জন ওয়ার্ড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
জন ওয়ার্ড
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজন টমাস ওয়ার্ড
জন্ম (1937-03-11) ১১ মার্চ ১৯৩৭ (বয়স ৮৪)
তিমারু, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক
সম্পর্কএনভি বার্ট (কাকা), জেডব্লিউ বার্ট (কাকাতো ভাই), বিজে ওয়ার্ড (পুত্র)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৯৯)
২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৪ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ টেস্ট৭ মার্চ ১৯৬৮ বনাম ভারত
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৯৫
রানের সংখ্যা ৭৫ ১,১১৭
ব্যাটিং গড় ১২.৫০ ১২.৪১
১০০/৫০ ০/০ ০/১
সর্বোচ্চ রান ৩৫* ৫৪*
বল করেছে - -
উইকেট - -
বোলিং গড় - -
ইনিংসে ৫ উইকেট - -
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং - -
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৬/১ ২২৭/২৭
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১০ মার্চ ২০২০

জন টমাস ওয়ার্ড (ইংরেজি: John Ward; জন্ম: ১১ মার্চ, ১৯৩৭) ক্যান্টারবারির তিমারু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৮ সময়কালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ক্যান্টারবারি দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী ছিলেন জন ওয়ার্ড

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫৭-৫৮ মৌসুম থেকে ১৯৭০-৭১ মৌসুম পর্যন্ত জন ওয়ার্ডের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৫৮ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে নিউজিল্যান্ড দল গঠনে প্রস্তুতিমূলক খেলার আয়োজন করা হয়। সাউথ আইল্যান্ডের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার ও নর্থ আইল্যান্ডের মুখোমুখি হন তিনি।[১]

প্রথম ইনিংসে পাঁচটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন। ফলে, নিয়মিত উইকেট-রক্ষক এরিক পেট্রি’র সহকারী হিসেবে এ সফরে যান। ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে ক্যান্টারবারির সদস্যরূপে প্লাঙ্কেট শীল্ডে অভিষেক ঘটে তার। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। এ সফরেও তিনি আর্টি ডিকের সহচর ছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন জন ওয়ার্ড। ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে ওয়েলিংটনে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ৭ মার্চ, ১৯৬৮ তারিখে অকল্যান্ডে সফরকারী ভারত দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা দল নিউজিল্যান্ড গমন করে। অবশেষে, ওয়েলিংটনে সিরিজের প্রথম টেস্টের মাধ্যমে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার।[২] তবে, পরবর্তীতে শ্রেয়তর ব্যাটিংয়ের অধিকারী আর্টি ডিকের কাছে তাকে স্থানচ্যুত হতে হয়। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে পাকিস্তান দল নিউজিল্যান্ড গমনে আসে। সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ডিকের স্থলাভিষিক্ত হন। ১৯৬৫ সালে দলের একমাত্র উইকেট-রক্ষক হিসেবে ভারত ও পাকিস্তান গমন করেন। তন্মধ্যে, উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ৩৫ রানের ইনিংসটি। শেষ উইকেট জুটিতে রিচার্ড কলিঞ্জের সাথে মূল্যবান ৬১ রান সংগ্রহ করেছিলেন।[৩]

কিন্তু, ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম শেষে ভারতে সফর চলাকালে আহত হলে ডিককে পুণরায় তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়।[৪] ১৯৬৫ সালের শেষদিকে ইংল্যান্ড গমন করেন। ওয়ার্ডকে দলে ভেড়ানো হয়। তৃতীয় টেস্টে ডিকের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে নিজ দেশে ভারতের মুখোমুখি হন। সিরিজের চতুর্থ টেস্টই তার সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৭০-৭১ মৌসুম পর্যন্ত ক্যান্টারবারির পক্ষে খেলা চালিয়ে যান। এরপর তিনি ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৬৯-৭০ মৌসুমে ওয়েলিংটনের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে একমাত্র অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলেছেন। পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।[৫]

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন জন ওয়ার্ড। তার সন্তান ব্যারি ওয়ার্ড ক্যান্টারবারির পক্ষে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে উইকেটের পিছনে অবস্থান করেন।[৬] এছাড়াও তার কাকা এনভি বার্ট ও কাকাতো ভাই জেডব্লিউ বার্ট প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

বিশ্বস্ত ও খাঁটিমানের উইকেট-রক্ষক হিসেবে জন ওয়ার্ডের যথেষ্ট সুনাম ছিল। নিচেরসারিতে ব্যাপকভাবে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে না পারলেও শুরুরদিকের প্রতিশ্রুতিশীলতার স্বাক্ষর আর ধরে রাখতে পারেননি তিনি। মাত্র দুইটি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ করার পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্যে মনোনীত হন। পঞ্চাশের দশকের শেষদিক থেকে শুরু করে ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড দলে আসা-যাওয়ার পালায় অবস্থান করেছেন। উইকেট-রক্ষণে দৃঢ়ভাব বজায় রাখা সত্ত্বেও তাকে কখনো দলের নিয়মিত সদস্যের মর্যাদা দেয়া হয়নি।

জন ওয়ার্ডের টেস্ট ক্রিকেট অধিনায়ক জন রিড তার সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, নিঃসন্দেহে তিনি তার সময়কালে নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সেরা উইকেট-রক্ষক ছিলেন। তবে, ক্রমাগত আঘাতপ্রাপ্তি তার অগ্রযাত্রাকে ক্রমশই ব্যাহত করেছে।[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "North Island v South Island 1957-58"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জানুয়ারি ২০১৭ 
  2. "New Zealand v South Africa, Wellington 1963-64"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জানুয়ারি ২০১৭ 
  3. India v New Zealand, Madras 1964-65
  4. Wisden 1966, p. 896.
  5. "Wellington v Canterbury 1969-70"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জানুয়ারি ২০১৭ 
  6. Barry Ward at Cricket Archive
  7. Joseph Romanos, John Reid: A Cricketing Life, Hodder Moa Beckett, Auckland, 2000, p. 216.

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]