বিষয়বস্তুতে চলুন

দুর্গাপুর, পশ্চিমবঙ্গ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
দুর্গাপুর
মহানগর
ঘড়ির কাঁটার দিকে :
ইস্পাত নগরী দুর্গাপুরের রেল স্টেশন
দুর্গাপুর মহানগরীর উপকন্ঠে অবস্থিত দুর্গাপুর বিমানবন্দরের টার্মিনাল
দুর্গাপুর সিটি সেন্টার
দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে
দুর্গাপুর হাটের প্রবেশ দ্বার
ডাকনাম: ভারতের রূঢ়
ইস্পাত নগরী
সরকার
  ধরনদুর্গাপুর পৌর সংস্থা
  সংসদ সদস্যসুরিন্দরজিত সিংহ আলুয়ালিয়া
  সভাপতি, আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদদিলীপ আগস্তি
  পুলিশ কমিশনার, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটবিনীত কুমার গোয়েল, আইপিএস ( আসানসোল- দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট)
আয়তন
  মহানগর১৪৫.২০ বর্গকিমি (৫৬.০৬ বর্গমাইল)
উচ্চতা৬৫ মিটার (২১৩ ফুট)
জনসংখ্যা (২০১১)[]
  মহানগর৫,৬৬,৫১৭
  ক্রম৪র্থ
  জনঘনত্ব৩,৯০০/বর্গকিমি (১০,০০০/বর্গমাইল)
  মহানগর[]৫,৮০,৯৯০
  Metro rank৪র্থ
  Demonymদুর্গাপুরবাসী
সময় অঞ্চলআইএসটি (ইউটিসি+০৫:৩০)
পিন/(Postal index number)৭১৩ ২xx, ৭১৩ ৩xx
যানবাহন নিবন্ধনপশ্চিমবঙ্গ ৩৯, পশ্চিমবঙ্গ-৪০/WB 39, WB-40
UN/LOCODEIN CCU
Telephone+৯১-৩৪৩-XXX XXXX
কথিত ভাষাবাংলা,
জাতিস্বত্তবাঙালি
ওয়েবসাইটwww.durgapurmunicipalcorporation.org
ওয়েবেল ভবন, সিটি সেন্টার, দুর্গাপুর

দুর্গাপুর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পশ্চিম বর্ধমান জেলার একটি শহর ও পৌর কর্পোরেশনাধীন এলাকা। এটি পশ্চিমবঙ্গের চতুর্থ বৃহৎ মহানগর বা নগরাঞ্চল। ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের মানসপুত্র বলে পরিচিত এই শহর বিশ্বখ্যাত দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানাটির জন্য। এছাড়াও এখানকার মিশ্র ইস্পাত কারখানাটি ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গাপুরের শহরতলী অন্ডালে নির্মীয়মান দুর্গাপুর এরোট্রোপোলিস বা বিমাননগরীটি হল ভারতবর্ষের প্রথম বিমাননগরী। এন-আই-টি বা ন্যাশনাল ইন্ষ্টিটিউট অব টেকনলজি হল দুর্গাপুর শহরের অন্যতম গর্ব। এটি ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়।

ভৌগোলিক উপাত্ত

[সম্পাদনা]

দুর্গাপুর রাঢ় অঞ্চলে অবস্থিত। শহরটির অবস্থানের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ হল ২৩°২৯′ উত্তর ৮৭°১৯′ পূর্ব / ২৩.৪৮° উত্তর ৮৭.৩২° পূর্ব / 23.48; 87.32[] সমুদ্র সমতল হতে এর গড় উচ্চতা হল ৬৫ মিটার (২১৩ ফুট)

নদনদী

[সম্পাদনা]

শহরটি দামোদরঅজয় নদের অববাহিকা অঞ্চলে অবস্থিত। দুর্গাপুরের দক্ষিণ সীমান্তে একদা বাংলার দুঃখ বলে পরিচিত দামোদর ও উত্তর সীমান্তে অজয় নদ প্রবহমান। এছাড়াও, শহরাঞ্চলের ভিতর দিয়ে কুনুর, টুমনি, তামলাসিঙ্গারণ নামক চার'টি ছোট নদী বয়ে গেছে। প্রথম দু'টি অজয় নদ, ও, পরের দু'টি দামোদর নদের শাখানদী।

