ বিরাটাকৃতি বরফখণ্ডের সাথে ধাক্কা লেগে আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে গিয়েছিল। এ ঘটনায় ২২২৩ জন যাত্রীর মধ্যে ১৫১৭ জনই প্রাণ হারিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়।[৫]

প্রধান কারণ[সম্পাদনা]

সাধারণতঃ শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত অথবা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। অধিকাংশ দুর্ঘটনাই সাধারণতঃ যানবাহনের সংঘর্ষ ও পতনজনিত কারণে হয়ে থাকে। তবে শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্তি হিংসাত্মক আক্রমণজনিত কারণেও হতে পারে।[৬]

কর্মকালীন সময়ে সংঘটিত যে-কোন ধরণের দুর্ঘটনাতেই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে কোন না কোন কারণ এবং প্রতিক্রিয়া থাকে যা দুর্ঘটনা এবং কাজের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "ILO Safety and Health at Work". International Labour Organization (ILO)
  2. "The tragic death of Raman Lamba"Martin Williamson। Cricinfo Magazine, 14 August 2010। সংগৃহীত 14 August 2010 
  3. European Transport Safety Council: Social and economic consequences of road traffic injury in Europe, Brussels 2007.
  4. ক্লিনটন বি সিলি লিখিত আ পোয়েট আপার্ট
  5. U.S. Senate inquiry stats
  6. "Trauma"Dictionary.com। Dictionary.com, LLC। 2010। সংগৃহীত 2010-10-31 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]