জন হ্যাম্পশায়ার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জন হ্যাম্পশায়ার
জন হ্যাম্পশায়ার.jpg
১৯৬৪ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে জন হ্যাম্পশায়ার
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজন হ্যারি হ্যাম্পশায়ার
জন্ম(১৯৪১-০২-১০)১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৪১
থার্নস্কো, ইয়র্কশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু১ মার্চ ২০১৭(2017-03-01) (বয়স ৭৬)
ডাকনামজ্যাক
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি লেগ ব্রেক
ভূমিকাআম্পায়ার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৪৪২)
২৬ জুন ১৯৬৯ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট১৪ আগস্ট ১৯৭৫ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ )
৫ জানুয়ারি ১৯৭১ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ ওডিআই২৬ আগস্ট ১৯৭২ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৬১-১৯৮১ইয়র্কশায়ার
১৯৬৭, ১৯৬৯
১৯৭৭-১৯৭৯
তাসমানিয়া
১৯৮১লিচেস্টারশায়ার
১৯৮২-১৯৮৪ডার্বিশায়ার
আম্পায়ারিং তথ্য
টেস্ট আম্পায়ার২১ (১৯৮৯–২০০২)
ওডিআই আম্পায়ার২০ (১৯৮৯–২০০১)
এফসি আম্পায়ার৩৪৯ (১৯৮৫–২০০৫)
এলএ আম্পায়ার৩৬৫ (১৯৮৫–২০১৪)
টি২০ আম্পায়ার৮ (২০০৪–২০০৫)
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৫৭৭ ২৮০
রানের সংখ্যা ৪০৩ ৪৮ ২৮,০৫৯ ৭,৩১৪
ব্যাটিং গড় ২৬.৮৬ ২৪.০০ ৩৪.৫৫ ৩১.১২
১০০/৫০ ১/২ ০/০ ৪৩/১৫৬ ৭/৪১
সর্বোচ্চ রান ১০৭ ২৫ ১৮৩* ১১৯
বল করেছে ২,৫৩৯ ৫৪
উইকেট ৩০
বোলিং গড় ৫৪.৫৬ ৪৫.০০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং ৭/৫২ ১/২২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৯/– ০/– ৪৪৬/– ৮৪/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৩ মার্চ ২০১৭

জন হ্যারি হ্যাম্পশায়ার (ইংরেজি: John Hampshire; জন্ম: ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪১ - মৃত্যু: ১ মার্চ, ২০১৭) ইয়র্কশায়ারের থার্নস্কো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন।[১][২] ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ার, লিচেস্টারশায়ার ও ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সময়কালে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ‘জ্যাক’ ডাকনামে পরিচিত জন হ্যাম্পশায়ার[৩] এছাড়াও তিনি জ্যাক হ্যাম্পশায়ার নামে পরিচিত ছিলেন। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে তিনি আটটি টেস্ট ও তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে ৮ টেস্টে অংশ নিয়ে ৪০৩ রান তোলেন।[৩][৪] ২৬ জুন, ১৯৬৯ তারিখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার টেস্ট অভিষেক ঘটে। লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে মনোজ্ঞ ১০৭ রান তোলেন। এরফলে টেস্ট অভিষেকে সেঞ্চুরি করার বিরল কৃতিত্ব অর্জনে সক্ষমতা দেখান। এছাড়াও লর্ডসে তার এ শতকটি যে-কোন ইংরেজের অভিষেকে প্রথম ছিল।[১] ক্রিকেট লেখক কলিন বেটম্যান এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, ‘হ্যাম্পশায়ার লর্ডসে তাঁর অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ইংরেজ ক্রিকেট সমর্থকদেরকে বিমোহিত করেন। তাঁর এ অর্জনটি ছিল অনন্য সাধারণ। মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে আকর্ষণীয় স্ট্রোকের মারে বেশ সক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি। তাঁকে প্রতিশ্রুতিশীল ব্যাটসম্যান হিসেবে মনে করা হলেও আর মাত্র একটি খেলার পরই দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল।’[১] টেস্ট অঙ্গন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবার পূর্বে তিনি আরও অর্ধ-ডজন টেস্টে ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।[৫]

