খ্রি-দুস-স্রোং-ব্ত্সন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
খ্রি-দুস-স্রোং-ব্ত্সন
তিব্বত সম্রাট
পূর্ণ নামখ্রি-দুস-স্রোং-ব্ত্সন
ওয়াইলিKhri-'dus-srong-btsan
জন্ম৬৭০
মৃত্যু৭০৪ (বয়স ৩৩–৩৪)
সমাধিস্থলইয়ার্লুং উপত্যকা
পূর্বসূরিখ্রি-মাং-স্লোন-র্ত্সান
উত্তরসূরিল্হা-বাল-পো
পিতাখ্রি-মাং-স্লোন-র্ত্সান
মাতাখ্রি-মা-লোদ-খ্র্ল-স্তেং

খ্রি-দুস-স্রোং-ব্ত্সন (ওয়াইলি: Khri-'dus-srong-btsan) (জন্ম ৬৭০ - মৃত্যু ৭০৪) (রাজত্বকাল ৬৭৬ - ৭০৪) তিব্বত সম্রাট ছিলেন।

অভিষেক[সম্পাদনা]

পুরাতন তিব্বতী বর্ষানুক্রমিক ইতিবৃত্ত অনুসারে ৬৭৬ খ্রিষ্টাব্দে খ্রি-মাং-স্লোন-র্ত্সানের মৃত্যু হয়। [১] কিন্তু অনেকের মতে তিব্বতীরা তাঁর মৃত্যুর খবর তিন বছর গোপণ করেছিলেন যাতে চীনারা বুঝতে না পারেন যে তিব্বতীদের কোন নেতৃত্বপ্রদানকারী নেই। [২][৩]:২৩৩ চীনা নথিপত্রে তাঁর মৃত্যু ৬৭৯ খ্রিষ্টাব্দে হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। [৪]:৮৯ খ্রি-মাং-স্লোন-র্ত্সানের পরে তাঁর পুত্র খ্রি-দুস-স্রোং-ব্ত্সন মাত্র ছয় বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন। এতো কম বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করার জন্য খ্রি-মাং-স্লোন-র্ত্সানের মন্ত্রী ম্গার-স্রোং-র্ত্সানের দ্বিতীয় পুত্র ম্গার-খ্রি-ব্রিং সাময়িক ভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সাম্রাজ্য বিস্তার[সম্পাদনা]

খ্রি-মাং-স্লোন-র্ত্সানের মৃত্যুর পরেই ঝাংঝুং রাজ্যে বিদ্রোহ শুরু হলে খ্রি-দুস-স্রোং-ব্ত্সনের মাতা সাম্রাজ্ঞী খ্রি-মা-লোদ-খ্র্ল-স্তেংম্গার বংশের মন্ত্রীদের শক্ত শাসনে সেই বিদ্রোহ দমন করা হয়। [৫][৬]:৩২

৬৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিব্বতী সৈন্যবাহিনী গানসু প্রদেশের সানঝৌ, কুওঝৌ, হেঝৌ, দিয়েঝৌ, মিগং ও ডানলিং আক্রমণ করে। চীনারা লংঝিতে তিব্বতীদের পরাজিত করে। লি জিংজুয়ানের নেতৃত্বে চীনারা কোকো নরের নিকটে পরাজিত হয়।[৬]:৩১ ৬৭৭ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে তিব্বতীদের দখলে সমগ্র তারিম নদী উপত্যকা চলে আসে।[৫]

৬৭৮ খ্রিষ্টাব্দে ট্যাং সাম্রাজ্যের মিন নদীর তীরে আর্নঙ্গের দুর্গ দখল করে নেয়। [৪]:১৯ এই সময় ইর হ্রদ অঞ্চলে বসবাসকারী ইরহে জাতি[৭]:১৩৬ ট্যাং সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হওয়ার জন্য তিব্বতের অধীনে চলে আসে। [৩]:২৩৩ এই সময় তিব্বতীরা পূর্বে সংঝু ও লিয়াংঝৌ, দক্ষিণে ভারত, পশ্চিমে কাশগর ও উত্তরে তুর্কীদের এলাকা পর্যন্ত তাঁদের সাম্রাজ্য বিস্তার করেন।[n ১]

