সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

সত্যজিৎ রায় প্রধানতঃ চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবে পরিচিত। কিন্তু চলচ্চিত্র জগতে তিনি লেখক হিসাবেও সুপরিচিত - গল্প লেখক ও চিত্রনাট্য লেখক দুই ভাবেই। এছাড়াও বহু চলচ্চিত্রের তিনি সুরকার এবং প্রযোজকও ছিলেন। আরো কিছু কিছু চলচ্চিত্র তার আরো নানান ভুমিকা ছিল। তাঁর প্রধান চলচ্চিত্রগুলো এখানে তালিকাভুক্ত করা হল।

পরিচালনা[সম্পাদনা]

প্রযোজনা[সম্পাদনা]

লেখক[সম্পাদনা]

কাঞ্চনজংহা
নায়ক
আগন্তউক
হীরক রাজার দেশে
শাখাপ্রশাখা
গুপি বাঘা ফিরে এল
সোনার কেল্লা

সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার[সম্পাদনা]

অনির্মিত চলচ্চিত্র[সম্পাদনা]

১৯৬৭ সালে সত্যজিৎ দি এলিয়েন নামের একটি ছবির জন্য চিত্রনাট্য লেখেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের যৌথ প্রযোজনার এই ছবিটির প্রযোজক ছিল কলাম্বিয়া পিকচার্স এবং পিটার সেলার্স ও মার্লোন ব্রান্ডো ছবিটির প্রধান অভিনেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু চিত্রনাট্য লেখা শেষ করার পর সত্যজিৎ জানতে পারেন যে সেটির স্বত্ব তাঁর নয় ও এর জন্য তিনি কোন সম্মানীও পাবেন না। পরবর্তীতে মার্লোন ব্র্যান্ডো প্রকল্পটি ত্যাগ করেন। তাঁর স্থানে জেমস কোবার্ন-কে আনার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু ততদিনে সত্যজিতের আশাভঙ্গ ঘটে এবং তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন। পরে ৭০ ও ৮০-র দশকে কলাম্বিয়া বহুবার প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ১৯৮২ সালে যখন ই.টি. দি এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল মুক্তি পায়, তখন অনেকেই ছবিটির সাথে সত্যজিতের লেখা চিত্রনাট্যের মিল খুঁজে পান। সত্যজিৎ ১৯৮০ সালে সাইট অ্যান্ড সাউন্ড ম্যগাজিনে লেখা একটি ফিচারে প্রকল্পটির ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলেন ও পরে সত্যজিতের জীবনী লেখক অ্যান্ড্রু রবিনসন এ ঘটনার ওপর আরও বিস্তারিত লেখেন (১৯৮৯ সালে প্রকাশিত দি ইনার আই-এ)। সত্যজিৎ বিশ্বাস করতেন যে তাঁর লেখা দি এলিয়েন-এর চিত্রনাট্যটির মাইমোগ্রাফ কপি সারা যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে না পড়লে স্পিলবার্গের ছবিটি বানানো হয়ত সম্ভব হত না।

চলচ্চিত্রসমূহের তালিকা[সম্পাদনা]

পরিচালক হিসেবে[সম্পাদনা]

বছর ছবি পরিচালক কাহিনিকার মন্ত্রব্য
১৯৫৫ পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে এবং ১৯৯১ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করে। ছবিটি অপু ত্রয়ি হিসেবে পরিচিত।
১৯৫৭ অপরাজিত ছবিটি অপু ত্রয়ি হিসেবে পরিচিত
১৯৫৮ পরশপাথর অপু ত্রিলজির পরে সত্যজিৎ রায়ের প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র
১৯৫৮ জলসাঘর তারাশংকর বন্দোপাধ্যায়
১৯৫৯ অপুর সংসার ছবিটি অপু ত্রয়ি হিসেবে পরিচিত
১৯৬০ দেবী
১৯৬১ তিন কন্যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১০০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মুক্তি পায়
১৯৬১ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৯৬২ কাঞ্চনজঙ্ঘা তারাশংকর বন্দোপাধ্যায় উপন্যাস থেকে নেয়া
১৯৬২ অভিযান
১৯৬৩ মহানগর নরেন্দ্রনাথ মিত্র জয়া বচ্চন প্রথম এই ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে আসেন
১৯৬৪ চারুলতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় গল্প নষ্টনীড় অবলম্বনে এর চিত্রনাট্য রচিত হয়েছে
১৯৬৫ Two দূরদরশনের জন্য নিরমিত
১৯৬৫ কাপুরুষ প্রেমেন্দ্র মিত্র
১৯৬৬ মহাপুরুষ
১৯৬৬ নায়ক
১৯৬৭ চিড়িয়াখানা
১৯৬৯ গুপী গাইন বাঘা বাইন
১৯৭০ অরণ্যের দিনরাত্রি
১৯৭১ প্রতিদ্বন্দ্বী কলকাতা ত্রয়ী
১৯৭১ সীমাবদ্ধ কলকাতা ত্রয়ী
১৯৭১ সিকিম
১৯৭২ দ্য ইনার আই
১৯৭৩ অশনি সংকেত
১৯৭৪ সোনার কেল্লা ফেলুদা সিরিজ
১৯৭৬ জনঅরণ্য কলকাতা ত্রয়ী
১৯৭৬ বালা
১৯৭৭ শতরঞ্জ কি খিলাড়ি উর্দু চলচ্চিত্র
১৯৭৮ জয় বাবা ফেলুনাথ ফেলুদা সিরিজ
১৯৮০ হীরক রাজার দেশে সন্দ্বীপ রায়
১৯৮১ পিকু দূরদরশনের জন্য নিরমিত
১৯৮১ সদগতি দূরদরশনের জন্য নিরমিত
১৯৮৪ ঘরে বাইরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
১৯৮৭ সুকুমার রায় তথ্য চিত্র
১৯৮৯ গণশত্রু হেনরিক ইবসেন হেনরিক ইবসেনের An Enemy of the People অবলম্বনে তৈরি করা।
১৯৯০ শাখা প্রশাখা
১৯৯১ আগন্তুক তার পরিচালনায় শেষ ছবি

লেখক হিসেবে[সম্পাদনা]