প্রোফেসর শঙ্কু

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু
'প্রোফেসর শঙ্কু' চরিত্র
11-artwork-by-ray-for-one-of-his-short-stories-16.jpg
প্রোফেসর শঙ্কু ও খোকা গল্পের সত্যজিৎ রায় কৃত অলংকরণ
প্রথম উপস্থিতি ১৯৬১
স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়
তথ্যাদি
লিঙ্গ পুরুষ
পেশা বিজ্ঞানী, আবিষ্কারক
পরিবার ত্রিপুরেশ্বর শঙ্কু (পিতা)
বটুকেশ্বর শঙ্কু (অতিবৃদ্ধ প্রপিতামহ)
জাতীয়তা ভারতীয়

প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় চরিত্র। ১৯৬১ সালে সত্যজিৎ রায় এই চরিত্রটি সৃষ্টি করেন। প্রোফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু প্রোফেসর শঙ্কু নামেই সমধিক পরিচিত। তিনি একজন বৈজ্ঞানিক ও আবিষ্কারক। তাঁর বিশেষত্ব হল, মূলত পদার্থবিজ্ঞানী হলেও বিজ্ঞানের সকল শাখায় তাঁর অবাধ গতি; তিনি ৬৯টি ভাষা জানেন ও হায়ারোগ্লিফিক পড়তে পারেন; এবং বিশ্বের সকল দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতি ও বিশ্বসাহিত্য বিষয়ে তাঁর সম্যক ধারণা আছে।[১] প্রোফেসর শঙ্কু তীক্ষ্ণবুদ্ধি, নির্লোভ, সৎ ও স্বদেশপ্রেমিক; ভারতের সনাতন ঐতিহ্যসম্পর্কে তিনি শ্রদ্ধাবান এবং একই সঙ্গে শ্রদ্ধা করেন সমগ্র বিশ্বের প্রাচীন সাহিত্য ও শিল্পকেও।[১]

সত্যজিৎ রায় প্রোফেসর শঙ্কু সিরিজে মোট ৩৮টি সম্পূর্ণ ও ২টি অসম্পূর্ণ গল্প লিখেছেন।[২] এই সিরিজের প্রথম গল্প ব্যোমযাত্রীর ডায়রি ১৯৬১ সালে সন্দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।[২] এই গল্পটি হালকা চালে লেখা এবং এটি লেখার সময় লেখক প্রোফেসর শঙ্কু চরিত্রটি নিয়ে সিরিজ করার কথা ভাবেননি।[২] ১৯৬৪ সালে সন্দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত দ্বিতীয় শঙ্কু-কাহিনি প্রোফেসর শঙ্কু ও হাড় থেকে যথাযথভাবে শঙ্কু সিরিজের সূচনা হয়।[২] ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত প্রোফেসর শঙ্কু শঙ্কু সিরিজের প্রথম গল্পগ্রন্থ। ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে শঙ্কু সিরিজের মোট আটটি গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে শঙ্কুসমগ্র গ্রন্থে এই সিরিজের সকল গল্প সংকলিত হয়।[৩]

শঙ্কু সিরিজের গল্পগুলি প্রোফেসর শঙ্কুর জবানিতে দিনলিপির আকারে লিখিত। গল্পগুলির পটভূমি ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। প্রোফেসর শঙ্কুর নিবাস তদনীন্তন বিহারের (অধুনা ঝাড়খণ্ড) গিরিডি শহরে।[১] বাড়িতে তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী নিউটন নামে একটি পোষা বিড়াল ও তাঁর চাকর প্রহ্লাদ। বিশ্বের নানান দেশের বিজ্ঞানীরা তাঁর বন্ধু। প্রতিবেশী অবিনাশ চট্টোপাধ্যায় ও হিতাকাঙ্ক্ষী নকুড়বাবু তাঁর কোনো কোনো অভিযানে সঙ্গী হয়েছেন। সমগ্র শঙ্কু সিরিজে প্রোফেসর শঙ্কুর ৭২টি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের কথা জানা যায়।[৪] সত্যজিৎ রায় একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, প্রোফেসর শঙ্কু চরিত্রটি সৃষ্টির পিছনে প্রধান প্রেরণা ছিল তাঁর পিতা সুকুমার রায়ের গল্প হেসোরাম হুঁশিয়ারের ডায়রি[২] অন্যমতে, এই চরিত্রে সুকুমার রায়ের 'নিধিরাম পাটকেল' চরিত্রটির ছায়াও বর্তমান।[২]

চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

প্রোফেসর শঙ্কুর জন্মতারিখ ১৬ জুন বলে উল্লিখিত হয়েছে। তাঁর পিতা ত্রিপুরেশ্বর শঙ্কু ছিলেন গিরিডির খ্যাতনামা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক। তিনি গরিব মানুষের বিনা পয়সায় চিকিৎসা করতেন। মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে তিনি মারা যান। শঙ্কুকে তিলু বলে ডাকতেন (নকুড়বাবু এই সূত্রে শঙ্কুকে তিলুবাবু বলে সম্বোধন করতেন)। শঙ্কু ছিলেন অবিবাহিত। তাঁর অপর কোনো আত্মীয়ের নাম সিরিজে উল্লিখিত হয়নি।[১] কেবল প্রোফেসর শঙ্কু ও ভূত গল্পে তাঁর অতিবৃদ্ধ প্রপিতামহ বটুকেশ্বর শঙ্কুর উল্লেখ আছে।[১][৫]

ছাত্র হিসেবে শঙ্কু ছিলেন অসাধারণ। জীবনে সর্বদাই প্রথম হতেন। গিরিডির স্কুল থেকে মাত্র ১২ বছর বয়সে ম্যাট্রিক পাস করেন শঙ্কু। এরপর ১৪ বছর বয়সে কলকাতার কলেজ থেকে আইএসসি এবং ১৬ বছর বয়সে ফিজিক্স কেমিস্ট্রিতে ডবল অনার্স সহ বিএসসি পাস করেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন।[১]

বিজ্ঞানী হিসেবেও শঙ্কুর খ্যাতি বিশ্বজোড়া। সুইডিশ আকাদেমি অফ সায়েন্স তাঁকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করেছে। ব্রাজিলের রাটানটান ইনস্টিটিউট থেকে পেয়েছেন ডক্টরেট। পাঁচটি মহাদেশের বিজ্ঞানীরা আবিষ্কারক হিসেবে তাঁকে স্থান দিয়েছেন টমাস আলভা এডিসনের পরেই। স্থায়ী নিবাস গিরিডি শহরে হলেও কর্মসূত্রে যেতে হয়েছে কলকাতা সহ ভারতের নানা স্থানে। গেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, জার্মানি, জাপান, স্পেন, মিশর, নরওয়ে, সুইডেন, তিব্বতে; অভিযান চালিয়েছেন সাহারা মরুভূমি, আফ্রিকার বনভূমি, সমুদ্রের তলদেশ, কয়েকটি অজানা দ্বীপ এমনকি মঙ্গল গ্রহেও।[১]

প্রোফেসর শঙ্কু তীক্ষ্ণবুদ্ধি, নির্লোভ ও সৎ। কিছুটা আত্মভোলা প্রকৃতির মানুষ। তাঁর চরিত্রে বিশেষভাবে লক্ষণীয় এক ঋষিসুলভ স্থৈর্য ও সংযম। তিনি স্বদেশপ্রেমিক; বেদ, উপনিষদ, আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা গভীর। আবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিল্প ও সাহিত্যের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল। তিনি জ্যোতিষে বিশ্বাস না করলেও ভূতপ্রেত ও তন্ত্রমন্ত্রে বিশ্বাস করেন।[১]

প্রোফেসর শঙ্কু সিরিজ[সম্পাদনা]

গ্রন্থতালিকা[সম্পাদনা]