৬৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ওয়েই ডাইজিয়ার নেতৃত্বে চীনা বাহিনী তিব্বত আক্রমণ করে ব্যর্থ হয়। [৪]:২২ ৬৯২ খ্রিষ্টাব্দে দুই জন তিব্বতী সেনাপতি তাঁদের বাহিনী নিয়ে চীনাদের সঙ্গে যোগ দিলে চীনাদের দখলে তারিম নদী উপত্যকা চলে আসে। [৪]:২২ পশ্চিম তুর্কী খাগানাতের জুঙ্গারিয়ার দুলু জাতির খাগান আশিনা তুইজি তিব্বতীদের সাথে লেংজুয়ানে চীনাদের পরাজিত করেন।[৩]:২৩৫ পরের বছর খ্রি-দুস-স্রোং-ব্ত্সন লিনতাও এবং লিয়াংঝৌ দখল করে নেন। [৮]:৯২ ৭০৩ খ্রিষ্টাব্দে শ্বেত ও কালো মাইওয়া জাতিদের কর প্রদানে বাধ্য করেন। [৭]:১৩৬[৯][১০]

মন্ত্রীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ[সম্পাদনা]

ম্গার বংশের মন্ত্রীরা ক্রমশঃ শক্তিশালী হয়ে কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থার ভাঙন ধরাতে পারে, তার আশঙ্কা করে সম্রাট খ্রি-দুস-স্রোং-ব্ত্সন ৬৯৯ খ্রিষ্টাব্দে শিকারে বেরোনোর নাম করে তাঁর অনুগামীদের ম্গার বংশের সদস্যদের আক্রমণের আদেশ দেন। এরপর নিজে উত্তরে সৈন্যবাহিনী নিয়ে গিয়ে ম্গার-খ্রি-ব্রিংয়ের সম্মুখীন হলে বিনা যুদ্ধে খ্রি-ব্রিং আত্মসমর্পণ করেন ও জিউ ট্যাংসু গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী আত্মহত্যা করেন। [৩][৪]:১১ এরপর খ্রি-দুস-স্রোং-ব্ত্সন মন্ত্রীদের ওপর সম্রাটের কর্তৃত্বের আইন প্রচলন করেন। [৩]

বৌদ্ধধর্ম প্রসার[সম্পাদনা]

দ্বা ব্ঝেদ গ্রন্থ অনুসারে খ্রি-দুস-স্রোং-ব্ত্সন গ্লিং খাম অঞ্চলে বৌদ্ধ মন্দির স্থাপন করেন। [১১] এই নির্মাণের উল্লেখ স্কার্চুঙ্গে অবস্থিত পরবর্তীকালের তিব্বত সম্রাট খ্রি-ল্দে-স্রোং-ব্ত্সানের লিপিতে পাওয়া যায়। [৭]:৭৫[১২][১৩]

পরিবার[সম্পাদনা]

খ্রি-দুস-স্রোং-ব্ত্সন তিব্বতের কোগ-রো গোষ্ঠীর দাম-গ্যি এবং ম্চিমস গোষ্ঠীর রাজকুমারী ব্ত্সান-মা-থোগ-থোগ-স্তেনকে বিবাহ করেন। ব্ত্সান-মা-থোগ-থোগ-স্তেন খ্রি-ল্দে-গ্ত্সুগ-ব্ত্সান নামে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন যিনি পরবর্তীকালে তিব্বত সম্রাট হন। [৩]:২৩৮:২৪২ খ্রি-দুস-স্রোং-ব্ত্সনের গা-তুন নামক আরেক রাণীর উল্লেখ পাওয়া যায়। গা-তুনের পুত্র ল্হা-বাল-পো পিতার মৃত্যুর পর কিছুদিনের জন্য তিব্বতের সিংহাসনে বসেন।[১৪]

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার[সম্পাদনা]

৭০৪ খ্রিষ্টাব্দে মাইওয়া জাতিদের সঙ্গে যুদ্ধে খ্রি-দুস-স্রোং-ব্ত্সনের মৃত্যু হয়। এরপর গা-তুনের পুত্র ল্হা-বাল-পো কিছুদিনের জন্য সিংহাসনে বসলেও ল্হা-বাল-পোকে সরিয়ে সাম্রাজ্ঞী খ্রি-মা-লোদ-খ্র্ল-স্তেং শিশু খ্রি-ল্দে-গ্ত্সুগ-ব্ত্সানকে সম্রাট ঘোষণা করেন এবং প্রকারান্তরে তিনিই রাজত্ব করেন। খ্রি-মা-লোদ-খ্র্ল-স্তেং ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মারা গেলে খ্রি-ল্দে-গ্ত্সুগ-ব্ত্সান সিংহাসন লাভ করেন। [৮]