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৬১ থেকে ১৯৮১ সময়কালে ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে ইয়র্কশায়ারের পক্ষে অংশগ্রহণ করেন। ২০ বছর বয়সে নিজ কাউন্টি ইয়র্কশায়ারের পক্ষে তার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক হয়।[৩][৬] ঐ ক্লাবে তিনি বিশ বছর সময় কাটান।[৭]

ইয়র্কশায়ারের অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে জিওফ্রে বয়কটের চলে আসার পর ১৯৭৯ থেকে ১৯৮০ সময়কালে পরপর দুই মৌসুম হ্যাম্পশায়ার ক্লাবের অধিনায়কত্ব গ্রহণ করেন।[১] নর্দাম্পটনে অনুষ্ঠিত খেলার এক পর্যায়ে ধীর নীতিতে অগ্রসর হন, যার ফলে ইয়র্কশায়ারকে একটি বোনাস পয়েন্ট থেকে বঞ্চিত হতে হয়। তিনি তার দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রতিবাদস্বরূপ ধীরগতিতে ব্যাটিং করেছিলেন বলে জানা যায়। এরপর ক্রিস ওল্ড তার পরিবর্তে অধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

অধিনায়কত্ব[সম্পাদনা]

১৯৭৮ সালের গ্রীষ্মে বয়কটের আঙ্গুল ভেঙ্গে গেলে জন হ্যাম্পশায়ারকে সাময়িকভাবে ক্লাবের অধিনায়কের দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়। ঐ মৌসুম শেষে বয়কট দলে ফিরে আসেন ও ৫০.৯৪ গড়ে ৯৬৮ রান তুলেন। কিন্তু তার ঐ সংগ্রহ হ্যাম্পশায়ারের ৫৪.১৮ গড়ে ১,৪৬৩ রানের তুলনায় কম ছিল। ড্রেসিং রুমের ৯৫% খেলোয়াড় স্থায়ীভাবে অধিনায়কের দাবী জানাচ্ছিল।[৮] ১৫ ২৯ সেপ্টেম্বর ইয়র্কশায়ার ক্লাব কর্তৃপক্ষ বয়কটের অধিনায়কত্ব স্থগিতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বয়কটকে খেলোয়াড় হিসেবে রেখে হ্যাম্পশায়ারকে নেতৃত্ব প্রদানের কথা বলা হয়।[৯]

১৯৮১ সালে গৃহযুদ্ধের কারণে ইয়র্কশায়ার ছেড়ে চলে আসেন। শীতকালে জিম্বাবুয়ে সফরে লিচেস্টারশায়ার দলের অতিথি খেলোয়াড়রূপে অংশ নেন। ১৯৮২ সালে ডার্বিশায়ারে যোগ দেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিন বছর ডার্বিশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেন।[১]

জ্যাক সিমন্সের অধিনায়কত্বে পাঁচ বছরের জন্য তাসমানিয়ার পক্ষে খেলেন।[১০] ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে তিনি তাসমানিয়ার পক্ষে শেফিল্ড শিল্ডে অভিষেক ঘটান।[১১] ১৯৭৮-৭৯ মৌসুমের জিলেট কাপ বিজয়ী তাসমানিয়া দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি।[১২] শেফিল্ড শিল্ডে অংশগ্রহণের পূর্বে ১৯৭৭-৭৯ সালে তাসমানিয়া দলের অধিনায়কত্ব করেন তিনি।

খেলার ধরন[সম্পাদনা]

মাঝারীসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে বেশ জোরে স্ট্রোক মারতে পারতেন। বিশেষ করে সম্মুখের পায়ের পাতার উপর ভর দিয়ে তিনি ব্যাটিং চালাতেন। ৫৭৭টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় ৩৪.৫৫ গড়ে ২৮,০৫৯ রান তুলেছেন। তন্মধ্যে ৪৩টি শতরান করেন।[৬] ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৮৩ তোলেন।[৪] এছাড়াও, ২৮০টি একদিনের খেলায় ৩১.১২ গড়ে ৭,৩১৪ রান পেয়েছেন যার মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল ১১৯।[৪] কাছাকাছি এলাকায় ফিল্ডিং করেও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৪৪৬টি ক্যাচ নিয়েছেন।[৪] কার্যকরী লেগ স্পিনার হিসেবেও দলে ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৬৩ সালে গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ৭/৫২ পেয়েছেন।[১৩]

