স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ইতিহাস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
স্ক্যান্ডিনেভিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড এবং বাল্টিক নিয়ে অংকিত হম্যানের মানচিত্র। জোহান ব্যাপ্টিস্ট হম্যান (১৬৬৪-১৭২৪) ছিলেন একজন জার্মান ভৌগলিক এবং মানচিত্র প্রস্তুতকারী, মানচিত্র প্রস্তুতকাল ১৭১৫ এর দিকে।

স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ইতিহাস হচ্ছে স্ক্যান্ডিনেভিয়া এবং তার অধিবাসীদের ভৌগলিক এলাকার ইতিহাস। অঞ্চলটি উত্তর ইউরোপে অবস্থিত, এবং ডেনমার্ক, নরওয়েসুইডেন নিয়ে গঠিত। এক সময়, ফিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ডকে, বিশেষ করে ইংরেজি-ভাষা ব্যবহারের প্রসঙ্গে, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার অংশ মনে করা হত।

পরিচ্ছেদসমূহ

প্রাগৈতিহাসিক যুগ[সম্পাদনা]

প্রস্তর যুগ, ব্রোঞ্জ যুগ, অথবা লৌহ যুগে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার অল্পই নমুনা বিদ্যমান আছে সীমিত সংখ্যক পাথর, ব্রোঞ্জ এবং লোহা দ্বারা নির্মিত কিছু যন্ত্রপাতি, কিছু অলঙ্কার এবং গহনা, এবং পাথরের সমাধি স্তূপ ব্যতীত। তারপরও, একটি গুরুত্মপূর্ণ সংগ্রহ যার অস্তিত্ব আছে, তা হচ্ছে পেট্রোগ্লিফ নামে পরিচিত ব্যাপক এবং সমৃদ্ধ পাথুরে চিত্রের এক সংকলন।

প্রস্তরযুগ[সম্পাদনা]

উচ্চতর পুরাতন প্রস্তরযুগ[সম্পাদনা]

বরফ গলে যাওয়ার পর, বল্গাহরিণ ডেনমার্ক এবং সুইডেনের সর্বদক্ষিণের সমতল ভূমীতে চড়ে বেড়াত। এটি ছিল আরেন্সবার্গ সংস্কৃতির অঞ্চল, সেইসব উপজাতি যারা সুবিশাল এলাকায় শিকার করত এবং তুন্দ্রা অঞ্চলের ল্যাভাসে বাস করত। এই এলাকায় বনের সংখ্যা স্বল্প ছিল, উত্তর মেরুদেশীয় শ্বেত বার্চ এবং রেউন গাছ ব্যতীত, কিন্তু ধীরে ধীরে তাইগা'র (জলাভূমিময় পাইন গাছ) আগমন ঘটে।

মেসোলিথিক[সম্পাদনা]

আদি প্রায় ৯,০০০ থেকে ৬,০০০ অব্দ (মধ্য থেকে মেসোলিথিকের শেষদিক পর্যন্ত) থেকে, স্ক্যান্ডিনেভিয়া ভ্রাম্যমাণ বা আংশিক-পরিযায়ী কিছু গোষ্ঠী বাস করত যাদের সম্পর্কে অল্পই জানা গেছে। তারা শিকার, মৎস্য আহরণ এবং কুড়ানোর মাধ্যমে জীবিকানির্বাহ করত। ৩,০০০ বছরের এই যুগ থেকে প্রায় ২০০ সমাধিস্থান খুঁজে পাওয়া গেছে এই অঞ্চলে।[১]

খৃষ্টাব্দ ৭ম সহস্রাব্ধে, যে সময়ে বল্গাহরিণেরা এবং তাদের শিকারিরা উত্তরের স্ক্যান্ডিনেভিয়াতে সরে গিয়েছে, এলাকাটিতে বন গড়ে উঠে। ডেনমার্ক এবং দক্ষিণ সুইডেনে বিদ্যমান ছিল ম্যাগ্লিমোসিয়ান সংস্কৃতি। উত্তরের দিকে, নরওয়ে এবং দক্ষিণ সুইডেনের বেশিরভাগ অংশে, বিদ্যমান ছিল ফসনা- হেন্সবাকা সংস্কৃতি, যারা সাধারণত বনের প্রান্তে বাস করত। উত্তরের শিকারিরা/ সংগ্রাহকেরা পশুপাল এবং স্যামন মাছের প্রবাহকে অনুসরণ করত, শীত ঋতুতে দক্ষিণে সরে যেত, গ্রীষ্মে আবার উত্তরে চলে আসত। এইসব আদিম মানুষেরা দূরবর্তী উত্তরের অঞ্চলসমূহে - আধুনিক ফিনল্যান্ড, রাশিয়া, এবং বেরিং প্রণালীর ওপারে উত্তর আমেরিকার সর্বউত্তরের অংশ নিয়ে অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলসমূহ- পালিত সংস্কৃতি অনুসরণ করত।

খৃষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ সহস্রাব্ধে, দক্ষিণ স্ক্যান্ডিনেভিয়া ছিল নাতিশীতোষ্ণ সূচালো এবং মিশ্র বনে আবৃত। প্রাণীকুলের অন্তর্ভুক্ত ছিল, অরক, ওয়াইজেন্ট, মুজ এবং লোহিত হরিণ। এই যুগে কঙ্গিমোজ সংস্কৃতি প্রভাবশালী ছিল। তারা সিল শিকার করত এবং গভীর পানিতে মাছ ধরত। কংগিমোজদের উত্তরে দক্ষিণ নরওয়ে এবং সুইডেনের বেশিরভাগ অঞ্চলে বাস করত ফস্না এবং হেন্সবাকা সংস্কৃতির বংশধর নস্তভেত এবং লিহুলত সংস্কৃতি নামে পরিচিত অন্যান্য শিকারি- সংগ্রাহকেরা। খৃষ্টপূর্ব ৬ষ্ঠ সহস্রাব্ধের শেষের দিকে, দক্ষিণে কঙ্গিমোজ সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠাপন করে এরতেবল সংস্কৃতি।

নব্যপ্রস্তরযুগ[সম্পাদনা]

খৃষ্টপূর্ব ৫ম সহস্রাব্ধে, এরতেবলের অধিবাসীরা দক্ষিণের পার্শ্ববর্তী গোষ্ঠীসমূহ, যারা ভূমি কর্ষণ এবং পশুপালন শুরু করেছে, তাদের কাছ থেকে মৃৎশিল্প শিখে। তারা নিজেরাও চাষবাস করতে শুরু করে, এবং খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ এর মধ্যে তারা মেগালিথিক ফানেলবিকার সংস্কৃতির অংশীভূত হয়। খৃষ্টপূর্ব ৪র্থ সহস্রাব্ধে, এইসব ফানেলবিকার গোষ্ঠীগুলো সুইডেন থেকে আপল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। নস্তভেত এবং লিহুলত গোষ্ঠীসমূহ অগ্রসরমান চাষিদের কাছ থেকে নতুন প্রযুক্তি শেখে (কিন্তু কৃষিকাজ নয়) এবং খৃষ্টপূর্ব ৪র্থ সহস্রাব্ধের শেষের দিকে পিটেড ওয়ার সংস্কৃতিতে পরিণত হয়। এইসব পিটেড ওয়ার গোষ্ঠীরা চাষিদের আগমন ঠেকায় এবং তাদেরকে দক্ষিণ- পশ্চিম সুইডেনের দক্ষিণে ঠেলে দেয়, কিন্তু কেউ কেউ বলেন যে কৃষকদের খুন বা তাড়িয়ে দেওয়া হয়নি, বরং তারা স্বেচ্ছায় পিটেড সংস্কৃতিতে যোগদান করে এবং তাদের অংশে পরিণত হয়। অন্তত একটি উপনিবেশ মিশ্র বলে পরিগণিত হয়, যেমন এল্ভেস্ত্রা পাইল-বাসীরা

এই আদিম স্ক্যান্ডিনেভিয়ানদের মুখের ভাষা কি ছিল তা জানা যায় না, কিন্তু খৃষ্টপূর্ব ৩য় সহস্রাব্ধের শেষের দিকে, নতুন গোষ্ঠী দ্বারা আক্রান্ত হয় যারা, অনেক পণ্ডিত মনে করেন, প্রোটো-ইন্দো-ইউরোপিয়ানে কথা বলত, ব্যাটল-আ্যক্স সংস্কৃতি। এইসব নব্য অধিবাসীরা আপল্যান্ড এবং অসলোফিয়র্ড পর্যন্ত অগ্রসর হয়, এবং তারা সম্ভবত যে ভাষা আধুনিক স্ক্যান্ডিনেভিয়ায়ন ভাষাসমূহের পূর্বপুরুষ তার যোগান দেয়। তারা পশু পালক ছিল, এবং তাদের সাথে দক্ষিণ স্ক্যান্ডিনেভিয়ার বেশিরভাগ নব্য প্রস্তর যুগে প্রবেশ করে।

নরডিক ব্রোঞ্জ যুগ[সম্পাদনা]

স্ক্যান্ডিনেভিয়া'র পেট্রোগ্লিফ (হ্যালজেস্তা, ভস্টম্যানল্যান্ড, সুইডেন)। যৌগিক ইমেজ। নরডিক ব্রোঞ্জ যুগ। গ্লিফগুলোকে আরো স্পষ্ট করার জন্যে রঞ্জিত করা হয়েছে। পূর্বে তাদের রঙ করা হয়েছিল কিনা তা অজানা।