ভৌগোলিক বৈশিষ্ঠ্য

[সম্পাদনা]

দুর্গাপুরের পানাগড় থেকে ক্রমশ পূর্বমুখে, ১৯ নং জাতীয় সড়ক (পুরাতন ২) ধরে বর্ধমান অভিমুখে যাত্রা করলে গাঙ্গেয় বাংলার উর্বর সমভূমি অঞ্চল পরবে যা গঙ্গা ও তার শাখানদী দ্বারা বয়ে আনা পলিমাটি দ্বারা পরিবেষ্টিত। অন্যদিকে, পশ্চিমদিকটি ছোটোনাগপুর মালভূমির পাদদেশ সন্নিবেষ্ট অঞ্চল যেখানকার মাটি তুলনামূলক ভাবে অনুর্বর, রুক্ষ, অসম ও তার রঙ হল লাল। গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলটি বহুফসলি এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রধান ধান-উৎপাদনকারী অঞ্চল। পশ্চিমের মাটি তুলনামূলক ভাবে অনুর্বর হওয়ায়ে, অঞ্চলটি মূলতঃ একফসলি। সম্ভবতঃ এই কারণেই, এই অঞ্চলটি শিল্পপ্রধান অঞ্চল। এই শিল্পাঞ্চলটি পশ্চিমবঙ্গের সর্ববৃহত্তম শিল্পাঞ্চল।

শহরাঞ্চলের ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও আয়তন

[সম্পাদনা]

দুর্গাপুর শহরাঞ্চলের ভৌগোলিক আয়তন ১২৭.১ বর্গ কি.মি.। পূর্ব-পশ্চিম দিক বরাবর (পূর্বে পানাগড় থেকে পশ্চিমে অন্ডাল পর্যন্ত) শহরের বিস্তৃতি প্রায় ৪০ কি.মি.। উত্তর-দক্ষিণ দিক বরাবর (উত্তরে শিবপুর-অজয়ঘাট থেকে দক্ষিণে ন'ডিহা পর্যন্ত) শহরের বিস্তৃতি প্রায় ২২ কি.মি.। ভৌগোলিক বিস্তৃতি ও আয়তনের বিচারে দুর্গাপুর শহরাঞ্চল হল পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় ও পূর্বোত্তর ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম শহরাঞ্চল।

প্রশাসনিক ভূগোল

[সম্পাদনা]
দুর্গাপুর, পশ্চিমবঙ্গ পৌরসভার মহল্লা জিওকোড ম্যাপ
দুর্গাপুর, পশ্চিমবঙ্গ পৌরসভার মহল্লা জিওকোড ম্যাপ

দুর্গাপুর পশ্চিম বর্ধমান জেলার একটি মহকুমা শহর। এটি দুর্গাপুর মহকুমা-র সদর শহর। দুর্গাপুর মহকুমার পূর্বদিকে বর্ধমান জেলার অন্তর্গত বর্ধমান সদর (উত্তর) মহকুমা, পশ্চিমদিকে ওই জেলার-ই আসানসোল মহকুমা, উত্তর-পশ্চিম দিকে বীরভূম জেলার সিউড়ী মহকুমা, উত্তর-পূর্ব দিকে ওই জেলার-ইবোলপুর মহকুমা, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে বাঁকুড়া জেলার বাঁকুড়া সদর মহকুমা ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁকুড়া জেলার-ই বিষ্ণুপুর মহকুমা অবস্থান করে। এছাড়াও প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড-এর ধানবাদগিরীডিহ্ জেলাগুলিও এই শহরের কাছাকাছি অবস্থিত। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী, কলকাতার সঙ্গে দুর্গাপুরের ভৌগোলিক দূরত্ব ১৮৫ কি.মি.। গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড বা দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে বা ১৯ নং জাতীয় সড়ক/NH 19(পুরাতন ২), এই শহরের বুক চিরে চলে গেছে। শহরের পান্ডবেশ্বর এলাকা দিয়ে ১৪ নং জাতীয় সড়ক বা NH 14(পুরাতন ৬০) ওড়িশা অভিমুখে চলে গেছে। হাওড়া-দিল্লী প্রধান রেলপথটি, শহরের একেবারে ভিতর দিয়ে চলে গেছে। শহরতলীর অন্ডাল জংশন থেকে অন্ডাল-সাঁইথিয়া শাখা রেলপথটি সাঁইথিয়া জংশন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে ও তারপর সেখানে সাহেবগঞ্জ লুপের সঙ্গে সংযুক্তি ঘটে। পূর্বোক্ত দু'টি রেলপথ-ই পূর্ব রেল-এর আসানসোল ডিভিশনের অন্তর্ভুক্ত।

