ক্যামি স্মিথ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ক্যামি স্মিথ
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামক্যামেরন উইল্বারফোর্স স্মিথ
জন্ম২৯ জুলাই, ১৯৩৩
আপার ডেরেলস, সেন্ট মাইকেল, বার্বাডোস
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক, ম্যাচ রেফারি
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১১৩)
৯ ডিসেম্বর ১৯৬০ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬২ বনাম ভারত
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩৭
রানের সংখ্যা ২২২ ২২৭৭
ব্যাটিং গড় ২৪.৬৬ ৩৭.৩২
১০০/৫০ -/১ ৫/১০
সর্বোচ্চ রান ৫৫ ১৪০
বল করেছে - -
উইকেট -
বোলিং গড় - ৩২.৩৩
ইনিংসে ৫ উইকেট - -
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং - ২/২৪
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪/১ ৩১/৪
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ক্যামেরন উইল্বারফোর্স স্মিথ (ইংরেজি: Cammie Smith; জন্ম: ২৯ জুলাই, ১৯৩৩) বার্বাডোসের সেন্ট মাইকেল এলাকার আপার ডেরেলস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও ম্যাচ রেফারি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯৩ থেকে ২০০২ সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন ক্যামি স্মিথ

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত ক্যামি স্মিথের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। অকুতোভয়, আক্রমণধর্মী ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্যামি স্মিথ যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছিলেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলিংয়ের বিপক্ষে চমৎকার খেলতেন। তবে, স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে যথেষ্ট দূর্বলতা লক্ষ্য করা যায়। ১৯৫০-এর দশকে বার্বাডোস দলে নিয়মিতভাবে খেলতেন। এ পর্যায়ে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন অথবা তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামতেন।

ব্রিজটাউনের হ্যারিসন কলেজে অধ্যয়ন করেছেন তিনি। ১৮ বছর বয়সে বার্বাডোসের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৯৫১-৫২ মৌসুমে ব্রিটিশ গায়ানার বিপক্ষে অভিষেক ঘটা ঐ খেলায় তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে তিনি ৮০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।[১] পরের খেলায় জ্যামাইকার মুখোমুখি হন। দ্বিতীয় উইকেটে কনরাড হান্টের সাথে ২৪৩ রানের জুটি গড়েন। নিজে করেন ১৪০ রানের মনোরম শতরান। ঐ খেলায় তার দল ইনিংস ব্যবধানে বড় ধরনের জয় পেয়েছিল।[২]

১৯৫৮ সালে জ্যামাইকার বিপক্ষে একটি খেলায় ১১৬ রান তুলেন। ঐ একই খেলায় উইকেট-রক্ষণের দায়িত্বে থেকে ছয়টি ক্যাচ গ্লাভস বন্দী করেছিলেন ক্যামি স্মিথ[৩] ১৯৬১-৬২ মৌসুমের শুরুতে ১২৭ রানের ইনিংস খেলে যাত্রা শুরু করেন। জ্যামাইকার বিপক্ষে ঐ খেলার প্রথম উইকেট জুটিতে ২৪৪ রান সংগৃহীত হয়েছিল। ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড স্পর্শ করেন। ত্রিনিদাদের বিপক্ষে ১৪০ রান তুলেন। এ পর্যায়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সেম্যুর নার্সের সাথে ৩১৮ রান সংগ্রহ করেন।[৪]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে পাঁচটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন ক্যামি স্মিথ। ৯ ডিসেম্বর, ১৯৬০ তারিখে ব্রিসবেনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে সফরকারী ভারত দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

১৯৬০-৬১ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ব্রিসবেনে সিরিজের প্রথম টেস্টে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেক ঘটে তার। ৭ ও ৬ রান তুলতে সক্ষম হন। দ্বিতীয় টেস্টে তাকে দলের বাইরে রাখা হয়। তৃতীয় টেস্টে দলে পুণরায় অন্তর্ভূক্তি ঘটে তার। ১৬ ও ৫৫ রান করেন। তন্মধ্যে, চতুর্থ উইকেটে জুটিতে ফ্রাঙ্ক ওরেলের সাথে সাতষট্টি মিনিটে দৃষ্টিনন্দন ১০১ রান তুলেন।[৫] ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ২২২ রানে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে এটিই টেস্টে তার একমাত্র অর্ধ-শতরানের ইনিংস হিসেবে রয়ে যায়। সিরিজের শেষ দুই টেস্টে ২৮, ৪৬, ১১ ও ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন। ফ্রাঙ্ক মিসনের বলে ফাইন লেগ অঞ্চল দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে অর্ধ-শতরানের জুটি গড়তে তিনি ও হান্ট বেশ কিছু মিনিট ব্যয় করেন।[৬]

১৯৬১-৬২ মৌসুমে ভারত দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ গমন করে। পোর্ট অব স্পেনে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে ১২ ও অপরাজিত ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জ্যাকি হেনড্রিক্সের পরিবর্তে অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে রুসি সুর্তিকে স্ট্যাম্পিং করেছিলেন তিনি।[৭] দ্বিতীয় টেস্টে ইস্টন ম্যাকমরিসের কাছে ব্যাটিং উদ্বোধনের বিষয়টি হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশ নিতে দেখা যায়নি।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৬৪ সালের শেষদিকে স্যার ফ্রাঙ্ক ওরেল একাদশের সদস্যরূপে তিনটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পূর্বে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে কমনওয়েলথ একাদশের সদস্যরূপে ভারতে একটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। ১৯৬৫, ১৯৬৬ ও ১৯৬৭ সালে ইন্টারন্যাশনাল ক্যাভেলিয়ার্সের সদস্যরূপে ইংল্যান্ডের মাটিতে কয়েকটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

বীমা কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন ক্যামি স্মিথ।[৮] ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কয়েকবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ব্যবস্থাপকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এছাড়াও ১৯৯৩ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে ৪২টি টেস্ট ও ১১৮টি ওডিআইয়ে আইসিসি’র ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।[৯] বার্বাডোসের ক্রিকেটের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন তিনি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. British Guiana v Barbados 1951-52
  2. Barbados v Jamaica 1951-52
  3. Jamaica v Barbados 1958
  4. Barbados v Trinidad 1962-63
  5. Wisden 1962, p. 848.
  6. Wisden 1962, p. 852.
  7. West Indies v India, Port of Spain 1961-62
  8. Tony Cozier, The West Indies: Fifty Years of Test Cricket, Angus & Robertson, Brighton (UK), 1978, p. 102.
  9. "Most matches as a referee: Test"Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১০ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]