টেড ব্যাডকক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
টেড ব্যাডকক
টেড ব্যাডকক.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামফ্রেডরিক থিওডোর ব্যাডকক
জন্ম(১৮৯৭-০৮-০৯)৯ আগস্ট ১৮৯৭
অ্যাবোটাবাদ, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৮২(1982-09-19) (বয়স ৮৫)
দক্ষিণ পার্থ, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ )
১০ জানুয়ারি ১৯৩০ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট৩১ মার্চ ১৯৩৩ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৫৩
রানের সংখ্যা ১৩৭ ২৩৮৩
ব্যাটিং গড় ১৯.৫৭ ২৫.৬২
১০০/৫০ ০/২ ৪/১৩
সর্বোচ্চ রান ৬৪ ১৫৫
বল করেছে ১,৬০৮ ১৫৯৯৫
উইকেট ১৬ ২২১
বোলিং গড় ৩৮.১২ ২৩.৫৭
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৪
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৪/৮০ ৭/৫০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ৩৮/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২১ মে ২০১৮

ফ্রেডরিক থিওডোর ব্যাডকক (ইংরেজি: Ted Badcock; জন্ম: ৯ আগস্ট, ১৮৯৭ - মৃত্যু: ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২) তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অ্যাবোটাবাদে জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওতাগো ও ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন টেড ব্যাডকক

উভয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়কালে নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সেরা অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন টেড ব্যাডকক। তবে, ১৯৩০ থেকে ১৯৩৩ সময়কালে নিউজিল্যান্ড দলের পক্ষে মাত্র সাত টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ হয় তার। তন্মধ্যে, নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বপ্রথম টেস্টে অংশগ্রহণের বিরল সৌভাগ্য অর্জন করেন। সূচনালগ্নটি তেমন সুখকর হয়নি ব্যাডককের। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে অভিষেকের উভয় ইনিংসেই প্রথম বলে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নের পথে পা বাড়াতে হয়েছে তাকে।[১] নিউজিল্যান্ডের পক্ষে প্রথম টেস্ট ক্যাপ পরিধান করেন তিনি।

প্রারম্ভিক জীবন[সম্পাদনা]

তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের অ্যাবোটাবাদে টেড ব্যাডককের জন্ম। বার্কশায়ারের ওয়েলিংটন কলেজে অধ্যয়ন করেন। এরপর ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯২৩ সালে মাইনর কাউন্টিজ চ্যাম্পিয়নশীপে সারে দ্বিতীয় একাদশের পক্ষে খেলেন। ১৯২৪ সালে নিউজিল্যান্ডে অভিবাসিত হন। সেখানে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটার ও ক্রিকেট কোচের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯২৪-২৫ মৌসুম থেকে ১৯২৯-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত ওয়েলিংটনের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেন টেড ব্যাডকক। এর ১৯৩৬-৩৭ মৌসুম পর্যন্ত ওতাগোর প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৪৫ সালে ইংল্যান্ডে সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

চমৎকার ব্যাটসম্যান ও বোলার হিসেবে প্রভূতঃ সুনাম কুড়িয়েছেন। এছাড়াও, ফিল্ডার হিসেবেও সমান দক্ষতার পরিচয় বহন করেন। ফলশ্রুতিতে, বিশ্বযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে নিউজিল্যান্ডের সেরা অল-রাউন্ডার হিসেবে পরিগণিত হন তিনি। মাঝে-মধ্যে ব্যাটিং উদ্বোধনেও তিনি মাঠে নেমেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে বল হাতে প্রথম তিন মৌসুমে ব্যাপক সফলতা লাভ করেন।

১৯২৫-২৬ মৌসুমে ৪ খেলায় ১৭.০৫ গড়ে ৩৭ উইকেট দখল করেন। ১৯২৬-২৭ মৌসুমে মাত্র ৩ খেলায় ১১.৬৯ গড়ে ২৩ উইকেট পান। এছাড়াও, ১৯২৭-২৮ মৌসুমে একই সংখ্যক খেলায় অংশ নিয়ে ১৭.৯৪ গড়ে ১৭ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি।[২] ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রেও সমান পারদর্শীতা ও প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম খেলায় ৬৫, দ্বিতীয় খেলায় ৫৭ রান তুললেও পরবর্তী খেলাগুলোতে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান করতে পারেননি। অবশেষে ১৯২৭ সালে ল্যাঙ্কাস্টার পার্কে প্লাঙ্কেট শীল্ডে ক্যান্টারবারির বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে শতরান করে রান খরা ঘোঁচান।[৩]

১৯২৭ সালে ইংল্যান্ড সফরের জন্য নিউজিল্যান্ড দলের অন্যতম সদস্যরূপে মনোনীত হন। কিন্তু, জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা প্রশ্নে বিতর্ক সৃষ্টি হবার প্রেক্ষিতে দল থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেন টেড ব্যাডকক।[৪] তবে, ঐ গ্রীষ্মে কোন প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ না নেয়া স্বত্ত্বেও আর্নেস্ট বার্নাওকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল।[৫]

১৯২৭-২৮ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া দল নিউজিল্যান্ড সফরে আসে। ওয়েলিংটনের সদস্যরূপে অস্ট্রেলীয় একাদশের বিপক্ষে ৪/৮২ ও ৪/২৩ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন তিনি।[৬] ফলশ্রুতিতে, সফরকারীদের বিপক্ষে দুইটি প্রতিনিধিত্বমূলক খেলায় অংশ নেয়ার জন্য মনোনীত হন তিনি। প্রথম খেলায় ১/১২১ লাভ করলেও দ্বিতীয় খেলায় ০/১৪ ও ২/৩৩ লাভ করেন। এছাড়াও, তার ব্যাটিংও তেমন ভালো ছিল না। দুইবারই ক্ল্যারি গ্রিমেটের বলে শূন্য রানে বোল্ড হন ও অন্য ইনিংসটিতে মাত্র ২ রান করে আউট হন।[৭][৮]

পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে ল্যাঙ্কাশায়ার লীগে ১৯৩৪ ও ১৯৩৫ সালে নেলসন দলের পক্ষে খেলেন। এছাড়াও, ১৯৩৫ সালে চার্চের পক্ষে খেলেছিলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ইংল্যান্ডে ব্রিটিশ এম্পায়ার ক্রিকেট দল, সিভিল ডিফেন্স সার্ভিসেস ও নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে খেলেছিলেন। বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পরপরই ১৯৪৫ সালে নিউজিল্যান্ড সার্ভিসেস দলের সদস্যরূপে লর্ডস একাদশের বিপক্ষে, অস্ট্রেলীয় ইম্পেরিয়াল ফোর্স, ডব্লিউআর হ্যামন্ড একাদশ, স্যার পিএফ ওয়ার্নার একাদশ ও রয়্যাল এয়ার ফোর্সের বিপক্ষে খেলেন। তন্মধ্যে, সেপ্টেম্বর, ১৯৪৫ সালে এইচডিজি লেভসন-গাওয়ার একাদশের বিপক্ষে সর্বশেষ প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। ৪৭ বছর বয়সে লেন হাটন, সিরিল ওয়াশব্রুকবিল এডরিচ সমৃদ্ধ দলের বিপক্ষে ৬/১৬৬ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করিয়েছিলেন।[৯]

খেলোয়াড়ী জীবনে সর্বমোট ৫৩টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ হয় তার। চারটি প্রথম-শ্রেণীর সেঞ্চুরির মধ্যে দু’টি ওয়েলিংটন ও দু’টি ওতাগোর বিপক্ষে হাঁকিয়েছেন।[১০] এছাড়াও, ১৩টি অর্ধ-শতক রয়েছে তার। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৫৫ রান তুলেছেন। জানুয়ারি, ১৯২৭ সালে প্লাঙ্কেট শীল্ডে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করে ক্যান্টারবারির বিপক্ষে এ সংগ্রহটি করেছিলেন। এ সেঞ্চুরিটি তার প্রথম সেঞ্চুরি ছিল। ২৩.৫৭ গড়ে ২২১টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট পেয়েছেন। চৌদ্দবার পাঁচ-উইকেট লাভের কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছেন টেড ব্যাডকক। খেলায় পাঁচবার দশ উইকেট লাভের নজির রয়েছে তার। জানুয়ারি, ১৯২৫ সালে অভিষেক খেলায় ক্যান্টারবারির বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন ৭/৫০।[১১]

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট সাতটি টেস্ট খেলতে পেরেছেন টেড ব্যাডকক। দুইবার পঞ্চাশোর্ধ্ব রান সংগ্রহ করেছেন। উভয় ইনিংসই আসে ১৯৩২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। কিন্তু, তার টেস্ট ব্যাটিং গড় ছিল মাত্র ১৯.৫৭। এছাড়াও বল হাতে নিয়ে ৩৮.১২ গড়ে ১৬টি উইকেট পেয়েছেন। ১৯৩০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজস্ব সেরা ৪/৮০ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন।

নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটের ইতিহাসের প্রথম টেস্টে অংশগ্রহণের বিরল সৌভাগ্য অর্জন করেন টেড ব্যাডকক। জানুয়ারি, ১৯৩০ সালে ক্রাইস্টচার্চের ল্যাঙ্কাশায়ার পার্কে সফরকারী এমসিসি দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।[১২] তবে ব্যাটহাতে অগৌরবজনক অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার। কিং পেয়ার লাভ করেন বোল্ড হবার মাধ্যমে। প্রথম ইনিংসের প্রথম বলে মরিস অলমের ও দ্বিতীয় ইনিংসে স্ট্যান নিকোলসের বলে বোল্ড হন তিনি। পূর্ববর্তী দুই বলে টম লরিকেন জেমসকে আউট করার পর ব্যাডককের উইকেট লাভের মাধ্যমে ইংরেজ বোলার অলম তার টেস্ট হ্যাট্রিক পূর্ণ করেছিলেন।

বল হাতে অবশ্য ব্যাডকক কিছুটা সফলতা দেখেছেন। বোলিং উদ্বোধনে নেমে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ২/২৯ পান। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং করার সুযোগ পাননি তিনি। কেএস দিলীপসিংজীর ব্যাটিংয়ের বদৌলতে ইংল্যান্ড খুব সহজেই ৮ উইকেটে জয় তুলে নেয়।

জানুয়ারি, ১৯৩০ সালে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়।[১৩] নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে এগারো নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ডিক্লেয়ার করায় তাকে আর মাঠে নামতে হয়নি। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় উদ্বোধনী বোলার হিসেবে বোলিংয়ে নেমে তিনি ৪/৮০ ও ১/২২ পান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩০ তারিখে অকল্যাণ্ডের ইডেন পার্কে তৃতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়।[১৪] প্রথম দুই দিন বৃষ্টির কারণে খেলা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। তৃতীয় ও চূড়ান্ত দিনে টেড বোলি ও কেএস দিলীপসিংজী সেঞ্চুরি করলে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়। এরফলে পরের সপ্তাহে চতুর্থ টেস্টের আয়োজন করা হয়। তবে, ব্যাডকককে দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল।

১৯৩১-৩২ মৌসুমে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ফেব্রুয়ারি, ১৯৩২ সালে ক্রাইস্টচার্চের ল্যাঙ্কাস্টার পার্কে প্রথম টেস্টে অংশ নেন তিনি।[১৫] নিউজিল্যান্ড দল ব্যাট হাতে মাঠে নামে। দল ২৯৩ রানে অল-আউট হয়। তবে, ৬৪ রান সংগ্রহ করে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন টেড ব্যাডকক। এ রানের জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৫১ রান তুলে। সফরকারী দলের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান জিম ক্রিস্টিব্রুস মিচেল - উভয়েই সেঞ্চুরি হাঁকান। দ্বিতীয় উদ্বোধনী বোলার হিসেবে ব্যাডকক ২/৮৮ পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ রান করে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন। লিন্ডসে ওয়েরের অপরাজিত ৭৪ রান সংগ্রহ করা স্বত্ত্বেও স্বাগতিক দল ইনিংস ও ১২ রানে পরাজয়বরণ করে। খেলায় দক্ষিণ আফ্রিকান বোলার কুইন্টিন ম্যাকমিলান প্রথম ইনিংসে ৪/৬১ বোলিং পরিসংখ্যানের সাথে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৬৬ লাভ করেছিলেন।

মার্চ, ১৯৩২ সালে ওয়েলিংটনের ব্যাসিন রিজার্ভে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়।[১৬] প্রথম ইনিংসে ম্যাকমিলানের ৫/১২৫ বোলিং পরিসংখ্যানে ব্যাডককও যুক্ত হন। কট এন্ড বোল্ড হবার পূর্বে ব্যাডকক নিজস্ব প্রথম টেস্ট অর্ধ-শতকের সন্ধান পান। নিউজিল্যান্ডের ৩৬৪ রানের বিপরীতে সফরকারীরা ৪১০ রান তুলে। ব্যাডকক ১/৭০ পান। দ্বিতীয় ইনিংসে রান আউটে শূন্য রানে বিদায় নেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানদ্বয়ের অর্ধ-শতকের কল্যাণে ৮ উইকেটে জয় পায়।

অস্ট্রেলিয়ায় বডিলাইন সিরিজ শেষে মার্চ, ১৯৩৩ সালে এমসিসি দল নিউজিল্যান্ড সফরে আসে। ব্যাডকক ১৯৩২-৩৩ মৌসুমে এমসিসি দলের বিপক্ষে সর্বশেষ দুই টেস্টে অংশ নেন। মার্চ, ১৯৩৩ সালে ক্রাইস্টচার্চের ল্যাঙ্কাস্টার পার্কে প্রথম টেস্টে অংশ নেন তিনি।[১৭] বোলিং উদ্বোধনে নেমে তিনি ৩/১৪২ রান তুলেন। খেলার প্রথম বলেই হার্বার্ট সাটক্লিফকে প্যাভিলিয়নের পথে পা বাড়াতে বাধ্য করেন। তার বোলিং অংশীদার ডেনিস স্মিথও ইংল্যান্ডের অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এডি পেন্টারকে প্রথম বলে বোল্ড করেছিলেন। তবে, শুরুর বাঁধা অতিক্রম করে ইংল্যান্ড ৫৬০/৮ করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। খেলায় হাঁটুতে ক্ষত নিয়ে ওয়ালি হ্যামন্ড ২২৭, লেস অ্যামিস ১০৩, ফ্রেডি ব্রাউন ৭৪ ও বিল ভোস তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৬৬ রান তুলেছিলেন। আঘাতের কারণে জিফ ভিভিয়ানের কারণে নিউজিল্যান্ড ২২৩ রানে অল-আউট হয়। ব্যাডকক অপরাজিত ১০ রান তুলেছিলেন। ফলো-অনের কবলে পড়লেও নিউজিল্যান্ড ড্র করতে সক্ষম হয়েছিল।

১৯৩৩ সালের মার্চের শেষদিকে অকল্যাণ্ডের ইডেন পার্কে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশগ্রহণ করেন তিনি।[১৮] বিল বোসের বলে ১ রানে বোল্ড হন ব্যাডকক। প্রথম দিনেই নিউজিল্যান্ড দল ১৫৮ রানে অল-আউট হয়। বিল বোসের ৬/৩৪ বোলিং পরিসংখ্যানে তিনিও অন্যতম শিকারে পরিণত হন। ব্যাডকক পরবর্তীতে বোলিং উদ্বোধনে নামেন ও ২/১২৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। ইংল্যান্ড আবারও রানের পাহাড় গড়ে ও ৫৪৮/৭ তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। ঐ ইনিংসেই ওয়ালি হ্যামন্ড অপরাজিত ৩৩৬ রান তুলে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। তবে, ব্যাডকককে দ্বিতীয় ইনিংসে মাঠে নামতে হয়নি ও খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।[১৯]

আর. টি. ব্রিটেনডেন তার সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, হার্বার্ট সাটক্লিফের ন্যায় মার্জিত ব্যবহার ও কিথ মিলারের চাকচিক্যময় খেলার ধারার সাথে অসাধারণ ক্ষিপ্রতা লক্ষ্য করা যায়। তিনি সবকিছুতেই নজর আকর্ষণে সক্ষম ছিলেন।[২০]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Zulqarnain Haider and Pakistan benefit from decision review system, The Guardian, 8 August 2010
  2. Badcock's first-class bowling record by season
  3. Canterbury v Wellington, Plunket Shield, Lancaster Park, Christchurch, 1926/27
  4. Don Neely & Richard Payne, Men in White: The History of New Zealand International Cricket, 1894–1985, Moa, Auckland, 1986, p. 74.
  5. McConnell, Lynn (নভেম্বর ১০, ২০০০)। "Earliest of England to be recorded in boutique book"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ আগস্ট ২০, ২০১৭ 
  6. Scorecard, Wellington v Australians, 1927/28
  7. Scorecard, New Zealand v Australia, Eden Park, Auckland, 1927/28
  8. Scorecard, New Zealand v Australia, Carisbrook, Dunedin, 1927/28
  9. HDG Leveson-Gower's XI v New Zealand Services, Scarborough, 1945
  10. First-class batting and fielding by team
  11. Canterbury v Wellington, Plunket Shield, Lancaster Park, Christchurch, 1924/25
  12. Scorecard, First Test, New Zealand v England, Lancaster Park, Christchurch, 1929/30
  13. Scorecard, Second Test, New Zealand v England, Basin Reserve, Wellington, 1929/30
  14. Scorecard, Third Test, New Zealand v England, Eden Park, Auckland, 1929/30
  15. Scorecard, First Test, New Zealand v South Africa, Lancaster Park, Christchurch, 1931/32
  16. Scorecard, Second Test, New Zealand v South Africa, Basin Reserve, Wellington, 1931/32
  17. Scorecard, First Test, New Zealand v England, Lancaster Park, Christchurch, 1932/33
  18. Scorecard, Second Test, New Zealand v England, Eden Park, Auckland, 1932/33
  19. Hammond's Test triple, Cricinfo, 29 March 2008
  20. R. T. Brittenden, New Zealand Cricketers, A.H. & A.W. Reed, Wellington, 1961, p. 9.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]