ভৌগলিক অবস্থান

[সম্পাদনা]
পশ্চিম বর্ধমান জেলার মানচিত্র

অবস্থান

[সম্পাদনা]

দুর্গাপুর ২৩°৩৩′ উত্তর ৮৭°১৯′ পূর্ব এ অবস্থিত। এর গড় উচ্চতা ৬৫ মিটার (২১৩ ফুট)।

দুর্গাপুর পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম বর্ধমান জেলায়, দামোদর নদীর তীরে অবস্থিত, যা বাংলার পলি সমভূমিতে প্রবেশের ঠিক আগে। এখানকার ভূ-প্রকৃতি ঢেউখেলানো। দুর্গাপুরের ঠিক পরেই রানিগঞ্জ কয়লাক্ষেত্রের কয়লাসমৃদ্ধ এলাকা অবস্থিত; এর কিছু অংশ এই এলাকায় প্রবেশ করেছে। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত এই এলাকা ঘন জঙ্গলে আবৃত ছিল এবং এখনও স্থানীয় শালমহুয়া বনের কিছু বিক্ষিপ্ত রেখা দেখা যায়।

পরিবেশ

[সম্পাদনা]

ভারতে (ক্যাটাগরি ২, ৩-১০ লক্ষ জনসংখ্যার শহরগুলির মধ্যে) দুর্গাপুর ৩৫তম সেরা “জাতীয় নির্মল বায়ু শহর” হিসেবে স্থান পেয়েছে। []

জলবায়ু

[সম্পাদনা]
Durgapur
জলবায়ু চিত্র (ব্যাখ্যা)
জা
ফে
মা
মে
জু
জু
সে
ডি
 
 
১৪
 
২২
 
 
১৯
 
২৯
১৫
 
 
২৫
 
৩৬
১৯
 
 
৩১
 
৪৫
২৪
 
 
৮৭
 
৪১
২৬
 
 
২৭৫
 
৪২
২৬
 
 
৩৩৪
 
৩৭
২৬
 
 
৩৩৮
 
৩৫
২৫
 
 
২৩৯
 
৩৪
২৫
 
 
৭৮
 
৩২
২২
 
 
১৫
 
২৮
১৭
 
 
২৪
 
২৫
১০
গড় সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা °সে-এ
মোট বৃষ্টিপাত মিমি-এ
ইম্পেরিয়াল রূপান্তর
জানুফেব্রুমার্চএপ্রিলমেজুনজুলাইআগস্টসেপ্টেঅক্টোনভেডিসে
 
 
0.6
 
 
72
48
 
 
0.7
 
 
84
59
 
 
1
 
 
97
66
 
 
1.2
 
 
113
75
 
 
3.4
 
 
106
79
 
 
11
 
 
108
79
 
 
13
 
 
99
79
 
 
13
 
 
95
77
 
 
9.4
 
 
93
77
 
 
3.1
 
 
90
72
 
 
0.6
 
 
82
63
 
 
0.9
 
 
77
50
গড় সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা °ফা-এ
মোট বৃষ্টিপাত ইঞ্চিতে

