নকীব খান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

নকীব খান (জন্মঃ ১৮ মার্চ ১৯৫৩) [১] বাংলাদেশের একজন গায়ক, গীতিকার এবং সুরকার। ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘তুমি বললে’, ‘ভাল লাগে জোসনা’, ‘তোরে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে’, ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট’, এমন অসংখ্য গানের সুরকার তিনি।[২][৩]

জন্ম[সম্পাদনা]

নকিব খান ১৮ মার্চ ১৯৫৩ সালে চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম আইয়ুব খান। তিন ভাইয়ের সবাই ব্যান্ড সঙ্গীতের সাথে যুক্ত। বড় ভাই একসময়ের সঙ্গীত জগতের খুব চেনা মানুষ সুরকার ও গীতিকার জালাল উদ্দিন খান জিল্লু এবং ছোট ভাই শাহবাজ খান পিলু’ও ড্রামার, ভোকালিষ্ট ও গীতিকার ।[৪]

শিক্ষা জীবন[সম্পাদনা]

নকিব খান চট্টগ্রামের কাজেম আলী স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাউন্টিং বিষয়ে স্নাতক পাশ করেন।[৪]

সঙ্গীত জীবন[সম্পাদনা]

কৈশোরেই ব্যান্ড সংগীতের সাথে জড়িয়ে পড়েন নকীব খান। `বালার্ক` নামের একটি ব্যান্ডে গায়ক ও পিয়ানিস্ট হিসেবে তার প্রথম আত্নপ্রকাশ। কিছু দিন গাওয়ার পর বালার্ক ছেড়ে যোগ দেন সোলস্‌-এ। সোলস্‌ হলো স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে সাহেদ-উল-আলম এর নেতৃত্বে নতুন নতুন স্বপ্নে বিভোর কিছু তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত “সুরেলা” নামের একটি অর্কেস্ট্রা দল। ১৯৭৪ সালে যার নাম পরিবর্তিত করে “সোলস্” রাখা হয়। সাজেদ, লুলু ও রনি তখন এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। প্রখ্যাত শিল্পী তপন চৌধুরী ও আহমেদ নেওয়াজ এরপর অতি অল্প সময়ের মধ্যে ১৯৭৪ সালে “সোলস্” এ যোগ দেন নকীব খান। নকীব খান যোগ দেওয়ার পর নিজেদের সুর ও কথায় গান কম্পোজ শুরু হয়।[৪][৫]

সোলস-এর সাথে কাটিয়েছেন প্রায় ১০ বছর। এরপর বাবা মারা যাওয়ার পর ব্যক্তিগত কারণে চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন এবং গড়ে তোলেন নিজের ব্যান্ড “রেঁনেসা”। ১৯৮৫ সালে নকীব খান সোলস ছেড়ে ঢাকায় আসার পর এই ব্যান্ড গঠন করেন। জন্মের তিন বছর পর ১৯৮৮ সালে দলটির প্রথম অ্যালবাম “রেনেসাঁ” বাজারে আসে। প্রথম অ্যালবামের নিজেদের প্রতিভার কথা জানান দিতে সক্ষম হয় দলটি। ১৯৯৩ সালে “তৃতীয় বিশ্ব” নামে দ্বিতীয়, ১৯৯৮ সালে “’৭১-এর রেনেসাঁ” নামে তৃতীয় এবং ২০০৪ সালে “একুশ শতকের রেনেসাঁ” নামে চতুর্থ অ্যালবামটি বাজারে আসে।[৬]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

১৯৯৩ সালে নুসরাত খানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তিনি ১ কন্যা ও পুত্র সন্তানের জনক। মেয়ের নাম ফাবিহা খান এবং ছেলের নাম জারিফ খান। পেশাগত জীবনে নকীব খান ‘নেসলে বাংলাদেশ’-এর কর্পোরেট বিষয়ক পরিচালক হিসেবে কর্মরত। এর আগে চাকরি জীবনের শুরুতে ‘ফিলিপস বাংলাদেশ লিমিটেড’ এবং ‘বিওসি বাংলাদেশ লিমিটেড’-এ চাকরি করেছেন প্রায় আট বছর।[৭]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. শুভ জন্মদিন নকীব খান, এনটিভি বিডি ডটকম, ১৮ মার্চ ২০২০
  2. jugantor.com। "জনপ্রিয়তার চেয়ে মানুষের ভালোবাসা বড় : নকীব খান"jugantor.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১২-২৬ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  3. "নকীব খানের ছিমছাম জীবন"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-১২-২৬ 
  4. "লোহাগাড়ায় এক পরিবারের দেশের বিখ্যাত তিন ব্যান্ড শিল্পী, (Legend) কিংবদন্তী'র কথাঃ – লোহাগাড়াবিডি.কম"lohagarabd.com [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  5. jugantor.com। "জনপ্রিয়তার চেয়ে মানুষের ভালোবাসা বড় : নকীব খান"jugantor.com [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  6. "আসছে রেনেসাঁর পঞ্চম অ্যালবাম"। ২০১৬-০৬-২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  7. "শুভ জন্মদিন : নকীব খান"www.bhorerkagoj.com। ২৯ মে ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা।