জাহাজ
এই নিবন্ধটি ইংরেজি উইকিপিডিয়ার সংশ্লিষ্ট নিবন্ধ অনুবাদ করে সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। অনুবাদ করার আগে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলি পড়ার জন্য [দেখান] ক্লিক করুন।
|


জাহাজ এক ধরনের বৃহদাকার নৌযান যা সমুদ্র বা অন্যান্য জলপথে চলাচল করে। এটি যাত্রী বা মাল পরিবহন কিংবা যুদ্ধ, গবেষণা ও মৎস্য শিকারের মতো কাজে ব্যবহার করা হয়। আকার, আকৃতি, বহনক্ষমতা ও উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে জাহাজকে নিছক নৌকা থেকে পৃথক করা যায়।
খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দে মিশরে নৌযানের প্রাচীনতম ব্যবহারের কথা জানা যায়।[১] আধুনিক সভ্যতার বিস্তারে জাহাজের অবদান অনস্বীকার্য, আর ব্যবসা-বাণিজ্য, অভিযান, যুদ্ধ, অভিপ্রয়াণ, উপনিবেশবাদ ও বিজ্ঞানে জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এখনও পর্যন্ত জাহাজ তথা নৌপরিবহনই সবচেয়ে সস্তা পরিবহন হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০২৪ সালে জাহাজের বৈশ্বিক মালবহন ক্ষমতা ২৪০ কোটি টন।[২]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]মানব ইতিহাসজুড়ে স্থল পরিবহনের তুলনায় নৌপরিবহনকে সস্তা, নিরাপদ ও দ্রুতগামী বলে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে ঊনবিংশ শতাব্দী মধ্যভাগে রেল পরিবহনের আবির্ভাব এবং বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বাণিজ্যিক বিমান পরিবহনের ক্রমবৃদ্ধির ফলে নৌপরিবহনের গুরুত্ব হ্রাস পেয়েছে।[৩]:১৫
উদাহরণস্বরূপ, ধ্রুপদী সভ্যতায় ভূমধ্যসাগরের বৃহৎ শস্য বাণিজ্য জাহাজের উপর নির্ভরশীল ছিল। তখন রোমের মতো নগরী বৃহৎ পরিমাণে শস্যের জন্য পালচালিত ও দাঁড়চালিত জাহাজের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল ছিল। এক অনুমান অনুযায়ী ১৫ মাইল (২৪ কিলোমিটার) সড়কপথের তুলনায় ভূমধ্যসাগর দিয়ে রোমান জাহাজে করে শস্য পরিবহনের খরচ কম।প্রথম তিন খ্রিস্টীয় শতাব্দী জুড়ে রোম ১,৫০,০০০ টন মিশরীয় শস্য গ্রহণ করেছিল।[৪]:২৯৭[৫]:১৪৭
প্রাগিতিহাস ও প্রাচীনকাল
[সম্পাদনা]এশীয় জাহাজ
[সম্পাদনা]তাইওয়ান দ্বীপ থেকে অস্ট্রোনেশীয় জনগোষ্ঠী সমুদ্রপথে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। অস্ট্রোনেশীয়দের অনন্য সামুদ্রিক প্রযুক্তি এই প্রবাসনের অঙ্গ। খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ সালের আগে তারা পালের ব্যবহার করেছিল বলে মনে করা হয়।[৬]:১৪৪ তাইওয়ান থেকে তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মালয় দ্বীপপুঞ্জে দ্রুত উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। তারপর তারা পলিনেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া, মাদাগাস্কার ও মেলানেশিয়ার অভিমুখে সমুদ্রপথে ভ্রমণ করেছিল। ক্রমশই তারা পৃথিবীর অর্ধাংশ জুড়ে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল।[৭][৮]
পানিতে ভাসার ব্যাখ্যা
[সম্পাদনা]তরল পদার্থে নিমজ্জিত একটি বস্তু উপরের দিকে যে বল অনুভব করে তা বস্তুটি দ্বারা অপসারিত তরলের ওজনের সমান। তাই দুই হাজার টনের একটি জাহাজ পানিতে ডুবতে থাকবে যতক্ষণ না এটি দুই হাজার টন পানিকে অপসারণ করবে। যদি জাহাজটি ডুবে যাবার আগেই দুই হাজার টন পানিকে অপসারণ করে ফেলে তাহলে জাহাজটি আর না ডুবে এবার ভেসে থাকবে। এটা সম্ভব হবে জাহাজের ঘনত্বকে জাহাজ দ্বারা অপসারিত পানির ঘনত্বের চেয়ে কম করে দিলে। জাহাজের ভেতরে ফাঁকা স্থান রেখে এটা করা হয়। ফলে জাহাজ সমান ওজনের পানিকে অপসারণ করে ফেলার পর ভেসে থাকে।
মেয়াদকাল
