হরিনছড়া

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

হরিনছড়া
Tawny Coster
Close wing position of Acraea violae Fabricius, 1775-1793 - Tawny Coster WLB.jpg
ডানা বন্ধ অবস্থায়
Open wing position of Acraea violae Fabricius, 1775-1793 - Tawny Coster WLB.jpg
ডানা খোলা অবস্থায়
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: Arthropoda
শ্রেণী: Insecta
বর্গ: Lepidoptera
পরিবার: Nymphalidae
গোত্র: Acraeini
গণ: Acraea
প্রজাতি: A. terpsicore
দ্বিপদী নাম
Acraea terpsicore
(Linnaeus, 1758)
প্রতিশব্দ

Acraea violae (Fabricius, 1793)

হরিনছড়া[১] (বৈজ্ঞানিক নাম: Acraea terpsicore) এক প্রজাতির প্রজাপতি, যাদের মূল শরীর এবং ডানা বাঘ রঙের ও তাতে কালো ফুটকি এবং ছোপযুক্ত। এরা ‘নিমফ্যালিডি’ পরিবারের সদস্য।

আকার[সম্পাদনা]

প্রসারিত অবস্থায় হরিনছড়ার ডানার আকার ৫০-৬৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের হয়।

বিস্তার[সম্পাদনা]

সাধারণত এই জাতীয় প্রজাপতিটি সমগ্র ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচুর পরিমানে দেখা যায়। এছাড়া হিমালয়ের ৬৫০০ ফুট উচ্চতা অব্দি এদের দেখা যায়। নেপালশ্রীলঙ্কা, সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বত্র দেখা যায়। এরা একটু খোলামেলা ফাঁকা জায়গা পছন্দ করে।[২] হরিনছড়ারা সাধারনত রুক্ষ-শুষ্ক খোলা প্রান্তর ঝোপে, লতা গুল্মের জঙ্গলে অথবা জলের ভেজা পুকুর ধারের মাটিতে বেশী দেখতে পাওয়া যায়।

বর্ণনা[সম্পাদনা]

পুরুষ

এই প্রজাপতির উভয় ডানা বাঘ রঙের এবং ডানার পার্শ্বপ্রান্তে কালো পাড়। পিছনের ডানায় এই পাড় বেশী চওড়া আবার পাড়ের ওপর সাদা সাদা ফুটকি দেখা যায়। সামনের ডানা বেশ লম্বা এবং শীর্ষ গোলাকার। এই গোলাকার ভাবটা পিছনের ডানাতে বেশী ভালো বোঝা যায়।মাথা ও বুকে কালোর ওপর সাদা ফুটকি দেখা যায়।হরিনছড়ার শরীর থেকে একরকম দুর্গন্ধযুক্ত হলুদ তৈলাক্ত তরল বের হয় তাই কয়েকটি জাতের বিশেষ খাদকরা ছাড়া অন্যান্য খাদক্রা এদের খায় না। যৌন মিলনের পর স্ত্রী প্রজাপতির উদরের শেষ প্রান্তে কাঁটার মতো শক্ত গোঁজ তৈরী হয় দেখতে অনেকটা সামনের দিকে মুখ বাঁকানো গোলাপের কাঁটার মতো, যার ফলে স্ত্রী প্রজাপতি পুনরায় যৌন মিলনে সক্ষম হয় না।[৩][৪]

আচরণ[সম্পাদনা]

এদের ওড়ার ভংগি ধীর এবং দূর্বল প্রকৃতির। মাটির কাছাকাছিতে এরা উড়তে থাকে। ফুলের মধুর প্রতি এদের আসক্তি দেখা যায়।[৫]

বৈশিষ্ট্য[সম্পাদনা]

ডিম[সম্পাদনা]

হরিনছড়ার ডিম হলুদ বর্ণের এবং ঈষৎ লম্বাটে গম্বুজের মতো আকৃতির হয় এবং মাথাগুলি গোল হয়। সাধারণত এরা পাতার নীচের পিঠে এর একবারে ১৫-২০টা ডিম পাড়ে। এর থেকেও বেশি সংখ্যার ডিম অনেক সময় লক্ষ্য করা যায়।[৬]

শূককীট[সম্পাদনা]

শূককীট গুলি লম্বাটে এবং লালচে বাদামি রঙের হয়, শরীরের নীচের দিকের রঙ পীতাভ সাদা। এদের সারা দেহখন্ডে লম্বা লম্বা কাঁটা থাকে,যেগুলো রোঁয়া যুক্ত ও শাখাযুক্ত হয়।

আহার্য উদ্ভিদ[সম্পাদনা]

এই শূককীট বিভিন্ন প্রজাতির প্যাশন ফ্লাওয়ার যেমন- ঝুমকোলতা Passiflora foetida, Passiflora edulis, Passiflora subpeltata ইত্যাদি পাতার রসালো অংশ ও কচি পাতা আহার করে।[৭][৮]

মূককীট[সম্পাদনা]

মূককীট এর রঙ সাদা এবং তার গায়ে কালো রেখা ও ফুটকি দেখা যায়। আকৃতি লম্বাটে। পিঠের দুই পাশ ঘেঁষে ফ্যাকাশে লাল বা কমলা রঙের বিন্দু সারি দিয়ে থাকে। এরা মূককীট অবস্থায় গাছের পাতার নীচের দিকে, ডালে, শুকনো কাঠিতে ঝুলে থাকে।

চিত্রশালা[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Dāśagupta, Yudhājit̲̲̲̲̲̲a (২০০৬)। Paścimabaṅgera prajāpati (1. saṃskaraṇa. সংস্করণ)। Kalakātā: Ānanda। পৃষ্ঠা 79। আইএসবিএন 81-7756-558-3 
  2. Kunte, Krushnamegh (২০০০)। Butterflies of Peninsular India। New Delhi: Orient Blackswan Pvt. Ltd.। আইএসবিএন 81-7371-354-5 
  3. Bingham, C. T. 1907. Fauna of British India. Butterflies. Volume 2
  4. Duodu.et al.,, Y.A.। "Reproductive behaviour of the tossa jute defoliator, Acraea terpsicore (L.) (Lepidoptera: Nymphalidae)"International Journal of Tropical Insect Science। পৃষ্ঠা 557-567। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  5. বসু রায়, অর্জন; বৈদ্য, সারিকা; রায়, লিপিকা। সুন্দরবনের কিছু পরিচিত প্রজাপতি (মার্চ ২০১৪ সংস্করণ)। সুন্দরবন জীবপরিমণ্ডল,Department of Forest Government of West Bengal। পৃষ্ঠা ৮৭। 
  6. Atluri.et al.,, J.B.। "Life cycle of Acraca terpsicore (Lepidoptera:Rhopalocera:Acracidae) from India" (PDF)The Journal of the National Taiwan Museum। পৃষ্ঠা 113-115। সংগ্রহের তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ 
  7. Basu Roy, Arjan (২০১১)। Butterflies and Wildflowers of Tollygunge Club (2011 সংস্করণ)। Kolkata: Tollygunge Club। পৃষ্ঠা 55। 
  8. Das RP; AB Roy; R Polley; G Saha (২০১০)। "A new record of larval host plant of tawny coster Acraea violae (Fabricius)"। Journal of the Bombay Natural History Society107 (1): 63। 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]