ডিক হাওয়ার্থ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ডিক হাওয়ার্থ
ডিক হাওয়ার্থ.png
১৯৫০ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে ডিক হাওয়ার্থ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামরিচার্ড হাওয়ার্থ
জন্ম(১৯০৯-০৪-২৬)২৬ এপ্রিল ১৯০৯
ব্যাকআপ, ল্যাঙ্কাশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু২ এপ্রিল ১৯৮০(1980-04-02) (বয়স ৭০)
ওরচেস্টার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক১৬ আগস্ট ১৯৪৭ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট২৭ মার্চ ১৯৪৮ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৭২
রানের সংখ্যা ১৪৫ ১১৪৭৯
ব্যাটিং গড় ১৮.১২ ২০.৬৮
১০০/৫০ -/- ৪/৫২
সর্বোচ্চ রান ৪৫* ১১৪
বল করেছে ১৫৩৬ ৭১৮১২
উইকেট ১৯ ১৩৪৫
বোলিং গড় ৩৩.৪২ ২১.৮৭
ইনিংসে ৫ উইকেট ৭৪
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৬/১২৪ ৭/১৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/- ১৯৭/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৫ জানুয়ারি ২০১৯

রিচার্ড হাওয়ার্থ (ইংরেজি: Dick Howorth; জন্ম: ২৬ এপ্রিল, ১৯০৯ - মৃত্যু: ২ এপ্রিল, ১৯৮০) ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাকআপ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৪৮ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতি স্পিনার হিসেবে খেললেও মাঝে-মধ্যেই মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। এছাড়াও মাঝারিসারিতে বামহাতে কার্যকরী ব্যাটিং করতেন ডিক হাওয়ার্থ

কাউন্টি ক্রিকেট[সম্পাদনা]

ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাকআপ এলাকায় রিচার্ড হাওয়ার্থের জন্ম। ল্যাঙ্কাশায়ার দ্বিতীয় একাদশে যুক্ত হবার পর কয়েকটি খেলায় অংশ নেন। তবে তখন তাঁকে প্রতিশ্রুতিশীল মনে হয়নি। ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে ব্যাকআপের পক্ষে খেলেন। ১৯৩৩ সালে ওরচেস্টাশায়ারের পক্ষে খেলার যোগ্যতা লাভ করেন। ঐ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান একাদশের বিপক্ষে খেলেন। এ পর্যায়ে উদীয়মান অল-রাউন্ডার হিসেবে চিহ্নিত হন।

১৯৩৩ থেকে ১৯৫১ সময়কালে ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ের উপযোগী হলেও ওরচেস্টারশায়ারের দূর্বলমানের ব্যাটিংয়ের কারণে ডিক হাওয়ার্থকে প্রায়শই আক্রমণধর্মী উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামতে হতো। এভাবে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দুইবার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১১৪ রানের ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন। উইকেটের কাছাকাছি এলাকায় ফিল্ডিং করতে নির্ভরযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছিলেন। প্রয়োজনে ভিন্ন এলাকায়ও ফিল্ডিং করতেন তিনি।[১]

১৯৩৪ সালে পূর্ণাঙ্গ মৌসুম খেলেন। তবে আশাপ্রদ খেলা উপহার দিতে পারেননি। কিন্তু কাউন্টি ক্রিকেটে স্লো বামহাতি বোলার হিসেবে আকস্মিকভাবে শীর্ষস্থানে চলে যান। ওরচেস্টারশায়ারের পক্ষে উইকেট প্রতি উনিশ রানেরও কম খরচায় ১২১ উইকেট দখল করেছিলেন ডিক হাওয়ার্থ। পরের বছরেও বোলার হিসেবে তিনি তাঁর দক্ষতা ধরে রাখেন। সিরিল ওয়াল্টার্সপতৌদির নবাবের অনুপস্থিতিতে দূর্বলমানের ব্যাটিং শক্তিমত্তার অধিকারী ওরচেস্টাশায়ারের ব্যাটিং উদ্বোধনে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কেন্টের বিপক্ষে দলের সংগৃহীত ১৭৩ রানের মধ্যে তাঁর অবদান ছিল ১১৪। পরের বছরে নিরাশ করলেও ১৯৩৮ সালে মাত্র তিন রানের জন্যে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট লাভের ন্যায় ডাবল লাভ করা থেকে বঞ্চিত হন। এ পর্যায়ে ওভালে সারের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন তিনি। স্টোরব্রিজে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনে খেলায় সেরা ১৩/১৩৩ পান।

অবশেষে ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হবার পূর্বেকার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শেষ খেলায় নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে কাঙ্খিত ডাবল পান। বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালে তাঁর বয়স ৩৭ হলেও দূর্দান্ত ক্রীড়া মনোবৃত্তি ঠিকই ধরে রেখেছিলেন। রিচার্ড হাওয়ার্থ সফরকারী ভারতের বিপক্ষে দুইটি সেঞ্চুরি করেন। সেপ্টেম্বর এইচ.ডি.জি. লেভেসন-গাওয়ার একাদশের সদস্যরূপে খেলেন। এছাড়াও ৭২ রানের বিনিময়ে নয় উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।

১৯৪৭ সালের পূর্ব-পর্যন্ত রিচার্ড হাওয়ার্থকে কাউন্টি ক্রিকেটার হিসেবে মনে করা যাচ্ছিল না। ১৯৪৭ সালে ২৬ এর অধিক গড়ে ১৫১০ রান তুলেন। এটিই তাঁর এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর ছিল। এছাড়াও ঐ মৌসুমে ১১৮টি উইকেট তুলে নিয়ে গ্রীষ্মে বোলারদের অনুপযোগী পিচে টম গডার্ডের পরবর্তী স্থানে অবস্থান করেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

অন্যতম বয়োজ্যেষ্ঠ ইংরেজ খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর। ৩৮ বছর ১১২ দিন বয়সে খেলতে নেমে প্রথম বলেই উইকেটের সন্ধান পান তিনি। এরফলে পঞ্চম ইংরেজ হিসেবে অভিষেকের প্রথম বলেই উইকেট লাভের বিরল ঘটনার সাথে স্বীয় নামকে যুক্ত করেন।[১]

ট্রেন্ট ব্রিজের বোলারদের উপযোগী পিচে ৭/৫২ পান ও ইনিংসে সেরা বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। ফলশ্রুতিতে প্রতিনিধিত্বকারী খেলায় অংশগ্রহণের জন্য বিবেচিত হন। ব্যক্তিগত শেষ টেস্টেও এ রেশ ধরে রাখেন। প্রথম বলেই উইকেট পান তিনি।[১] ঐ গ্রীষ্মে হাওয়ার্থ ১৬৪ উইকেট পান। সবিশেষ লক্ষণীয় যে, কোন খেলাতেই দশ উইকেটের সন্ধান পাননি তিনি। বিস্ময়করভাবে উইজডেন বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে তাঁকে মর্যাদা প্রদান করা হয়নি। ১৯৪৮ সালের পরবর্তী শীতকালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দূর্বলমানের ইংরেজ দলে সেরা বোলার হিসেবেই অংশগ্রহণ করেছিলেন। ভেজা আবহাওয়ায় পিচ বোলারদের অনুকূলে থাকলেও বল কিংবা ব্যাট হাতে কোনটিতেই সফলতা পাননি তিনি।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৪৯ সালে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বছরে আবারও বোলিং গড়ে টম গডার্ডের পিছনে থেকে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন তিনি। নর্দাম্পটনে খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা ৭/১৮ পান। ইনিংসে আট উইকেট লাভবিহীন অবস্থায় কেবলমাত্র কেন হিগসবিষেন সিং বেদী তাঁর তুলনায় অধিকসংখ্যক উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে অসাধারণ মৌসুম অতিবাহিত করার পর ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালেও ওরচেস্টাশায়ারের বোলিং গড়ে শীর্ষস্থানে ছিলেন তিনি।

শেষের বছরগুলোয় তাঁর ব্যাটিংয়ের মান ক্রমশঃ অধোমূখী হতে থাকে। কেবলমাত্র একবারই অর্ধ-শতকের ইনিংস খেলেছিলেন ডিক হাওয়ার্থ। তবে, গ্রীষ্মের শুরুতে বিস্ময়করভাবে ১৯৫১ সালের কাউন্টি ক্রিকেটে সর্বশেষবারের মতো খেলার কথা ঘোষণা করেন যে, ‘আমি যেভাবে খেলা উপভোগ করতে চেয়েছি, সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারছি না। ফলে অবসর ঘোষণার ন্যায় মনোবেদনাদায়ক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।’

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর নিউ রোডে ওরচেস্টার ক্রিকেট গ্রাউন্ডের বাইরে সংবাদপ্রতিনিধির দোকান ক্রয় করাসহ পরিচালনা করতে থাকেন। ২ এপ্রিল, ১৯৮০ তারিখে ৭০ বছর বয়সে ওরচেস্টারে ডিক হাওয়ার্থের দেহাবসান ঘটে।[১]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 92। আইএসবিএন 1-869833-21-X 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]