[সম্পাদনা]অধিকাংশ সমুদ্র চলাচলের উপযোগী মালবাহী জাহাজের গড় আয়ু ২০ থেকে ৩০ বছর। জোড়া কাঠ কিংবা কাচতন্তু দিয়ে জাহাজ তৈরি করা হলে তা ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর পর্যন্ত চলাচলের উপযোগী থাকে। শক্ত কাঠের তৈরী জাহাজ আরো বেশি সময় ব্যবহৃত হয়ে থাকে; তবে এর জন্যে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন। সতর্কভাবে রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ইস্পাতের পাটাতনের জাহাজ শতাধিক বছর কর্মক্ষমতা প্রদর্শন করে। নষ্ট হয়ে যাওয়া জাহাজকে জাহাজভাঙাতে (শিপব্রেকার) টুকরা টুকরা করার জন্য (স্ক্র্যাপিং) পাঠানো হয়। জাদুঘর কিংবা কৃত্রিমভাবে প্রদর্শনের জন্যেও এর পুনর্ব্যবহার হয়ে থাকে।
বেশিরভাগ জাহাজই স্থলভাগে তৈরি করা হয় না। আগুন, সংঘর্ষ, ডুবে যাবার মাধ্যমে এর জীবনকাল শেষ হয়ে যায়। জাতিসংঘের তথ্য মোতাবেক জানা যায়, সমুদ্রের তলদেশে ত্রিশ লক্ষেরও অধিক জাহাজের ভগ্নাবশেষ জমা পড়ে আছে।[৯]
জাহাজের প্রকারভেদ
[সম্পাদনা]
যেহেতু জাহাজ নৌ স্থাপত্যের নীতি ব্যবহার করে তৈরি করা হয় যার জন্য একই কাঠামোগত উপাদানগুলির প্রয়োজন হয়, তাদের শ্রেণীবিভাগ তাদের কার্যের উপর ভিত্তি করে যেমন পলেট এবং প্রেসলেস দ্বারা প্রস্তাবিত, যার জন্য উপাদান পরিবর্তন প্রয়োজন।[১০] নৌ স্থপতিদের দ্বারা সাধারণভাবে গৃহীত বিভাগ হল:[১১]
- মাছ ধরা নৌকা
- যাত্রীবাহী জাহাজ
- ডুবোজাহাজ - জলের নিচে চলাচলে সক্ষম ও স্বাধীনভাবে বিচরণকারী নৌযানবিশেষ।
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]মডেল জাহাজ
তালিকা
জাহাজের আকার
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Britannica – History of ships
- ↑ "Review of Maritime Transport 2024"। UNCTAD। ২২ অক্টোবর ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৭ নভেম্বর ২০২৪।
- ↑ Adams, Jonathan (২০১৩)। A maritime archaeology of ships : innovation and social change in medieval and early modern Europe (1st সংস্করণ)। Oxford, UK। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪২১৭-২৯৭-১।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক) - ↑ Casson, Lionel (১৯৯৫)। Ships and seamanship in the ancient world। Baltimore: Johns Hopkins University Press। আইএসবিএন ০-৮০১৮-৫১৩০-০।
- ↑ Jett, Stephen C. (২০১৭)। Ancient ocean crossings : reconsidering the case for contacts with the pre-Columbian Americas। Tuscaloosa: The University of Alabama Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮১৭৩-১৯৩৯-৭।
- ↑ Horridge, Adrian (২০০৬)। Bellwood, Peter (সম্পাদক)। The Austronesians : historical and comparative perspectives। Canberra, ACT। আইএসবিএন ৯৭৮-০৭৩১৫২১৩২৬।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক) - ↑ Doran, Edwin Jr. (১৯৭৪)। "Outrigger Ages"। The Journal of the Polynesian Society। ৮৩ (2): ১৩০–১৪০। ১৮ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
- ↑ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;Mahdi1999নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ "Arango, Tim (2007-09-11). "Curse of the $500 million sunken treasure". Money.cnn.tv. Retrieved 2009-09-19."। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ নভেম্বর ২০১২।
- ↑ Paulet, Dominique; Presles, Dominique (১৯৯৯)। Architecture navale, connaissance et pratique (ফরাসি ভাষায়)। Paris: Éditions de la Villette। আইএসবিএন ৯৭৮-২-৯০৩৫৩৯-৪৬-৭।
- ↑ "Naval architecture"। Encyclopedia Britannica (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮।