জ্যাক মার্সার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জ্যাক মার্সার
জ্যাক মার্সার.jpg
১৯২৮ সালে জ্যাক মার্সারের অঙ্কিত প্রতিকৃতি
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজন মার্সার
জন্ম(১৮৯৩-০৪-২২)২২ এপ্রিল ১৮৯৩
সাউথউইক, সাসেক্স, ইংল্যান্ড
মৃত্যু৩১ আগস্ট ১৯৮৭(1987-08-31) (বয়স ৯৪)
ওয়েস্টমিনস্টার, লন্ডন, ইংল্যান্ড
ডাকনামজ্যাক
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৪৭নর্দাম্পটনশায়ার
১৯২৬/২৭মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব
১৯২৩–১৯৩০ওয়েলস
১৯২২–১৯৩৯গ্ল্যামারগন
১৯১৯–১৯২১সাসেক্স
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৪৫৭
রানের সংখ্যা ৬,০৭৬
ব্যাটিং গড় ১১.৭৭
১০০/৫০ –/১০
সর্বোচ্চ রান ৭২
বল করেছে ৯০,৩৬৪
উইকেট ১,৫৯১
বোলিং গড় ২৩.৪০
ইনিংসে ৫ উইকেট ১০৪
ম্যাচে ১০ উইকেট ১৭
সেরা বোলিং ১০/৫১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৪৪/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৫ জুলাই ২০১৯

জন জ্যাক মার্সার (ইংরেজি: Jack Mercer; জন্ম: ২২ এপ্রিল, ১৮৯৩ - মৃত্যু: ৩১ আগস্ট, ১৯৮৭) পশ্চিম সাসেক্সের সাউথউইক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ ক্রিকেট তারকা ছিলেন।[১][২] ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগন, নর্দাম্পটনশায়ার ও সাসেক্স দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯১৯ থেকে ১৯৪৭ সময়কালে পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকরী ব্যাটিংশৈলী উপস্থাপন করেছেন জন মার্সার নামে পরিচিত জ্যাক মার্সার

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

তরুণ বয়সে কিছু সময় রাশিয়ায় অবস্থান করেছিলেন। মহান যুদ্ধে অংশ নেন। রাশিয়া থেকে ফিরে স্পোর্টসম্যান ব্যাটলিয়নে যুক্ত হন। এরপর রয়্যাল সাসেক্স রেজিম্যান্টে যুক্ত হন। ফ্রান্সে গুরুতরভাবে আহত হন। যুদ্ধ শেষ হবার পূর্ব পর্যন্ত লন্ডনে কর্মী হিসেবে কাজ করেন। এরপর পুণরায় সাসেক্সে যোগ দেন। জীবনের শেষদিকে ম্যাজিক সার্কেলের সাথে যুক্ত থাকেন।

১৯১৯ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত জ্যাক মার্সারের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। স্থানীয় ক্রিকেটে সফলতা লাভের প্রেক্ষিতে সাসেক্স কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়। তবে, সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ইংল্যান্ডের পক্ষে কোন টেস্ট খেলায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাননি। প্রতি মৌসুমেই ৯০-এর অধিক উইকেট পেতেন। ছয়বার শত উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন তিনি। ওয়েলস কাউন্টির প্রথম বোলার হিসেবে সহস্রাধিক উইকেট পেয়েছেন।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৯ সালে সাসেক্সের পক্ষে জ্যাক মার্সারের খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটে। তবে, তিনি খুব কমই খেলায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছিলেন। মরিস টেট ও রেল্ফ ভ্রাতৃদ্বয়ের ন্যায় পেশাদারী পর্যায়ের একই মানের মিডিয়াম পেস বোলারের উপস্থিতিই এর প্রধান কারণ ছিল। ১৯২০ সালে কিছুটা বোলিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন। সীমিত সুযোগ পান। তাসত্ত্বেও, ১৯২১ সালে প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টিরূপে নবউত্তরণ লাভকারী গ্ল্যামারগনের পক্ষে খেলার সুযোগ লাভ করেন।

১৯২৫ সালের শুরুতে ধীরলয়ে অগ্রসর হন তিনি। এ পর্যায়ে গ্ল্যামারগনের ব্যাটিংয়ের মান অত্যন্ত দূর্বলমানের ছিল। চ্যাম্পিয়নশীপের খেলায় দলটি পরাজয়ের রেকর্ড গড়ে। তাসত্ত্বেও তিনি বোলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হন ও প্রথমবারের মতো শতাধিক উইকেট লাভ করেছিলেন।

স্বর্ণালী অধ্যায়[সম্পাদনা]

পরের বছর ১৯২৬ সালে গ্ল্যামারগনের ব্যাটিংয়ের মান বেশ উন্নততর হতে থাকে। পয়েন্ট তালিকায় দলটি অষ্টম স্থানে চলে আসে ও জন মার্সার চমৎকার বোলিং করেন। গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৮/৩৯ এবং কার্ডিফ আর্মস পার্কে সমারসেটকে ৫৯ ও ৭৭ রানে গুটিয়ে ফেলতে প্রভূতঃ ভূমিকায় রাখেন। এরফলে, গড়ের দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে চলে আসেন তিনি। তাঁর এ ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননায় ভূষিত হন।[৩] ঐ সময়ে ইংল্যান্ড দল অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নিয়েছিল।

১৯২৬ সালে এমসিসি দলের সদস্যরূপে ভারত ও সিলন গমন করেন তিনি। দলটিতে এমএলএল হিল, মরিস টেট, জ্যাক মার্সার, ইউয়ার্ট অ্যাস্টিল, গাই আর্ল, জর্জ গিয়েরি, জর্জ বয়েস, জর্জ ব্রাউন, জন হেনরি পারসন্স, আর্থার জিলিগান, স্যার লেসলি উইলসন, মেজর রেলেই চিচেস্টার-কনস্ট্যাবল, অ্যান্ড্রু স্যান্ডহাম, বব ওয়াটপিটার একারস্লি ছিলেন। তবে, দর্শনীয় কোন খেলা প্রদর্শনে সক্ষম ছিলেন না।

১৯২৭ সালে পিচ প্রায়শঃই নমনীয় ও ভেজা ছিল। ফলে উইকেট ব্যাটিং উপযোগী ছিল। মৌসুমের শেষদিকে কিছুটা সফলতার মুখ দেখেন। তবে, ১৯২৯ সালে সফররত দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশের বিপক্ষে খেলায় ১১৯ রান খরচায় ১৪ উইকেট দখল করলেও সর্বদাই উপেক্ষার পাত্রে পরিণত হবার সমুচিত জবাব দেন। ১৯২৯ সালে মৌসুমের ব্যক্তিগত সেরা ১৪৫ উইকেট পান। কিন্তু পেশীর টানে ১৯৩০-এর দশকের শুরুতে তিনি স্বাভাবিক বোলিংশৈলী উপস্থাপন করতে পারছিলেন না। এমনকি ১৯৩৪ সালে ৫০ উইকেটও পাননি তিনি। তবে, ১৯৩৫ ও ১৯৩৬ সালে স্বরূপ ধারন করেন। তন্মধ্যে, ১৯৩৬ সালে ওরচেস্টারের নিউ রোডে ইনিংসের সবগুলো উইকেট পান ও লিচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে খেলায় ১২৩ রান খরচায় বারো উইকেট দখল করেন। এ মৌসুম শেষে ১১৬ উইকেট পান। গ্ল্যামারগনের অন্য কোন বোলারই ৪৬-এর অধিক উইকেট লাভের ব্যর্থ হয়েছিলেন। ১৯৩৬ সালে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন। নিউ রোডে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

কিন্তু ১৯৩৭ সালে তাঁর বোলিংশৈলীতে বেশ ছন্দপতন হতে দেখা যায়। দলে আসা-যাওয়ার পালায় ছিলেন। দৃশ্যতঃ গ্ল্যামারগন কর্তৃপক্ষ মার্সারের সাথে চুক্তি ছিন্ন করার কথা ভাবতে শুরু করে। তবে, দলে বেশ কয়েকজন সেরা বোলার থাকায় তিনি আরও দুই বছর অবস্থানের সুযোগ পান। এ পর্যায়ে কার্ডিফে ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে গ্ল্যামারগন নিশ্চিত পরাজয়ের সম্মুখীন অবস্থায় স্মরণীয় খেলা উপহার দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে অবশ্য আবহাওয়ার কারণে খেলায় ফলাফল আসেনি। ১৯৩৯ সালে ডিক হাওয়ার্থের আট বলে গড়া এক ওভারে চারটি ছক্কা আর্মস পার্ক গ্রাউন্ডের বাইরে ফেলেন।

মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শুরুরদিকের বছরগুলোয় গ্ল্যামারগনের প্রধান বোলারের মর্যাদা পেয়েছিলেন জন মার্সার। উইকেটের উভয়দিকেই মিডিয়াম পেসসুইং বল করতে পারতেন। তবে, উইকেট বৃষ্টির কবলে পড়লে অফ ব্রেক বোলিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়তেন তিনি। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে প্রায়শঃই হাত থেকে ক্যাচ ফস্কে যেতো তাঁর। যদি তা না হতো, তাহলে হয়তোবা তাঁর খেলোয়াড়ী পরিসংখ্যান আরও সমৃদ্ধতর হতে পারতো। নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে অনেক সময়ে মারমুখী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে তাঁকে দেখা যেতো। একবার উইলফ্রেড রোডসের তিন ওভার থেকে ৩৬ রান তুলেছিলেন। গ্ল্যামারগনে অবস্থানকালে শেষ মৌসুমে ডিক হাওয়ার্থের আট বলে গড়া এক ওভার থেকে ৩১ রান সংগ্রহ করেন।

জন আরলট তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, ‘তিনি অধিকসংখ্যক ওভার করতে পারতেন, রানও দিতেন প্রচুর, উইকেটও পেয়েছেন অধিক, দ্রুততম সময়ে অর্ধ-শতরানের সন্ধানে পেয়েছেন, অধিকসংখ্যক শূন্য রান সংগ্রহ করেছেন ও গ্ল্যামারগনের ইতিহাসে সর্বাধিকসংখ্যক ইনিংসে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ছেড়েছেন।’

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৩৯ সালে গ্ল্যামারগন কর্তৃপক্ষ ১৯৪০ সালের জন্যে তাঁকে দলে না রাখার কথা ঘোষণা করে। কিন্তু, ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে কাউন্টি ক্রিকেট খেলা বন্ধ থাকে। এরপর, নর্দাম্পটনশায়ারের কোচ ও স্কোরারের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। চুয়ান্ন বছর বয়সেও একটি খেলায় তাঁকে মাঠে নামতে হয়েছিল।

৩১ আগস্ট, ১৯৮৭ তারিখে ৯৪ বছর বয়সে লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার এলাকায় জ্যাক মার্সারের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "First-class events played by Glamorgan"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০১৯ 
  2. "Glamorgan players"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জুন ২০১৯ 
  3. "Wisden's Five Cricketers of the Year"ESPNcricinfoESPN। ২৬ জুন ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১৫ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]