বিষয়বস্তুতে চলুন

মুহাম্মাদ ইবনে সালেহ আল-উসাইমিন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
(মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন থেকে পুনর্নির্দেশিত)
শাইখুল ইসলাম

মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ আল-উসাইমীন
محمد ابن صالح العثيمين
ডান থেকে— ইবনু সালেহ, খালিদ আল-সুলাইম, মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ আল-উসাইমীন (১৯৬৮)
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম৯ই মার্চ, ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ
মৃত্যু১০ই জানুয়ারী, ২০০১ খ্রিস্টাব্দ (৭১ বছর)
সমাধিস্থলমক্কা, সৌদি আরব
ধর্মইসলাম
জাতীয়তাসৌদি আরব
জাতিসত্তাআরব
আখ্যাসুন্নী, হাম্বলী
ধর্মীয় মতবিশ্বাসসালাফি
আন্দোলনওয়াহাবী, নাজদী
কাজ
মুসলিম নেতা
শিক্ষকশাইখ আব্দুর রহমান ইবনু নাসির আস-সাদী
শিক্ষার্থী
  • প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর, প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া (বাংলাদেশী)
যার দ্বারা প্রভাবিত
  • আহমাদ ইবনু হাম্বাল, ইবনু কুদামাহ, ইবনু তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়্যিম, মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহ্হাব, আব্দুর রহমান ইবনু নাসির আস-সাদী, আব্দুল আযীয বিন বায
যাদের প্রভাবিত করেন
পুরস্কারইসলাম পরিষেবায় বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার (১৯৯৪)
ওয়েবসাইটbinothaimeen.net

আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সুলাইমান ইবনু আব্দুর রহমান আল-উসাইমীন আত-তামিমী (আরবি: محمد ابن صالح العثيمين; জন্মঃ ৯ই মার্চ, ১৯২৯  মৃত্যুঃ ১০ই জানুয়ারি, ২০০১), সাধারণত মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ আল-উসাইমীন নামে পরিচিত, ছিলেন বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে সৌদি আরবের অন্যতম বিশিষ্ট ইসলামী পণ্ডিত[] তাকে আধুনিকযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।[]

জীবনী

[সম্পাদনা]

উসাইমিন ১৯২৫ সালের ৯ই মার্চ সৌদি আরবের কাসিম অঞ্চলের উনাইজা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খুব অল্প বয়সেই কুরআন মুখস্থ করেছিলেন। অধ্যয়নের সময় তিনি সৌদি আরবের প্রখ্যাত ওলামার তত্ত্বাবধানে হাদিস, তাফসির, ধর্মতত্ত্বআরবি ভাষায় অগাধ ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং রিয়াদের শরিয়ত কলেজ, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন। তিনি সৌদি সিনিয়র ইসলামিক স্কলার কমিশনের সদস্য, কাসিমের ইমাম মোহাম্মদ বিন সৌদ ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং এর একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হন। ইসলামিক মতবাদের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজে চুক্তি করেন। তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বইগুলো হল ফিকাহ সম্পর্কিত। তাঁর ১৫ খণ্ডের বই এবং কুরআনের ব্যাখ্যার উপর ১০ খণ্ডের বই রয়েছে। রমজানের সময় তিনি মক্কার পবিত্র মসজিদে শিক্ষকতাও করেছিলেন।

বাংলা ভাষায় অনূদিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে :

[সম্পাদনা]

১. শারহু রিয়াদুস সালেহীন

২. আকিদাহ ওয়াসিতিয়্যাহ ও তার ব্যাখ্যা

৩. শারহু সালাসাতিল উসূল

৪. শারহু কাশফুশ শুবহাত

৫. ফাতাওয়া ইবনু উসাইমীন

৬. শারহু লুমআতিল ইতিকাদ

৮. ফাতাওয়ায়ে আরকানিল ইসলাম

৯. কিতাবুল ইলম

১০. আল উসূল মিন ইলমিল উসূল

১১. শারহে হাদীসে আারবাঈন

১২. ইসলামী জাগরণ

১৩. তাকদীরের প্রতি ঈমান

১৪. ইসলামী পুনর্জাগরণের পথ ও পদ্ধতি;

১৫. উলামাদের মতানৈক্য ও আমাদের করণীয়

১৬. তাওবা

১৭. জাকাতুল ফিতর

১৮. সমাজসংস্কারে নারীর ভূমিকা

১৯. বিদআতের ভয়াবহতা

২০. সহীহ হাদীসে কুদসি

২১. ইসলাম-সমর্থিত কয়েকটি স্বভাবজাত অধিকার

২১. হজ ও উমরার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

২২. স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয়সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর

২৩. সালাত পরিত্যাগকারীদের বিধান

২৪. ফিকহের মূলনীতি

২৫. ফিতনাতুত তাকফির

২৬. রিসালাতুল হিজাব

২৭. ইউথ প্রবলেম

২৮. সমাজতন্ত্রের অসারতা

২৯. মহান আল্লাহর নান্দনিক নাম ও গুণসমূহের নীতিমালা

ইংরেজি ভাষায় অনূদিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে :

[সম্পাদনা]

Right by the Nature and Ordained by Shariah

Explanation of Ayatul-Qursi

Explaining the fundamentals of Faith

Fasting, the great act of worship

Explanation of Riyadus Saleheen. 2vol.

