ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো সুড়ঙ্গ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো সুড়ঙ্গ
East West Metro Corridor Route Map.png
ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো লাইনের মানচিত্রে নীল রং দ্বারা চিহ্নিত লাইনটি হল ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো সুড়ঙ্গ
Overview
Other name(s)গঙ্গা নদী সুড়ঙ্গ
স্থানকলকাতা, ভারত
অবস্থানির্মীয়মান
শুরুকরুণাময়ী, বিধাননগর, কলকাতা
শেষহাওড়া ময়দান, হাওড়া
Operation
স্বত্বাধিকারীকলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন (কেএমআরসি)
চালনাকারীকলকাতা মেট্রো
Trafficমেট্রো রেল
Technical
Length১১ কিলোমিটার (৬.৮ মা)
০.৫২০ কিলোমিটার (০.৩২৩ মা) (গঙ্গার নিচে)

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো সুড়ঙ্গ[১][২] বা পূর্ব-পশ্চিম মেট্রো সুড়ঙ্গ হল ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ন নির্মীয়মান সুড়ঙ্গ পথ। এই সুড়ঙ্গটির একটি অংশ গঙ্গা বা হুগলি নদীর নিচে নির্মিত হবে।[৩] এটি ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম কোনো জলভাগ বা নদীর নিচে নির্মিত সুড়ঙ্গ। এই সুড়ঙ্গটি নির্মাণ করা হচ্ছে কলকাতা মেট্রোর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ন করিডর লাইন ২ বা ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর[৪] রেল চলাচলের জন্য। এই সুড়ঙ্গটি গঙ্গার পূর্ব পাড়ের কলকাতা ও পশ্চিম পাড়ের হাওড়া শহরকে যুক্ত করবে। সুড়ঙ্গটি মোট ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ। সুড়ঙ্গটি নির্মাণ শেষ হলে কলকাতা মহানগর অঞ্চল-এর প্রধান দুটি রেল স্টেশন হাওড়া ও শিয়ালদহ এই মেট্রো সুড়ঙ্গ দ্বারা যুক্ত হবে। ফলে সহজেই যাত্রীরা স্টেশন দুটির মধ্যে চলাচল করতে পারবেন বিনা বাধায়।

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের অংশ হিসাবে ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো সুড়ঙ্গ নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে মট্রো প্রকল্পের শিলান্যাস ও ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে নির্মাণ শুরু হলেও নানা বাধার ফলে সুড়ঙ্গ নির্মাণ শুরু হয় ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে সুভাষ সরোবরের কাছে।[৫] এটি ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো টানেল বা সুড়ঙ্গের পূর্ব প্রান্ত। কিন্তু পশ্চিম প্রান্ত অর্থাৎ হাওড়ায় সুড়ঙ্গ নির্মাণ পুরোদমে শুরু হয় আরো চার বছর পর ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে। বর্তমানে ফুলবাগান থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত সুড়ঙ্গ নির্মাণ শেষ হয়েছে। এই অংশে লাইন পাতা ও সংকেত ব্যবস্থা নির্মাণের কাজ চলছে। এই ২.৫ কিলোমিটার সুড়ঙ্গ পথে মেট্রো চলবে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে। হাওড়ার অংশে হাওড়া ময়দান থেকে হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত সুড়ঙ্গ খোঁড়া হয়েছে। ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসের শেষে সুড়ঙ্গের মুখ গঙ্গার নিচে যায়।[৬][৭]

