বিষয়বস্তুতে চলুন

শায়খ ইদ্রিস

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মুনাজির-ই-জামান শাইখুল হাদিস হযরত মাওলানা

শায়খ ইদ্রিস

সাহেব
সদস্য, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক পরিষদ
অফিসে
২০০২  ২০০৭
স্পিকার, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক পরিষদ
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম১৯৬১
ধর্মইসলাম
জাতীয়তা পাকিস্তান
সন্তান
  • মাওলানা হাফিজ আনিস আহমেদ
  • ড. মোহাম্মদ সালমান
পিতামাতা
  • হাকিম মাওলানা আব্দুল হক (পিতা)
যুগআধুনিক
আখ্যাসুন্নি
ব্যবহারশাস্ত্রহানাফি
আন্দোলনদেওবন্দি
রাজনৈতিক দলজমিয়ত উলামায়ে ইসলাম (ফ)
প্রধান আগ্রহহাদীস
যেখানের শিক্ষার্থী
কাজরাজনীতিবিদ
আত্মীয়
  • শাইখুল হাদিস মুফতি শাহজাদা (পিতামহ)
  • হাসান জান (শ্বশুর)

মাওলানা মুহাম্মদ ইদ্রিস ( উর্দু: مولانا محمد ادریس) ছিলেন একজন পাকিস্তানি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত, ধর্মীয় বক্তা, শায়খুল হাদিস ও রাজনীতিবিদ, যিনি জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের সরপরস্ত-ই-আলা (প্রধান) ছিলেন। তিনি শায়খ ইদ্রিস নামে অধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য [] ও বিধানসভার স্পিকার ছিলেন। ২০২৬ সালের ৫ মে তাকে বহনকারী গাড়িতে অজ্ঞাতনামা হামলাকারীরা গুলি চালালে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে একটি স্থানীয় হাসপাতালে তিনি মৃ্ত্যুবরণ করেন।

প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা

[সম্পাদনা]

তিনি ১৯৬১ সালে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার চরসদ্দা জেলার তুরঙ্গজাই গ্রামে হাকিম মাওলানা আব্দুল হকের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা তৎকালীন প্রসিদ্ধ মুসলিম পণ্ডিত ছিলেন। তিনি মুনাজির-ই-জামান নামেও পরিচিত ছিলেন। তার পিতামহ শায়খুল হাদিস শাহজাদা দারুল উলুম দেওবন্দের প্রাক্তন স্নাতক ছিলেন। মাওলানা ইদ্রিস প্রসিদ্ধ ধর্মীয় নেতা ও মুসলিম পণ্ডিত মাওলানা হাসান জানের জামাতা ছিলেন।[]

তিনি নিজ শহর উৎমানজাইতে অবস্থিত জামিয়া নোমানিয়া থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর উচ্চ ধর্মীয় শিক্ষার জন্য তিনি খাইবার পাখতুনখোয়ার আকোরা খাট্টকে অবস্থিত দারুল উলুম হাক্কানিয়ায় ভর্তি হন। ধর্মীয় শিকষার পাশাপাশি তিনি আধুনিক শিক্ষাও গ্রহণ করেন। তিনি পেশাওয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ আরবি ও এম এ ইসলামিয়াতে ভালো নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন।[]

শিক্ষকতা

[সম্পাদনা]

উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি শিক্ষকতায় মনোনিবেশ করেন। তিনি সেই উদ্দেশ্যে জামিয়া নোমানিয়ায় শিক্ষকতা শুরু করেন এবং আমৃত্যু সেখানে শিক্ষকতা ও প্রিতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি জামিয়া নোমানিয়ার শাইখুল হাদিসও ছিলেন।[][]

রাজনৈতিক জীবন

[সম্পাদনা]

শিক্ষকতা ও ধর্মীয় বক্তৃতার পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি চরসদ্দা জেলার জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের আমির ছিলেন। ২০২৬ সালে মৃত্যুর আগে তিনি দলটির সরপরস্ত-ই-আলা (প্রধান) ছিলেন। তিনি কেপিকে (খাইবার পাখতুনখোয়া) প্রদেশের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য[] ও বিধানসভার স্পিকার ছিলেন।[]

হত্যাকাণ্ড

[সম্পাদনা]

২০২৬ সালের ৫ মে উতমানজাই এলাকায় তাকে বহনকারী গাড়িতে অজ্ঞাতনামা হামলাকারীরা গুলি চালায়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চরসাদ্দার একটি হাসপাতাল আঘাতের কারণে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। পুলিশ জানায় যে, হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে হামলা চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এছাড়াও ঘটনায় দায়িত্বরত দুইজন পুলিশ কনস্টেবলও গুরুতর আহত হন।[]

পরবর্তীতে ইসলামিক স্টেট হামলার দায় স্বীকার করে। তারা দাবি করে যে, “খিলাফতের সৈনিকরা মুহাম্মাদ ইদ্রিস নামে পরিচিত পাকিস্তানের ধর্মত্যাগী সরকারের অনুগত এক ‘তাগুতি’ আলেমকে হত্যা করেছে।”[]

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি তাঁট হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান।[][] এছাড়াও ফজলুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের পক্ষ থেকে এই হামলার নিন্দা জানানো হয় এবং দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।[]

উত্তরাধিকার

[সম্পাদনা]

তার দুইজন ছেলে রয়েছে, যাদের একজন হলেন হাফিজ আনিস আহমেদ, যিনি বর্তমান দারুল উলুম হাক্কানিয়ায় অধ্যয়নরত রয়েছেন। অন্যজন হলেন ড. মুহাম্মদ সালমান, যিনি এমবিবিএসে অধ্যয়নরত।[]

পাদটীকা

[সম্পাদনা]
  1. আরবি: شیخ الحدیث হাদিস বিষয়ে পণ্ডিত ব্যক্তি।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Maulana Muhammad Idrees | KP Assembly"Khyber Pakhtunkhwa Assembly। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১৫
  2. 1 2 3 4 5 ڈاگیوال, اشفاق اللہ جان (৬ মে ২০২৬)। "شیخ ادریس رحمہ اللہ کی شہادت | Express News"ایکسپریس اردو (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৯ মে ২০২৬
  3. "Maulana Muhammad Idrees | KP Assembly"Khyber Pakhtunkhwa Assembly। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ আগস্ট ২০১৫
  4. Rehman, Malik। "Renowned religious scholar Maulana Idrees Tarangzai martyred in Charsadda gun attack"। 24 News HD। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০২৬
  5. TV, Sedayedarya (৫ মে ২০২৬)। "ISIS-K claims responsibility for attack on Maulana Mohammad Idris in Charsadda - Sedayedarya TV" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ মে ২০২৬
  6. "President, PM condole over martyrdom of Maulana Muhammad Idrees Tarangzai"
  7. ishtiaqahmedrao (৫ মে ২০২৬)। "President vows to wipe out terrorism as cleric martyred in Charsadda" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৬ মে ২০২৬
  8. Report, Staff (৫ মে ২০২৬)। "JUI-F Announces Nationwide Protests After Maulana Idrees Kil"Pakistan Today (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৭ মে ২০২৬