বিষয়বস্তুতে চলুন

গণভোট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
উপরে থেকে নিচে: ২০১৬ সালের আইভরিয়ান সংবিধান সংশোধনী গণভোটের ব্যালট; ১৯৭১ সালের একটি মার্কিন গণভোটের প্রচারপত্র; ১৯৪৬ সালের ইতালীয় গণভোট, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল দেশটি প্রজাতন্ত্র হবে নাকি রাজতন্ত্র।

গণভোট বা জনমত জরিপ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ নিজেরা সরাসরি কোনো প্রস্তাব, আইন বা রাজনৈতিক বিষয়ে ভোট দেয়।[] গণভোটের ফলাফল আইনত বাধ্যতামূলকও হতে পারে (যার ফলে নতুন নীতি গ্রহণ করা হয়) বা পরামর্শমূলকও হতে পারে (যা মূলত একটি বড় আকারের মতামত জরিপের মতো কাজ করে)।

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

'গণভোট' নাম ও ব্যবহার ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম দিকে সুইস ক্যান্টন গ্রাউবুনডেনে উৎপত্তি বলে মনে করা হয়।

বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে গণভোটের ব্যবহার কিছুটা কমে গেলেও, ১৯৭০-এর দশক থেকে আবার এটি একটি রাজনৈতিক উপকরণ হিসেবে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। এই বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলা হয়, জনগণের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আগের মতো সম্পর্ক না থাকা ও নির্দিষ্ট নীতিগত বিষয়গুলো জনগণের কাছে দলের পরিচয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা।[]

প্রকারভেদ

[সম্পাদনা]

শ্রেণীবিভাগ

[সম্পাদনা]

“গণভোট” শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়, এবং এর ধরন ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। কোনো গণভোট আইনত বাধ্যতামূলক হতে পারে, আবার কোনোটি পরামর্শমূলক হতে পারে।[] কিছু দেশে এই দুই ধরনের গণভোটের জন্য আলাদা নামও ব্যবহার করা হয়। কে এটি শুরু করেছে তার ভিত্তিতে গণভোটগুলোকে আরও ভাগ করা যায়।[]

ডেভিড অল্টম্যান গণভোটকে শ্রেণিবদ্ধ করার জন্য চারটি দিক বা মাত্রা প্রস্তাব করেছেন:[]

  • বাধ্যতামূলক (আইনত বাধ্যতামূলক) বনাম ঐচ্ছিক
  • বাধ্যতামূলক বনাম পরামর্শমূলক
  • নাগরিকদের উদ্যোগ (নীচ থেকে উপরে) বনাম কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ (উপর থেকে নীচে)
  • সক্রিয় (পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া) বনাম প্রতিক্রিয়াশীল (পরিবর্তন রোধ করা)

বাধ্যতামূলক গণভোট

[সম্পাদনা]

বাধ্যতামূলক গণভোট হলো এমন এক ধরনের গণভোট, যা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে বা কোনো নির্দিষ্ট সরকারি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অনুষ্ঠিত হওয়া আবশ্যক। এই ধরনের গণভোটের জন্য সাধারণ জনগণের স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রয়োজন হয় না। যেখানে গণভোট প্রথা চালু আছে, সেখানে সংবিধান পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদন, আন্তর্জাতিক সংগঠনে যোগদান বা নির্দিষ্ট ধরনের সরকারি ব্যয় অনুমোদনের জন্য বাধ্যতামূলক গণভোটকে সাধারণত আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ধাপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।[]

ঐচ্ছিক গণভোট

[সম্পাদনা]

ঐচ্ছিক গণভোট হলো এমন এক ধরনের গণভোট, যা কোনো দাবি বা অনুরোধের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়। এই দাবি সরকারি নির্বাহী শাখা, আইন প্রণয়নকারী শাখা, বা সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকেও আসতে পারে (সাধারণত নির্দিষ্ট সংখ্যক স্বাক্ষর সংগ্রহের শর্ত পূরণের পর)।

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Definition of Plebiscite"। Oxford Dictionaries। ১২ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১৬
  2. Silagadze, Nanuli; Gherghina, Sergiu (জানুয়ারি ২০২০)। "Referendum Policies across Political Systems"The Political Quarterly৯১ (1): ১৮২–১৯১। ডিওআই:10.1111/1467-923x.12790আইএসএসএন 0032-3179এস২সিআইডি 213618720
  3. de Vreese, Claes H. (২০০৭)। "Context, Elites, Media and Public Opinion in Referendums: When Campaigns Really Matter"The Dynamics of Referendum Campaigns: An International Perspective। Palgrave Macmillan। পৃ. ২–৩। আইএসবিএন ৯৭৮০২৩০৫৯১১৮৯
  4. Serdült, Uwe; Welp, Yanina (২০১২)। "Direct Democracy Upside Down" (পিডিএফ)Taiwan Journal of Democracy (1): ৬৯–৯২। ডিওআই:10.5167/uzh-98412। ২ এপ্রিল ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মার্চ ২০১৫
  5. "Direct Democracy Worldwide"ResearchGate (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৯ আগস্ট ২০২১
  6. "Design and Political issues of Referendums –"aceproject.org। ২ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুন ২০২০