যদিও বাণিজ্যের মাধ্যমে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা ইউরোপীয় ব্রোঞ্জ যুগের সংস্কৃতিতে অনেক দেরীতে যোগ দেয়, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান স্থানসমূহে সমৃদ্ধ এবং উত্তমভাবে সংরক্ষিত উল, কাঠ এবং আমদানিকৃত মধ্য ইউরোপীয় ব্রোঞ্জ এবং স্বর্ণ দ্বারা প্রস্তুত সামগ্রী পাওয়া যায়। এই যুগে নরডিক প্রস্তর যুগের পরে স্ক্যান্ডিনেভিয়া প্রথম জ্ঞাত কোন উন্নত সভ্যতার জন্ম দেয়। যেই সময়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়ানেরা নিজেরা নতুন ধরন এবং বস্তু তৈরি করে সেই একই সময়ে তারা মধ্য ইউরোপীয় এবং ভূমধ্যসাগরীয় বহু প্রতীক পরিগ্রহণ করে। এই যুগের স্ক্যান্ডিনেভিয়ান শিল্পকলায় প্রভাব ফেলার উৎস হিসেবে মাইসেনিয়ান গ্রিস, ভিলানোভান সংস্কৃতি, ফিনিশীয়া এবং প্রাচীন মিশরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধারণা করা হয় বিদেশী প্রভাবের উৎপত্তি হয় অম্বর বাণিজ্যের সাথে, এবং এই যুগের মাইসেনিয়ান কবরসমূহ হতে প্রাপ্ত অম্বরগুলোর উৎপত্তি বাল্টিক সাগর। বেশকিছু পেট্রোগ্লিফে অঙ্কিত জাহাজ এবং বৃহৎ পাথর নির্মিত নির্মাণসমূহ যা প্রস্তর জাহাজ নামে পরিচিত, ইঙ্গিত করে যে এই সংস্কৃতিতে নৌপরিবহন এক গুরুত্মপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বেশ কিছু পেট্রোগ্লিফে দেখা যায় কিছু জাহাজ যা সম্ভবত ভূমধ্যসাগরীয়।

এই যুগ থেকে পেট্রোগ্লিফসমূহের প্রচুর সংগ্রহ পাওয়া গেছে, কিন্তু তাদের তাৎপর্য বহুদিন আগেই হারিয়ে গেছে। সেখানে ব্রোঞ্জ এবং স্বর্ণেরও অসংখ্য হস্তনির্মিত বস্তু আছে। পেট্রোগ্লিফসমূহের অপরিণত রূপ বরং এই তত্ত্বের জন্ম দিয়েছে যে সেগুলো বিভিন্ন সংস্কৃতি অথবা বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী দ্বারা নির্মিত। ব্রোঞ্জ যুগে নরডিক দেশসমূহে কোন লিখিত ভাষার অস্তিত্ব ছিল না।

নরডিক ব্রোঞ্জ যুগ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল একটি উষ্ণ জলবায়ু (যার সাথে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর তুলনা করা হয়) দ্বারা, যার কারণে তুলনামূলক ঘন এক জনবসতি গড়ে ওঠা সম্ভব হয়, কিন্তু তার অবসান ঘটে অধোগামী, বেশি আদ্র এবং শীতল জলবায়ু (কখনও কখনও ধারণা করা হয় এ থেকে ফিমবুলউইন্টারের কিংবদন্তীর জন্ম হয়েছে) কারণে ঘটিত জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে এবং খুব সম্ভবত জলবায়ুটি জার্মানের গোষ্ঠীগুলোকে দক্ষিণের দিকে মহাদেশীয় ইউরোপের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই সময়ে সেখানে পূর্ব ইউরোপে স্ক্যান্ডিনেভিয় প্রভাব ছিল। এক হাজার বছর পরে, অগণিত পূর্ব জার্মানির গোষ্ঠীগুলো যারা স্ক্যান্ডিনেভিয় বুৎপত্তি দাবী করে (বারগান্ডি, গথ এবং হেরুলেরা), যা লম্বারডরাও করেছিল, জর্ডানের গেটিকা'তে স্ক্যান্ডিনেভিয়াকে (স্ক্যানযা) "জাতিসমূহের গর্ভ" নাম অর্পণ করেছিল।

প্রাক-রোম লৌহ যুগ[সম্পাদনা]

নরডিক ব্রোঞ্জ যুগের অবসান ঘটে একটি অধোগামী, অধিকতর শীতল এবং আদ্র জলবায়ুর সাথে। প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে এই যুগটি অপর্যাপ্ত বলে পরিচিত।

এই যুগটি ভূমধ্যসাগরীয় দেশসমূহে এবং রোমানদের কাছে জার্মানির গোষ্ঠীগুলোর পরিচিত হওয়ার যুগ বলেও পরিচিত। খৃষ্টপূর্ব ১১৩-১০১-তে জুটল্যান্ড, আধুনিক- ডেনমার্ক থেকে আগত দুটি জার্মান গোষ্ঠী, রোমান প্রজাতন্ত্রকে আক্রমণ করে যা বর্তমানে সিম্ব্রিয়ান যুদ্ধ বলে পরিচিত। এই দুই গোষ্ঠী, সিম্ব্রি এবং টিউটন, দ্বিতীয় পিউনিক যুদ্ধের পর থেকে রোমের সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ। সিম্ব্রি এবং টিউটনেরা অবশেষে রোমান সৈন্যদের হাতে পরাজিত হয়।

প্রাথমিকভাবে লোহা মূল্যবান ছিল এবং সাজসজ্জার জন্যে ব্যবহৃত হত। সবচেয়ে পুরনো বস্তুগুলো হচ্ছে সুই, কিন্তু তলোয়ার এবং কাস্তেও খুঁজে পাওয়া গেছে। পুরো যুগটিতে ব্রোঞ্জ ব্যবহার চলতে থাকে কিন্তু সাধারণত ব্যবহৃত হত অলঙ্করণের জন্যে। প্রথাটি নরডিক ব্রোঞ্জ যুগ থেকে ধারাবাহিক ছিল, কিন্তু মধ্য ইউরোপে হলস্ট্যাট সংস্কৃতির শক্তিশালী প্রভাব ছিল। সেগুলো আরনফিল্ড সংস্কৃতির মৃতদেহ পোড়ান এবং অবশিষ্টাংশ পাত্রে সংরক্ষণ করার রীতি বিদ্যমান রাখল। শেষ শতাব্দীগুলোতে, মধ্য ইউরোপীয় লা টেনে সংস্কৃতির প্রভাব দক্ষিণপশ্চিম জার্মানি থেকে স্ক্যান্ডিনেভিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়, এবং এই যুগ থেকে প্রাপ্ত আবিষ্কারগুলো সব হচ্ছে দক্ষিণ স্ক্যান্ডিনেভিয়ার প্রদেশসমূহের। এই যুগ হতে প্রত্নতাত্ত্বিকদরা আবিস্কার করেছেন তলোয়ার, ঢাল, বল্লমের মাথা, কেঁচি, কাস্তে, চিমটা, ছুরি, সুই, বকলস, কেতলি ইত্যাদি। কণ্ঠহার এবং কেতলির জন্যে ব্রোঞ্জের ব্যাবহার চলতে থাকে, একটি শৈলী যা ব্রোঞ্জ যুগের একটি ধারাবাহিকতা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য একটি আবিস্কার হল জুটল্যান্ডের দেজবারগ মালবাহী গাড়ি, ব্রোঞ্জ অংশযুক্ত কাঠের একটি চার চাকার গাড়ি।

রোম লৌহ যুগ[সম্পাদনা]

যদিও বহু জার্মান গোষ্ঠী রোমান সাম্রাজ্যের সাংস্কৃতিক এবং সামরিক উপস্থিতির সাথে নিয়মিত সংযোগে টিকে ছিল, স্ক্যান্ডিনেভিয়ার বেশিরভাগ ল্যাটিন বিশ্বের সবচেয়ে চরম পরিধিতে ছিল। সুইডিশ (সুইওন) এবং গিট (গাউটয়)-দের ক্ষণস্থায়ী উল্লেখ ব্যতীত, বেশিরভাগ স্ক্যান্ডিনেভিয়া রোমান লেখকদের দ্বারা অনুল্লেখিত ছিল।

স্ক্যান্ডিনেভিয়াতে, মুদ্রা (৭,০০০ এর অধিক), জাহাজ, ব্রোঞ্জের চিত্র, কাঁচের পানপাত্র, মিনা করা বকলস, অস্ত্র ইত্যাদির বিশাল আমদানি হত। অধিকন্তু, ধাতুর বস্তুর এবং মাটির পাত্রের শৈলী লক্ষণীয়ভাবে রোমান ছিল। কিছু বস্তুর প্রথমবারের মত আগমন ঘটে, যেমন বৃহৎ কাচি এবং দাবার গুটি।

এই যুগে ডেনমার্ক, শ্লেসউইগ এবং দক্ষিণ সুইডেনে প্রচুর জলাভূমির মমি পাওয়া গেছে। মমিগুলোর সাথে, অস্ত্র, গৃহস্থালি জিনিসপত্র এবং পশমের বস্ত্র পাওয়া গেছে। ৪র্থ শতাব্দীর দাঁড় চালনার জন্যে বিশাল জাহাজ শ্লেসউইগের নাইডাম মস থেকে পাওয়া গেছে। অনেককেই পোড়ান ব্যতীত সমাধিস্থ করা হত, কিন্তু পরবর্তীতে পোড়ানোর রীতি জনপ্রিয়তা লাভ করে।

৫ম এবং ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে, স্বর্ণ এবং রুপো আরও প্রচলিত হয়ে পড়ে। এর কারণ হিসেবে বলা যায় জার্মান গোষ্ঠীসমূহ কর্তৃক রোমান সাম্রাজ্যের লুণ্ঠন, যেখান থেকে বহু স্ক্যান্ডিনেভিয় স্বর্ণ এবগ রুপো নিয়ে ফিরে আসে।

জার্মান লৌহযুগ[সম্পাদনা]

রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পরবর্তী যুগটি জার্মান লৌহযুগ বলে পরিচিত, এবং এটি আদি জার্মান লৌহ এবং পরবর্তী জার্মান লৌহ যুগে বিভক্ত, যা সুইডেনে ভেন্ডেল যুগ বলে পরিচিত, ম্যালেরান হ্রদের অববাহিকায় সমৃদ্ধ সমাধি নিয়ে। আদি জার্মান লৌহযুগ হচ্ছে সেই সময় যখন ইতিহাসে ডেনদের আবির্ভাব ঘটে, এবং জর্ডানদের বর্ণনা অনুযায়ী, তারা সুইডিশদের (সুএহান, সুএটিডি) সমগোত্রীয় ছিল এবং হেরুলদের প্রতিস্থাপন করেছিল।

রোমান সাম্রাজ্যের পতনের সময়ে, স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় আগত স্বর্ণের প্রাচুর্য ছিল, এবং এই যুগে স্বর্ণের অসাধারণ কাজ পাওয়া গেছে। স্বর্ণ ব্যবহৃত হত তরবারির খাপের কাঠামোতে এবং চাকতি তৈরিতে; উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হচ্ছে গ্যালিহুসের সোনার শিঙ্গা

রোমান সাম্রাজ্য বিলীন হয়ে যাওয়ার পর, স্বর্ণ দুর্লভ হয়ে পড়ে এবং স্ক্যান্ডিনেভীয়রা স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া, সাথে স্ক্যান্ডিনেভীয় ধরনে মিশ্রিত প্রাণীদের অলঙ্করণসহ ব্রোঞ্জের বস্তু বানাতে শুরু করে। আদি জার্মান লৌহ যুগের অলঙ্কারে সঠিক দৈহিক গঠনের প্রাণী পাওয়া যায়, কিন্তু পরবর্তী জার্মান লৌহ যুগে সেগুলো বিবর্তিত হয় বিমিশ্রিত এবং খচিত অঙ্গের জটিল আকৃতিতে পরিণত হয় যা ভাইকিং যুগ থেকে বহুল-পরিচিত।

সামি সম্প্রদায়[সম্পাদনা]

আইভার স্যামুলসন, সি সামি (সামি, সাপমি) নরওয়েজিয় ল্যাপল্যান্ডের ফিনমার্কের অধিবাসী।

প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে,[3][4] উত্তর মেরুদেশীয় ইউরোপের সামি সম্প্রদায় যে স্থানে বাস এবং কাজ করেছে তা বর্তমানে নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড এবং রাশিয়ার কোলা উপদ্বীপ বলে পরিচিত অঞ্চলসমূহের উত্তর অংশসমূহে বিস্তৃত। তারা উত্তর মেরু এবং ফেনো-স্ক্যান্ডিনেভিয়ার উপ-সুমেরু অংশে এবং রাশিয়াতে কমপক্ষে ৫,০০০ বছর ধরে বাস করেছে।[5] সামিদের সুমেরুর অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তারা আন্তঃমেরুদেশীয় গোষ্ঠী যেমন দ্যা আর্কটিক কাউন্সিল ইন্ডিজেনাস পিপল'স সেক্রেটারিয়েটের সদস্য[6]

পেট্রোগ্লিফ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক আবিস্কার যেমন ১০,০০০ বছর পূর্বের উপনিবেশ সামিদের ঐতিহ্যগত ভূমীতে খুঁজে পাওয়া যায়।[7] এইসকল পরবর্তী প্যালিওথেলিক এবং আদি মেসোলিথিক শিকারি এবং সংগ্রাহক গবেষকেরা যাদের নাম দিয়েছেন কোমসা তারা নিজেদেরকে কি নামে ডাকত তা জানা যায়নি।

সামিদের নরওয়েতে ১৯৯০ সাল থেকে স্বদেশীয় বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছে আইএলও এর ১৬৯তম সম্মেলন অনুসারে, এবং তখন থেকে, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, নরওয়ের সামি সম্প্রদায় বিশেষ সুরক্ষা এবং অধিকার পাওয়ার অধিকারী।

ভাইকিং যুগ[সম্পাদনা]

একটি পুনর্নির্মিত ভাইকিং জাহাজ

ভাইকিং যুগে, ভাইকিঙরা (স্ক্যান্ডিনেভীয় যোদ্ধা এবং ব্যবসায়ীরা) ইউরোপ, মধ্য প্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, সুদূর নিউফাউন্ডল্যান্ডের বিশাল এলাকা আক্রমণ, উপনিবেশ স্থাপন এবং অনুসন্ধান করেছে।

ভাইকিং যুগের আরম্ভ সাধারণত ৭৯৩ বলে মনে করা হয় যখন ভাইকিঙেরা লিন্ডিস্ফারনের গুরুত্মপূর্ণ ব্রিটিশ দ্বীপ মঠ লুণ্ঠন করে, এবং এর সমাপ্তি বলে চিহ্নিত করা হয় ১০৬৬ সালে হেরাল্ড হার্ডরেডের ব্যর্থ ইংল্যান্ড আক্রমণ এবং নরমান বিজয় দ্বারা।[8]

ঔপনিবেশিক যুগ[সম্পাদনা]

স্ক্যান্ডিনেভীয় উপনিবেশ এবং সমুদ্র অভিযান

ঔপনিবেশিক যুগ শুরু হয় ৮০০ পূর্বাব্দের দিকে[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]। ভাইকিংরা স্কটল্যান্ড[তথ্যসূত্র প্রয়োজন], ইংল্যান্ড[তথ্যসূত্র প্রয়োজন], গ্রীনল্যান্ড[তথ্যসূত্র প্রয়োজন], ফারো দ্বীপপুঞ্জ[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] , আইসল্যান্ড[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] , আয়ারল্যান্ড[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] , লিভনিয়া[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] , নরম্যান্ডি[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] , শিটল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, সিসিলি, রুস এবং ভিনল্যান্ড, যা এখন নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপ হিসাবে পরিচিত[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] আক্রমণ এবং অবশেষে বসতি স্থাপন করে[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]। সুইডিশ ঔপনিবেশিকেরা বেশিরভাগ রুস, লিভনিয়া এবং অন্যান্য পূর্বাঞ্চলে বিদ্যমান ছিল যেখানে নরয়েজিয়ানরা এবং ডেনিশরা প্রাথমিকভাবে পশ্চিম এবং উত্তর ইউরোপে কেন্দ্রীভূত ছিল[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]। এইসব পূর্বদিকে ভ্রমণকারী স্ক্যান্ডিনেভীয় পরিব্রাজকেরা অবশেষে ভ্যারাঙ্গিয়ান (væringjar, যার অর্থ ব্রতী পুরুষ) নামে পরিচিত হয়, এবং সবচেয়ে প্রাচীন স্লেভিয় উৎসানুসারে[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] , এইসকল ভ্যারাঙ্গিয়ানরা কিয়েভেন রুস, মঙ্গোল আক্রমণের পূর্বে প্রধান পূর্ব ইউরোপীয় প্রদেশ, প্রতিষ্ঠিত করে। এই পশ্চিমা-চালিত যোদ্ধারা, পরবর্তীতে ভাইকিং বলে পরিচিত, ফরাসি নরম্যান্ডি, ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের, যেখানে ডাবলিন শহরটি ভাইকিং আক্রমণকারীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মতো অঞ্চলে গুরুত্মপূর্ণ সাংস্কৃতিক চিহ্ন রেখে যায়[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]। ৯ম শতাব্দীর শেষের দিকে আইসল্যান্ড প্রথমবারের মত উপনিবেশে পরিণত হয়[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ[সম্পাদনা]

নরওয়েতে খৃষ্টানীকরনের সময়ে, রাজা ওলাফ পুরুষ ওঝাদের (সিডম্যান) বেঁধে ভাঁটার সময়ে শৈলশ্রেণিতে ফেলে রাখার আদেশ দিয়েছিলেন, ডুবে বিলম্বিত মৃত্যু এবং নরওয়েজিয় সাম্রাজ্যে খৃষ্টীয় কর্তৃত্ব নিশ্চিত করে।

ভাইকিং ধর্মীয় বিশ্বাস নর্স পুরাণের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ভাইকিঙেরা যুদ্ধ, সম্মানের উপরে গভীর জোর দিত এবং ভালহালা'র, পতিত যোদ্ধাদের সাথে দেবতাদের এক পৌরাণিক আবাস, ধারণায় নিবদ্ধ ছিল।

ইউরোপের অন্যান্য অংশের চেয়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়াতে খৃষ্টধর্ম পরে এসেছিল। ৯৮০ সালের দিকে হেরাল্ড ব্লুটুথ ডেনমার্কে খৃষ্টধর্ম প্রবর্তন করেন। নরওয়েতে খৃস্টানীকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয় ওলাফ ট্রিগভ্যাসনের (৯৯৫-১০০০ পূর্বাব্দ) এবং দ্বিতীয় ওলাফ হারাল্ডসনের (১০১৫-১০৩০ পূর্বাব্দ) শাসনামলে। ওলাফ এবং দ্বিতীয় ওলাফ নরওয়ের বাহিরে স্বেচ্ছায় খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। দ্বিতীয় ওলাফ ইংরেজ পাদ্রী নিজের দেশে আনতে সক্ষম হন। নর্স ধর্ম থেকে নরওয়ের খৃষ্টান ধর্মাবলম্বন সম্ভব হয়েছিল ইংরেজ মিশনারিদের জন্যে। রাজতন্ত্রের এবং পরবর্তীতে পুরো জাতির খৃষ্টান ধর্মাবলম্বনের ফলে ঐতিহ্যগত ওঝাবৃত্তি প্রান্তিক হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে নিপীড়িত হয়। ভলভাদের, সিএড, একটি প্রাক-খ্রিস্ট স্ক্যান্ডিনেভীয় প্রথা চর্চাকারীদের একাদশ এবং দ্বাদশ শতাব্দীতে নব্য খৃষ্টান সরকারের অধীনে মৃত্যুদণ্ড অথবা নির্বাসন দেওয়া হয়।[৯]

