সোডিয়াম সালফেট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
Sodium sulfate
Sodium sulfate.svg
Sodium sulfate.jpg
নামসমূহ
অন্যান্য নাম
Sodium sulphate
Sulfate of sodium
Thenardite (mineral)
Glauber's salt (decahydrate)
Sal mirabilis (decahydrate)
Mirabilite (decahydrate mineral)
Disodium sulfate
শনাক্তকারী
ত্রিমাত্রিক মডেল (জেমল)
সিএইচইবিআই
সিএইচইএমবিএল
কেমস্পাইডার
ইসিএইচএ ইনফোকার্ড ১০০.০২৮.৯২৮
ইসি-নম্বর
ই নম্বর E৫১৪(i) (অম্লতা নিয়ন্ত্রক, ...)
আরটিইসিএস নম্বর
  • WE1650000
ইউএনআইআই
বৈশিষ্ট্য
Na2SO4
আণবিক ভর 142.04 g/mol (anhydrous)
322.20 g/mol (decahydrate)
বর্ণ white crystalline solid
hygroscopic
গন্ধ odorless
ঘনত্ব 2.664 g/cm3 (anhydrous)
1.464 g/cm3 (decahydrate)
গলনাঙ্ক ৮৮৪ °সে (১,৬২৩ °ফা; ১,১৫৭ K) (anhydrous)
32.38 °C (decahydrate)
স্ফুটনাঙ্ক ১,৪২৯ °সে (২,৬০৪ °ফা; ১,৭০২ K) (anhydrous)
anhydrous:
4.76 g/100 mL (0 °C)
28.1 g/100 mL (25 °C)[১]
42.7 g/100 mL (100 °C)
heptahydrate:
19.5 g/100 mL (0 °C)
44 g/100 mL (20 °C)
দ্রাব্যতা insoluble in ethanol
soluble in glycerol, water and hydrogen iodide
−52.0·10−6 cm3/mol
প্রতিসরাঙ্ক (nD) 1.468 (anhydrous)
1.394 (decahydrate)
গঠন
স্ফটিক গঠন orthorhombic (anhydrous)[২]
monoclinic (decahydrate)
ঔষধসংক্রান্ত
ATC code
ঝুঁকি প্রবণতা
প্রধান ঝুঁকিসমূহ Irritant
নিরাপত্তা তথ্য শীট ICSC 0952
এনএফপিএ ৭০৪
ফ্ল্যাশ পয়েন্ট Non-flammable
সম্পর্কিত যৌগ
Sodium selenate
Sodium tellurate
Lithium sulfate
Potassium sulfate
Rubidium sulfate
Caesium sulfate
সম্পর্কিত যৌগ
Sodium bisulfate
Sodium sulfite
Sodium persulfate
সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা ছাড়া, পদার্থসমূহের সকল তথ্য-উপাত্তসমূহ তাদের প্রমাণ অবস্থা (২৫ °সে (৭৭ °ফা), ১০০ kPa) অনুসারে দেওয়া হয়েছে।
YesY যাচাই করুন (এটি কি YesYN ?)
তথ্যছক তথ্যসূত্র

সোডিয়াম সালফেট বা সালফেট সোডা একটি অজৈব যৌগ যার রাসায়নিক সংকেত হ'ল Na2SO4। সোদক সোডিয়াম সালফেট Na2SO4·10H2O গ্লবার লবণ (Glauber's salt) হিসাবে বেশি পরিচিত। সব রকম অবস্থার সোডিয়াম সালফেট দেখতে সাদা রঙের কঠিন পদার্থ এবং জলে বেশ দ্রবণীয়। সারা বিশ্বে সোডিয়াম সালফেটের বার্ষিক উৎপাদন ৬০ লক্ষ টনের মতো। এর বেশিরভাগ উৎপাদনই হলো দশ অণু কেলাস-জল বিশিষ্ট সোদক সোডিয়াম সালফেট। এটি মূলত ডিটারজেন্ট তৈরির জন্য এবং কাগজের শিল্পে ক্রাফ্ট প্রক্রিয়াতে (kraft process) কাগজের মণ্ড (pulp) তৈরিতে ব্যবহৃত হয়I[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

