ভৃকুটী দেবী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
মধ্যে স্রোং-ব্ত্সন-স্গাম-পো ও তাঁর দুই রাণী ডানদিকে ওয়েংচেন গোংঝু ও বামদিকে ভৃকুটী দেবী

ভৃকুটী দেবী (নেপালী: भृकुटी) বা খ্রি-ব্ত্সুন (ওয়াইলি: Khri-btsun) বা ভেলসা ত্রিত্সুন [১][২] বা বেসা [৩] লিচ্ছবি রাজ্যের রাজকন্যা ও তিব্বত সম্রাট স্রোং-ব্ত্সন-স্গাম-পোর প্রথম পত্নী ছিলেন।

পরিবার[সম্পাদনা]

বিভিন্ন তিব্বতী সূত্রতে ভৃকুটীকে লিচ্ছবি রাজা প্রথম শিবদেবের উত্তরাধিকারী অংশুবর্মার কন্যা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী তিব্বত সম্রাট স্রোং-ব্ত্সন-স্গাম-পোর সঙ্গে তাঁর বিবাহ ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে হয়েছে বলে মনে করা হয়।[৪] একাদশ কির-তি রিন-পো-ছে ব্লো-ব্জাং-ব্স্তান-'দ্জিন-'জিগ্স-মেদ-য়ে-শেস-র্গ্যা-ম্ত্শোর (ওয়াইলি: blo bzang bstan 'dzin 'jigs med ye shes rgya mtsho) মতে এই বিবাহ ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে হয়েছিল। [৫]

কিছু তিব্বতি কিংবদন্তী অনুসারে, গো-চা নামক নেপালের রাজার ব্রি-ব্তুম্ন বা ভৃকুটী নামক কন্যা ছিল। সিলভান লেভির মতে গো-চা বলতে উদয়বর্মন বোঝানো হয়েছে। [৬] সম্ভবত উদয়বর্মন এবং লিচ্ছবি রাজা প্রথম শিবদেবের পুত্র, অংশুবর্মার উত্তরাধিকারী ও নরেন্দ্রদেবের পিতা উদয়দেব একই ব্যক্তি।[৬] সেই অনুযায়ী ভৃকুটী নরেন্দ্রদেবের ভগিনী ছিলেন।

জিউ ট্যাংসু গ্রন্থ অনুযায়ী [৭] 泥婆羅 (নিপোলুয়ো) বা নেপালে লিচ্ছবি রাজকুমার নরেন্দ্রদেবের পিতার মৃত্যু হলে নরেন্দ্রদেবের জৈষ্ঠ্যতাত বিষ্ণুগুপ্ত সিংহাসন দখল করে নেন। [৮] নরেন্দ্রদেবকে তিব্বত সম্রাট স্রোং-ব্ত্সন-স্গাম-পো আশ্রয় দেন ও ৬৪১ খ্রিষ্টাব্দে তকে নেপালে নিজের রাজ্য দখলে সহায়তা করেন। [৯][১০][১১]:৫২৯

প্রাসাদ ও বৌদ্ধ মন্দির নির্মাণ[সম্পাদনা]

বিবাহের যৌতুক হিসেবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ভৃকুটী নেপাল থেকে বুদ্ধমূর্তি, চিত্রকলা ও হস্তশিল্পী নেওয়ারীদের তিব্বতে নিয়ে যান। ভৃকুটী দেবীর আদেশে নেপালি কারিগরেরা লাসার মার্পো-রি বা লাল পাহাড়ে মার-পো-রি ফো-দ্রাং বা লাল রাসাদ নির্মাণ করেন। ভৃকুটী সম-য়ে বৌদ্ধবিহার তুব-ওয়াং ও অন্যান্য মূর্তি নির্মাণ করান। তাঁর আদেশে বিখ্যাত নেপালি শিল্পী থ্রো-উও রামোচে বৌদ্ধবিহারে অবলোকিতেশ্বরের থুংজি-চেন-পো-রাং-জুং-ঙ্গা-ল্দান মূর্তি বা মনুবজ্রের জোওয়ো মিক্যো দোরজের মূর্তিটি নির্মাণ করেন।[৫][১২] স্রোং-ব্ত্সন-স্গাম-পো ও ভৃকুটী নেপাল থেকে আনা বুদ্ধের চিত্রগুলি ও অপর রাণী ওয়েংচেন গোংঝুর চীন থেকে আনা বুদ্ধমূর্তিগুলিকে কে রাখার জন্য গ্ত্সুগ-লাগ-খাং (জ্ঞানের প্রাসাদ) নির্মাণ করেন, যা পরবর্তীকালে জোখাং নামে বিখ্যাত হয়। [১৩][n ১]

তিব্বতে সম্মাননা[সম্পাদনা]

তিব্বতে ভৃকুটী দেবিকে দ্রোলমা বা তারার অবতার সবুজ তারা বা দোল-জাং হিসেবে পূজা করা হয়ে থাকে। [১৫]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. Then during the reign of bTsan po Khri Srong btsan, after his marriage with Khri btsun, the daughter of the king of Nepal, the temple (gtsug lag khang) of Ra sa [Lhasa] Pe har gling was built. Furthermore, the construction of the forty-two temples of the Ru bzhi was requested and the Brag lha [temple] was built. 'Thon mi gSam po ra was sent by royal order [to India] in order to get the Indian doctrine and the model of the alphabet (yi ge'i dpe). . . [১৪]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Tenzin, Ahcarya Kirti Tulku Lobsang. "Early Relations between Tibbet and Nepal (7th to 8th Centuries)." Translated by K. Dhondup. The Tibet Journal, Vol. VII, Nos. 1 &2. Spring/Summer 1982, p. 84.
  2. Josayma, C.B. Gsaya Belsa: An Introduction, The Tibet Journal, Vol. XVIII, No. 1. Spring 1993, p. 27.
  3. Dowman, Keith. (1988) The Power-places of Central Tibet: The Pilgrim's Guide, p. 16. Routledge & Kegan Paul, London and New York. আইএসবিএন ০-৭১০২-১৩৭০-০.
  4. Ancient Tibet: Research materials from the Yeshe De Project, p. 225 (1986). Dharma Publishing, Berkeley, California. আইএসবিএন ০-৮৯৮০০-১৪৬-৩.
  5. Tenzin, Ahcarya Kirti Tulku Lobsang. "Early Relations between Tibbet and Nepal (7th to 8th Centuries)." Translated by K. Dhondup. The Tibet Journal, Vol. VII, Nos. 1 &2. Spring/Summer 1982, p. 85.
  6. Shaha, Rishikesh. Ancient and Medieval Nepal. (1992), p. 18. Manohar Publications, New Delhi. আইএসবিএন ৮১-৮৫৪২৫-৬৯-৮.
  7. Pelliot, Paul. Histoire Ancienne du Tibet. Paris. Libraire d'amérique et d'orient. 1961, p. 12.
  8. Vitali, Roberto. 1990. Early Temples of Central Tibet. Serindia Publications, London, p. 71. আইএসবিএন ০-৯০৬০২৬-২৫-৩
  9. Snellgrove, David. 1987. Indo-Tibetan Buddhism: Indian Buddhists and Their Tibetan Successors. 2 Vols. Shambhala, Boston, Vol. II, p. 372.
  10. Chavannes, Édouard. Documents sur les Tou-kiue (Turcs) occidentaux. 1900. Paris, Librairie d’Amérique et d’Orient. Reprint: Taipei. Cheng Wen Publishing Co. 1969, p. 186.
  11. Bushell, S. W. "The Early History of Tibet. From Chinese Sources." Journal of the Royal Asiatic Society, Vol. XII, 1880, pp. 529, n. 31.
  12. Josayma, C.B. "Gsaya Belsa: An Introduction". The Tibet Journal. Volume XVIII. No. 1 Spring 1993, pp. 27-28.
  13. Norbu, Thubten Jigme and Turnbull, Colin. Tibet: Its History Religion and People, p. 143. (1968). Chatto & Windus. Reprint: (1987) Penguin Books, England.
  14. Pasang Wandu and Hildegard Diemberger. (2000) dBa' bzhed: The Royal Narrative concerning the bringing of the Buddha's Doctrine to Tibet, pp. 25-26, n. 15. Verlag der Österreichischen Akademie der Wissenschaften, Wein. আইএসবিএন ৩-৭০০১-২৯৫৬-৪.
  15. Das, Sarat Chandra. (1902), Journey to Lhasa and Central Tibet. Reprint: Mehra Offset Press, Delhi. 1988, p. 165

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Richardson, Hugh E. (1997). "Mun Sheng Kong Co and Kim Sheng Kong Co: Two Chinese Princesses in Tibet." The Tibet Journal. Vol. XXII, No. 1. Spring 1997, pp. 3–11.
  • Richardson, Hugh E. (1965). "How Old was Srong Brtsan Sgampo" Bulletin of Tibetology 2.1. pp 5–8.