দুর্গাপুরের জলবায়ু কলকাতার ক্রান্তীয় আর্দ্র ও শুষ্ক জলবায়ু এবং আরও উত্তরের আর্দ্র উপক্রান্তীয় জলবায়ুর মাঝামাঝি এক ধরনের ক্রান্তিকালীন জলবায়ু। গ্রীষ্মকাল অত্যন্ত গরম ও শুষ্ক থাকে, যা মার্চ থেকে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং এই সময়ে গড় দৈনিক তাপমাত্রা ৪৫° সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এরপর আসে বর্ষা ঋতু, যা ভারী বৃষ্টিপাত এবং কিছুটা কম তাপমাত্রা নিয়ে আসে। দুর্গাপুর তার বার্ষিক প্রায় ১,৩২০ ঘনফুট বৃষ্টিপাতের বেশিরভাগই পেয়ে থাকে। এই মৌসুমে। বর্ষার পর নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ঠান্ডা, শুষ্ক শীতকাল থাকে। তাপমাত্রা শীতল থাকে, গড় দৈনিক তাপমাত্রা প্রায় ৯° সে-এর কাছাকাছি নেমে আসে। অক্টোবরের শেষে একটি সংক্ষিপ্ত শরৎকাল এবং ফেব্রুয়ারিতে একটি সংক্ষিপ্ত বসন্তকাল থাকে, এই উভয় সময়েই তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে সহনীয়, প্রায় ২০° সেলসিয়াস থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে, প্রতি বছর প্রায় পাঁচ মাস ধরে প্রবল বর্ষণ হওয়ায়, স্থানীয়রা প্রায়শই শহরটিকে 'ছোটা চেরাপুঞ্জি' (প্রধান শহর চেরাপুঞ্জির নামে নামকরণ করা) বলে উল্লেখ করেন।

জনসংখ্যার উপাত্ত

[সম্পাদনা]

ভারতের ২০১১ সালের আদম শুমারি বা জনগণনা অনুসারে দুর্গাপুর শহরের জনসংখ্যা হল ৫,৮১,৪০৯ জন।[] এর মধ্যে পুরুষের জনসংখ্যা হল ৩,০১,৭০০, এবং নারীর জনসংখ্যা হল ২,৭৯,৭০৯। ৬ বছরের অনূর্ধ্ব বয়সীদের জনসংখ্যা হল ৫১,৯৩০। ৭ বছর বয়সী বা তার উর্দ্ধে যাদের বয়স, তাদের স্বাক্ষরতার হার ৮৭.৭০। পুরুষদের মধ্যে স্বাক্ষরতার হার ৯২.০১% এবং নারীদের মধ্যে এই হার ৮৩.০৩%। সারা ভারতের জাতীয় শহরাঞ্চলীয় গড় স্বাক্ষরতার হার ৮৫%, তার চাইতে দুর্গাপুর এর সাক্ষরতার হার বেশি। লিঙ্গ অনুপাত হল প্রতি ১০০০ জন পুরুষের অনুপাতে ৯২৭ জন নারী। জাতীয় শহরাঞ্চলীয় গড় হল প্রতি ১০০০ জন পুরুষের অনুপাতে ৯২৬ জন নারী।

এই শহরের জনসংখ্যার ৮.৯৩% হল ৬ বছর বা তার কম বয়সী।

২০১১ সালের আদম শুমারি বা জনগণনা অনুসারে দুর্গাপুর শহরকে প্রথম শ্রেণীভুক্ত নগরাঞ্চল বা CLASS I URBAN AGGLOMERATION-এর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। দুর্গাপুর মেট্রোপলিটান এরিয়া ভারতের অন্যতম সম্ভবনাময় মহানগর অঞ্চল। []

ভাষাভিত্তিক ও ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা

[সম্পাদনা]

রাজ্যের বাকি অংশগুলির মত দুর্গাপুরের মোট জনসংখ্যার অধিকাংশ হল বাংলাভাষী। তবে হিন্দীভাষীদের সংখ্যাও কম নয়। এছাড়াও কসমোপলিটান শিল্পশহর হওয়ার দরুন এখানে মরাঠি, তামিল, তেলুগু, মালায়ালি, গুজরাতি, উর্দু, নেপালী ও পঞ্জাবি ভাষাভাষিদের উপস্থিতিও লক্ষণীয়।