আম্পায়ারিত্ব[সম্পাদনা]

খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নেয়ার পর ১৯৮৫ সালে কাউন্টি ক্রিকেটে আম্পায়ারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন হ্যাম্পশায়ার।[৬][১৪] ১৯৮৯ সালে টেস্ট তালিকায় তার নাম মনোনয়ন দেয়া হয়[১][১৪] ও পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে আইসিসি আম্পায়ার প্যানেলে তাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।[১৪] ১৯৮৯ সালের অ্যাশেজ সিরিজের ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার খেলাটি প্রথমবারের মতো পরিচালনা করেন।[৬] ২০০৫ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার পূর্ব-পর্যন্ত অত্যন্ত সম্মানীয় আম্পায়ার ছিলেন।[৬] এ সময়ে তিনি ২১ টেস্ট ও ২০টি একদিনের আন্তর্জাতিক পরিচালনা করে গেছেন।[৩][১৫] ২০০২ সালে ব্যারি ডাডলস্টনের সাথে বেনসন এন্ড হেজেস কাপ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলাটি পরিচালনা করেন্। ১৯৭২ সালে ঐ প্রতিযোগিতার প্রথম চূড়ান্ত খেলায় তিনি ডাডলস্টনের বিপক্ষে খেলেছিলেন।[১৬]

দেহাবসান[সম্পাদনা]

২০১৬ সালে ইয়র্কশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। মৃত্যুর পূর্ব-পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।[৩] দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ১ মার্চ, ২০১৭ তারিখে ৭৬ বছর বয়সে জন হ্যাম্পশায়ারের দেহাবসান ঘটে।[২][৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 84। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. "John Hampshire: Yorkshire president dies at the age of 76"BBC। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১৭ 
  3. Macpherson, Will (১ মার্চ ২০১৭)। "John Hampshire, former England and Yorkshire batsman, dies aged 76"The Guardian। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১৭ 
  4. "John Hampshire"ESPN Cricinfo 
  5. "Former England batsman John Hampshire dies"The Indian Express। 1 March 2017। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০১৭ 
  6. "Yorkshire's John Hampshire dies aged 76"। ESPN Cricinfo। ১ মার্চ ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১৭ 
  7. John Stern, Marcus Williams, সম্পাদকগণ (২০১৩)। The Essential Wisden: An Anthology of 150 Years of Wisden Cricketers' Almanack। A&C Black। পৃষ্ঠা 589। আইএসবিএন 9781408178973 
  8. McKinstry, p. 179.
  9. McKinstry, p. 180.
  10. "'I've never been so embarrassed as on my Test debut'"। ESPN Cricinfo। ৭ জানুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২ মার্চ ২০১৭ 
  11. "john hampshire"The Professional Cricketers' Association। ২২ জুন ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০১৭ 
  12. "Gillette Cup (Australia) 1978/79"CricketArchive 
  13. John Hampshire at Cricket Archive
  14. "English batsman and umpire John Hampshire passes away"। Cricket Country। ১ মার্চ ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১৭ 
  15. "One Day International Umpires". ESPN Cricinfo. Retrieved 2 March 2017.
  16. Miller, Peter; Tickner, Dave (২০১৬)। 28 Days' Data: England's Troubled Relationship with One Day Cricket। Pitch Publishing। পৃষ্ঠা 13। আইএসবিএন 9781785312373 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ক্রীড়া অবস্থান
পূর্বসূরী
জিওফ্রে বয়কট
ইয়র্কশায়ার ক্রিকেট অধিনায়ক
১৯৭৯-১৯৮০
উত্তরসূরী
ক্রিস ওল্ড