লেন কোল্ডওয়েল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
লেন কোল্ডওয়েল
লেন কোল্ডওয়েল.png
১৯৬৪ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে লেন কোল্ডওয়েল
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামলিওনার্ড জন কোল্ডওয়েল
জন্ম(১৯৩৩-০১-১০)১০ জানুয়ারি ১৯৩৩
নিউটন অ্যাবট, ডেভন, ইংল্যান্ড
মৃত্যু৬ আগস্ট ১৯৯৬(1996-08-06) (বয়স ৬৩)
টিনমাউথ, ডেভন, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম
ভূমিকাবোলার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৪১১)
২১ জুন ১৯৬২ বনাম পাকিস্তান
শেষ টেস্ট১৮ জুন ১৯৬৪ বনাম অস্ট্রেলিয়া
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৫৫ - ১৯৬৯ওরচেস্টারশায়ার
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৩১০
রানের সংখ্যা ১৪৭৪
ব্যাটিং গড় ৪.৫০ ৫.৯৬
১০০/৫০ -/- -/-
সর্বোচ্চ রান ৬* ৩৭
বল করেছে ১৬৬৮ ৫৬২৩৫
উইকেট ২২ ১০৭৬
বোলিং গড় ২৭.৭২ ২১.১৮
ইনিংসে ৫ উইকেট ৬০
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৬/৮৫ ৮/৩৮
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ৯০/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৪ জুন ২০১৯

লিওনার্ড জন লেন কোল্ডওয়েল (ইংরেজি: Len Coldwell; জন্ম: ১০ জানুয়ারি, ১৯৩৩ - মৃত্যু: ৬ আগস্ট, ১৯৯৬) ডেভনের নিউটন অ্যাবটে জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওরচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার হিসেবে খেলেছেন। এছাড়াও নিচেরসারিতে কার্যকরী ব্যাটিং করেছেন লেন কোল্ডওয়েল

কাউন্টি ক্রিকেট[সম্পাদনা]

নিউটন অ্যাবটে জন্মগ্রহণকারী লেন কোল্ডওয়েল ডেভোনিয়ান ছিলেন। ডেভনে খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন। দুই মৌসুম বাদেই ওরচেস্টারশায়ারে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে ওরচেস্টারশায়ারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হবার পূর্বে মাইনর কাউন্টিজ ক্রিকেট খেলতেন। ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৯ সময়কাল পর্যন্ত লেন কোল্ডওয়েলের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৬০-এর দশকের অত্যন্ত শক্তিশালী দল ওরচেস্টারশায়ারের সদস্য ছিলেন তিনি। ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার লেন কোল্ডওয়েল ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের শুরুতে সমীহ করা বোলার ছিলেন। নতুন বলের জুটিতে ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের ত্রাসের সঞ্চার আনয়ণ করেছিলেন।[১]

ওরচেস্টারে ফ্লাভেলের সাথে নতুন বলের জুটি গড়ে মিডিয়াম থেকে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। ১৯৬০ সালে তার প্রতিদ্বন্দ্বী অলড্রিজ ও পিয়ারসনের সন্দেহজনক বোলিং ভঙ্গীমার কারণে তিনি পাদপ্রদীপে চলে আসেন। ১৯৬১ সালে ফ্লাভেল ও কোল্ডওয়েলের বোলিংয়ের কল্যাণে ওরচেস্টারশায়ার কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে চতুর্থ স্থানে চলে আসে। এরফলে ফ্লাভেল টেস্ট দলে খেলার সুযোগ পান। ১৯৬২ সালে ফ্লাভেল মৌসুমের বেশ কিছুটা সময় আঘাতগ্রস্ত থাকলে ১১০০ ওভারের অধিক বোলিং করতে হয় তাকে। এছাড়াও দুই টেস্টে অংশ নেন তিনি। এ পর্যায়ে কাউন্টি দলটি তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য হিসেবে দ্বিতীয় স্থানে চলে আসতে সক্ষম হয়। ১৫.৪৮ গড়ে ৯৮ উইকেট সংগ্রহ করেছিলেন ও জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন।

১৯৬১ সালে ১৪০ উইকেট লাভ করেন। ফলশ্রুতিতে জাতীয় গড়ে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেন। পরের বছর ব্যক্তিগত সেরা ১৫২ উইকেট পান। এবার তিনি চতুর্থ স্থান লাভ করেন। ১৯৬৬ সালে ডেরেক আন্ডারউড কেবলমাত্র একবারই তার এ সংগ্রহকে ছাঁপিয়ে যেতে পেরেছিলেন। ঐ মৌসুমে তিনি ১,১০৩ ওভার বোলিং করেন। মূলতঃ ইন-সুইঙ্গার বোলিং করতেন। ১৯৬৩ সালে মৌসুমের শুরুতে আঘাতের কবলে পড়েন তিনি। কেবলমাত্র ২৭ উইকেট পেয়েছিলেন। ব্যাটসম্যানের দাঁড়ানোর ভঙ্গীমার উপর নির্ভর করে বৈচিত্র্যময় পেস ও নিশানা বরাবর বল ছুড়তেন।[১]

জ্যাক ফ্লাভেলের সাথে বোলিং জুটি গড়ে আক্রমণ কার্য পরিচালনা করে ঈর্ষনীয় সাফল্য পেয়েছিলেন। ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে ওরচেস্টারশায়ার দল প্রথমবারের মতো শিরোপা বিজয়ে সফলতা পেয়েছিল। তবে তিনি ক্রমাগত পাছা ও হাঁটুর আঘাতে জর্জরিত হচ্ছিলেন।[১]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন লেন কোল্ডওয়েল। ২১ জুন, ১৯৬২ তারিখে লর্ডসে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল তার। ১৮ জুন, ১৯৬৪ তারিখে একই মাঠে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন।

লর্ডসে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক ঘটা সিরিজের প্রথমে টেস্টের প্রথম ওভারেই ইমতিয়াজ আহমেদের উইকেট লাভ করার কৃতিত্ব দেখান। প্রথমে ইনিংসে ৩/২৫ পান। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬/৮৫ পান।[২] খেলায় তিনি ১১০ রান খরচায় নয় উইকেট লাভ করেন। এটিই তার সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ছিল।[১] শনিবারে ২০,০০০ দর্শকের সামনে ইংল্যান্ড দলকে নয় উইকেটে জয় এনে দেন। তাসত্ত্বেও পরের টেস্টে ব্রায়ান স্ট্যাদামকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়। সিরিজের শেষ খেলার পূর্ব-পর্যন্ত আর তাকে খেলানো হয়নি। এ টেস্টে তিনি আরও চার উইকেট লাভ করেন। ১৮ রানেরও কম গড়ে ১৩ উইকেট নিয়ে এ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বোলিং গড়ে শীর্ষস্থানে ছিলেন।

অস্ট্রেলিয়া গমন, ১৯৬২-৬৩[সম্পাদনা]

পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টেস্টে ১৩ উইকেট লাভ করেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ঐ মৌসুমের শীতকালে অ্যাশেজ সিরিজ খেলার জন্যে নির্বাচিত হন। ১৯৬২-৬৩ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড গমন করেন। তবে সেখানে তিনি তেমন সফলতা পাননি। ওখানের পরিবেশ খুব কমই সহায়ক ভূমিকা পালন করে ও ব্যাটসম্যানদেরকে তার বোলিং নিয়ে দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে হয়নি। ১০০ মিনিটব্যাপী একাধারে বোলিং করেন। তিন টেস্টে খেলে কেবলমাত্র পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন লেন কোল্ডওয়েল।

তার খেলার ধরন ইংরেজ পরিবেশেই অধিক মানানসই ছিল। তাসত্ত্বেও, ১৯৬৪ সালের অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাকে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্ট খেলেন তিনি। ট্রেন্ট ব্রিজে ফ্লাভেলের সাথে একবারই টেস্ট খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। খেলায় তিনি কেবল চারটি উইকেট পেয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে ইংরেজ দল থেকে বাদ পড়েন। এরপর আর তাকে টেস্ট ক্রিকেট অঙ্গনে খেলতে দেখা যায়নি। ১৯৬৪ সালে আরোগ্য লাভ করে খেলার জগতে পুণরায় ফিরে আসেন।

১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে তার উইকেট শিকার যথেষ্ট সংখ্যায় কমতে থাকে। ১৯৬৯ মৌসুমে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর নেন ও ডেভনে ফিরে যান।

মূল্যায়ন[সম্পাদনা]

শারীরিকভাবে বেশ মজবুত গড়নের অধিকারী ছিলেন। তিনি নিজেকে ধীরে ধীরে ফাস্ট বোলার হিসেবে গড়ে তোলেন। শুরুর দিকে তার বল থেকে বেশ রান উঠতো। ফাস্ট-মিডিয়াম সুইং ও সিম বোলিংয়ে দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। স্বল্প দূরত্ব নিয়ে বিস্ময়করভাবে পেস বোলিংয়ে সক্ষম ছিলেন। এছাড়াও, দীর্ঘ সময় ধরে একাধারে বোলিং করতে পারতেন। তবে, উপর্যুপরী আঘাতের কবলে পড়েছিলেন তিনি। কোল্ডওয়েল-ফ্লাভেল জুটি ধ্রুপদী ক্রীড়াশৈলী উপহার প্রদানে সচেষ্ট ছিলেন। ফ্লাভেল আউট-সুইং ও তিনি ইন-সুইং বোলিং করে ব্যাটসম্যানদেরকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলতেন। এরফলে ইয়র্কশায়ারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ওরচেস্টারশায়ার নিজেদেরকে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয়।

বাসিল ডি’অলিভেইরার মতে, কোল্ডওয়েল প্রতিপক্ষের প্রত্যেককে লক্ষ্য করে সঠিকমানের বোলিং করতেন। কখনো তিনি সোজা স্ট্যাম্প বরাবর, আবার কখনোবা ক্রিজের শেষ প্রান্ত দিয়ে তার বোলিং চলে যেতো। কিন্তু, তার এ দৃষ্টিভঙ্গী ক্রিকেটের উচ্চ পর্যায়ে কার্যকরী হয়নি।

ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি তেমন সফল ছিলেন না। ১৫ বছরের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে কোন ইনিংসেই ৪০ রানের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি।

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৬৯ সালে চাকুরী নিয়ে ডেভনে চলে গেলে তার খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘটে। জীবনের শেষদিকে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় ক্যাফে পরিচালনা করেন ও টিনমাউথ গল্ফ ক্লাবের অধিনায়ক ছিলেন। ক্রিকেটের বাইরেও ফ্লাভেলের সাথে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। দুজনে মিলে খামার পরিচালনা করেন। পাশাপাশি ফাস্ট বোলিংয়ের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। উভয়ের পরিবার ছুটির দিনগুলোয় একত্রিত হতেন। পাছায় শৈলচিকিৎসা করতে হয়। ৬ আগস্ট, ১৯৯৬ তারিখে ৬৩ বছর বয়সে ডেভনের টিনমাউথে লেন কোল্ডওয়েলের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 37। আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. "2nd Test: England v Pakistan at Lord's, Jun 21–23, 1962"espncricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১১ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]