নরওয়ের চাপের মুখোমুখি হয়ে আইসল্যান্ডিক কমনওয়েলথ ১০০০ পূর্বাব্দে খৃষ্টধর্ম অবলম্বন করে। এই পরিবর্তনে গুই-সর্দার থরগেয়ার লিয়সভেত্নিঙ্গাগুই সহায়ক ছিলেন।

খৃষ্টধর্মে রূপান্তরের জন্য সুইডেনের আরেকটু বেশি সময়ের দরকার ছিল, একাদশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত সাধারণভাবে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোতে দেশীয় ধর্মচর্চা পালনের সাথে। প্রধানত স্বদেশী ধর্ম এবং খৃষ্টধর্মের সমর্থনকারীদের মধ্যে বিভাজনের প্রমাণ হিসেবে ১০৬৬ সালে একটি সংক্ষিপ্ত সুইডিশ গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়; দ্বাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, খৃষ্টীয় দলসমূহের দৃশ্যত বিজয় হয়েছে বলে মনে হল; একদা প্রতিরোধের কেন্দ্র আপসালা ১১৬৪ সালে পরিণত হয় সুইডিশ আর্চবিশপের দপ্তর। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার খৃষ্টধর্ম অবলম্বন ভাইকিং যুগের অবসানের প্রায় সাথে সাথেই ঘটে। ইউরোপীয় মহাদেশের বিশাল ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক কাঠামোতে ভাইকিং সম্প্রদায়সমূহের বিলীন হওয়াকে খৃষ্টধর্ম অবলম্বন সহায়ক ছিল বলে মনে করা হয় ।

মধ্যযুগ (১১০০-১৬০০)[সম্পাদনা]

জোট[সম্পাদনা]

১৩৯৭ সালের কালমার ইউনিয়ন

দ্যা কালমার ইউনিয়ন (ডেনিশ/ নরয়েজিয়/ সুইডিশঃ Kalmarunionen) ছিল কিছু ব্যাক্তিগত ইউনয়নের এক ক্রম (১৩৯৭-১৫২০) যা ডেনমার্ক, নরওয়ে আর সুইডেনের তিনটি রাজত্বকে একটিমাত্র রাজার অধীনে মিলিত করে। দেশগুলো তাদের সার্বভৌমত্ব ত্যাগ করেছে কিন্তু স্বাধীনতা নয়, এবং বিভক্ত স্বার্থ (বিশেষ করে ডেনিশ এবং হলস্টাইনিয় কর্তৃত্বের ব্যাপারে সুইডিশদের অসন্তুষ্টি) একটি দ্বন্দ্বের জন্ম দেয় যা ১৩৪০ থেকে তাকে প্রতিহত করবে ১৫২৩ সালে তার অন্তিম বিচ্ছেদ পর্যন্ত।[১০]

১৬১১-১৬১৩ সালের কালমার যুদ্ধ ছিল কোন ডেনিশ রাজা (চতুর্থ ক্রিশ্চিয়ান)কর্তৃক জোরপূর্বক কালমার ইউনিয়ন পুনর্গঠনের শেষ গুরুত্মপূর্ণ (যদিও সম্ভবত অবাস্তব) চেষ্টা। যাইহোক, একটি ক্ষুদ্র ডেনিশ বিজয়ের সাথে এবং সুইডিশদের সম্পূর্ণ পরাজয়ের সাথে নয়, কালমার যুদ্ধ শেষ হয়। এই যুদ্ধের পরে আর কোন ডেনিশ প্রচেষ্টা হবে না কালমার ইউনিয়ন পুনঃপ্রতিস্তিথ করার।

সংস্কার[সম্পাদনা]

স্ক্যান্ডিনেভিয়াতে প্রটেস্ট্যান্ট সংস্কার আসে ১৫৩০ সালে, এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়া শীঘ্রই পরিণত হয় লুথারেনিজমের একটি কেন্দ্রে। ডেনমার্কে একটি ক্ষুদ্র জনবসতি ব্যতীত স্ক্যান্ডিনেভিয়া হতে ক্যাথলিসিজম প্রায় সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়।[১১]

১৭ শতাব্দী[সম্পাদনা]

ত্রিশ বছরের যুদ্ধ[সম্পাদনা]

ত্রিশ বছরের যুদ্ধ ছিল ১৬১৮ থেকে ১৬৪৮ পর্যন্ত সঙ্ঘটিত একটি যুদ্ধ, মুখ্যত পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের মধ্য ইউরোপীয় অঞ্চলে কিন্তু মহাদেশের প্রধান শক্তিগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদিও দৃশ্যত এটি ছিল প্রটেস্ট্যান্ট এবং ক্যাথলিকদের মধ্যে একটি ধর্মীয় দ্বন্দ্ব, হেবসবারগ রাজবংশের আত্মরক্ষাও একটি মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল। ডেনরা এবং তারপর সুইডিশরা বিভিন্ন সময়ে হস্তক্ষেপ করে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্যে।

চতুর্থ ক্রিশ্চিয়ানের একটি প্রতিকৃতি

ডেনিশ হস্তক্ষেপ শুরু হয় যখন ডেনমার্ক-নরওয়ের রাজা চতুর্থ ক্রিশ্চিয়ান (১৫৭৭-১৬৪৮), নিজে একজন লুথেরান, জার্মান প্রটেস্ট্যান্টদের সাহায্য করেন পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সৈন্যবাহিনী পরিচালনা করে, এই ভয়ে যে প্রটেস্ট্যান্ট জাতি হিএবে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব হুমকিতে আছে। এই যুগের সূচনা হয় ১৬২৫ থেকে এবং ১৬২৯ পর্যন্ত টিকে থাকে। চতুর্থ ক্রিশ্চিয়ান উত্তর জার্মানিতে তার নীতির কারণে অতিশয় মুনাফা অর্জন করেন (হামবুর্গকে জোরপূর্বক ডেনিশ সার্বভৌমত্ব গ্রহণ করান হয় ১৬২১, এবং ১৬২৩ সালে আপাত ডেনিশ উত্তরাধিকারীকে ভারডেনের প্রিন্স-বিশপ্রিকের প্রশাসক বানান হয়। ১৬৩৫ সালে তিনি ব্রেমেনেরও প্রিন্স-বিশপ্রিকের প্রশাসক হন)। একজন প্রশাসক হিসেবে, চতুর্থ ক্রিশ্চিয়ান বেশ ভাল করেন, তার রাজত্বের জন্যে এক স্থিতাবস্থা এবং সম্পদ অর্জন করেন যা দৃশ্যত ইউরোপের অন্য যে কোন অংশে তুলনাহীন ছিল, সুইডেন থেকে ওরসুন্ডের শুল্ক এবং বিশাল যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ পেয়ে। এটাও সহায়ক ছিল যে ফরাসী শাসক কার্ডিনাল রিশেলু জার্মানিতে ডেনিশ আক্রমণের জন্যে অর্থ প্রদান করতে আগ্রহী ছিলেন। চতুর্থ ক্রিশ্চিয়ান ২০,০০০ ভাড়াটে সৈন্যের নেতৃত্ব দিয়ে আক্রমণ করেন, কিন্তু ডেনিশ বাহিনীগুলো ভয়াবহভাবে পরাজিত হয়, এবং চতুর্থ ক্রিশ্চিয়ানকে একটি লজ্জাজনক পরাজয় সই করতে হয়, তার রাজত্বকে দুর্বল করতে সামরিক অবনতির ক্রমধারার প্রথমটি।

১৬৩৩ সালের ১৬ নভেম্বর লুটজানের যুদ্ধে রাজা গুস্তাভাস অ্যাডলফাসের মৃত্যু।

সুইডিশ আক্রমণ শুরু হয় ১৬৩০ সালে এবং ১৬৩৫ পর্যন্ত চলে। দ্বিতীয় ফারডিন্যান্ডের দরবারের কেউ কেউ বিশ্বাস করতেন যে ওয়ালেনস্টাইন জার্মান যুবরাজদের নিয়ন্ত্রণ করতে চান এবং এভাবে সম্রাটের উপরে প্রভাব ফেলতে চান। দ্বিতীয় ফারডিন্যান্ড ওয়ালেন্সটাইনকে বরখাস্ত করেন ১৬৩০ সালে। তারপর তিনি তাকে আবার ফিরিয়ে আনেন গুস্তাভাস অ্যাডলফাস সাম্রাজ্য আক্রমণের পড়ে এবং তাৎপর্যপূর্ণ সংখ্যক যুদ্ধে জয়ী হন।

গুস্তাভাস অ্যাডলফাস, তার পূর্বে চতুর্থ ক্রিশ্চিয়ানের মত, তাদের মাতৃভূমিতে ক্যাথলিকদের আক্রমণ প্রতিহত করতে এবং বাল্টিক সাগরের আশেপাশে জার্মান প্রদেশগুলোতে অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে জার্মান লুথেরানদের সাহায্য করতে আসেন। চতুর্থ ক্রিশ্চিয়ানের মত, গুস্তাভ অ্যাডলফাসও রিশিলু, রাজা ত্রয়োদশ লুইয়ের প্রধান মন্ত্রী এবং ডাচদের থেকে ভর্তুকি পেয়েছিলেন। ১৬৩০-১৬৩৪ পর্যন্ত, তারা ক্যাথলিক বাহিনীদের হটিয়ে দেন এবং প্রটেস্ট্যান্টদের দখলকৃত বেশিরভাগ ভূমি পুনরায় ফিরে পান।

সুইডেন এবং সুইডিশ সাম্রাজ্যের উত্থান[সম্পাদনা]

সুইডেন তার সীমানা সম্প্রসারণের শীর্ষে, ১৬৫৮ সালের রস্কিল্ড চুক্তির পরে। ঘন সবুজ এলাকা দ্বারা সুইডিশ মাতৃভূমির ব্যাপ্তি বুঝায়, ১৭দশ শতাব্দীতে যেমন ছিল।

