আব্দুল জব্বার (কণ্ঠশিল্পী)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
অন্য ব্যবহারের জন্য, দেখুন আবদুল জব্বার (দ্ব্যর্থতা নিরসন)
আবদুল জব্বার
Abdul Jabbar
জন্ম মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার
(১৯৩৮-১১-০৭) ৭ নভেম্বর ১৯৩৮ (বয়স ৭৮)
কুষ্টিয়া জেলা, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান বাংলাদেশ)
জাতীয়তা বাংলাদেশী
জাতিসত্তা বাঙালি
পেশা সঙ্গীত শিল্পী
ধর্ম ইসলাম
দাম্পত্য সঙ্গী শাহীন জব্বার
রোকেয়া জব্বার মিতা (বি. ২০০৮-২০১৩)[১]
সন্তান মিথুন জব্বার
পুরস্কার একুশে পদক
স্বাধীনতা পুরস্কার

আব্দুল জব্বার (জন্ম:) বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী। আব্দুল জব্বার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে প্রচারিত "সালাম সালাম হাজার সালাম", "জয় বাংলা বাংলার জয়"সহ এরকম আরো অনেক উদ্বুদ্ধকরণ গানের গায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

তার গাওয়া "তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়", "সালাম সালাম হাজার সালাম" ও "জয় বাংলা বাংলার জয়" গান তিনটি ২০০৬ সালে মার্চ মাস জুড়ে বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের বিচারে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি গানের তালিকায় স্থান লাভ করেছে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত দুটি সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক (১৯৮০) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে (১৯৯৬) ভূষিত হন।[২]

প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

আব্দুল জব্বার ১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।[৩][২]

কর্মজীবন[সম্পাদনা]

জব্বার ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন। তিনি ১৯৬২ সালে প্রথম চলচ্চিত্রের জন্য গান করেন। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভির নিয়মিত গায়ক হয়ে উঠেন। ১৯৬৪ সালে জহির রায়হান পরিচালিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গিন চলচ্চিত্র সংগম-এর গানে কণ্ঠ দেন। ১৯৬৮ সালে এতটুকু আশা ছবিতে সত্য সাহার সুরে তার গাওয়া "তুমি কি দেখেছ কভু" গানটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৬৮ সালে পীচ ঢালা পথ ছবিতে রবীন ঘোষের সুরে "পীচ ঢালা এই পথটারে ভালবেসেছি" এবং ঢেউয়ের পর ঢেউ ছবিতে রাজা হোসেন খানের সুরে "সুচরিতা যেওনাকো আর কিছুক্ষণ থাকো" গানে কণ্ঠ দেন। তার একটি কালজয়ী গান ১৯৭৮ সালের সারেং বৌ ছবির আলম খানের সুরে "ও..রে নীল দরিয়া"।[৪]

পারিবারিক জীবন[সম্পাদনা]

আব্দুল জব্বারের প্রথম স্ত্রী শাহীন জব্বার। শাহীন একজন গীতিকার। তার লেখা গীতে কণ্ঠ দিয়েছেন আব্দুল জব্বার, সুবীর নন্দী, ফাতেমা-তুজ-জোহরার মত সঙ্গীতশিল্পীরা। তাদের সন্তান মিথুন জব্বারও সঙ্গীত বিষয়ে আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন। তিনি প্রথমে গান শিখেছেন বুলবুল ললিতকলা একাডেমির প্রধান ওস্তাদ ফজলুল হক এবং পরে ওস্তাদ করিম শাহাবুদ্দীনের কাছে।[৪] ২০১৩ সালের বৈশাখে তার স্মৃতির বাড়ি নামে একটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয় এবং আগস্টে অ্যালবামটির ডিভিডি প্রকাশিত হয়।[৫] জব্বারের দ্বিতীয় স্ত্রী রোকেয়া জব্বার মিতা। মিতার সাথে জব্বারের পরিচয় হয় একটি মাজারে এবং সেই পরিচয়ের সুবাদের তাদের সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায়। মিতা ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৩ পারিবারিক ঝগড়ার জের ধরে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।[৬][৭] দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ-এ ভর্তি করা হয়। চারদিন পর ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৩ তিনি মৃত্যুবরণ করেন।[১]

ডিস্কোগ্রাফি[সম্পাদনা]

প্লেব্যাক[সম্পাদনা]

পুরস্কার ও সম্মাননা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "চলে গেলেন কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বারের স্ত্রী মিতা"। ১২-৩০-২০১৩। সংগৃহীত ১২ জানুয়ারি, ২০১৭ 
  2. "বিজয় দিবস উপলক্ষে বেতারে আব্দুল জব্বারের গান"দ্য ডেইলি স্টার। ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৬। সংগৃহীত ১২ জানুয়ারি, ২০১৭ 
  3. "আজ কালজয়ী গানের স্রষ্টা মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার এর শুভ জন্মদিন"সঙ্গীতাঙ্গন। ৭ নভেম্বর, ২০১৬। সংগৃহীত ১২ জানুয়ারি, ২০১৭ 
  4. বিউটি, রওশন আরা (১৫ নভেম্বর, ২০১২)। "কালজয়ী গানের স্রষ্টা মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার"দৈনিক আজাদী। সংগৃহীত ১২ জানুয়ারি, ২০১৭ 
  5. "আব্দুল জব্বার পুত্রের অ্যালবাম প্রকাশনা"দৈনিক ইত্তেফাক। ৬ আগস্ট, ২০১৩। সংগৃহীত ১২ জানুয়ারি, ২০১৭ 
  6. "কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বারের স্ত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা"রাইজিংবিডি ডট কম। ২০১৩-১২-২৬। সংগৃহীত ১২ জানুয়ারি, ২০১৭ 
  7. "আব্দুল জব্বারের স্ত্রী মিতার আত্মহত্যার চেষ্টা"যায়যায়দিন। ডিসেম্বর ২৭, ২০১৩। সংগৃহীত ১২ জানুয়ারি, ২০১৭ 

বহি:সংযোগ[সম্পাদনা]