দশ অণু কেলাস-জল নিয়ে গঠিত সোদক সোডিয়াম সালফেটকে গ্লবার লবণ বলে। ১৬২৫ সালে ডাচ / জার্মান রসায়নবিদ জোহান রুডলফ গ্লবার (১৬০৪–১৬৭০) অস্ট্রিয়ান প্রস্রবণের জলে সোদক সোডিয়াম সালফেট আবিষ্কার করেন। এই বিজ্ঞানীর নাম অনুসারে এটি গ্লবার লবণ হিসাবে পরিচিত। এই লবণে ওষুধের গুণ থাকার কারণে বিজ্ঞানী গ্লবার এর নাম দিয়েছিলেন sal mirabilis (miraculous salt) অর্থাৎ অলৌকিক লবণ। ১৯০০ এর দশক পর্যন্ত আরও ভাল ভাল ওষুধ আসা না আসা এইঅবধি সোদক সোডিয়াম সালফেটের স্ফটিক জোলাপ হিসাবে ব্যবহৃত হত।[৪][৫]

আঠারো শতকে পটাশ (পটাসিয়াম কার্বনেট) এর সঙ্গে গ্লবার লবণের বিক্রিয়া করে বাণিজ্যিকভাবে সোডা অ্যাশ (সোডিয়াম কার্বনেট) উৎপাদন করা হতো। সেই সময় থেকে কাঁচামাল হিসাবে এর ব্যবহার করা শুরু হয়। সোডা অ্যাশের চাহিদা বৃদ্ধির জন্য সোডিয়াম সালফেটেরও চাহিদা বেড়ে যায়। উনিশ শতকে বাণিজ্যিকভাবে লেব্ল্যাঙ্ক প্রক্রিয়ার সাহায্যে সোডিয়াম কার্বনেট তৈরির জন্য খাদ্যলবণ সোডিয়াম ক্লোরাইডের সঙ্গে সালফিউরিক অ্যাসিডের বিক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী পদার্থ হিসাবে সোডিয়াম সালফেট উৎপাদন করা হয়।[৬]

রাসায়নিক ধর্ম[সম্পাদনা]

সোডিয়াম সালফেট জলে দ্রবণীয়। এটি জলে আয়নিত হয়ে সোডিয়াম আয়ন ও সালফেট আয়ন উৎপন্ন করে। এই মুক্ত সালফেট আয়নগুলি বেরিয়াম আয়ন (Ba2+) অথবা লেড আয়ন (Pb2+)-এর উপস্থিতিতে আদ্রবণীয় সালফেট লবণ তৈরি করে:

Na2SO4 + BaCl2 → 2 NaCl + BaSO4

সোডিয়াম সালফেট বেশিরভাগ জারক বা বিজারক পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না। তবে কার্বনের সাথে (কাঠকয়ালের সাথে) উচ্চ তাপমাত্রায় বিজারিত হয়ে সোডিয়াম সালফাইডে রূপান্তরিত হতে পারে।[৭]

Na2SO4 + 2 C → Na2S + 2 CO2

এই বিক্রিয়াটি লেব্ল্যাঙ্ক প্রক্রিয়াতে ব্যবহৃত হয়েছিল।

সোডিয়াম সালফেট সালফিউরিক অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম বাইসালফেট আম্লিক লবণ তৈরি করে।[৮][৯]

Na2SO4 + H2SO4 ⇌ 2 NaHSO4

ভৌত ধর্ম[সম্পাদনা]

সোডিয়াম সালফেট জলে দ্রবণীয়। তবে জলে এর অস্বাভাবিক দ্রবণীয়তা লক্ষ করা যায়।[১০] ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে 32.384 ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে জলে এর দ্রবণীয়তা দশ গুণ বেড়ে এটি সর্বাধিক ৪৯.৭ গ্রাম প্রতি ১০০ মিলিলিটারে পৌঁছে যায়I

উৎপাদন[সম্পাদনা]

সারা বিশ্বে সোদক সোডিয়াম সালফেটের মোট উৎপাদন বছরে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ লক্ষ টন। ১৯৮৫ সালে সারা বছরে এ উৎপাদন ছিল ৪৫ লক্ষ টন। এর অর্দ্ধেক উৎপাদন হয়েছিল প্রাকৃতিক উৎস থেকে এবং বাকি অর্ধেক রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদন করা হয়েছিল। তবে ২০০৬ সালের পরে প্রাকৃতিক উৎপাদন বেড়ে হয় বছরে ৪০ লক্ষ টন এবং রাসায়নিক উৎপাদন হ্রাস পেয়ে হয় ১৫ লক্ষ টন থেকে ২০ লক্ষ টন। অর্থাৎ সর্বমোট ৫৫ লক্ষ টন থেকে ৬০ লক্ষ টন হয়।[১১][১২][১৩][১৪]

প্রাকৃতিক উৎস থেকে[সম্পাদনা]