দুর্গাপুরের মোট জনসংখ্যার অধিকাংশ হল হিন্দুধর্মাবলম্বী। ইসলামধর্ম দুর্গাপুরের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। এছাড়াও শিখ, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ও জৈনধর্মাবলম্বীদের বসবাস রয়েছে এই দুর্গাপুরে।

দুর্গাপুরের সবসময় গর্বান্বিত করে এসেছে এখানকার বহুভাষা ও বহুধর্মের শান্তিপূর্ণ, ভ্রাতৃত্বসুলভ, সম্প্রীতিপূর্ণ সহাবস্থান ও একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা, যা ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে মডেল হিসাবে বহুচর্চিত।

যোগাযোগ ব্যবস্থা

[সম্পাদনা]
দুর্গাপুর ব্যারেজ

দুর্গাপুর শহর, সড়কপথ ও রেলপথ, দ্বারা ভারতবর্ষের বাকি অংশ ও শহরগুলির সঙ্গে ভালো ভাবে যুক্ত রয়েছে। যেহেতু রাঢ়বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও সেভাবে উন্নত হয়নি, সেহেতু, সু-যোগাযোগ ব্যবস্থা-সম্পন্ন দুর্গাপুর শহরই হল, সমগ্র রাঢ়বাংলার প্রধান প্রবেশদ্বার। দামোদর ও অজয় নদের ওপর, যথাক্রমে, দুর্গাপুর ব্যারেজঅজয় সেতু নির্মিত হওয়ার পর, উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারত-এর সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গ ও দক্ষিণ ভারত-এর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুদৃঢ় হয়েছে এবং তার সাথে সুপরিকল্পিত ও সু-উন্নত TRANSIT POINT হিসাবে, দুর্গাপুর শহরের গুরুত্বও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯নং জাতীয় সড়ক৯নং রাজ্য সড়ক শহরের সীমানার ভিতর দিয়ে চলে গেছে। শহরের উপকন্ঠে পানাগড় শহরতলী থেকে পানাগড়-মোরগ্রাম মহাসড়ক বীরভূম জেলার দুবরাজপুর পর্যন্ত গেছে। রেলযোগে দিল্লী, মুম্বাই, চেন্নাই, গোরক্ষপুর, ইন্দৌর, ভোপাল, জব্বলপুর, নাগপুর, বিশাখাপত্তনম, অমৃতসর, জম্মু, গুয়াহাটি, ডিব্রুগড় প্রভৃতি শহরের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। দূরপাল্লার বাসযোগেও দুর্গাপুর সংযুক্ত ভারতবর্ষের বাকি অংশ ও শহরগুলির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

রেল যোগাযোগ

[সম্পাদনা]
দুর্গাপুর রেল স্টেশন

বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প শহর হওয়ার কারণে, দুর্গাপুর শহরের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা, যথেষ্ট উন্নত। মেলগাড়ি, এক্সপ্রেস, ইন্টার-সিটি, গরীব-রথ, সহ একাধিক দ্রুতগতিসম্পন্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন কলকাতা ও দুর্গাপুরের মধ্যে দৈনিক ভিত্তিতে আসা-যাওয়া করে। শিয়ালদহ-নয়াদিল্লী রাজধানী এক্সপ্রেস, হাওড়া-রাঁচী শতাব্দী এক্সপ্রেস, হাওড়া-পাটনা জনশতাব্দী এক্সপ্রেস, পূর্বা এক্সপ্রেস, কালকা মেল, অমৃতসর মেল, হাওড়া-মুম্বাই মেল, চেন্নাই-গুয়াহাটী এক্সপ্রেস, কামাখ্যা এক্সপ্রেস, প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ, দ্রুতগতিসম্পন্ন, দূরপাল্লার ট্রেন দুর্গাপুর স্টেশনে থামে। দুর্গাপুর শহরের প্রধান রেল স্টেশন দুর্গাপুর [DGR]। শহরের প্রধান জংশন রেল স্টেশন অন্ডাল জংশন রেলওয়ে স্টেশন[UDL]। মহানগরের পশ্চিম-প্রান্তে অবস্থিত এই রেল স্টেশন থেকে পূর্ব রেলেরঅন্ডাল-সাঁইথিয়া শাখা রেলপথটি সাঁইথিয়া জংশন অভিমুখে চলে গেছে। সাঁইথিয়া জংশনের কিছুটা আগে এই রেলপথ হাওড়া-বর্ধমান-বারহারওয়া-সাহেবগঞ্জ রেলপথ-এর সাথে সংযুক্ত হয়েছে। দুর্গাপুর-অন্ডাল রেল স্টেশনগুলি পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনের অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়াও দুর্গাপুর মহানগরের অন্যান্য স্টেশনগুলি :-