পাদটীকা[সম্পাদনা]

  1. At that time, Tufan obtained Yangtong, Dangxiang as well as other Chiang people tribal territories. To the east it extended to Liangzhou, Songzhu, and so forth, and to the south it extended to India. On the west they attacked and took over four military governments such as Guici (Kucha), Sule (Kashgar), and so forth, while to the north they extended as far as over 10,000 li to the Tujue (Turks) area. Since the Han and the Wei dynasties, the western barbarians had seen no prosperity comparable to these days' prosperity."[৪]:১৯

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bacot, J., et al. Documents de Touen-houang relatifs à l'Histoire du Tibet. (1940), p. 34. Libraire orientaliste Paul Geunther, Paris.
  2. Shakabpa, Tsepon W. D. Tibet: A Political History (1967), p. 31. Yale University Press, New Haven and London.
  3. Ancient Tibet: Research materials from the Yeshe De Project. 1986. Dharma Publishing, California. আইএসবিএন ০-৮৯৮০০-১৪৬-৩
  4. Lee, Don Y. (1981). The History of Early Relations between China and Tibet: From Chiu t'ang-shu, a documentary survey. Bloomington, IN: Eastern Press. আইএসবিএন ৯৭৮-০-৯৩৯৭৫৮-০০-৫
  5. Beckwith, Christopher I. The Tibetan Empire in Central Asia. A History of the Struggle for Great Power among Tibetans, Turks, Arabs, and Chinese during the Early Middle Ages, 1987, Princeton: Princeton University Press. আইএসবিএন ০-৬৯১-০২৪৬৯-৩, p. 43.
  6. Shakabpa, Tsepon W. D. Tibet: A Political History (1967), p. 32. Yale University Press, New Haven and London.
  7. Richardson, Hugh. "Bal-po and Lho-bal." Bulletin of the School of Oriental and African Studies, No. 46 (1983)
  8. Pelliot, Paul. Histoire Ancienne du Tibet, Paris. Libraire d'amérique et d'orient. 1961.
  9. Beckwith, C. I. "The Revolt of 755 in Tibet", p. 5 note 10. In: Weiner Studien zur Tibetologie und Buddhismuskunde. Nos. 10–11. [Ernst Steinkellner and Helmut Tauscher, eds. Proceedings of the Csoma de Kőrös Symposium Held at Velm-Vienna, Austria, 13–19 September 1981. Vols. 1–2.] Vienna, 1983.
  10. Bacot, J., et al. Documents de Touen-houang relatifs à l'Histoire du Tibet. (1940), pp. 149–50. Libraire orientaliste Paul Geunther, Paris. (Translated from the French)
  11. dBa' bzhed: The Royal Narrative Concerning the Bringing of the Buddha's Doctrine to Tibet, p. 33. Translation and Facsimile Edition of the Tibetan Text by Pasang Wangdu and Hildegard Diemberger. Verlag der Österreichischen Akadamie der Wissenschafen, Wien 2000. আইএসবিএন ৩-৭০০১-২৯৫৬-৪.
  12. Beckwith, C. I. "The Revolt of 755 in Tibet", p. 3 note 7. In: Weiner Studien zur Tibetologie und Buddhismuskunde. Nos. 10–11. [Ernst Steinkellner and Helmut Tauscher, eds. Proceedings of the Csoma de Kőrös Symposium Held at Velm-Vienna, Austria, 13–19 September 1981. Vols. 1–2.] Vienna, 1983.
  13. Richardson (1985), pp. 73, 75.
  14. Bacot, J., et al. Documents de Touen-houang relatifs à l'Histoire du Tibet. (1940), p. 42. Libraire orientaliste Paul Geunther, Paris. (Translated from the French)
রাজত্বকাল শিরোনাম
পূর্বসূরী
খ্রি-মাং-স্লোন-র্ত্সান
খ্রি-দুস-স্রোং-ব্ত্সন
রাজত্বকাল ৬৭৬-৭০৪
উত্তরসূরী
ল্হা-বাল-পো