# বই প্রকাশক প্রকাশকাল সূচি
প্রোফেসর শঙ্কু নিউ স্ক্রিপ্ট, কলকাতা ১৯৬৫ "ব্যোমযাত্রীর ডায়রি", "প্রোফেসর শঙ্কু ও হাড়", "প্রোফেসর শঙ্কু ও ম্যাকাও", "প্রোফেসর শঙ্কু ও ঈজিপ্সীয় আতঙ্ক",
"প্রোফেসর শঙ্কু ও আশ্চর্য পুতুল", "প্রোফেসর শঙ্কু ও গোলক-রহস্য", "প্রোফেসর শঙ্কু ও চী-চিং"।
দ্বিতীয় সংস্করণে যুক্ত হয় "প্রোফেসর শঙ্কু ও খোকা" ও "প্রোফেসর শঙ্কু ও ভূত" গল্পদুটি।
প্রোফেসর শঙ্কুর কাণ্ডকারখানা আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৭০ "প্রোফেসর শঙ্কু ও রোবু", "প্রোফেসর শঙ্কু ও কোচাবাম্বার গুহা", "প্রোফেসর শঙ্কু ও রক্তমৎস্য রহস্য",
"প্রোফেসর শঙ্কু ও গোরিলা", "প্রোফেসর শঙ্কু ও বাগদাদের বাক্স"
সাবাস প্রোফেসর শঙ্কু আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৭৪ "আশ্চর্য প্রাণী", "স্বপ্নদ্বীপ", "মরুরহস্য", "কর্ভাস", "ডঃ শেরিং-এর স্মরণশক্তি"
মহাসংকটে শঙ্কু আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৭৭ "শঙ্কুর শনির দশা", "শঙ্কুর সুবর্ণ সুযোগ", "হিপ্‌নোজেন"
স্বয়ং প্রোফেসর শঙ্কু আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৮০ "মানরো দ্বীপের রহস্য", "কম্পু", "একশৃঙ্গ অভিযান"
শঙ্কু একাই ১০০ আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৮৩ "মহাকাশের দূত", "শঙ্কুর কঙ্গো অভিযান", "নকুড়বাবু ও এল ডোরাডো", "প্রোফেসর শঙ্কু ও ইউ. এফ. ও."
পুনশ্চ প্রোফেসর শঙ্কু আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৯৩ "আশ্চর্জন্তু", "শঙ্কু ও আদিম মানুষ", "শঙ্কুর পরলোকচর্চা", "প্রোফেসর রণ্ডির টাইম মেশিন"
সেলাম প্রোফেসর শঙ্কু আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৯৫ "নেফ্রুদেৎ-এর সমাধি", "ডাঃ দানিয়েলের আবিষ্কার", "শঙ্কু ও ফ্রাঙ্কেনস্টাইন", "ডন ক্রিস্টোবাল্ডির ভবিষ্যৎবাণী",
"স্বর্ণপর্ণী", "ইনটেলেকট্রন" (অসম্পূর্ণ), "ড্রেক্সেল আইল্যান্ডের ঘটনা" (অসম্পূর্ণ)

গল্পতালিকা[সম্পাদনা]

প্রোফেসর শঙ্কু সিরিজের গল্পগুলি সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্যাদি নিচে দেওয়া হল:[২]

# গল্প প্রথম প্রকাশ গ্রন্থভুক্তি
ব্যোমযাত্রীর ডায়রি সন্দেশ, সেপ্টেম্বর-নভেম্বর ১৯৬১ প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৬৭
প্রোফেসর শঙ্কু তাঁর চাকর প্রহ্লাদ, পোষা বেড়াল নিউটন ও আবিষ্কৃত রোবট বিধুশেখরকে নিয়ে মঙ্গল গ্রহে যাত্রা করেন। সেখানে একদল স্থানীয় জীবের তাড়া খেয়ে তাঁরা চলে আসেন টাফা গ্রহে এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
প্রোফেসর শঙ্কু ও হাড় সন্দেশ, জানুয়ারি ১৯৬৪ প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৬৭
গিরিডিতে সদ্য-আগত এক সাধুবাবার অলৌকিক উপায়ে মৃতদেহে প্রাণ সঞ্চারের ক্ষমতা নিয়ে গবেষণা করতে গেলে শঙ্কুর উপর চটে তাঁর কাজ ভণ্ডুল করে চলে যান সাধুবাবা। তিন বছর পর নীলগিরির জঙ্গলে গবেষণাকালে সাধুবাবা শঙ্কুকে হত্যা করার জন্য একটি ব্রন্টোসরাসের কঙ্কালে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেন; কিন্তু ব্রন্টোসরাসটির আঘাতে নিজেই মারা যান।
প্রোফেসর শঙ্কু ও ঈজিপ্সীয় আতঙ্ক সন্দেশ, মে ১৯৬৪ প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৬৭
ইংরেজ প্রত্নতত্ত্ববিদ জেমস সামারটন মিশরে শঙ্কুকে একটি মমি উপহার দেন। নিজেকে মমিকৃত ব্যক্তির উত্তরসূরি দাবি করে একটি লোক গিরিডি অবধি এসে শঙ্কুকে আক্রমণ করে; কিন্তু নিউটনের আঁচড়ে রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয়। সামারটনের চিঠির মাধ্যমে শঙ্কু জানতে পারেন, কয়েক হাজার বছর আগে মমিকৃত ব্যক্তিটিও একইরকম রহস্যজনকভাবে বিড়ালের আঁচড়ে মারা গিয়েছিল।
প্রোফেসর শঙ্কু ও ম্যাকাও সন্দেশ, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৬৪ প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৬৭
চোর-বিজ্ঞানী গজানন তরফদার একটি অতিবুদ্ধিমান প্রশিক্ষিত ম্যাকাওয়ের সাহায্যে শঙ্কুর অদৃশ্য হবার ওষুধের ফরমুলা চুরি করেন এবং শঙ্কুর ল্যাবরেটরিতে ডাকাতি করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু পাখিটি নিজের প্রাণসংশয়ের আভাস পেলে তরফদারকে শঙ্কুর কাছে ধরিয়ে দিয়ে সে শঙ্কুর বাড়িতেই থেকে যায়।
প্রোফেসর শঙ্কু ও আশ্চর্য পুতুল সন্দেশ, মার্চ ১৯৬৫ প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৬৭
--
প্রোফেসর শঙ্কু ও গোলক-রহস্য সন্দেশ, মে ১৯৬৫ প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৬৭
অবিনাশবাবুর কুড়িয়ে পাওয়া আশ্চর্য গোলকটির মধ্যে কি এমন আছে, যাতে গোলকটির নিকটস্থ সকল প্রাণী মারা পড়ছে - এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে শঙ্কু জানতে পারেন, গোলকটি আসলে সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ টেরাটম্‌; এই গ্রহের উন্নত জীবেরা পৃথিবীর সকল জীবকে হত্যা করতে চাইছে। শঙ্কু এই গ্রহের সকল প্রাণী সহ গ্রহটি ধ্বংস করে দিতে বাধ্য হন।
প্রোফেসর শঙ্কু ও চী-চিং সন্দেশ, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৬৫ প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৬৭
--
প্রোফেসর শঙ্কু ও ভূত শারদীয় আশ্চর্য, অক্টোবর-নভেম্বর ১৯৬৬ প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৬৭
গিরিডিতে শঙ্কুর মতো দেখতে একটি "ভূতের" আবির্ভাব হয়। নিজের আবিষ্কৃত ভূত দেখার যন্ত্র নিও-স্পেকট্রোগ্রাফের সাহায্যে শঙ্কু জানতে পারেন, এই ভূত আর কেউ নন, চারশো বছর আগে মৃত তাঁর পূর্বপুরুষ তান্ত্রিক বটুকেশ্বর শঙ্কু, যিনি শঙ্কুর বিজ্ঞান ও নিজের তন্ত্রশক্তির সহযোগে কয়েকটি অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য কিছু সময়ের জন্য পার্থিব শরীর ধারণ করতে সক্ষম হন।
প্রোফেসর শঙ্কু ও খোকা সন্দেশ, জুলাই ১৯৬৭ প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৬৭
ঝাঝার পোস্ট অফিসের কর্মচারীর সাড়ে চার বছরের ছেলেটি মাথায় চোট পেয়ে অতিলৌকিক জ্ঞান ও দৃষ্টিশক্তির অধিকারী হয়ে ওঠে। শঙ্কু ছেলেটিকে কিছুদিন নিজের কাছে এনে রাখেন। কিছুদিন পরে শঙ্কুর ল্যাবরেটরিতে সে নিজেই নিজের চিকিৎসা করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যায়।
১০ প্রোফেসর শঙ্কু ও রোবু সন্দেশ, ফেব্রুয়ারি-মার্চ ১৯৬৮ প্রোফেসর শঙ্কুর কাণ্ডকারখানা, ১৯৭০
--
১১ প্রোফেসর শঙ্কু ও রক্তমৎস্য রহস্য সন্দেশ, মে-জুন ১৯৬৮ প্রোফেসর শঙ্কুর কাণ্ডকারখানা, ১৯৭০
জাপানি বিজ্ঞানী হামাকুরা ও তানাকার সঙ্গে শঙ্কু ও অবিনাশবাবু সমুদ্রের তলদেশে অদ্ভুত এক লাল মাছের সন্ধানে অভিযান চালান। জানতে পারেন এই লাল মাছ আসলে ভিন গ্রহের প্রাণী, যারা স্থলের তুলনায় জলেই বেশি স্বচ্ছন্দ। কিন্তু পৃথিবীর পরিমণ্ডল সুবিধাজনক না হওয়ায় তারা আবার মহাশূন্যে ফিরে যায়। শঙ্কুরা এই ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকেন।
১২ প্রোফেসর শঙ্কু ও কোচাবাম্বার গুহা সন্দেশ, মে ১৯৬৯ প্রোফেসর শঙ্কুর কাণ্ডকারখানা, ১৯৭০