১.১] হাওড়া-দিল্লী প্রধান রেলপথ-এর অন্তর্ভুক্ত (বর্ধমান-দুর্গাপুর অংশ)

  • মানকর [MNAE]
  • পানাগড় [PAN]
  • রাজবাঁধ [RBH]

১.২] হাওড়া-দিল্লী প্রধান রেলপথ-এর অন্তর্ভুক্ত (দুর্গাপুর-অন্ডাল অংশ)

  • ওয়ারিয়া [OYR]
  • পিঞ্জরাপোল প্যাসেঞ্জার হল্ট্ [POL]

২] অন্ডাল-সাঁইথিয়া শাখা রেলপথ

  • কাজোরাগ্রাম [KJME]
  • সিঁদুলী [SXD]
  • উখড়া [UKA]
  • পান্ডবেশ্বর [PAW]

সড়ক যোগাযোগ

[সম্পাদনা]
দুর্গাপুর শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, কনিষ্ক রোড

দুর্গাপুর শহরাঞ্চলের সড়কগুলির পরিকাঠামো ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, সম্ভবত ভারতের সেরা ও সুরক্ষিত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। দুর্গাপুর শহর, লাগোয়া বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বর্ধমান জেলার মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বীরভূম জেলার মুখ্য প্রবেশদ্বার হিসাবে গণ্য হয়ে থাকে। দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে বা ঐতিহাসিক জি-টি রোড, যাকে ১৯ নং জাতীয় সড়কও বলা হয়, এই শহরাঞ্চলের একেবারে মাঝ বরাবর এলাকা দিয়ে চলে গেছে। আবার শহরের সগড়ভাঙ্গামুচিপাড়া, এই দুই এলাকার সংযোগস্থলে, দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে দক্ষিণ দিকে চলে গেছে ৯ নং রাজ্য সড়ক, যেটি দুর্গাপুর ব্যারেজ পেরিয়ে, বাঁকুড়া জেলার বেলিয়াতোড়, বাঁকুড়া সদর, ওন্দাল, বিষ্ণুপুর, ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা, শালবনী, চন্দ্রকোণা রোড, মেদিনীপুর সদর, খড়গপুর, লালগড়, গোপীবল্লভপুর হয়ে বাংলা-ঊড়িষ্যা (ওড়িশা) সীমান্তবর্তী খারিকা পর্যন্ত গিয়েছে ও, তৎপরবর্তী বাংলা-ঊড়িষ্যা (ওড়িশা) সীমান্ত পেরিয়ে ২৮ নং ওড়িশা রাজ্য সড়কের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। দুর্গাপুরের শহরতলী পানাগড়ের দার্জিলিং মোড় থেকে পানাগড়-মোরগ্রাম মহাসড়ক-টি, প্রথমে বীরভূম জেলার দুবরাজপুর পর্যন্ত স্বতন্ত্র ভাবে, ও তারপর, দুবরাজপুর থেকে মুর্শিদাবাদ জেলার মোরগ্রাম পর্যন্ত ১৪ নং জাতীয় সড়কের সাথে সুংযুক্ত ভাবে যাত্রা করার পর, তৎপরবর্তী উত্তরবাংলাগামী ৩৪ নং জাতীয় সড়কের সাথে সংযুক্তিকরণ হয়েছে। দুর্গাপুরের আরেক শহরতলী পান্ডবেশ্বরের ভিতর দিয়ে ১৪ নং জাতীয় সড়ক-টি চলে গেছে।