সুইডিশদের ক্ষমতায় আসার সূচনা হয় রাজা দশম চার্লসের সময়ে। ইংরিয়ান যুদ্ধের সময়ে সুইডেন তার সীমানা পূর্বদিকে বর্ধিত করে। পোল্যান্ড, ডেনমার্ক- নরওয়ে, এবং জার্মানি দেশগুলোর সাথে কয়েকটি যুদ্ধ সুইডিশ সীমানা বিস্তারকে আরও বাড়াতে সাহায্য করে, যদিও সেখানে কিছু বাঁধা ছিল যেমন কালমার যুদ্ধ। সুইডেন তার সাম্রাজ্য দৃঢ় করতে শুরু করে। কিছুদিন পরেই আরও কিছু যুদ্ধ হয় যেমন দ্যা নর্দান যুদ্ধ এবং স্ক্যানিয়ান যুদ্ধ। এই সময়ে ডেনমার্ক বহু পরাজয়ের মুখোমুখি হয়। অবশেষে একাদশ চার্লসের শাসনামলে সাম্রাজ্যটি আধা-চরম রাজতন্ত্রের অধীনে দৃঢ় হয়।[১২]

অষ্টাদশ শতাব্দী[সম্পাদনা]

গ্রেট নর্দান যুদ্ধ[সম্পাদনা]

১৭০০ সালে নারভা'তে সুইডিশদের বিজয়, গুস্তাফ সেডেরস্ট্রমের আঁকা, ১৯১০ সালে অঙ্কিত

গ্রেট নর্দান যুদ্ধ সঙ্ঘটিত হয় ১৭০০ থেকে ১৭২১ পর্যন্ত এক দিকে রাশিয়া, ডেনমার্ক-নরওয়ে এবং স্যাক্সনি- পোল্যান্ডের জোটের মধ্যে (১৭১৫ থেকে প্রুশিয়া এবং হ্যানওভারও) এবং সুইডেন অন্য দিকে। এটি শুরু হয় ১৭০০ সালে জোট দ্বারা সুইডেনে সম্মিলিত আক্রমণের দ্বারা এবং শেষ হয় ১৭২১ সালে নিস্ট্যাড চুক্তি এবং স্টকহোম চুক্তির অবসানের মাধ্যমে। যুদ্ধের পরিণতি হিসেবে, রাশিয়া বাল্টিক সাগর থেকে প্রভাবশালী শক্তি থেকে সুইডেনকে স্থানচ্যুত করে এবং ইউরোপীয় রাজনীতিতে এক প্রধান খেলোয়াড় হয়ে উঠে।

উপনিবেশবাদ

সুইডেন এবং ডেনমার্ক-নরওয়ে উভয়ে ১৭দশ শতাব্দী থেকে ২০দশ শতাব্দী পর্যন্ত স্ক্যান্ডিনেভিয়ার বাইরে বেশকিছু সংখ্যক উপনিবেশ রাখে। উত্তর অ্যাটলান্টিকে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জ ছিল নরওয়ের বশ্য যা ডেনমার্ক-নরওয়ের যুক্তরাজ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ক্যারিবিয়ানে, ডেনমার্ক উপনিবেশ স্থাপন করে ১৬৭১ সালে সেইন্ট টমাসে, সেইন্ট জনে ১৭১৮ সালে এবং ১৭৩৩ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে সেইন্ট ক্রোয়া কিনে নেয়। ভারত, ট্র্যাঙ্কুয়াবার এবং ফ্রেডেরিকন্যাগরেও ডেনমার্কের উপনিবেশ ছিল। ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ট্র্যাঙ্কুয়াবারের বাইরে থেকে কাজ পরিচালনা করত। পরম বিকাশের সময়ে, ডেনিশ এবং সুইডিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চেয়ে বেশি চা আমদানি করত - এবং এর ৯০% ব্রিটেনে পাচার করত যেখানে তা বিশাল মুনাফায় বিক্রি করা যাবে। উভয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিই নেপলনিক যুদ্ধের সময় তল্পি গোটায়। ১৬৩০ সালে উত্তর আমেরিকার ডেলাওয়ারে নিউ সুইডেনে সুইডেনের সংক্ষিপ্ত এক উপনিবেশ ছিল এবং পরবর্তীতে সেইন্ট-বারথেলেমি (১৭৮৫-১৮৭৮) এবং ক্যারিবিয়ানে গুয়াডেলুপের দ্বীপপুঞ্জ অর্জন করে।

উনবিংশ শতাব্দী[সম্পাদনা]

নেপলনীয় যুদ্ধ[সম্পাদনা]

কোপেনহেগেনের প্রথম যুদ্ধ, ১৮০১

নেপলনীয় যুদ্ধের সময়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়া বিভক্ত ছিল[১৩] ডেনমার্ক-নরওয়ে নিরপেক্ষ থাকার শেষ করে কিন্তু নৌবাহিনীর আত্মসমর্পণের ব্রিটিশদের দাবির দ্বন্দ্বের পর জড়িয়ে পড়ে।[১৩] এরপর ব্রিটেন কোপেনহেগেনের যুদ্ধে (১৮০১) ডেনিশ নৌবহরকে আক্রমণ করে এবং দ্বিতীয় কোপেনহেগেনের যুদ্ধে (১৮০৭) শহরটিতে বোমা বর্ষণ করে। ১৮০৭ সালের দ্বিতীয় কোপেনহেগেনের যুদ্ধের ডেনিশ নৌবহরের বেশিরভাগই ধরা পরে। কোপেনহেগেনের বোমা বর্ষণ ফ্রান্সের সাথে মিত্রতা এবং ব্রিটেনের সাথে, যার নৌবহর অবরোধ ডেনমার্ক- নরওয়ে এবং দুই রাজ্যের মধ্যে ভয়াবহ বাঁধাগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যাবস্থা নরওয়েতে দুর্ভিক্ষের জন্ম দেয় সরাসরি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। সুইডেন, সেই সময়ে ব্রিটেনের মিত্র, সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ১৮০৭ সালে নরওয়েকে আক্রমণ করার জন্য, কিন্তু পরাজিত হয়। ব্রিটেনের সাথে যুদ্ধটি কয়েক দফায় সাগরে সঙ্ঘটিত হয়, জিল্যান্ড পয়েন্টের যুদ্ধ, লিঙ্গরের যুদ্ধ, এবং এনহল্টের যুদ্ধ, কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে ডেনিশ নৌবহরের অবশিষ্টাংশের কাছে, যখন ডেনরা ব্রিটিশ অবরোধ ভাঙতে চেষ্টা করে, যা গানবোট যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত হয়। যুদ্ধের পরে, ডেনমার্ক বাধ্য হয় ব্রিটেনের কাছে হেলিগোল্যান্ড সমর্পণ করে।

সুইডেন নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে ১৮০৫ সালে তৃতীয় জোটে যোগদান করে, কিন্তু জোটটি ১৮০৭ সালের টিলসিটে শান্তির পরে ব্যর্থ হয়, রাশিয়াকে বাধ্য করে ফ্রান্সের মিত্রে পরিণত হওয়ার। রাশিয়া ১৮০৮ সালে ফিনল্যান্ডকে আক্রমণ করে এবং ১৮০৯ সালের ফ্রেড্রিকশ্যামের শান্তির পরে সুইডেনকে বাধ্য করে ঐ প্রদেশটি সমর্পণ করতে। রাজা চতুর্থ গুস্তাফ অ্যাডলফের অদক্ষ সরকার তার অপসারণ এবং নির্বাসনের দিকে ঠেলে দেয়। একটি নতুন সংবিধান প্রবর্তিত হয়, এবং তার চাচা ত্রয়োদশ চার্লস সিংহাসনে বসেন। যেহেতু তিনি সন্তানহীন ছিলেন, সুইডেন তার উত্তরাধিকার হিসেবে নরওয়েজিয় সেনাবাহিনীর প্রধান যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ান অগাস্ট অফ অগাস্টেনবরগকে নির্বাচন করে। যাইহোক, ১৮১০ সালে তার আকস্মিক মৃত্যু সুইডিশদের বাধ্য করে আরেকজন প্রার্থীর খুঁজতে, এবং আরেকবার তারা একজন সেনা কর্মকর্তা বেছে নেয়। জা-ব্যাপ্টিস্ট বারনাডোট, ফ্রান্সের শাসক, পরবর্তী রাজা হিসেবে ঘোষিত হবেন। ইনি ছিলেন ব্যারন কার্ল ওটো মরনার, ডিয়েটের একজন অখ্যাত সদস্য, যিনি প্রাথমিকভাবে সুইডিশ মুকুটের প্রস্তাব তরুণ সৈনিককে দেন। বারনাডোট মূলত নেপোলিয়নের আঠার শাসকের একজন ছিলেন।

সুইডেন ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জোটে যোগ দেওয়ার সিধান্ত নেয় ১৮১৩ সালে এবং নরওয়েকে পুরষ্কার হিসেবে ঘোষণা করে। ১৮১৩ সালের অক্টোবরের লিপজিগ যুদ্ধের পর, বারনাডোট নেপোলিয়নের গ্রেপ্তার প্রচেষ্টা বাদ দেন এবং ডেনমার্কের বিরুদ্ধে যাত্রা শুরু করেন, যেখানে ১৪ জানুয়ারি ১৮১৪ সালে তিনি ডেনমার্ক- নরওয়ের রাজাকে বাধ্য করেন কিয়েল'এর চুক্তি সমাপ্ত করতে। সুইডেনের রাজার কাছে নরওয়েকে সমর্পণ করা হয়, কিন্তু ডেনমার্ক নরওয়েজিয় আটলান্টিকের ফ্যারো দীপপুঞ্জ, আইসল্যান্ড এবং গ্রিনল্যান্ডের অধিকার বিদ্যমান রাখে। যাইহোক, কিয়েলের চুক্তি কখনই কার্যকর হয়নি। নরওয়ে তার স্বাধীনতা ঘোষণা করে, একটি উদারনৈতিক সংবিধান প্রণয়ন করে, এবং যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেডেরিককে রাজা হিসেবে নির্বাচিত করে। সুইডেনের সাথে সংক্ষিপ্ত এক যুদ্ধের পরে, নরওয়েকে মসের সম্মেলনে সুইডেনের সাথে একটি ব্যাক্তিগত ঐক্যে রাজি হতে হয়। রাজা ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেডেরিক সিংহাসন ত্যাগ এবং ডেনমার্কের দিকে যাত্রা করেন অক্টোবরে, এবং নরয়েজিয় স্টরটিং (সংসদ) সুইডিশ রাজাকে নরওয়ের রাজা হিসেবে মনোনীত করে, সুইডেনের সাথে ঐক্যের জন্যে প্রয়োজনীয় সকল সাংবিধানিক সংশোধনী কার্যকর করে।

