অ্যাশলে উডকক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(Ashley Woodcock থেকে পুনর্নির্দেশিত)
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
অ্যাশলে উডকক
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামঅ্যাশলে জেমস উডকক
জন্ম (1947-02-27) ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৭ (বয়স ৭৩)
অ্যাডিলেড, অস্ট্রেলিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
ভূমিকাব্যাটসম্যান, কোচ
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ২৭০)
২৬ জানুয়ারি ১৯৭৪ বনাম নিউজিল্যান্ড
একমাত্র ওডিআই
(ক্যাপ ২৪)
৩১ মার্চ ১৯৭৪ বনাম নিউজিল্যান্ড
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৬৭/৬৮ - ১৯৭৮/৭৯সাউথ অস্ট্রেলিয়া
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ৮৫ ১৭
রানের সংখ্যা ২৭ ৫৩ ৪,৫৫০ ৪০৩
ব্যাটিং গড় ২৭.০০ ৫৩.০০ ৩০.৯৫ ২৫.১৮
১০০/৫০ ০/০ ০/১ ৫/৩১ ০/৪
সর্বোচ্চ রান ২৭ ৫৩ ১৪১ ৮৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/– ০/– ৭২/– ৪/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০

অ্যাশলে জেমস উডকক (ইংরেজি: Ashley Woodcock; জন্ম: ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৭) অ্যাডিলেড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও কোচ। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭৪ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেন অ্যাশলে উডকক। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

প্রিন্স আলফ্রেড কলেজে পড়াশুনো করেছেন অ্যাশলে উডকক। এখানে থাকাকালে ভবিষ্যতের অস্ট্রেলীয় টেস্ট ক্রিকেট অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেলের সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।[১] ১৯৬৭-৬৮ মৌসুম থেকে ১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত অ্যাশলে উডককের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। বিশ্বস্ত উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে অ্যাশলে উডককের সুনাম ছিল।

১৯৬৭ থেকে ১৯৭৯ সালের মধ্যে অস্ট্রেলীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলেছিলেন তিনি। তন্মধ্যে, শেষের বছরগুলোয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও, একটি অনানুষ্ঠানিক টেস্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে বাদ-বাকী বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সদস্যরূপে খেলেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও সাউথ অস্ট্রেলিয়া দলে নয় বছর নিয়মিতভাবে খেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৭৪-৭৫ মৌসুমের পর থেকে তার খেলার মান ক্রমশঃ নিম্নমূখী হতে থাকে। দুই বছরের মধ্যে কার্যতঃ তার খেলোয়াড়ী জীবন শেষের দিকে চলে যায়। এ পর্যায়ে তার বয়স ছিল ৩০।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন অ্যাশলে উডকক। ২৬ জুন, ১৯৭৪ তারিখে অ্যাডিলেডে সফরকারী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি। ৩১ মার্চ, ১৯৭৪ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে একই দলের বিপক্ষে একমাত্র ওডিআইয়ে অংশ নেন তিনি।

১৯৭৪ সালের প্রথমদিকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অংশগ্রহণকৃত আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক খেলাগুলোয় অংশ নিয়েছিলেন। সিরিজের তৃতীয় ও নিজস্ব একমাত্র টেস্ট খেলাটি অ্যাডিলেডে জানুয়ারি মাসে খেলেন। কিথ স্ট্যাকপোলের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন তিনি।[২] একমাত্র ইনিংসটিতে ২৭ রান সংগ্রহ করেন।[২][৩]

মার্চে নিউজিল্যান্ড গমনের পূর্ব পর্যন্ত তাকে পরবর্তী খেলায় অংশগ্রহণের জন্যে অপেক্ষা করতে হয়। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমের নিউজিল্যান্ড সফরে দুইটি ওডিআইয়ের প্রথমটিতে অস্ট্রেলিয়া দল সাত উইকেটে জয় পেলেও ইয়ান রেডপাথ দুই বলে শূন্য রান করেছিলেন। [৪] ফলশ্রুতিতে দ্বিতীয় ওডিআইয়ে রেডপাথের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। ৬৬ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কা সহযোগে ৫৩ রান তুলেন। অস্ট্রেলিয়া দল ২৬৫/৬ তুলে ৩১ রানের জয় পায়। অ্যাশলে উডকক ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।[৫] উইজডেনে তার এ ইনিংসকে মনোরম হিসেবে ঘোষণা করা হয়।[৬]

১৯৭১-৭২ মৌসুমে বাদ-বাকী বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে একটি অনানুষ্ঠানিক টেস্টে অংশ নেন। ৫ ও ১৬ রান তুলেছিলেন তিনি।[৭]

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

১৯৭৮-৭৯ মৌসুম পর্যন্ত সাউথ অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে খেলা চালিয়ে যান ও শেষের বছরগুলোয় দলকে নেতৃত্ব দেন। এরপর স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি অধ্যয়নের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গমন করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়ন শেষে দেশে ফিরে আসেন।

১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় স্থানীয় ক্লাব ক্রিকেটে কোচের দায়িত্বে ছিলেন। রাগবি ইউনিয়নের নিউক্যাসল ফ্যালকন্স ও অ্যাডিলেড থার্টিসিক্সার্সের দক্ষতা প্রকল্প এবং শক্তিমত্তা ও শর্ত বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে বেন্ডিগো’র লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।[৮] ২০১৭ সালে অ্যাডিলেডভিত্তিক কেনসিংটন ক্রিকেট ক্লাবে কোচিং পরিচালক হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন।[৯]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Morgan, Kym (১৭ জানুয়ারি ২০১৩)। "Chappell returns to the schoolyard to see next crop of stars"Adelaide Advertiser 
  2. "Third Test Match - Australia v New Zealand"Wisden। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১২ 
  3. "New Zealand tour of Australia, 1973/74 - Scorecard 3rd Test"CricInfo। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১২ 
  4. "Australia tour of New Zealand, 1973/74 - Scorecard 1st ODI"CricInfo। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১২ 
  5. "Australia tour of New Zealand, 1973/74 - Scorecard 2nd ODI"CricInfo। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১২ 
  6. "Second ODI - New Zealand v Australia"Wisden। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০১২ 
  7. World XI in Australia, 1971/72, 5th Match, ESPNcricinfo
  8. Player Profile: Ashley Woodcock from CricInfo. Retrieved 15 June 2012.
  9. Ashley Woodcock ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৮ জুলাই ২০১৮ তারিখে, Kensington Cricket Club. 2017

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]