হাওড়া ময়দান স্টেশনে কাজ চলছে।

ইঁদুর যেমন মাটির নিচে গর্ত তৈরি করার জন্যে মাটির ভিতর থেকে মুখে করে নতুন মাটি কেটে টুকরোগুলো তিল তিল করে ঠিক গর্তের মুখে ডাঁই করে, ঠিক একই পদ্ধতিতে গঙ্গার তলা থেকে মাটি কেটে ট্রলিতে করে সেই মাটি অস্থায়ী লাইন দিয়ে একটাই মূল গর্তের মুখ হাওড়া ময়দান দিয়ে বের করা হয়েছে। আর এই পুরো কর্মকাণ্ডতেই ট্রান্সটেলেস্ট্রয়-অ্যাফকন জয়েন্ট ভেঞ্চারের বাহাদুর ইঞ্জিনিয়ারগণ এবং তাদের সুযোগ্য কর্মীগোষ্ঠী বিভিন্ন ধরনের মেশিনারি ব্যবহার করেছেন। কেএমআরসিএল প্রকল্পের চারিদিকে একটা স্লোগান দিয়েছে : "টুডে'জ পেইন, টুমরো'জ গেইন" আর্থাৎ যাকে বলে, "আজকের দুখ, আগামিতে সুখ" ! হাওড়া ময়দানের মেট্রো ওয়ার্কশপে দিন-রাত এক করে, মানুষজন, গাড়িঘোড়া যাতায়াত যথারীতি বজায় রেখেই ভূতলের যাবতীয় তোলা মাটি পেলোডার দিয়ে লরি বোঝাই করে শহরের আশেপাশে পাচার করা হয়েছে। মেট্রোর সুড়ঙ্গের দেওয়াল তৈরির 'জ্যা'-এর মতো জমানো কংক্রিট ব্লকগুলো একটা একটা করে মাটির তলায় ঢোকানোর কাজ দ্রুতগতিতে চলেছে। এর মধ্যে অবশ্য ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের শেষে ব্র্যাবোর্ন রোডে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল পর পর তিনদিন। কেননা, তখন ব্র্যাবোর্ন রোডের নিচে ভূগর্ভে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর কাজ চলছিল। এছাড়াও মাঝে মধ্যে হাওড়া ময়দানে রাস্তা ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে নিবিড় কাজের প্রয়োজনে। এখন কাজ দ্রুতগতিতে হচ্ছে প্রকল্প তাড়াতাড়ি শেষ করার তাগিদে।

গঙ্গার তলা দিয়ে সুড়ঙ্গ নির্মাণ শেষ হয় ২০১৭ খ্রস্টাব্দের জুন মাসের মাঝামাঝি। গঙ্গার নিচে যে দুটি সুড়ঙ্গ তৈরি হয়েছে, তার একটির নাম ‘রচনা’, অন্যটির নাম ‘প্রেরণা’। দুটি সুড়ঙ্গের মধ্যে রচনার কাজ আগে শেষ হয়েছে। এক-একটি সুড়ঙ্গ ৫২০ মিটার লম্বা। গঙ্গার তলদেশের ৩০ মিটার নিচে সুড়ঙ্গ কাটার সময়ে বহু জিনিস উদ্ধার করেছেন কেএমআরসিএল-এর ইঞ্জিনিয়ারেরা। সেগুলির মধ্যে রয়েছে কামানের গোলা, ডুবে যাওয়া জাহাজের খোলের অংশ প্রভৃতি।[৮]

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

  • দৈর্ঘ্য: প্রায় ১১ কিলোমিটার (৬.৮ মা)
  • পরিধি: বাইরের পরিধি হবে ৬.১০ মিটার এবং ভিতরের পরিধি হবে ৫.৫৫ মিটার।
  • স্টেশন: ৬টি।

গঙ্গার নিচের সুড়ঙ্গ[সম্পাদনা]

  • গঙ্গার নিচে ৫২০ মিটার (১,৭১০ ফু) দীর্ঘ সুড়ঙ্গ নির্মিত হবে।
  • গঙ্গার গভীরতা ১৩ মিটার মতো। তারও ১৩ মিটার নিচে দিয়ে যাবে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সুড়ঙ্গ।
  • গঙ্গার নিচে থাকা সুড়ঙ্গের বাইরের পরিধি হবে ৬.১০ মিটার এবং ভিতরের পরিধি হবে ৫.৫৫ মিটার।

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "জলের নিচে ছুটবে মেট্রো! গঙ্গার তলায় কীভাবে তৈরি হচ্ছে সুড়ঙ্গ--১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে দেশের প্রথম মেট্রো রেল চালু হয়েছিল কলকাতায়। এবারে আরো এক ইতিহাসের মুখে দাঁড়িয়ে কলকাতা"এবেলা 
  2. "এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে নদী ছুঁতে পারে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সুড়ঙ্গ"এবেলা 
  3. "ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো গঙ্গায় সুড়ঙ্গের কাজ শুরুই হচ্ছেনা তিন মাসের আগে"এবেলা [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. "ইস্ট-ওয়েস্ট প্রথম শিয়ালদহ থেকে সেক্টর ৫" 
  5. "ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রায় শেষ সুড়ঙ্গ, তবু সমস্যা"আনন্দবাজার প্রত্রিকা  line feed character in |শিরোনাম= at position 20 (সাহায্য)
  6. "সাততলা বাড়ির সমান নিচে দিয়ে এগোচ্ছে সুড়ঙ্গ, গঙ্গা আর মাত্র ৩০০ মিটার!"আনন্দবাজার প্রত্রিকা 
  7. "ইস্ট-ওয়েস্টের গঙ্গার তলদেশ স্পর্শ করল" 
  8. "গঙ্গার নিচে প্রস্তুত সুড়ঙ্গ"