সন্দীপ রায়
| সন্দীপ রায় | |
|---|---|
| 215px সন্দীপ রায় |
|
| জন্ম | সন্দীপ রায় ৮ই সেপ্টেম্বর, ১৯৫৪ কলকাতা, পশ্চিম বাংলা, ভারত |
| জাতীয়তা | ভারতীয় |
| বংশোদ্ভূত | পরিচালক |
সন্দীপ রায় ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক। তিনি বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচলক সত্যজিৎ রায় এর একমাত্র পুত্র। তাঁর মাতার নাম বিজয়া রায়। সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা গোয়েন্দা উপন্যাস সিরিজের কাহিনী অবলম্বনে তিনি কয়েকটি সিনেমা তৈরি করেছেন।
পরিচ্ছেদসমূহ |
ব্যাক্তিজীবন [সম্পাদনা]
তিনি ২২ বছর বয়সে তাঁর চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন শতরঞ্জ কি খিলাড়ী ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে। এছাড়াও তিনি তাঁর বাবার বিভিন্ন ছবিতে কাজ করেন এমনকি ফোটোগ্রাফার হিসেবেও। তাঁর প্রথম পরিচালকের কাজ ফটিকচাঁদ ছবিতে। এই ছবি আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবে পুরষ্কার পায়। তিনি একজন ফোটোগ্রাফার হিসেবেও সুখ্যাতি অর্জন করেন। সত্যজিৎ রায়ের শেষ ৩টি চলচ্চিত্রে তিনি ফোটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করেন। গনশত্রু (The Enemy of the People), শাখা-প্রশাখা (The Branches of the Tree), আগন্তুক (The Stranger) সেই ৩টি ছবি। তিনি ছোটদের ম্যাগাজিন সন্দেশ-এ প্রকাশক হিসেবে কাজ করেন ও করছেন। এই ম্যাগাজিন প্রকাশ শুরু হয় প্রপিতামহ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী দ্বারা। এরপর তাঁর পিতামহ সুকুমার রায় ও বাব সত্যজিৎ রায় এই ম্যাগাজিনের হাল ধরেন। ১৯৯২ সালে বাবার মৃত্যুর পর সন্দীপ রায় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং ২০০৩ সালে হতে বর্তমান পর্যন্ত তিনি এই ম্যাগাজিনের সম্পাদক। তিনি বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদার অনেক সিনেমার কাজ করেন। তিনি দ্বীপ প্রকাশন হতে প্রকাশিত আমি আর ফেলুদা বইয়ের লেখক। এই বইটি কলকাতা বইমেলার বেস্ট সেলার হয়। এই বইটি সত্যজিৎ রায়ের লেখা একেই বলে শুটিং বইয়ের স্বাদ বহন করে। এই বইয়ে তাঁর নির্মিত ফেলুদার নির্মানের গল্প রয়েছে। তিনি ১৯৮৯ সালে কিশোর কুমার-এর উপর প্রামান্যচিত্র নির্মান করেন। ২০০৩ সালে তিনি তাঁর বাবার লেখা ১৯৬২ সালে প্রকাশিত বঙ্কুবাবুর বন্ধু গল্পের উপর ভিত্তি করে কাজ করা শুরু করেন। এই টেলিছবি কৌশিক সেন পরিচালনা করেন। এই ছবি ২০০৬ সালে টিভিতে দেখানো হয়। তিনি তাঁর নিজের লেখা কাহিনী হিটলিস্ট-এর উপর ভিত্তি করে ২০০৯ সালে সিনেমা নির্মান করেন। বর্তমানে তিনি তাড়িনীখুড়োর উপর সিনেমা বানানোর কাজ করছেন। তাড়িনীখুড়ো সত্যজিৎ রায়ের লেখা এক জনপ্রিয় চরিত্র। ২১শে ডিসেম্বর, ২০১২তে তাঁর নির্মান করা যেখানে ভূতের ভয় মুক্তি পেয়েছে। এতে রয়েছে সত্যজিৎ রায়ের লেখা ২টি গল্পঃ অনাথবাবুর ভয়, ব্রাউন সাহেবের বাড়ি ও শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায়ের লেখা ১টি গল্পঃ ভূত-ভবিষ্যত। তিনি ২০১৩ সালের দিকে প্রোফেসর শঙ্কুর ওপর ছবি নির্মানের চিন্তা করছেন। প্রোফেসর শঙ্কু সত্যজিৎ রায়ের লেখা এক জনপ্রিয় চরিত্র।
সিনেমা [সম্পাদনা]
- ফটিকচাঁদ (১৯৮৩)
- বঙ্কুবাবুর বন্ধু (২০০৩)
- সত্যজিতের গপ্প
- একের পিঠে দুই
- সত্যজিতের প্রিয় গল্প
- সত্যজিত রায় প্রেসেন্টস (১৯৮৬)
- কিশোর কুমার (১৯৮৮)
- গুপি বাঘা ফিরে এলো (১৯৯৩)
- উত্তরান (১৯৯৪)
- টার্গেট (১৯৯৫)
- ফেলুদা ৩০ (১৯৯৬)
- বাক্স রহস্য (১৯৯৬)
- সত্যজিতের গপ্পো (১৯৯৯; ৫টি ফেলুদা ও ৬টি গল্প নিয়ে)
- বোম্বাইয়ের বোম্বেটে (২০০৩)
- নিশিযাপন (২০০৫)
- কৈলাসে কেলেঙ্কারী (২০০৭)
- টিনটোরেটোর যিশু (২০০৮)
- হিটলিস্ট (২০০৯)
- গোরস্থানে সাবধানে! (২০১০)
- রয়েল বেঙ্গল রহস্য (২০১১)
- যেখানে ভূতের ভয় (২০১২)
বই [সম্পাদনা]
- আমি আর ফেলুদা (২০০৬)
পুরষ্কার [সম্পাদনা]
- ৩৪তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার- হিমঘর-এর জন্য
মন্তব্য [সম্পাদনা]
- সত্যজিৎ রায় বলেন যে তাঁর শ্রেষ্ঠ সহকারী ছিল তাঁর ছেলে সন্দীপ রায়। তিনি বলেছেন,
গুপি বাঘা ফিরে এলো ছবির বেশিরভাগ কৃতিত্ব সন্দীপের। শুধু গল্প আর কিছু গান আমার। চিত্রনাট্য, পরিচালনা, ছবি তোলা-এ সবই সন্দীপের। ক্যামেরা পরিচালনার দিক দিয়ে সে বিশেষ পারদর্শী। এ কাজে ওর দক্ষতা আমার চেয়ে বেশি।