ভ্যাস্টারবটেনস জাদুঘর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
ভ্যাস্টারবটেনস জাদুঘর
Västerbottens museum-2014-03-29.jpg
মার্চ, ২০১৪-এ ধারণকৃত ভ্যাস্টারবটেনস জাদুঘর-এর ছবি
স্থাপিত১৮৮৬
অবস্থানউমিয়া, সুইডেন
ধরনজেলা জাদুঘর
পরিদর্শক২২৯,০০০ (২০০৯)[১]
পরিচালকউলরিকা গ্রাবস্ট্রম
ওয়েবসাইটwww.vbm.se

স্থানাঙ্ক: ৬৩°৪৯′৪৪″ উত্তর ২০°১৭′১৯″ পূর্ব / ৬৩.৮২৮৮৯° উত্তর ২০.২৮৮৬১° পূর্ব / 63.82889; 20.28861

ভ্যাস্টারবটেনস জাদুঘর (সুয়েডীয়: Västerbottens museum) সুইডেনের উমিয়ার গ্যামলিয়া অঞ্চলে অবস্থিত একটি জেলা জাদুঘর। ভ্যাস্টারবটেন প্রদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাস বজায় রাখে এই জাদুঘর। এটি গ্যামলিয়ার উন্মুক্ত জাদুঘর, একটি স্কি জাদুঘর (পূর্বে সুইডীয়া স্ক জাদুঘর), একটি মাছ ধরা ও মেরিটাইম এর প্রদর্শনী (পূর্বে মাছ ধরা ও মেরিটাইম এর জাদুঘর), ভ্যাস্টারবটেন প্রদেশের আন্দোলনের ইতিহাস ও স্যামিদের শিবির ধারণ করে। মূলত প্রত্নতাত্ত্বিক দিক তবে এছাড়াও অন্যান্য দিকেও ভ্যাস্টারবটেন প্রদেশে এই জাদুঘর কাজ করে। জাদুঘরটি ত্রৈমাসিক জার্নাল ভ্যাস্টারবটেন বের করে। এটি ভ্যাস্টারবটেন প্রদেশের জেলা সংস্থার জন্য জার্নালটি বের করে।

স্যামি শিবিরসহ উন্মুক্ত জাদুঘর[সম্পাদনা]

উন্মুক্ত জাদুঘরে মধ্যগ্রীষ্মের উৎসব।

গ্যামলিয়া একটি উন্মুক্ত জাদুঘর যা ভ্যাস্টারবটেন প্রদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। উন্মুক্ত জাদিঘরের নানা ঐতিহাসিক ভবন ও সংস্থার কার্যক্রম রয়েছে যা ভ্যাস্টারবটেনের ঐতিহাসিক চিত্রের প্রতিচ্ছবি।[২] গ্যামিলিয়ায় দেখতে পাওয়া ভবনগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে জোগাড় করা হয়েছে; এরমধ্যে হেলেনা এলিজাবেথ গীর্জা, একটি জমিদারের খামার বাড়ি, একটি বাতচক্র, একটি ১৮০০ সালের খামারবাড়ি, একটি স্কুল, একটি কামারের দোকান এবং সামিদের শিবির উল্লেখযোগ্য।[২] মধ্যগ্রীষ্মের সময় সুইডীয় স্থানীয় প্রজাতির ঘোড়া, গরু, ভেড়া, শূকর ও মুরগি প্রদর্শন করা হয়। দৈনন্দিন কার্যক্রমের মধ্যে মাখন মন্থন, রুটি, কারুশিল্প এবং হস্তশিল্পর কাজ উল্লেখযোগ্য। এর খামারগুলো মধ্যজুন থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত দেখার জন্য খোলা রাখা হয়। বাহ্যিক দিকটি সবসময়ই দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত।

গ্যামলিয়া নামটি গ্যামলি থেকে এসেছে যা গ্যামলিয়ার নির্মাণকাজ শেষ হবার পর একটি ঐতিহাসিক সংস্থার নামকরণের প্রতিযোগিতা থেকে আসে। গ্যামলি "den gamla liden" ("পুরাতন শৈলপ্রান্ত")-এর ভাষান্তর।[৩]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

ভ্যাস্টারবটেন প্রদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক সোসাইটি ১৮৮৬ সালের জানুয়ারিতে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তে আসেন যে উমিয়ার প্রাচীনজিনিস সংরক্ষণের জন্য একটীন জাদুঘর স্থাপন করা হবে। প্রাথমিকভাবে এটি উলবার্গস্কায় অবস্থিত ছিল যা বর্তমানে স্টোরগাটানের ব্লক থর। ২৫শে জুন, ১৮৮৮ সালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দক্ষিণের বিভাগের অধিকাংশ বস্তুই পুড়ে যায়।[৪]

১৯০১ সালে প্রতিষ্ঠানটি সদ্য নির্মিত ব্যাকরণ স্কুলে স্থানান্তরিত হয়। এর সংগ্রহের উত্তরোত্তর বৃদ্ধির কারণে জাদুঘরটি ১৯১১ সালে শহরের উপকূলের নতুন ওয়্যারহাউজে স্থানান্তরিত হয়। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় ঐতিহাসিক সোসাইটির শুরু থেকেই গ্যামলিয়া অঞ্চলে জাদুঘরের নির্মাণকাজ চলতে থাকে। ১৯৬৩৯ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়।[৫][৬]

১৯২১ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে ভ্যাস্টারবটেন প্রদেশ থেকে বেশকিছু পুরাতন ভবন স্থানান্তরিত হয়। এর সত্যিকার প্রকল্পটি ছিল দেশটির উত্তরে একটি খামার নির্মাণ করা এবং দক্ষিণে অপর একটি নির্মাণ করা কিন্তু উচ্চ খরচের কথা চিন্তা করে এর পরিবর্তে উত্তর থেকে কিছু ভবন ও ভ্যাস্টারবোটেনের দক্ষিণ থেকে কিছু ভবন একটি একক খামারে স্থানান্তরিত হবে।[২]

১৯২৮ সালে স্টকহোম, নরা ডিজুরগার্ডেনের ফিস্কার্টোরপেট-এর বিনোদনমূলক এলাকাতে একটি স্কি জাদুঘর উদ্বোধিত হয়। ১৯৬৩ সালে এর সংগ্রহ উমিয়ার সুইডীয় স্কি জাদুঘরে স্থানান্তরিত হয়।[৭] এটি হল বিশ্বের প্রাচীনতম স্কি জাদুঘরের শিল্পকর্ম।[৮]

ভ্যাস্টারবটেনস জাদুঘরের অধিকাংশ ভবনই স্থপতি বেংট রোমারে কর্তৃক নকশা করা হয়েছে এবং ১৯৪৩ সালে নির্মিত হয়।[২]

এরপরে জাদুঘরটি একাধিকবার সম্প্রসারিত হয় এবং ১৯৮১ সালে এর অন্যতম একটি সম্পসারণই উমিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শৈল্পিক জাদুঘর বিল্ডমুসেট-এর নির্মাণকাজকে সম্ভব করে দেয়।[২] ২০১২ সালে বিল্ডমুসেট উমিয়া আর্ট প্রাঙ্গনে স্থানান্তরিত হয় এবং ভ্যাস্টারবটেনস জাদুঘর পূর্বের ন্যায় সম্প্রসারিত হতে সক্ষম হয়।

জাদুঘরের লোগো ভার্গভিকেনে দাফনকৃত হাজার বছরের পুরাতন স্যামি থেকে একটি ব্রোঞ্জ লিঙ্কের পুনঃউদ্ভব দ্বারা গঠিত, যা ভিন্ডেল নদীর পাশেই অবস্থিত।[৯]

টীকা[সম্পাদনা]

  1. "Verksamhetsberättelse 2009" (pdf)। Västerbottens museum। পৃষ্ঠা 4। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০১৪ 
  2. "Att flytta historien"। Tidskriften Västerbotten 95-3 
  3. "Den gamla liden blir Gammlia"। Västerbottens museum। সংগ্রহের তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১১ .
  4. Lars-Erik Edlund, সম্পাদক (১৯৯৬)। Norrländsk uppslagsbok: ett uppslagsverk på vetenskaplig grund om den norrländska regionen। Band 4 (Swedish ভাষায়)। Umeå: Norrlands universitetsförlag। পৃষ্ঠা 342। আইএসবিএন 91-972484-2-8 
  5. "Västerbottens museums förhistoria"। Västerbottens museum। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  6. "Ett nytt museum"। Västerbottens museum। সংগ্রহের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০১৩ 
  7. "Svenska Skidmuseet – historik"। Västerbottens museum। ৮ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১৪ 
  8. 2014 Capital of Culture: highlights of Umeå, Sweden, The Telegraph, retrieved 6 May 2014
  9. Verksamhetsberättelse 2009 (pdf), Västerbottens museum, সংগ্রহের তারিখ ২৮ মার্চ ২০১৪ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]