তাকে সাধারণভাবে শেখ ইবনে উসাইমিন নামে ডাকা হত; নিয়মিত ক্লাস, প্রকাশনা, রেডিও অনুষ্ঠান এবং প্রচার ও পরামর্শ কার্যক্রমের মাধ্যমে ছাত্র ও জনগণের সাথে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে শিক্ষা দিতেন।

বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার

[সম্পাদনা]

শেখ আল-উসাইমিন সৌদি আরবের রিয়াদে ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম শিক্ষার অধ্যাপক এবং ওলামার উচ্চ কমিটির সদস্য ছিলেন। মুসলিম পণ্ডিত হিসেবে তার বিশিষ্ট কর্মজীবন এবং ইসলামের উদ্দেশ্যকে উৎসাহিত করার জন্য তার অক্লান্ত প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ইসলাম পরিষেবায় বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান করা হয়।[]

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

উসাইমিন বুধবার ১৫ শাওয়াল ১৪২১ হিজরীতে বা ১০ জানুয়ারি ২০০১ সালে[] মারা যান। তখন তার বয়স ছিল ৭৪ বছর।[]

শিক্ষাজীবন ও শিক্ষকগণ

[সম্পাদনা]

কুরআন মুখস্থ (হিফজ) এবং প্রাথমিক পড়ালেখা শেষে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে 'আব্দুল 'আযীয আল মুতাওয়া' এবং শাইখ আলি আস সালিহির কাছে উনাইজায় ধর্মীয় পড়ালেখা শুরু করেন।

অনুপ্রেরণা

[সম্পাদনা]

আল-উসাইমিন এখন পর্যন্ত সালাফি আন্দোলনে একজন অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

ফতোয়াসমূহ

[সম্পাদনা]

আল-উসাইমিনের মতে, নারীদের গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ করা উচিত; কারণ ট্রাফিক লাইট, পেট্রোল স্টেশন, পুলিশ চেকপয়েন্ট এবং অন্যান্য গাড়ি সম্পর্কিত এনকাউন্টারে পুরুষ ও মহিলাদের সহজেই মিশ্রণের সুযোগ করে দেবে।[]

এছাড়াও, উসাইমিন বলেন, যে নামাজ আদায় করে না, সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায় এবং যে স্বামী বা স্ত্রী সালাত আদায় করেনা তার সাথে থাকা বৈধ নয়।[]

উসাইমিন মদিনার সবুজ গম্বুজ ভেঙে ফেলার ও ইসলামের নবি মুহাম্মাদ এবং তার সাহাবি, আবু বকরউমর ইবনুল খাত্তাবের কবর সমান করার প্রস্তাবকে সমর্থন করেছিলেন।[][১০]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. أبو دقة, أحمد (২৮ ডিসেম্বর ২০১৫)। "اغتيال محمد زهران علوش... وإرباك الثورة"مجلة البيان। ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
  2. أبو دقة, أحمد। "اغتيال محمد زهران علوش… وإرباك الثورة"منتدى العلماء। ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
  3. "Assim al-Hakeem – International Open University" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২১
  4. 1 2 "Shaykh Muhammad Ibn Saalih Ibn 'Uthaymeen" (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ জুন ২০০২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২১ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |archive-date= / |archive-url= টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; 26 মে 2002 প্রস্তাবিত (সাহায্য)
  5. "A kingdom divided"islamdag.info (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ জুলাই ২০১০। ২৭ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২১প্রথমত, ১৯৯৯ সালে বিন বাজ এবং আরেক পণ্ডিত মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমিনের মৃত্যুর ফলে দুই বছর পর শূন্যতা সৃষ্টি হয়। উভয়কেই রক্ষণশীল সালাফি ইসলামে দৈত্য হিসাবে গণ্য করা হত এবং এখনও এর অনুসারীদের দ্বারা শ্রদ্ধেয়। ডিকিনসন কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এবং ওয়াহাবি মিশন এবং সৌদি আরবের লেখক ডেভিড ডিন কমিনস বলেন, তাদের প্রয়াণের পর থেকে কেউ সৌদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সেই মাত্রার কর্তৃত্ব নিয়ে আবির্ভূত হয়নি। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |archive-date= / |archive-url= টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; 5 মে 2014 প্রস্তাবিত (সাহায্য)
  6. 1 2 "King Faisal Prize | Shaikh Mohammad Bin Saleh Al-Uthaimin" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১১ মে ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২১
  7. "Saudi religious authorities back women driving, contradicting years of strict opposition"alaraby (ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭। ১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২১ {{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: |archive-date= / |archive-url= টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; 12 ডিসেম্বর 2017 প্রস্তাবিত (সাহায্য)
  8. "Can a Muslim say happy Christmas to his friends?"The Independent (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ নভেম্বর ২০০৯। ৬ জুলাই ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২১
  9. Krieger, Zvika। "McMecca: The Strange Alliance of Clerics and Businessmen in Saudi Arabia"The Atlantic। ২০ মার্চ ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২১ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |archive-date= / |archive-url= টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; 16 জুন 2016 প্রস্তাবিত (সাহায্য)
  10. "Medina: Saudis take a bulldozer to Islam's history"The Independent (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ অক্টোবর ২০১২। ২৮ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২১ {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |archive-date= / |archive-url= টাইমস্ট্যাম্প মেলেনি; 6 সেপ্টেম্বর 2017 প্রস্তাবিত (সাহায্য)