সুইডেন এবং নরওয়ে[সম্পাদনা]

১৮১৪ সালের ১৪ জানুয়ারি, কিয়েলের চুক্তিতে, ডেনমার্ক- নরওয়ের রাজা নরওয়েকে সুইডেনের রাজার কাছে সমর্পণ করে। চুক্তিটির শর্তসমূহ নরওয়েতে প্রচুর বিরোধিতার সূচনা করে। নরওয়েজিয় ভাইসরয় এবং ডেনমার্ক- নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী, ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেডরিক জাতীয় বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন, রিজেন্টের পদবী গ্রহণ করেন, এবং এইডসভলে সাংবিধানিক এক সমাবেশ আহ্বান করেন। ১৮১৪ সালের ১৭ মে নরওয়ের সংবিধান সমাবেশ কর্তৃক সাক্ষরিত হয়, এবং ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেডরিক স্বাধীন নরওয়ের রাজা নির্বাচিত হন।

সুইডিশ রাজা স্বাধীন নরওয়ের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন এবং সামরিক অভিযান শুরু করেন ১৮১৪ সালের ২৭ জুলাই, হভেলার দ্বীপপুঞ্জ এবং ফ্রেড্রিক্সট্যাড নগরীতে আক্রমণের সাথে। সুইডিশ সেনারা সংখ্যায় অধিক, তুলনামূলক ভাল অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিল, এবং নরওয়ের শীর্ষস্থানীয় জেনারেল, সুইডেনের নবনির্বাচিত যুবরাজ, জা ব্যাপ্টিস্ট বারনাডোটের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল, যুদ্ধগুলো সংক্ষিপ্ত ছিল এবং সুইডিশরা স্পষ্টভাবে জয়ী হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির আলাপ শেষ হয় ১৪ অগাস্ট ১৮১৪তে।

শান্তি আলোচনায়, ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেডরিক নরওয়ের মুকুটের দাবী ত্যাগ করতে এবং যদি সুইডেন নরওয়ের গণতান্ত্রিক সংবিধান এবং শিথিল ব্যাক্তিগত জোট মেনে নেয় তাহলে ডেনমার্ককে ফেরত দিতে রাজি হন। ১৮১৪ সালের ৪ নভেম্বর, নরওয়েজিয় সংসদ সুইডেনের সাথে জোটে প্রবেশ করার জন্য সাংবিধানিক সংশোধনী গ্রহণ করে, এবং নরওয়ের রাজা হিসেবে ত্রয়োদশ চার্লসকে রাজা হিসেবে নির্বাচিত করে।

নরওয়ের সাথে জোটের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের পরে, সংসদ সর্বসম্মতিক্রমে তার সমাপ্তি ঘোষণা করে ৭ জুন ১৯০৫ সালে। এই একতরফা কাজটি সুইডিশ যুদ্ধের হুমকির সম্মুখীন হয়। ১৩ অগাস্টে একটি গণভোট সংসদীয় সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করে। কার্লস্ট্যাডের সমঝোতা সুইডেনের সাথে চুক্তি এবং পারস্পরিক অব্যাহতির দিকে নিয়ে যায় ২৩ সেপ্টেম্বরে। উভয় সংসদ অ্যাক্ট অফ ইউনিয়ন প্রত্যাহার করে ১৬ অক্টোবরে, এবং পদচ্যুত সুইডেনের রাজা দ্বিতীয় অস্কার তার দাবী নরওয়েজিয় সিংহাসনের কাচে ত্যাগ করেন এবং ২৬ অক্টোবর নরওয়েকে একটি স্বাধীন রাজ্য হিসেবে স্বীকার করেন। নরওয়ের সংসদ শূন্য সিংহাসনটি ডেনমার্কের যুবরাজ কার্লকে দেওয়ার প্রস্তাব করেন, যিনি প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন আরেকটি গণভোট যখন রাজতন্ত্র নিশ্চিত করল। তিনি নরওয়েতে পোঁছান ১৯০৫ সালের ২৫ নভেম্বর, সপ্তম হাকন নাম গ্রহণ করে।

ফিনিশিয় যুদ্ধ[সম্পাদনা]

ফিনিশিয় যুদ্ধ সঙ্ঘটিত হয় ১৮০৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮০৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুইডেন এবং রাশিয়ার মধ্যে। যুদ্ধের ফলাফল হিসেবে, ফিনল্যান্ড যা পুরো পূর্ব সুইডেনের তিন অংশ গঠন করত তা রুশ সাম্রাজ্যের ভেতরে স্বশাসিত গ্র্যান্ড ডাচি অফ ফিনল্যান্ডে পরিণত হল। ফিনল্যান্ড রুশ সাম্রাজ্যের একটি অংশ হিসেবে বিদ্যমান থাকল ১৯১৭ সাল পর্যন্ত যে সময় দেশটি স্বাধীন হল। আরেকটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল সুইডিশ সংসদের একটি নতুন সংবিধান এবং একটি নতুন রাজকীয় বাড়ি, বারনাডোটের, গ্রহণ।

শিল্পায়ন[সম্পাদনা]

স্ক্যান্ডিনেভিয়াতে শিল্পায়ন শুরু হয় ১৯শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। ডেনমার্কে শিল্পায়নের সূচনা এবং সীমাবদ্ধ ছিল কোপেনহেগেনে ১৮৯০ সাল পর্যন্ত, যে সময়ের পরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নগরী গড়ে উঠতে শুরু করে খুব দ্রুত। ডেনমার্ক প্রধানত কৃষি প্রধান থাকে ২০শ শতাব্দীর বেশ কিছুদিন পর্যন্ত, কিন্তু কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ঘটে এবং কাঁচা কৃষিজাত বস্তুর রপ্তানির চেয়ে দুগ্ধজাতীয় এবং মাংস প্রক্রিয়াকরণ বেশি গুরুত্মপূর্ণ হয়ে ওঠে।

সুইডেনের শিল্পায়ন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ব্যাপক সমৃদ্ধির মুখ দেখে। রেলপথ নির্মাণের ফলে দক্ষিণ সুইডেন এবং উত্তরের খনিসমূহের যুক্তকরণ ছিল মুখ্য গুরুত্ম।

স্ক্যান্ডিনেভিয়বাদ[সম্পাদনা]

স্ক্যান্ডিনেভিয়া শব্দটির আধুনিক ব্যবহার শুরু হয় স্ক্যান্ডিনেভীয় রাজনৈতিক আন্দোলন থেকে, যা ১৯শ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে কার্যকর ছিল, প্রধানত প্রথম শ্লেসউইগের যুদ্ধ (১৮৪৮-১৮৫০), যাতে সুইডেন এবং নরওয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমান সামরিক শক্তি দিয়ে অবদান রাখে, এবং দ্বিতীয় শ্লেসউইগের যুদ্ধ (১৮৬৪) যখন রিক্সড্যাগ অফ দ্যা এস্টেটস ডেনমার্ককে দেওয়া সামরিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করে এর মধ্যে।

অভিবাসন[সম্পাদনা]

বহু স্ক্যান্ডিনেভীয় কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা, এবং নিউজিল্যান্ডে অভিবাসন করে উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে। স্ক্যান্ডিনেভীয় অভিবাসনের প্রধান স্রোত সঙ্ঘটিত হয় ১৮৬০ ঠেলে ১৮৮০ সাল পর্যন্ত, যদিও আসল অভিবাসন ১৯৩০ পর্যন্ত চলতে থাকে। অভিবাসীদের একটি প্রধান অংশ গ্রামাঞ্চল ত্যাগ করে উন্নত কৃষিজ এবং অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে। ফিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ডের সাথে, জনসংখ্যার প্রায় এক- তৃতীয়াংশ ১৮৫০ সালের আশি বছর পর দেশত্যাগ করে। দলবদ্ধ প্রস্থানের একটি আংশিক কারণ ছিল মৃত্যুহার হ্রাসের ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যা বেকারত্ব বৃদ্ধি করে।[১৫] নরওয়ের অভিবাসীদের হার সর্বোচ্চ ছিল এবং ডেনমার্কের সর্বনিম্ন।

১৮২০ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে দুই মিলিয়নের অল্প বেশি স্ক্যান্ডিনেভীয় যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী নিবাস গড়ে। দশ লাখ আসে সুইডেন থেকে, ৩০০,০০০ আসে ডেনমার্ক হতে, এবং ৭৩০,০০০ আসে নরওয়ে হতে। নরওয়ের সংখ্যা ১৮০০ সালে মোট জাতীয় জনসংখ্যার প্রায় ৮০% প্রদর্শন করে। উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যসমূহ ছিল মিনেসোটা, আইওয়া, ডাকোটা, উইসকনসিন, মিশিগান, কানাডার প্রেইরিসমূহ এবং ওন্টেরিও।[১৬]

