জ্যাকি হেনড্রিক্স

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
জ্যাকি হেনড্রিক্স
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামজন লেসলি হেনড্রিক্স
জন্ম (1933-12-21) ২১ ডিসেম্বর ১৯৩৩ (বয়স ৮৭)
কিংস্টন, জ্যামাইকা
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি লেগ স্পিন, অফ স্পিন
ভূমিকাউইকেট-রক্ষক, রেফারি, ক্রিকেট প্রশাসক
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ১১৪)
১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬২ বনাম ভারত
শেষ টেস্ট১২ জুন ১৯৬৯ বনাম ইংল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৫৩/৫৪ - ১৯৬৬/৬৭জ্যামাইকা
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ২০ ৮৩
রানের সংখ্যা ৪৪৭ ১,৫৬৮
ব্যাটিং গড় ১৮.৬২ ১৭.৪২
১০০/৫০ ০/২ ০/৯
সর্বোচ্চ রান ৬৪ ৮২
বল করেছে ৫২
উইকেট
বোলিং গড়
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ০/০
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪২/৫ ১৪০/৫০ ০/২
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জন লেসলি জ্যাকি হেনড্রিক্স (ইংরেজি: Jackie Hendriks; জন্ম: ২১ ডিসেম্বর, ১৯৩৩) কিংস্টনের সেন্ট অ্যান্ড্রু এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, রেফারি ও প্রশাসক। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৯ সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে জ্যামাইকা দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিংসহ লেগ স্পিন কিংবা অফ স্পিন বোলিং করতে পারতেন জ্যাকি হেনড্রিক্স

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

কিংস্টনের উলমার্স বয়েজ স্কুলে পড়াশুনো করেছিলেন জ্যাকি হেনড্রিক্স। ১৯৫৩-৫৪ মৌসুম থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত জ্যাকি হেনড্রিক্সের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৫৪ সাল থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত জ্যামাইকার পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছেন। তন্মধ্যে, খেলোয়াড়ী জীবনের শেষদিকে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।[১]

দীর্ঘদেহী, আমোদপ্রিয় উইকেট-রক্ষক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। উইকেটের পিছনে তিনি যথেষ্ট বিশ্বস্ততার পরিচয় দিয়েছেন। তিনবার ৫০০ শতাধিক রান উঠলেও তিনি কোন বাই রান দেননি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ২০টি টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন জ্যাকি হেনড্রিক্স। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে সফরকারী ভারত দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১২ জুন, ১৯৬৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

শুরুতে জেরি আলেকজান্ডারের বিকল্প হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান দলে অন্তর্ভূক্ত হন। ভাঙ্গা আঙ্গুল নিয়েও ৬৪ রান তুলে দলের শীর্ষ রান সংগ্রাহক হয়েছিলেন। তবে, দলে ঠাঁই করে নিতে তাকে আরও দুই বছর অপেক্ষা করতে হয়। ডেরেক মারের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি।

১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া দল ওয়েস্ট ইন্ডিজে খেলতে আসে। তবে, তিন খেলার পরই ব্রিজটাউনে গ্রাহাম ম্যাকেঞ্জি’র বল মোকাবেলা করতে গিয়ে মাথায় আঘাত করে। কিছু সময় তাকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অবস্থান করতে হয়। মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে তার।[২] তাসত্ত্বেও, আরও ১৫ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এর সবগুলোই বিদেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে হয়েছিল। তবে, আঘাতের কারণে নিজদেশে সফরকারী ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে খেলতে পারেননি।

অর্জনসমূহ[সম্পাদনা]

খেলোয়াড়ী জীবনে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেট-রক্ষণে বেশ সুনাম কুড়ান। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ক্রিকেট ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত হন।[২] ১৯৮৪ ও ১৯৮৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে নিয়ে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৯৯০-এর দশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের শীর্ষস্থানীয় রেফারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

১৯৬৬ সালে বর্ষসেরা জ্যামাইকান ক্রীড়াবিদের সম্মাননায় ভূষিত হন। জুন, ১৯৮৮ সালে বার্বাডোস ক্রিকেট বাকলের পার্শ্বে ২৫সেন্টের জ্যামাইকান স্ট্যাম্পে জ্যাকি হেনড্রিক্সের স্থিরচিত্র মুদ্রিত হয়। জুলাই, ২০১০ সালে ক্রিকইনফোয় সর্বকালের সেরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশের অন্যতম সদস্য হন। এতে রান সংগ্রাহকের চেয়ে উইকেট-রক্ষণের ভূমিকাকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছিল।[৩]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Myers, Garfield (৩০ জুলাই ২০১৬)। "The Jackie Hendriks story"Jamaica Observer। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ 
  2. "A limpet at the crease"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২১ ডিসেম্বর ২০১৭ 
  3. "Eighties stars dominate West Indies all-time XI"Cricinfo। ESPN। সংগ্রহের তারিখ ৩০ আগস্ট ২০১১ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]