দক্ষিণ আমেরিকার বোলিভিয়ায় মার্কিন বিজ্ঞানী ডাম্‌বার্টনের সঙ্গে একটি সদ্য-আবিষ্কৃত প্রাগৈতিহাসিক গুহা নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে শঙ্কু সেই গুহায় এক পঞ্চাশ হাজার বছর বয়সী গুহামানব এবং বেশ কিছু প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর সন্ধান পান। কিন্তু তাঁদের চোখের সামনেই একটি প্রচণ্ড ভূমিকম্পে সেগুলি মাটির তলায় বিলীন হয়ে যায়।
১৩ প্রোফেসর শঙ্কু ও গোরিলা শারদীয় সন্দেশ, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৬৯ প্রোফেসর শঙ্কুর কাণ্ডকারখানা, ১৯৭০
--
১৪ প্রোফেসর শঙ্কু ও বাগদাদের বাক্স সন্দেশ, মার্চ-এপ্রিল ১৯৭০ প্রোফেসর শঙ্কুর কাণ্ডকারখানা, ১৯৭০
বাগদাদের স্থানীয় প্রত্নতাত্ত্বিক হাসান আল হাব্বাস্‌ শঙ্কুকে আলিবাবার গুহা আর একটি আশ্চর্য বাক্সের সন্ধান দেন। বাক্সটি পরীক্ষা করে শঙ্কু দেখেন, এটি আসলে চার হাজার বছর আগে তোলা এক চলচ্চিত্র, যার স্রষ্ঠা জাদুকর-বিজ্ঞানী গেলাম নিশাহি অল্‌ হারারিৎ। নিজের আবিষ্কৃত চলচ্চিত্র নির্মাণ পদ্ধতিতে উর দেশের এক তৎকালীন রাজার শবযাত্রার চলচ্চিত্রায়ণ করেছিলেন তিনি।
১৫ স্বপ্নদ্বীপ সন্দেশ, মে-জুন ১৯৭১ সাবাস প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৭৪
--
১৬ আশ্চর্য প্রাণী শারদীয় সন্দেশ, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৭১ সাবাস প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৭৪
--
১৭ মরুরহস্য সন্দেশ, মে-জুন ১৯৭২ সাবাস প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৭৪
--
১৮ কর্ভাস পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৭২ সাবাস প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৭৪
--
১৯ একশৃঙ্গ অভিযান সন্দেশ, ডিসেম্বর ১৯৭৩-এপ্রিল ১৯৭৪ স্বয়ং প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৮০
--
২০ ডক্টর শেরিং-এর স্মরণশক্তি পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৭৪ সাবাস প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৭৪
--
২১ হিপনোজেন সন্দেশ, এপ্রিল-জুন ১৯৭৬ মহাসংকটে শঙ্কু, ১৯৮০
--
২২ শঙ্কুর শনির দশা পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৭৬ মহাসংকটে শঙ্কু, ১৯৮০
--
২৩ শঙ্কুর সুবর্ণ সুযোগ সন্দেশ, এপ্রিল-জুন ১৯৭৭ মহাসংকটে শঙ্কু, ১৯৮০
--
২৪ মানরো দ্বীপের রহস্য পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৭৭ স্বয়ং প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৮০
--
২৫ কম্পু পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৭৮ স্বয়ং প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৮০
--
২৬ মহাকাশের দূত পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৭৯ শঙ্কু একাই ১০০, ১৯৮৩
--
২৭ নকুড়বাবু ও এল ডোরাডো পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৮০ শঙ্কু একাই ১০০, ১৯৮৩
--
২৮ শঙ্কুর কঙ্গো অভিযান পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৮১ শঙ্কু একাই ১০০, ১৯৮৩
--
২৯ প্রোফেসর শঙ্কু ও ইউ. এফ. ও. পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৮২ শঙ্কু একাই ১০০, ১৯৮৩
--
৩০ আশ্চর্জন্তু পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৮৩ পুনশ্চ প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৯৩
--
৩১ প্রোফেসর রন্ডির টাইম মেশিন পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৮৫ পুনশ্চ প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৯৩
--
৩২ শঙ্কু ও আদিম মানুষ পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৮৬ পুনশ্চ প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৯৩
--
৩৩ নেফ্রুদেৎ-এর সমাধি শারদীয় সন্দেশ, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১৯৮৬ সেলাম প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৯৫
--
৩৪ শঙ্কুর পরলোক চর্চা পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৮৭ পুনশ্চ প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৯৩
--
৩৫ শঙ্কু ও ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৮৮ সেলাম প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৯৫
--
৩৬ ডাঃ দানিয়েলির আবিষ্কার শারদীয় সন্দেশ, ১৯৮৮ সেলাম প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৯৫
--
৩৭ ডন ক্রিস্টোবাল্ডির ভবিষ্যদ্বাণী পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৮৯ সেলাম প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৯৫
--
৩৮ স্বর্ণপর্ণী পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৯০ সেলাম প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৯৫
--
৩৯ ইনটেলেকট্রন (অসমাপ্ত) পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৯২ সেলাম প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৯৫
--
৪০ ড্রেক্সেল আইল্যান্ডের ঘটনা (অসমাপ্ত) পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা, ১৯৯২ সেলাম প্রোফেসর শঙ্কু, ১৯৯৫
--

