সুমপা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান

সুমপা (ওয়াইলি: Sum-pa) বা সুপি (蘇毗) বা সুনপো (孫波) [১][n ১] প্রাচীনকালে উত্তর পূর্ব তিব্বতের বসবাসকারী জাতিগোষ্ঠী।

উৎপত্তি[সম্পাদনা]

জিউ ট্যাংশু গ্রন্থের ২২১ অধ্যায় অনুযায়ী সুপি দেশের অধিবাসী সুমপাদের পশ্চিম চিয়াং জাতি থেকে উৎপত্তি হয়েছিল। এই অঞ্চলে বহুকাল ধরে বসবাসকারী চিয়াংরা শাং রাজবংশের প্রধান বিদেশী শত্রু বলে বিবেচিত ছিল। ক্রিষ্টোফার বেকউইথের মতে সুমপা নামটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাপরিবার থেকে এসেছে যার অর্থ ছিল রথী। [৩]

এলাকা[সম্পাদনা]

সপ্তন শতাব্দীতে সুমপা রাজ্য পূর্বদিকে হৌমংজিয়া (টা-সাং) গিরিবর্ত্ম থেকে ১৪০০ লি বা ৪৫২ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে চু-দ্মার নদীর দক্ষিণ তীর [৪][৫] হতে খোটান পর্যন্ত বিস্তৃত। [৬][৭]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

তারিম নদী উপত্যকা থেকে প্রাপ্ত ৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের খরোষ্ঠী লিপিতে সুমপাদের সুপিয়া নামে বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁদের খোটান রাজ্য আক্রমণকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। নিয়াচের্চেন শহরেও এঁদের উপস্থিতির ইতিহাস রয়েছে। [৮][৯][১০]

সুই রাজবংশের শাসনকালে সুমপা বা সুপিদের সঙ্গে ও রহস্যময় স্ত্রীরাজ্য বা সুবর্ণগোত্র রাজ্যের সম্পর্ক খুজে পাওয়া যায়। [৭][১১] সুবর্ণগোত্রের এক রাণীর সু-পি নাম পাওয়া যায় যার অর্থ সুপিয়ার নারী হতে পারে।[৮]

ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষে ইয়ার্লুং উপত্যকার উদীয়মান তিব্বতী সম্রাট গ্নাম-রি-স্রোং-ব্ত্সনের শাসনকাল থেকে সুমপারা তিব্বতের সামন্তরাজ্য হিসেবে বিবেচিত হত। [১২] পুরাতন তিব্বতী ধারাবিবরণী অনুসারে স্রোং-ব্ত্সন-স্গাম-পোর মন্ত্রী ম্যাং-মাং-পো-র্জে সম্রাটকে গ্নাম-রি-স্রোং-ব্ত্সনের সামন্ত সুমপা জাতিদের আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকার ও তাঁদের রক্ষা করার উপদেশ দেন[১৩] কিন্তু পুরাতন তিব্বতী বর্ষানুক্রমিক ইতিবৃত্ত থেকে জানা যায়, ৬২৭ খ্রিষ্টাব্দে স্রোং-ব্ত্সন-স্গাম-পোর আদেশে ম্যাং-মাং-পো-র্জে ঝাংঝুং রাজ্যের সাহায্যে সুমপা জাতিকে পরাজিত করেন। [১৪] এরফলে সুমপারা সম্পূর্ণ রূপে তিব্বতের অধীনে এসে পৃথক জাতিসত্তা হারিয়ে ফেলে। তিব্বতীরা তাঁদের চীনের সঙ্গে পূর্ব সীমান্ত রক্ষা করার জন্য মিন্যাকে পাঠিয়ে দেয়।[১৫]

জিউ ট্যাংশুর ২২১ অধ্যায় অনুসারে সুমপাদের রাজা মোলিংজান ট্যাং সাম্রাজের অধিনে আসতে চাইলে তিব্বতীরা তাঁকে হত্যা করেন। তাঁর পুত্র জিনুও চীনের গানসুতে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিলে সম্রাট ট্যাং জুয়ানজং তাঁকে সম্মানিত করেন।[১৬] জিন ট্যাংশুর ২১৬ অধ্যায়ে বলা হয়েছে সুমপা রাজপুত্র জিনুওলুয়োকে ট্যাং সম্রাট 'হুয়ালহি' উপাধি প্রদান করেন। [১৭]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. "In Chinese the 蘇毗 K. 823, 714 su-p'i < so-b'ji, G 67a, 566u so-b'i̯ər, are the Supiya. The same spelling occurs in Tibetan so-byi from Chinese, but the true Tibetan name is sum-pa and gsum-pa, and sum- in the compounds sum-gliṅ (gliṅ 'country') and sum-ru (ru 'division'). This sum-pa may be derived from a form of the name Sūpīya, if there was a form supp-, from which nasal -m- would replace the first -p."[২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Note sur les T’ou-yu-houen et les Sou-p’i." Paul Pelliot. T’oung pao, 20 (1921), pp. 330-331.
  2. Indo-Scythian Studies: Being Khotanese Texts Volume VII. Chapter 17 Supīya. H. W. Bailey, 1985, Cambridge University Press, p. 80. আইএসবিএন ০-৫২১-২৫৭৭৯-৪.
  3. Empires of the Silk Road: A History of Central Eurasia from the Bronze Age to the Present. Christopher I. Beckwith. 2009. Princeton University Press, p. 375. আইএসবিএন ৯৭৮-০-৬৯১-১৩৫৮৯-২.
  4. Documents sur les Tou-kiue (Turcs) occidentaux. Édouard Chavannes. 1900. Paris, Librairie d’Amérique et d’Orient. Reprint: Taipei. Reprint: Cheng Wen Publishing Co., 1969, p. 169, n. 1.
  5. Notes on Marco Polo. Vol. II. Paul Pelliot. Imprimerie National Paris, 1963, p. 718.
  6. Les Tribus Anciennes des Marches Sino-tibétaines: légends, classifications et histoire. R. A. Stein. 1961. Presses Universitaires de France, Paris, pp. 41-42, nn. 111, 113, 115.
  7. Ancient Tibet; Research Materials from The Yeshe De Project. Dharma Publishing (1986), p. 134. আইএসবিএন ০-৮৯৮০০-১৪৬-৩.
  8. Indo-Scythian Studies: Being Khotanese Texts Volume VII. Chapter 17 Supīya. H. W. Bailey, 1985, Cambridge University Press, p. 79. আইএসবিএন ০-৫২১-২৫৭৭৯-৪.
  9. Les Tribus Anciennes des Marches Sino-tibétaines: légends, classifications et histoire. R. A. Stein. 1961. Presses Universitaires de France, Paris, pp. 41-42, nn. 111, 113.
  10. Notes on Marco Polo. Vol. II. Paul Pelliot. Imprimerie National Paris, 1963, pp. 690–691, 694-695, 705-706, 712-718.
  11. Tibetan Civilization, pp. 29, 31, 34–35. Rolf Alfred Stein (1972) Stanford University Press. আইএসবিএন ০-৮০৪৭-০৯০১-৭; first published in French (1962). English translation by J. E. Stapelton Driver. Reprint: Stanford University Press (with minor revisions from 1977 Faber & Faber edition), 1995. আইএসবিএন ০-৮০৪৭-০৮০৬-১ (hbk).
  12. Ancient Tibet; Research Materials from The Yeshe De Project. Dharma Publishing (1986), p. 131. আইএসবিএন ০-৮৯৮০০-১৪৬-৩.
  13. "Songtsen Gampo: First Emperor of a Unified Tibet." Jigme Duntak (2008). [১]
  14. Documents de Touen-houang relatifs a l'histoire du Tibet. J. Bacot, F. W. Thomas and Ch. Toussaint. Libraire Orienaliste Paul Geunther. Paris, 1940, pp. 37, 40.
  15. Tibetan Civilization, pp. 30–31 Rolf Alfred Stein (1972) Stanford University Press. আইএসবিএন ০-৮০৪৭-০৯০১-৭; first published in French (1962). English translation by J. E. Stapelton Driver. Reprint: Stanford University Press (with minor revisions from 1977 Faber & Faber edition), 1995. আইএসবিএন ০-৮০৪৭-০৮০৬-১ (hbk).
  16. Documents sur les Tou-kiue (Turcs) occidentaux. Édouard Chavannes, 1900. Paris, Librairie d’Amérique et d’Orient. Reprint: Taipei. Reprint: Cheng Wen Publishing Co., 1969, p. 169.
  17. Histoire ancienne du Tibet. Paul Pelliot. Libraire d'amérique et d'orient, Paris, 1961, p. 106.

আরো পড়ুন[সম্পাদনা]

  • Zeisler, Bettina. (2010). "Ëast of the Moon and West of the Sun? Approaches to a Land with Many Names, North of Ancient India and South of Khotan." In: The Tibet Journal, Special issue. Autumn 2009 vol XXXIV n. 3-Summer 2010 vol XXXV n. 2. "The Earth Ox Papers", edited by Roberto Vitali, pp. 371–463.