অর্থনৈতিক সমিতি

স্ক্যান্ডিনেভীয়বাদ

স্ক্যান্ডিনেভীয় অর্থনৈতিক সমিতি ছিল ১৮৭৩ সালের ৫ মে সুইডেন এবং নরওয়ে দ্বারা গঠিত একটি অর্থনৈতিক সমিতি, স্বর্ণমানের বিপরীতে তাদের মুদ্রার সমমুল্য নির্দিষ্ট করে। নরওয়ে, যা সুইডেনের সাথে যুক্ত ছিল সমিতিতে দুই বছর পরে যোগদান করে, ১৮৭৫ সালে তাদের মুদ্রার মান ডেনমার্ক এবং সুইডেনের সাথে সমান তালে স্বর্ণমান করে (.৪০৩ গ্রাম)। অর্থনৈতিক সমিতিটি ছিল ১৯শ শতাব্দীর স্ক্যান্ডিনেভীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের বহু বাস্তব ফলাফলের একট্তি।[17]

সমিতিটি স্থির বিনিময় হার এবং অর্থনৈতিক পরিভাষায় স্থিরতা দান করে, কিন্তু সদস্য দেশগুলো তাদের নিজেদের আলাদা মুদ্রা সংস্করণ অব্যাহত রাখে। যদিও এটি আগে থেকে অনুমান করা যায়নি, অনুমিত নিরাপত্তা এমন এক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায় যেখানে আনুষ্ঠানিক ভিন্ন মুদ্রাসমূহ দৃশ্যত পুরো অঞ্চলে গৃহীত হয় বৈধ মুদ্রার "সমান মুল্য" ভিত্তিতে।

১৯১৪ সালের প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা অর্থনৈতিক সমিতির সমাপ্তি ডেকে আনে। সুইডেন স্বর্ণের সাথে বাঁধন ২ অগাস্ট ১৯১৪ সালে বর্জন করে, এবং কোন নির্দিষ্ট বিনিময় হারের অভাবে মুক্ত সংবহনের সমাপ্তি ঘটে।

বিংশ শতাব্দী[সম্পাদনা]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ[সম্পাদনা]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে তিনটি স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশই নিরপেক্ষ থাকে। এলাকাগুলোর অর্থনীতিতে যুদ্ধের তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব অবশ্যই ছিল, প্রধানত জার্মানিতে ব্রিটেনের অবরোধের পরিণতি হিসেবে। যাইহোক, তারা ব্রিটেনের সাথে বাণিজ্য চুক্তি করে পরিস্থিতির মোড় ঘোরাতে সক্ষম হয়। নরওয়ের বিশাল সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্রিটেনে অত্যাবশ্যক সরবরাহ করে কিন্তু জার্মান নৌবাহিনীর নির্বিচার আক্রমণের কারণে জাহাজ এবং নাবিকদের বিশাল লোকসানের সম্মুখীন হয়। ডেনমার্ক নিজেদের বেশিরভাগ সৈন্য ফেরত আনে, কিন্তু জার্মানি তারপরও ডেনিশ সার্বভৌমত্ব কিছু পরিমাণে নষ্ট করে, উদাহরণস্বরূপ ওরসান্ড খনন করে। দক্ষিণ জুটল্যান্ড থেকে বিশাল সংখ্যক আদিবাসী ডেনেরা জার্মান সেনাবাহিনীর হয়ে যুদ্ধ করে।[১৯]

কল্যাণ রাষ্ট্রের উত্থান

তিনটি দেশেই কল্যাণ রাষ্ট্রের উত্থান হয় বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে। এটি আংশিকভাবে আসে সুইডেন এবং ডেনমার্কে সামাজিক- গণতান্ত্রিকদের এবং নরওয়েতে শ্রমিক দলের প্রভাবের কারণে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ[সম্পাদনা]

অপারেশন ওয়েসেরুবুং-এর প্রাথমিক পর্যায়ে জার্মান অবতরণ স্থানসমূহ

১৯৩৯ সালের শেষের দিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার কাছাকাছি সময়ে, মিত্রপক্ষ এবং অক্ষ শক্তি উভয়েই ভয় পেয়েছিল যে তাদের শত্রুরা স্ক্যান্ডিনেভিয়াতে শক্তি অর্জন করছে। ব্রিটেন বিশ্বাস করত যে জার্মানি আক্রমণের পরিকল্পনা করছে এবং এই ভয়ে নিজেরাই আক্রমণের পরিকল্পনা তৈরি করে। একই সময়ে, জার্মানি ভয় পেল যে ব্রিটেন এলাকাটিতে ঘাঁটি পাবে এবং দাবি করে যে তারা সরাসরি আক্রমণের সন্দেহ করছে। তার সাথে, জার্মানি নরওয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুইডিশ লৌহ আকরের অত্যন্ত কদর করত এবং তা হারানোর ঝুঁকি নিতে চাইত না। তারা নরওয়েকে চাইত তার বরফহীন বন্দরের জন্য। এটি একটি মুখ্য লক্ষ্য তৈরি করল, তার সাথে ডেনমার্ককে একটি অপ্রধান লক্ষ্যে পরিণত করে প্রধানত এই কারণে যে নরওয়েকে আক্রমণে তার সহায়তার জন্যে। পরিকল্পনায় কয়েক মাস ব্যয় করে, জার্মানি ডেনমার্ক এবং নরওয়ে উভয়কে আক্রমণ করে ৯ এপ্রিল ১৯৪০ সালে, ব্রিটেন আক্রমণের পরিকল্পনার বহুদিন আগে।[২০]

জাতিগুলো বেশ ভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।[২১] ডেনমার্ক আক্রমণের দুই ঘণ্টা পরে আত্মসমর্পণ করে, মাত্র ষোলোজন মানুষ হারিয়ে। তারা বেসামরিক হতাহত এড়াতে চেয়েছিল এবং জার্মানির কাছ থেকে অনুকূল আচরণ পেতে চেয়েছিল। নরওয়ে অন্যদিকে, হার মানতে অস্বীকার করে এবং সাহসিকতার এবং তার সীমিত এবং খারাপ প্রস্তুত বাহিনীর সাথে পূর্ণ শক্তির সাথে যুদ্ধ করে। পশ্চিমা মিত্ররা সামরিক সাহায্য পাঠাল, কিন্তু অভিযানটি কার্যকর হয়নি। ১৯৪০ সালের ১০ জুনের মধ্যে, নরওয়ের সরকারী সেনাবাহিনী আক্রমণকারীদের কাছে আত্মসমর্পণ করে, রাজা সপ্তম হাকন এবং তার আইনি সরকার পালিয়ে ব্রিটেনে নির্বাসনে যান।

অল্প সময়ের জন্য ডেনমার্কের কৌশল উপকারী বলে প্রমাণিত হল। ডেনদের উচ্চমানের স্বায়ত্তশাসনের অনুমতি দেওয়ার পেছনে এটি একটি কারণ ছিল। আরেকটি কারণ ছিল তাদের ডেনমার্কের বিরুদ্ধে আসল কোন পরিকল্পনা ছিল না। আক্রমণের পরে, তারা কেবল দেশটিকে হারাতে চায়নি, একে তাদের সাম্রাজ্যের এক স্থায়ী অংশ হিসেবে দেখে। এছাড়াও, ডেনদের নর্ডিক এবং আর্যদের বন্ধু বলে মনে করত নাজি ভাববাদীরা, যা দেশটিকে আরও সাহায্য করল। এইসব কারনের জন্য, ডেনমার্ক তাদের নিজেদের সংসদ, রাজা এবং তাদের সাধারণ দেশীয় কাজের বেশিরভাগ বজায় রাখতে সক্ষম ছিল। যাইহোক, জার্মানির বিরুদ্ধে তিক্ততার সূচনা হল, এবং জার্মানির বিরুদ্ধে ছোটখাট নাশকতা সাধারণ হয়ে উঠল। জার্মানি অবশেষে ডেনমার্কের প্রতিনিধিত্ব সরকারকে হটিয়ে এবং সামরিক আইন আরোপ করে সাড়া দিল।

দখলের সময়ে নরওয়ের সাথে আরও কঠোর ব্যবহার করা হয়। বিরোধী দলগুলোকে পরিহার করা হয় এবং Nasjonal Samling ন্যাশনাল পার্টি), নরওয়ের ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল, সকল সরকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। ভিদকুন কুইস্লিংকে মন্ত্রী- রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া হয়, বার্লিন হাই কম্যান্ডের এক পুতুল। শ্রমিক ইউনিয়নগুলো টিকে থাকবে শুধুমাত্র যদি তারা নাজি নিয়ন্ত্রণ মেনে নেয়। এইসব দমনমূলক পদক্ষেপ নিশ্চিত করল যে সহযোগিতা ক্ষুদ্র থাকবে। দশ শতাংশের মত নাজি দলকে সমর্থন করত। তা স্বত্বেও, সেখানে শত্রুতাপরায়ণ সম্পর্ক ছিল, দশজন নরয়েজিয় নাগরিকের বিরুদ্ধে একজন জার্মান এমন এক দখলদারি বাহিনীর সাথে।

ডেনমার্ক এবং নরওয়ে জার্মানির গণহত্যা নীতিকে সহায়তার ক্ষেত্রেও ভিন্ন ছিল। নরওয়েজিয় পুলিশ, কুইস্লিং সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, ১৯৪২ সালে নরওয়েজিয় ইহুদীদের আটকে সাহায্য করত। যাইহোক, সাহসী নরওয়েজিয়রা অর্ধেকের বেশি ইহুদীদের নাজি ডেথ ক্যাম্প থেকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছিল এবং নিরাপদে তাদেরকে সুইডেনে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল, যদিও ইহুদীদের সাহায্য করার জন্য তাদের ভয়াবহ শাস্তির সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকি ছিল। ডেনিশ ইহুদীরা ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত জার্মান নিগ্রহ এড়াতে পারল, এবং এইজন্য যখন জার্মানি আক্রমণ করল ডেনমার্ক ভালভাবে প্রস্তুত ছিল। ডেনিশ ইহুদীদের রক্ষা করার জন্যে একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার জন্য ডেনেরা স্মরণীয় ছিল। ৯৬% এর বেশি ইহুদী জনগণ নিরাপদে সুইডেনে নৌপথে পালিয়ে যায়, বাকিরা খৃষ্টান ডেনিশ পরিবার এবং সংস্থাসমূহে আশ্রয় পায়।