আবিষ্কার[সম্পাদনা]

প্রোফেসর শঙ্কু মোট ৭২টি আবিষ্কারের কথা জানা যায়। এই সব আবিষ্কার ও তাদের নামকরণের ক্ষেত্রে সত্যজিৎ রায়ের ভাষাপ্রীতি ও কৌতুকবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। যেমন, শঙ্কু আবিষ্কৃত রোবট বিধুশেখর সাধু ও চলিত বাংলায় কথা বলতে পারে; আবার তৃষ্ণানাশক বড়ির নাম ‘তৃষ্ণাশক বড়ি’। শঙ্কুর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার হল বটিকা ইন্ডিকা, মিরাকিউরল, রোবু ও বিধুশেখর নামক দুটি রোবট, অ্যানাইহিলিন পিস্তল, শ্যাঙ্কোপ্লেন, ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন-শঙ্কু ফরমুলা ইত্যাদি।[৪]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. ১.০ ১.১ ১.২ ১.৩ ১.৪ ১.৫ ১.৬ ১.৭ "এক নজরে প্রোফেসর শঙ্কু", সত্যজিৎ রায়: তথ্যপঞ্জি, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, সৃষ্টি প্রকাশন, কলকাতা, ২০০১, পৃ. ৯৫-৯৭
  2. ২.০ ২.১ ২.২ ২.৩ ২.৪ ২.৫ ২.৬ "প্রোফেসর শঙ্কু-ফাইল", সত্যজিৎ রায়: তথ্যপঞ্জি, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, সৃষ্টি প্রকাশন, কলকাতা, ২০০১, পৃ. ৯১-৯৪
  3. "গ্রন্থপঞ্জি", সত্যজিৎ রায়: তথ্যপঞ্জি, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, সৃষ্টি প্রকাশন, কলকাতা, ২০০১, পৃ. ৫৯-৬০
  4. ৪.০ ৪.১ "প্রোফেসর শঙ্কুর আবিষ্কার", সত্যজিৎ রায়: তথ্যপঞ্জি, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, সৃষ্টি প্রকাশন, কলকাতা, ২০০১, পৃ. ৯৭-১১০
  5. "প্রোফেসর শঙ্কু ও ভূত" (প্রোফেসর শঙ্কু) দ্রষ্টব্য

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]