  • এশীয় রাজপথ প্রকল্প/ASIAN HIGHWAY PROJECT/ASIAN HIGHWAY NETWORK- এশিয়া মহাদেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রগুলিকে সড়কযোগে একসূত্রে বাঁধার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক প্রকল্প এশীয় রাজপথ প্রকল্প। দুর্গাপুর শহর, ভারতের সেইসব অল্পসংখ্যক ও ভাগ্যবান শহরগুলির একটি, যেই শহরগুলির ওপর দিয়ে গৌরবময় এশীয় রাজপথ প্রকল্পের অন্তর্গত মহাসড়কগুলির কোন একটি গেছে'। জাপান-এর রাজধানী শহর টোকিও থেকে তুরস্ক পর্যন্ত বিস্তৃত ১ নং এশীয় রাজপথটি (AH1) (আসলে ২ নং জাতীয় সড়কটি ১ নং এশীয় রাজপথের অংশ) এই শহরের মধ্যে দিয়ে চলে গেছে। ১ নং এশীয় রাজপথটি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, গণপ্রজাতন্ত্রী চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, তাইল্যান্ড, মায়ানমার (অধুনা, ব্রহ্মদেশ),ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরানতুরস্ক-এর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে।
  • আন্তঃ-রাজ্য পরিবহন:-দুর্গাপুর শহরাঞ্চলের আন্তঃ-রাজ্য পরিবহন (INTER-STATE TRANSPORTATION) ব্যবস্থার অন্তর্গত, প্রধানত তিনটি প্রান্ত বা টার্মিনাস ব্যবহৃত হয় যথা বেনাচিতি-১, বেনাচিতি-২, (একযোগে, প্রান্তিকা টার্মিনাস), সিটি সেন্টারস্টেশন এবং প্রান্তিকা টার্মিনাস

হাওয়াই পথ

[সম্পাদনা]

শহরের অন্যতম বৃহৎতম বিমানবন্দর শহরের সিটি সেন্টারের থেকে ২৫কি.মি দূরে অন্ডালে অবস্থিত কাজী নজরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখন থেকে কেবলমাত্র '''দিল্লি'''তে অবস্থিত ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিমান উপলব্ধ। এ ছাড়া ইন্ডিয়ান আইর ফোর্সের অর্জন সিংহ আইরবেস শহরের পানাগড়-এ অবস্থিত। ডি এস পীর একটি প্রাইভেট এএরড্রোম অর্ধ নির্মিত অবস্থায় রয়েছে।

মিডিয়া

[সম্পাদনা]

দুর্গাপুরে নিজস্ব কয়েকটি ইলেকট্রনিক মিডিয়া হাউস রয়েছে যেমন এক্সপ্রেস নিউজ, দুর্গাপুর দর্পণ। এছাড়া সিটি সেন্টারে আনন্দবাজার পত্রিকা অফিস রয়েছে। দুর্গাপুরে কোনও এফ.এম. স্টেশন নেই, তবে অল ইন্ডিয়া রেডিও ১০০.৩ এফএম, ৯২.৭ বিগ এফএম, ৯৩.৫ রেড এফএম এর স্টেশন রয়েছে আসানসোলে [28]। এই সব স্টেশনের সংকেত দুর্গাপুরের অনেক জায়গাতে সময় বিশেষে উপলব্ধ হয়।

সূত্র

[সম্পাদনা]
  1. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; 2011 pp tableA2 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  2. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; kolkatauapop2011 নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  3. "Durgapur"Falling Rain Genomics, Inc। সংগ্রহের তারিখ অক্টোবর ৭ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |সংগ্রহের-তারিখ= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য); অজানা প্যারামিটার |accessyear= উপেক্ষা করা হয়েছে (|access-date= প্রস্তাবিত) (সাহায্য)
  4. "Swachh Vayu Sarvekshan 2024" (পিডিএফ)Swachh Vayu Sarvekshan 2024। ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
  5. 1 2 "ভারতের ২০১১ সালের আদম শুমারি"। সংগ্রহের তারিখ নভেম্বর ২২ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |সংগ্রহের-তারিখ= এর মান পরীক্ষা করুন (সাহায্য); অজানা প্যারামিটার |accessyear= উপেক্ষা করা হয়েছে (|access-date= প্রস্তাবিত) (সাহায্য)