সারা বিশ্বের গ্লাবার লবণের দুই তৃতীয়াংশ উৎপাদন হয় প্রাকৃতিক খনিজ মিরাবিলাইট থেকে। উদাহরণস্বরূপ কানাডার দক্ষিণ সাসকাচোয়ানের হ্রদের বিভিন্ন স্তরে এই প্রাকৃতিক খনিজটি পাওয়া যায়।

রাসায়নিক শিল্প থেকে[সম্পাদনা]

বিশ্বের সোডিয়াম সালফেটের প্রায় এক তৃতীয়াংশ উৎপাদন রাসায়নিক শিল্পের নানা প্রক্রিয়া থেকে উপজাত হিসাবে পাওয়া যায়।

সুরক্ষা[সম্পাদনা]

যদিও সোডিয়াম সালফেট এমনিতে বিষাক্ত নয়,[১৫] তবুও এটিকে যত্ন সহকারে ব্যবহার করা উচিত। সোডিয়াম সালফেটের গুঁড়োর থেকে সাময়িক হাঁপানি বা চোখ জ্বালা হতে পারে। ঠিক মতো চোখের সুরক্ষা নিয়ে এবং একটি কাগজের মুখোশ ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি এড়ানো যেতে পারে। সুরক্ষার দিক থেকে সোডিয়াম সালফেট পরিবহনে এমনিতে বিশেষ কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।[১৬]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. National Center for Biotechnology Information. PubChem Compound Summary for CID 24436, Sodium sulfate. https://pubchem.ncbi.nlm.nih.gov/compound/Sodium-sulfate. Accessed Nov. 2, 2020.
  2. Zachariasen, W. H.; Ziegler, G. E. (১৯৩২)। "The crystal structure of anhydrous sodium sulfate Na2SO4"। Zeitschrift für Kristallographie, Kristallgeometrie, Kristallphysik, Kristallchemie। Wiesbaden: Akademische Verlagsgesellschaft। 81: 92–101। এসটুসিআইডি 102107891ডিওআই:10.1524/zkri.1932.81.1.92 
  3. Helmold Plessen (২০০০)। "Sodium Sulfates"। Ullmann's Encyclopedia of Industrial Chemistry। Weinheim: Wiley-VCH। আইএসবিএন 978-3527306732ডিওআই:10.1002/14356007.a24_355 
  4. Szydlo, Zbigniew (১৯৯৪)। Water which does not wet hands: The Alchemy of Michael Sendivogius। London–Warsaw: Polish Academy of Sciences। 
  5. Westfall, Richard S. (১৯৯৫)। "Glauber, Johann Rudolf"। The Galileo Project। ২০১১-১১-১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  6. Aftalion, Fred (১৯৯১)। A History of the International Chemical Industry। Philadelphia: University of Pennsylvania Press। পৃষ্ঠা 11–16। আইএসবিএন 978-0-8122-1297-6 
  7. Handbook of Chemistry and Physics (71st ed.). Ann Arbor, Michigan: CRC Press. 1990.
  8. The Merck Index (7th সংস্করণ)। Rahway, New Jersey, US: Merck & Co.। ১৯৬০। 
  9. Nechamkin, Howard (১৯৬৮)। The Chemistry of the Elementsবিনামূল্যে নিবন্ধন প্রয়োজন। New York: McGraw-Hill 
  10. Linke, W.F.; A. Seidell (১৯৬৫)। Solubilities of Inorganic and Metal Organic Compounds (4th সংস্করণ)। Van Nostrand। আইএসবিএন 978-0-8412-0097-5 
  11. Suresh, Bala; Kazuteru Yokose (মে ২০০৬)। Sodium sulfateCEH Marketing Research Report। Zurich: Chemical Economic Handbook SRI Consulting। পৃষ্ঠা 771.1000A–771.1002J। ২০০৭-০৩-১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  12. "Statistical compendium Sodium sulfate"। Reston, Virginia: US Geological Survey, Minerals Information। ১৯৯৭। ২০০৭-০৩-০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৪-২২ 
  13. The economics of sodium sulphate (Eighth সংস্করণ)। London: Roskill Information Services। ১৯৯৯। 
  14. The sodium sulphate business। London: Chem Systems International। নভেম্বর ১৯৮৪। 
  15. "Sodium sulfate (WHO Food Additives Series 44)"World Health Organization। ২০০০। ২০০৭-০৯-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৬-০৬ 
  16. "MSDS Sodium Sulfate Anhydrous"। James T Baker। ২০০৬। ২০০৩-০৬-১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৪-২১