এই তিন স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশের মধ্যে একমাত্র সুইডেন যুদ্ধের সময় আক্রান্ত হয়নি এবং প্রায় নিরপেক্ষ থাকে। তারা সার্থকতার সাথে জার্মানির সাথে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলে, তাদেরকে প্রয়োজনীয় কাঁচা মাল সরবরাহ করে। সুইডিশ সরকার নাজিদের উত্তেজিত করে না তোলার ব্যাপারে খুবই সাবধান ছিল, খবর সেন্সর করতে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের প্ররোচিত করার এবং ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত সুইডেনের মাধ্যমে নরওয়েতে সরবরাহ পরিবহন করতে দেওয়ার মত পদপক্ষেপ পর্যন্ত নেয় তারা। যাইহোক, তারা শেষ পর্যন্ত মিত্র শক্তিকে সাহায্য করে। তারা ডেনমার্ক থেকে পালানো ইহুদীদের আশ্রয় দেয় এবং শীত যুদ্ধের সময় ফিনল্যান্ডকে উল্লেখযোগ্য সহায়তা দেয়।

যুদ্ধোত্তর

যুদ্ধের পরে, সকল স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশ একমত হয় যে এক ধরনের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতি সৃষ্টির প্রয়োজন আছে। তারা একটি স্ক্যান্ডিনেভীয় প্রতিরক্ষা ইউনিয়ন গঠনের আলোচনা শুরু করেন। তিনটি স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশ, যদি তারা কোন জোট গঠন করতে পারে, পৃথক সার্বভৌম দেশ হিসেবে বিদ্যামআন থাকবে, কিন্তু পররাষ্ট্র নীতি এবং প্রতিরক্ষা বিষয়সমূহে একটি একক গোষ্ঠী হিসেবে কাজ করবে। ১৯৪৮-১৯৪৯ এর শীতে, একটি সংযুক্ত স্ক্যান্ডিনেভীয় কমিটি প্রস্তাবিত ইউনিয়ন নিয়ে আলোচনা করছিল, কিন্তু ইউনাইটেড স্টেটস এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে কোল্ড ওয়ারের চাপা উত্তেজনা, এবং একটি পশ্চিমা জোটের প্রস্তুতি যার পরিণতি হবে নর্থ অ্যাটলান্টিক চুক্তিতে প্রচেষ্টাটিতে বাধা দেয়। যখন জানা গেল যে পশ্চিমা জোটটি নিজেদের অস্ত্রের জরুরী চাহিদা পুরণ না করে স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ করতে পারবে না, নরওয়ের জন্য এই ইস্যুটি ঘুরে দাঁড়ানোর একটি কারণ বলে প্রমাণিত হয়, কিন্তু সুইডিশরা এতে অল্পই সুবিধা দেখতে পেল এবং প্রস্তাবটি ব্যর্থ হল। নরওয়ে এবং ডেনমার্ক পরবর্তীতে নর্থ অ্যাটলান্টিকের সাক্ষরদাতা দল এবং ন্যাটোর সদস্য হয়ে উঠে। এক উত্তপ্ত বিতর্কের পর সুইডেন নিরপেক্ষ থেকে গেল।

ইউরোপীয় একত্রীকরণ[সম্পাদনা]

নর্ডিক দেশসমূহ ১৯৫২ সালে দ্যা নর্ডিক কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত করে এবং দুই বছর পরে দ্যা নর্ডিক পাসপোর্ট ইউনিয়ন। ১৯৭২ এর গণভোটের পর, ডেনমার্ক ইউরোপীয় ইউনিয়ন কমিউনিটির প্রথম সদস্য হয়, যা পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে ইইউ গঠনের পথ তৈরি করে। সুইডেন ইইউ-তে যোগদান করে ১৯৯৫ সালে; সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর, সুইডেন অনুভব করে যে দেশটি আক্রমণাত্মক না হয়েও এমন করতে পারে। নরওয়ে আজ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে আছে ১৯৭২ এবং ১৯৯৪ এর গণভোটে্র পর, যদিও দেশটি শেঞ্জেন চুক্তির একজন সাক্ষরদাতা এবং ইউরোপীয় ইকোনমিক এরিয়ার একজন সদস্য। স্ক্যান্ডিনেভীয় অন্য কোন দেশ (ফিনল্যান্ড ব্যতীত) ইউরোতে যোগদান করেনি, গণভোটে ডেনমার্ক এবং সুইডেন উভয় দেশের দ্বারা সদস্যপদ বাতিল হওয়াতে। ডেনমার্ক ১৯৯২ সালে মাস্ট্রিক্ট চুক্তিতে না ভোট দেয়, কিন্তু অনির্বাচনের কথা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলে।

আরো দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Gummesson, Sara; Hallgren, Fredrik (২০১৮)। "Keep your head high: skulls on stakes and cranial trauma in Mesolithic Sweden": 74–90। doi:10.15184/aqy.2017.210আইএসএসএন 0003-598X 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

  • আর্নল্ড, মার্টিন। ভাইকিং: সংস্কৃতি ও বিজয় (হাম্বল্ডন প্রেস, 2006)
  • Bagge, Sverre। ক্রস অ্যান্ড সেস্প্টার: দ্য রাইজ অফ দ্য স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কিংডমস অফ দ্য উইকিংস টু দ্য রিফর্মেশন (প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস; 2014) 325 পৃষ্ঠা;
  • বার্টন, এইচ। আর্নল্ড। বিপ্লবী যুগের স্ক্যান্ডিনেভিয়া 1760-1815, মিনেসোটা প্রেস বিশ্ববিদ্যালয়, 1986। আইএসবিএন ০-৮১৬৬-১৩৯২-৩ আইএসবিএন   0-8166-1392-3
  • Cronholm, Neander N. (১৯০২)। A History of Sweden from the Earliest Times to the Present Day 
  • ক্লার্ক, লুই; গ্লোভার, নিকোলাস; জর্ডান, পল, eds। নর্ডিক ও বাল্টিক দেশগুলিতে জন কূটনীতি এবং জাতীয় ব্র্যান্ডিং ইতিহাস: পেরিফেরির প্রতিনিধিত্ব (লিডেন: ব্রিল নিঝফ, 2015)। 348 পিপি। আই এস এস 978- 90-04-30548-9। অনলাইন পর্যালোচনা
  • ডেরি, টি কে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ইতিহাস: নরওয়ে, সুইডেন, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড । (মিনিয়াপলিস: মিনেসোটা প্রেস ইউনিভার্সিটি, 1979। আইএসবিএন ০-৮১৬৬-৩৭৯৯-৭ আইএসবিএন   0-8166-3799-7 )।
  • হেল, নট, এড। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ক্যামব্রিজ ইতিহাস: ভলিউম। 1 (ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, 2003)
  • হেসির, আলেল: আধুনিক আধুনিক যুগের স্ক্যান্ডিনেভিয়া; কৃষক বিপ্লব এবং জাদুকরী হান্ট থেকে সংবিধান খসড়া প্রস্তুতকরণ (Nisus প্রকাশনা, 2015)।
  • হডসন, এন্টনি। স্ক্যান্ডিনইভিআর অধিবাসী সঙ্গীত: ফিনল্যান্ড এবং সুইডেন। (1985)। 224 পিপি।
  • হর্ন, ডেভিড বেইন। অষ্টাদশ শতাব্দীতে গ্রেট ব্রিটেন এবং ইউরোপ (1967) 1603-1702 জুড়ে; পিপি 236-69।
  • ইনজব্রিজেন, ক্রিস্টিন। স্ক্যান্ডিনেভিয়া বিশ্বের রাজনীতিতে আমি (রোম্যান এবং লিটলফিল্ড, 2006)
  • Lindstrom, পিটার, এবং Svante Norrhem। ফ্ল্যাটারিং অ্যালায়েন্সস: স্ক্যান্ডিনেভিয়া, কূটনীতি ও অস্ট্রিয়ান-ফরাসি ব্যালেন্স অফ পাওয়ার, 1648-1740 (নর্ডিক একাডেমিক প্রেস, ২013)।
  • ম্যাথিয়াস, পিটার, ইডি। ইউরোপের ক্যামব্রিজ অর্থনৈতিক ইতিহাস। ভোল। 7: শিল্প অর্থনীতি। ক্যাপিটাল, শ্রম ও এন্টারপ্রাইজ। অংশ 1 ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়া (1978)
  • মোবার্গ, ভিলহেলম, এবং পল ব্রিটেন অস্টিন। সুইডিশ জনগণের ইতিহাস: ভলিউম ২: রেনেসাঁ থেকে বিপ্লব (২005)
  • নিসেন, হেনরিক এস।, এড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় স্ক্যান্ডিনেভিয়া (ইউনিভার্সিটি ফরফ্ল্যাট, 1983)
  • Otté, Elise C. (১৮৯৪)। Scandinavian History 
  • সালমন, প্যাট্রিক। স্ক্যান্ডিনেভিয়া এবং মহান ক্ষমতা 1890-1940 (ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস, 2002)।
  • Sejersted, ফ্রান্সিস। দ্য এজ অফ সোশ্যাল গণতন্ত্র: বিংশ শতাব্দীর নরওয়ে ও সুইডেন (প্রিন্সটন ইউপি, ২011); 543 পৃষ্ঠা; 1905 সালের পরে স্ক্যান্ডিনইভিআর অধিবাসী সামাজিক মডেলের ইতিহাসের সন্ধান।
  • ট্রেজার, জিওফ্রে। মেকিং অফ আধুনিক ইউরোপ, 1648-1780 (তৃতীয় সংস্করণ 2003)। পিপি 494-526।

বহিঃসংযোগ